হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম আমাদের শিখিয়েছেন— তাওহীদে বিশ্বাসী মুমিন কখনো বাতিলের সামনে মাথা নত করে না। তিনি নিজ হাতে মূর্তি ভেঙেছেন। শুধু পাথরের মূর্তি নয়; সমাজের ভুল বিশ্বাস, ভ্রান্ত চিন্তা, শিরকের ভিত্তি ও মানুষের বানানো মিথ্যা আধিপত্যকেও চ্যালেঞ্জ করেছেন।
হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের নিজের পিতা ছিলেন মূর্তি নির্মাতা ও মূর্তির ব্যবসায়ী। কিন্তু পিতার রোষ, সমাজের চাপ কিংবা ক্ষমতাবানদের হুমকি কিছুই তাকে সত্য বলা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। তিনি নির্ভয়ে মানুষকে বুঝিয়েছেন, যারা নিজেরাই উপকার-অপকার করতে পারে না তারা কখনো উপাস্য হতে পারে না।
আজও পৃথিবীতে মূর্তির রূপ বদলেছে, কিন্তু মূর্তিপূজা বন্ধ হয়নি। কোথাও পাথরের মূর্তি, কোথাও প্রবৃত্তির মূর্তি, কোথাও ক্ষমতার মূর্তি, আবার কোথাও তাগুতের আনুগত্য।
একদিকে মূর্তির সামনে মাথানত করা, আর অন্যদিকে আল্লাহর বিধানের মোকাবিলায় তাগুত শক্তির অন্ধ আনুগত্য করা— উভয়ের মূল রোগ একটাই; আল্লাহর পরিবর্তে অন্যের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেওয়া। তাওহীদের শিক্ষা হলো একজন খাঁটি ঈমানদার মুসলিম কখনো বাতিল শক্তির গোলাম হতে পারে না। সে শুধুই আল্লাহর গোলাম, আল্লাহর বিধানের অনুগত।
হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের জীবন এ কথাও শিক্ষা দেয়— তাওহীদের ঈমান একজন তরুণকে অদম্য করে তোলে। চারপাশের পরিবেশ, সমাজের বিরোধিতা কিংবা কুফরের শক্তি তাকে থামিয়ে রাখতে পারে না। ঈমান তাকে সামনে এগিয়ে যেতে শেখায়।
এই সত্যের পথে চলতে গিয়ে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর উপর ভরসা ও তাওহীদের শক্তি তাকে নিরাপদ রেখেছিল। আগুনও তার কোন ক্ষতি করতে পারেনি।
পবিত্র ঈদুল আযহা আমাদের সেই ইব্রাহিমী শিক্ষা দেয়
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রয়োজনে সবকিছু ত্যাগ করতে হবে, বাতিলের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাওহীদকে বিজয়ী করতে হবে। আসুন, ঈদুল আযহায় আমরা সেই অঙ্গীকারে বলিয়ান হই—আমাদের সিজদা, আমাদের ভালোবাসা, আমাদের আনুগত্য এবং আমাদের জীবন হবে শুধুই আল্লাহর জন্য।