আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ক্ষমা

আমাদের আজ সবচাইতে বড় প্রয়োজন ক্ষমা। গুনাহের কারণে আল্লাহ আমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট। এজন্যই সর্বত্র অস্থিরতা। আমাদের ব্যক্তি জীবন আমাদের পরিবার আমাদের সমাজ কোথাও স্বস্তি নেই। এর অর্থ আল্লাহ অসন্তুষ্ট। এই অবস্থায় রহমত আশা করা যায় না। আল্লাহ যখন সন্তুষ্ট থাকেন তখন রহমত নাযিল হয়।

আমরা ক্ষমা নিয়ে নিলে আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন। বর্তমানে আমাদের সারা পৃথিবীর মুসলমানদের একটি বড় সমস্যা আমরা গুনাহ করি কিন্তু ক্ষমা নেই না। আগের জবানের মুসলমানদের গুন ছিল তাদের জীবনেও গুনাহ হতো কিন্তু তারা আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা নিয়ে নিতেন। আর তারা যখন ক্ষমা নিয়ে নিতেন তখন আল্লাহর রহমত বর্ষিত হতো। এজন্য তাদের জীবনে আমাদের মত অস্থিরতা ছিল না।

ক্ষমার জন্য প্রয়োজন তওবা

*************************

আল্লাহর কাছে ক্ষমার জন্য তওবা করতে হয়। ক্ষমার সম্পর্ক তওবার সাথে। হাদিসের মাঝে গল্প এসেছে। ১০০ খুনের আসামিকেও আল্লাহ মাফ করে দিয়েছেন। মাফ করেছেন তখন যখন সে তওবা করে ক্ষমা চেয়েছে। সে যখন ভয় পেয়েছে গুনাহের বোঝা নিয়ে আমি মালিকের সামনে কিভাবে উপস্থিত হব। এই ভয় থেকে সে তওবা করেছে। আল্লাহ ১০০ খুনের গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন।

যার ভিতরে গুনাহের পেরেশানি আসে আর সে পবিত্র হওয়ার তামান্না করে আল্লাহ তাকে মাগফেরাতের মাধ্যমে পবিত্র করে দেন। আল্লাহ তওবা কবুলকারী। বান্দা যখন ক্ষমা চান তিনি ক্ষমাশীল আর তিনি ক্ষমা কে ভালবাসেন।

অহংকারী ব্যক্তির তওবা নসিব হয় না

*********************************

অহংকারী ব্যক্তির তওবা নসিব হয় না। কারণ সে নিজেকে বড় এবং পবিত্র মনে করে।যে নিজেকে বড় মনে করে পবিত্র মনে করে তার কখনো তওবা নসিব হয় না। এর বিপরীতে যে নিজেকে তুচ্ছ মনে করে ছোট মনে করে তার জীবনে তওবা নসিব হয়। অহংকারের কারণে আমরা নিজেদের ছোট মনে করতে পারছি না। এজন্য তওবাও করতে পারছি না। আমরা যেন প্রস্তুত গুনাহ নিয়েই আল্লাহর সাথে আমরা মোলাকাত করব। এটা এক ভয়াবহ মানসিকতা।

সাহাবীদের গুণাবলী

*******************

নিজেকে ছোট মনে করা সাহাবীদের গুণ। সাহাবীরা মাসুম ছিলেন না। কিন্তু ক্ষমা প্রাপ্ত ছিলেন। তারা গুনাহ নিয়ে কবরে যাননি। এজন্য তারা জাহান্নাম থেকে মুক্ত জাহান্নামের আগুন তাদেরকে স্পর্শ করবে না। তারা নিজেদের ত্রুটি দেখতেন। এটা নিয়ে পেরেশান হতেন। তাদের জীবনে তওবা ছিল। তওবার মাধ্যমে তারা পবিত্র হয়ে জীবনকে শেষ করেছেন। তারা তওবা না করে গুনাহ নিয়ে থাকতেন না।

আমাদের সমস্যা আমরা নিজেদের গুনাহ দেখিই না। গুনাহকে সামান্য বিষয়ে মনে করি। নিজেকে মনে করি পবিত্র আর অন্যের ভুল ত্রুটি দেখি। নিজেদের আমলনামা পাপাচারে ভর্তি এদিকে খেয়াল করি না অপর জনের শুইয়ের মাথা পরিমান দোষ করলে সেটা খুজে খুজে বের করি। একটা খুব নিকৃষ্ট অভ্যাস। এটাকে ছেড়ে দিতে হবে।

নিজেদের দোষত্রুটি দেখতে হবে। গুনাহ হয়ে গেছে অন্তরে গুনাহের ময়লা লেগে গেছে তওবা করে সাথে সাথে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

রহমত প্রাপ্তির জন্য হতে হবে পবিত্র

*******************************

শরীরে যখন নাপাক থাকে। তখন মা তার দুধের সন্তানকেও কোলে নেয় না। পিতাও সন্তানকে কোলে নেয় না। তাকে দূরে সরিয়ে দেয়। আলতো করে ধরে তাকে নাপাক থেকে পবিত্র করে। তারপর আদর। ঠিক তেমনি যে বান্দার গায়ে গুনাহের ময়লা লেগে থাকে তওবা করে না আল্লাহ তাকে রহমতের কোলে ওঠান না। এজন্য আগে পবিত্র পরিষ্কার হতে হবে। তারপর আদর চাইতে হবে। নাপাক অন্তর নিয়ে আদর চাওয়া যাবে না।

আপনি আমি আদর পাব আগে পবিত্র হতে হবে। সন্তানকে মা পবিত্র করে তারপর চুমু দেয়। পরিষ্কার করার পর তাকে আদর সোহাগ দ্বারা বাবা ভরিয়ে দেয়। এইজন্য রহমত ভালোবাসা পাওয়ার জন্য আগে প্রয়োজন তওবার পবিত্রতা।

বান্দা আল্লাহর সামনে ছোট হবে সমস্যা কোথায়।আল্লাহর সামনে ছোট হতে সমস্যা নেই। আল্লাহর ক্ষমতা বিশাল। তার বিপরীতে আমরা অনেক তুচ্ছ ক্ষুদ্র। আল্লাহ তার বিশাল ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। যেন আমরা নিজেদের ক্ষুদ্রতা বুঝতে পারি।

{ وَٱلسَّمَاۤءَ بَنَیۡنَـٰهَا بِأَیۡی۟دࣲ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ (47) وَٱلۡأَرۡضَ فَرَشۡنَـٰهَا فَنِعۡمَ ٱلۡمَـٰهِدُونَ (48) وَمِن كُلِّ شَیۡءٍ خَلَقۡنَا زَوۡجَیۡنِ لَعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُونَ (49) فَفِرُّوۤا۟ إِلَى ٱللَّهِۖ إِنِّی لَكُم مِّنۡهُ نَذِیرࣱ مُّبِینࣱ (50) }

[Surah Adh-Dhāriyāt: 47-50]

{ وَلَقَدۡ جَعَلۡنَا فِی ٱلسَّمَاۤءِ بُرُوجࣰا وَزَیَّنَّـٰهَا لِلنَّـٰظِرِینَ (16) وَحَفِظۡنَـٰهَا مِن كُلِّ شَیۡطَـٰنࣲ رَّجِیمٍ (17) إِلَّا مَنِ ٱسۡتَرَقَ ٱلسَّمۡعَ فَأَتۡبَعَهُۥ شِهَابࣱ مُّبِینࣱ (18) وَٱلۡأَرۡضَ مَدَدۡنَـٰهَا وَأَلۡقَیۡنَا فِیهَا رَوَ ٰ⁠سِیَ وَأَنۢبَتۡنَا فِیهَا مِن كُلِّ شَیۡءࣲ مَّوۡزُونࣲ (19) وَجَعَلۡنَا لَكُمۡ فِیهَا مَعَـٰیِشَ وَمَن لَّسۡتُمۡ لَهُۥ بِرَ ٰ⁠زِقِینَ (20) وَإِن مِّن شَیۡءٍ إِلَّا عِندَنَا خَزَاۤىِٕنُهُۥ وَمَا نُنَزِّلُهُۥۤ إِلَّا بِقَدَرࣲ مَّعۡلُومࣲ (21) وَأَرۡسَلۡنَا ٱلرِّیَـٰحَ لَوَ ٰ⁠قِحَ فَأَنزَلۡنَا مِنَ ٱلسَّمَاۤءِ مَاۤءࣰ فَأَسۡقَیۡنَـٰكُمُوهُ وَمَاۤ أَنتُمۡ لَهُۥ بِخَـٰزِنِینَ (22) وَإِنَّا لَنَحۡنُ نُحۡیِۦ وَنُمِیتُ وَنَحۡنُ ٱلۡوَ ٰ⁠رِثُونَ (23) وَلَقَدۡ عَلِمۡنَا ٱلۡمُسۡتَقۡدِمِینَ مِنكُمۡ وَلَقَدۡ عَلِمۡنَا ٱلۡمُسۡتَـٔۡخِرِینَ (24) وَإِنَّ رَبَّكَ هُوَ یَحۡشُرُهُمۡۚ إِنَّهُۥ حَكِیمٌ عَلِیمࣱ (25) }

[Surah Al-Ḥijr: 16-25]

কোন অবস্থাতেই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হতে নেই। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন তোমরা নিরাশ হইয়ো না।

{ ۞ قُلۡ یَـٰعِبَادِیَ ٱلَّذِینَ أَسۡرَفُوا۟ عَلَىٰۤ أَنفُسِهِمۡ لَا تَقۡنَطُوا۟ مِن رَّحۡمَةِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ یَغۡفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِیعًاۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلۡغَفُورُ ٱلرَّحِیمُ }

[Surah Az-Zumar: 53]

আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ক্ষমার এক গল্প

*************************************

প্রিয় নবীজির দরবারে একজন ব্যক্তি আসলেন। এসে বললেন হে আল্লাহর নবী আমাকে তো আল্লাহ মাফ করবেন না। নবীজি জিজ্ঞাসা করলেন কারন কি?

তখন সে কারণ আলোচনা করলো। আমি আমার আমার কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিয়েছি একটা দুইটা না অনেকগুলো সন্তান এভাবে দাফন করেছি।

হে প্রিয় নবী কিছুদিন আগের ঘটনা। দীর্ঘ কয়েক বছর ব্যবসায়িক সফরে দূর দেশে ছিলাম। যাওয়ার সময় আমার স্ত্রী ছিল গর্ভবতী। বাড়ি ফিরে এসে দেখি আমার একটি কন্যা সন্তান হয়েছে। এই কয়েক বছর এসে বড় হয়ে গেছে।

আব্বাকে আদর করতে জানে। বাহির থেকে ঘর মুক্ত হয়ে ঘরে ফিরলে শীতল পানি এনে দিতে জানে। মা তার মেয়েকে সবকিছু শিখিয়ে রেখেছে যেন আমি মেয়েটাকে আদর করি।

Scroll to Top