জাতীয়তাবাদ আসলে কী?
জাতীয়তাবাদ হলো—
রাষ্ট্র চলবে জাতির ইচ্ছায়। জাতিই সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর”
আইন হবে জাতির স্বার্থে।
এটি সরাসরি সেই নীতিকে বৈধতা দেয়—
“ধর্ম রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো ভূমিকা রাখবে না”
অর্থাৎ জাতীয়তাবাদ মানেই—
রাষ্ট্র সেক্যুলার হবে। আইন মানবপ্রণীত হবে। শরিয়াহ শাসনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করা হবে।
এটি আর কিছু না;
এটি হলো শরিয়ার শত্রু রাষ্ট্রের ভিত্তি-দর্শন।
জাতীয়তাবাদ = সেক্যুলারিজমের রাজনৈতিক ইঞ্জিন। এটাকে হালকা দৃষ্টিতে দেখার কোন সুযোগ নেই।
জাতীয়তাবাদকে সাধারণ মানুষ দেশপ্রেম মনে করে;
কিন্তু সত্য হলো-
জাতীয়তাবাদ + সেক্যুলার রাষ্ট্র + মানব-সার্বভৌমত্ব + আল্লাহর বিধানের অস্বীকৃতি- এটাই এর চেইন।
যেখানে জাতীয়তাবাদ আছে,
সেখানে সেক্যুলার রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অবশ্যই থাকবে—
কারণ জাতীয়তাবাদ বলে:
আইন করবে জাতি। শাসন করবে জাতির সংসদ। হুকুম দেবে সংখ্যাগরিষ্ঠ।
ইসলাম বলে:
إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ (হুকুম আল্লাহর)
সুতরাং—
যে মুহূর্তে আপনি “জাতির সার্বভৌমত্ব” স্বীকার করেন,
ঠিক সেই মুহূর্তেই আপনি “আল্লাহর সার্বভৌমত্ব” অস্বীকার করেন।
এটা সরাসরি আকীদার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ।
জাতীয়তাবাদ ইসলামের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী
আজকে মানুষ ভাবে—
জাতীয়তাবাদ রাজনীতি, ইসলাম ধর্ম।
তারা এ দুটিকে আলাদা করে রাখে।
কিন্তু কুরআন বলে—
যে আল্লাহকে আসমানে মানে কিন্তু যমিনে মানে না, সে মুমিন হতে পারে না।
وَهُوَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ إِلَٰهٌ وَفِي الْأَرْضِ إِلَٰهٌ
“যিনি আসমানে ইলাহ, তিনিই যমিনে ইলাহ।” (আয-যুখরুফ: ৮৪)
অর্থাৎ—
মসজিদে আল্লাহর আইন কিন্তু রাষ্ট্রে জাতির আইন
—এটা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ না, বরং তাওহীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ।
জাতীয়তাবাদ মুসলমানকে দুই টুকরা করে দেয়:
মসজিদের মুসলিম
রাষ্ট্রের সেক্যুলার নাগরিক
যেখানে আল্লাহর আইন নেই—
সেখানে ইসলাম নেই।
জাতীয়তাবাদ আলেম সমাজকে বিভ্রান্ত করেছে
আজ অনেক আলেমও পতাকা-ভূমি-জাতি-গান–এর আবেগে এমনভাবে নিমজ্জিত যে মূল আকীদার সংঘর্ষটি তারা দেখতেই পাচ্ছেন না।
জাতীয়তাবাদ নরম মুখে বলা হয়—
“এটা তো দেশপ্রেম!”
কিন্তু বাস্তবতা হলো—
জাতীয়তাবাদ দেশপ্রেম নয়; এটি সেক্যুলার রাষ্ট্রের চাকা ঘোরানোর জ্বালানি।
জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক পরিণতি
একটি সম্পূর্ণ সেক্যুলার রাষ্ট্র, ধর্মহীন শাসনব্যবস্থা, উম্মাহহীন মুসলিম সমাজ
ইসলাম কী চায়?
ইসলাম কোনো অবস্থাতেই চায় না মানুষ আইন প্রণয়ন করবে। ইসলাম চায় আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র, উম্মাহ-ভিত্তিক রাজনীতি, মুসলিমদের এক পরিচয়—লাইলাহা ইল্লাল্লাহ।
আজ উম্মাহর শত্রু তিনটি জিনিস:
১— জাতীয়তাবাদ
২— গণতান্ত্রিক মানব-সার্বভৌমত্ব
৩— সেক্যুলার রাষ্ট্র
আর এই তিনটি জিনিস আপসেই একে অপরকে জন্ম দেয়।
আসুন ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয়তাবাদের এই জাহিলিয়াত প্রত্যাখ্যান করি। আসুন শরিয়ার শাসন প্রতিষ্ঠার পথেই ফিরে আসি।
আজ উম্মাহর শত্রুরা শক্তিশালী
কারণ আমরা দুর্বল, বিভক্ত, জাতির দাসে পরিণত।
জাতীয়তাবাদ = সেক্যুলার রাষ্ট্রের ভিত্তি।
সেক্যুলার রাষ্ট্র = আল্লাহর সার্বভৌমত্ব অস্বীকার।
ফলে জাতীয়তাবাদ = তাওহীদের সরাসরি বিপরীত অবস্থান।
এটি রাজনীতি নয়; এটি ঈমানের ইস্যু।
এটি ধর্ম ও আকীদাহর দ্বন্দ্ব। এটি ইসলামের বিরুদ্ধে সভ্য জাহিলিয়াত।