আজ বাংলাদেশের আলেম সমাজের একটি বড় অংশ একটি ভয়াবহ ভুল ধারণায় আছেন—
তারা সেকুলারিজম ও জাতীয়তাবাদকে ঈমান বিধ্বংসী মতবাদ হিসেবে উপস্থাপন করেন না।
এটাই আজকের জাতির সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য।
১. সেকুলারিজম—আল্লাহর আইনকে ছেঁটে ফেলার নাম
সেকুলারিজম বলে:
“রাষ্ট্রে আল্লাহর আইন চলবে না।
মানুষ নিজের মতো করে আইন বানাবে।”
এক কথায় সেকুলারিজমের অর্থ হল-
কুরআনের আইনকে রাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া।
এটা কি শুধু রাজনৈতিক মত?
না—এটা সরাসরি আল্লাহর সার্বভৌমত্ব অস্বীকার।
২. জাতীয়তাবাদ—উম্মাহকে টুকরো টুকরো করার রোগ
জাতীয়তাবাদকে বোঝা কঠিন নয়—
এটি বলে:
“তুমি মুসলমান হও বা না হও—আমার কাছে মূল্য তোমার জাতি, ভাষা, ভূখণ্ড;
আর তুমি মুসলমান হলেও জাতি-সীমা পেরোলেই তুমি আমার ভাই নও।”
এই ধারণা মানুষের মনে তিনটি বিপদ সৃষ্টি করে—
(১) মুসলমানের প্রকৃত পরিচয়কে দুর্বল করে
আমার সত্যিকারের পরিচয়:
আমি মুসলমান। কিন্তু জাতীয়তাবাদ শেখায়:
“তুমি আগে বাঙালি, আগে ভারতীয়, আগে তুর্কি, আগে আরব… তারপর মুসলমান।”
এই চিন্তা একজন মুসলমানের পরিচয়কে দূর্বল করে দেয়।
(২) মুসলিম উম্মাহকে ভাগ করে দেয়
এক দেশ, এক পতাকা, এক মাঠ—
এগুলো আসলে উম্মাহকে টুকরো করে দেয়।
(৩) মুসলমানকে মুসলমানের বিরুদ্ধে দাঁড় করায়
মিশর–সিরিয়া–তুরস্ক–ইরান–বাংলাদেশ—
প্রত্যেক দেশে মুসলমানের মূল্য আলাদা হয়ে যায়।
এক দেশ অন্য দেশের মুসলমানের কষ্ট দেখেও চুপ থাকে কারণ জাতীয়তাবাদ তাকে অন্যদের থেকে পৃথক করে দেয়।
৩. এই বিপদ মানুষকে বুঝিয়ে বলা আলেমদের দায়িত্ব—কিন্তু…
দুর্ভাগ্য হলো—
কেউ মনে করেন “জাতি ভালোবাসলেই তো দোষ নেই”— অথচ এই ভালোবাসা ধর্মকে পেছনে ঠেলে দেয়।
৪. জাতীয়তাবাদকে কেন ফিতনা বলা হয়?
কারণ খুব স্পষ্ট—
এটি মুসলমানকে তার আসল পরিচয় থেকে সরিয়ে দেয়। এটি ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অসম্ভব করে দেয়।
যে মতবাদ উম্মাহকে বিভক্ত করে,
ধর্মকে প্রান্তে ঠেলে দেয়,
আল্লাহর শাসনব্যবস্থাকে বাতিল করে—
এটা ক্ষুদ্র বিষয় নয়। এটা মুসলমানদের ঈমানী চেতনাকে ধ্বংস করে দেয়।
৫. শেষ কথা
জাতীয়তাবাদ ও সেকুলারিজম শুধু রাজনৈতিক দর্শন নয়— এগুলো এমন ফিতনা যা মুসলমানের ঈমানি পরিচয়, উম্মাহর ঐক্য এবং ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ভেঙে দেয়।
আজ যারা এসবকে সামান্য মনে করেন—
তারা অজান্তেই জাতিকে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।
এই সত্য আলেমদের বুঝতে হবে,
এবং জাতিকে সতর্ক করা তাদেরই।