দেশব্যাপী হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা চলছে। মুর্তিপূজকেরা দুর্গাকে মা বলে, তার পদতলে মাথা নুয়ায়,এবং পূজা দেয়। বাংলাদেশের মাটিতে সেটি নতুন কিছু নয়। এটা বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি হিন্দুর ধর্মীয় বিশ্বাস। হিন্দু সম্প্রদায় এদেশের নাগরিক। তারা স্বাধীনভাবে তাদের ধর্ম পালন করবে। রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা দিবে।
আমরা মুসলমানরা এক আল্লাহর এবাদত করি। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উপাসনা করি না। এটাই আমাদের ধর্ম। কাজেই হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে তাল মিলিয়ে কোন মুসলিম দুর্গামুর্তিকে মা বলবে তার সুযোগ নেই। এটা শিরক। ভয়াবহ অপরাধ। এটা কোন মুসলমান করতে পারে না।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সৃষ্টিকর্তা। আমাদের রিজিকদাতা। আমাদের সমস্ত প্রয়োজন পূরণকারী। সর্বশক্তিমান। আমাদের সমস্ত প্রয়োজন পূরণ করার ক্ষমতা গুণাবলী একমাত্র তারই আছে। অন্য কারো নেই। এজন্য আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো উপাসনা চরম বোকামি।
আর তারা তো আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর উপাসনা করে যাদের একটি মাসিক তাড়াবার ক্ষমতা নেই। তাদের নিজেদের হাতে সৃষ্টি। তারা কিভাবে তাদের মঙ্গল অমঙ্গল আর তাদের চাওয়া পাওয়া পূরণকারী হতে পারে। এটা অন্ধত্ব। আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের উপাসনা করি জেনে বুঝে। অসংখ্য দলিল প্রমাণের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা তার প্রভাব আমাদের কাছে সুস্পষ্ট। আমাদের ঈমান অন্ধবিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে নয়।
আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে তুলনা করা আমরা ভয়াবহ অপরাধ মনে করি।
শিরকের ব্যাপারে কুরআনের আলোচনা
**********************************
কুরআনের শিরক করাকে সবচেয়ে বড় অপরাধ বলা হয়েছে।
{ لَا تُشۡرِكۡ بِٱللَّهِۖ إِنَّ ٱلشِّرۡكَ لَظُلۡمٌ عَظِیمࣱ }
[Surah Luqmān: 13]
সব অপরাধের ক্ষমা আছে। কিন্তু শিরকের অপরাধের ক্ষমা নেই।
{ إِنَّ ٱللَّهَ لَا یَغۡفِرُ أَن یُشۡرَكَ بِهِۦ وَیَغۡفِرُ مَا دُونَ ذَ ٰلِكَ لِمَن یَشَاۤءُۚ وَمَن یُشۡرِكۡ بِٱللَّهِ فَقَدِ ٱفۡتَرَىٰۤ إِثۡمًا عَظِیمًا }
[Surah An-Nisāʾ: 48]
যে ব্যক্তি শিরক করলো তার জন্য জান্নাত হারাম বলা হয়েছে।
{ مَن یُشۡرِكۡ بِٱللَّهِ فَقَدۡ حَرَّمَ ٱللَّهُ عَلَیۡهِ ٱلۡجَنَّةَ وَمَأۡوَىٰهُ ٱلنَّارُۖ وَمَا لِلظَّـٰلِمِینَ مِنۡ أَنصَارࣲ }
[Surah Al-Māʾidah: 72]
শিরক এমন এক অপরাধ একজন ব্যক্তির অতিত সমস্ত নেক আমল কে নষ্ট করে দেয়।
কোন ব্যক্তি যদি চুরি করে অথবা ডাকাতি করে হত্যা করে এটা কবিরা গুনাহ। কিন্তু এই অপরাধের কারণে তার নামাজ সদকা ইত্যাদি আমলগুলো নষ্ট হয় না। কিন্তু শিরকের কারণে অতীতের আমল গুলো নষ্ট হয়ে যায়।
বিশ্ব মালিকের সাথে শিরিক ভয়াবহ ধৃষ্টতা। কুরআনে তার ভয়াবহতার আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে।
{ لَهُۥ مَا فِی ٱلسَّمَـٰوَ ٰتِ وَمَا فِی ٱلۡأَرۡضِۖ وَهُوَ ٱلۡعَلِیُّ ٱلۡعَظِیمُ (4)
আকাশ তো জমিনে যা কিছু আছে সব কিছুর উপর আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ। এই দিন রাত সূর্য চন্দ্র এই আকাশ ও জমিন তার হুকুমেই চলছে। তার হুকুমের বিপরীত চলার ক্ষমতা কারো নেই। ইচ্ছাও নেই। তার সাথে যখন শিরক করা হয় পূর্ণ প্রকৃতির বিরুদ্ধাচারণ করা হয়। কেঁপে ওঠে আকাশ আকাশের সবকিছু।
تَكَادُ ٱلسَّمَـٰوَ ٰتُ یَتَفَطَّرۡنَ مِن فَوۡقِهِنَّۚ وَٱلۡمَلَـٰۤىِٕكَةُ یُسَبِّحُونَ بِحَمۡدِ رَبِّهِمۡ وَیَسۡتَغۡفِرُونَ لِمَن فِی ٱلۡأَرۡضِۗ أَلَاۤ إِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلۡغَفُورُ ٱلرَّحِیمُ (5) }
[Surah Ash-Shūrā: 4-5]
দূর্গা পূজা কি সার্বজনীন
********************
এই সময়ের সবচেয়ে বড় ভাবনার বিষয় দুর্গাপূজা এতকাল বাঙালী হিন্দুদের নিজস্ব পূজা ছিল, কিন্তু কিছুকাল যাবত সেটিকে বাঙালীর সার্বজনীন উৎসবে পূজাতে পরিনত করা হচ্ছে। এ বিষয় একটি অত্যন্ত জটিল। বলা হচ্ছে ধর্ম যার যার উৎসব সবার। দূর্গা পূজা থাকে একটি জাতীয় উৎসবে পরিণত করা হচ্ছে।
বলা হচ্ছে সার্বজনীন। সার্বজনীন অর্থ সকলের মধ্যে সেরা। সর্বজনীন অর্থ সকলের জন্য অনুষ্ঠিত, সকলের জন্য মঙ্গলকর।
মঙ্গল অমঙ্গলের মালিক আল্লাহ
**************************
অথচ ইসলামের শিক্ষা মঙ্গল অমঙ্গলের মালিক একমাত্র আল্লাহ রব্বুল আলামীন। অমঙ্গল থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা আর মঙ্গল কামনা শুধুমাত্র তার কাছেই করা উচিত। অন্য কারো কাছে নয়।
{ وَإِن یَمۡسَسۡكَ ٱللَّهُ بِضُرࣲّ فَلَا كَاشِفَ لَهُۥۤ إِلَّا هُوَۖ وَإِن یُرِدۡكَ بِخَیۡرࣲ فَلَا رَاۤدَّ لِفَضۡلِهِۦۚ یُصِیبُ بِهِۦ مَن یَشَاۤءُ مِنۡ عِبَادِهِۦۚ وَهُوَ ٱلۡغَفُورُ ٱلرَّحِیمُ }
[Surah Yūnus: 107]
ঈমানের কালেমা সাক্ষ্য প্রদান
************************
শুধুমাত্র কালেমা পাঠ করলেই তো মুসলমান হয় না। কালিমা পাঠের মাধ্যমে মূলত শাহাদাত সাক্ষ্য দিতে হয়। কালেমা পাঠের মাধ্যমে একজন মুসলিম আসমান জমিনে আল্লাহর ক্ষমতা কে মেনে আল্লাহর সামনে আত্মসমর্পিত হয়।
কালেমা পাঠের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি যখন সাক্ষ্য প্রদান করে সে একমাত্র জীবনের সকল বিভাগে আল্লাহর উপাসনা করে এবং শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করে তখনই সে মুসলিম হয়।
কালেমা পাঠের মাধ্যমে সে সাক্ষ্য দেয় তার কাছে ইসলামী একমাত্র ধর্ম এবং অন্য ধর্মগুলো অসত্য। তখন জনসম্মুখে প্রকাশ পায় সে নিরপেক্ষ নয়। এই সাক্ষ্য প্রদান ইসলামে অতি গুরুত্বপূর্ণ এক বিষয়।
দুইপক্ষের তুমি কোন পক্ষ
*********************
পৃথিবীতে পক্ষ মাত্র দুটিঃ একটি আল্লাহর, অপরটি গায়রুল্লাহ বা শয়তানের। তাকে যে কোন একটি পক্ষ নিতে হয়, সুযোগ নেই উভয় পক্ষে থাকার।
{ مُّذَبۡذَبِینَ بَیۡنَ ذَ ٰلِكَ لَاۤ إِلَىٰ هَـٰۤؤُلَاۤءِ وَلَاۤ إِلَىٰ هَـٰۤؤُلَاۤءِۚ وَمَن یُضۡلِلِ ٱللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُۥ سَبِیلࣰا }
[Surah An-Nisāʾ: 143]
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রতিটি ব্যক্তি থেকে জানতে চান সে কোন পক্ষের। তিনি চান,সে পরিচয়টি সমাজের অন্যরাও জানুক। তাই ব্যক্তির ধর্মীয় এ পরিচয়টি ইসলামে গোপন রাখার বিধান নেই।
{ وَمَنۡ أَحۡسَنُ قَوۡلࣰا مِّمَّن دَعَاۤ إِلَى ٱللَّهِ وَعَمِلَ صَـٰلِحࣰا وَقَالَ إِنَّنِی مِنَ ٱلۡمُسۡلِمِینَ }
[Surah Fuṣṣilat: 33]
কালেমায়ে শাহাদাত পাঠের মধ্য দিয়ে ইসলাম কবুলের যে ঘটনাটি ঘটে সেটির ঘোষণা প্রথম দিনেই জনসম্মুখে দিতে হয়। যে ব্যক্তি সে সাক্ষ্য দেয়নি,সে মুসলমানও হয়নি। আল্লাহর কাছে মুসলমান বা অমুসলমান হিসাবে পরিচয় পায় মূলত এ সাক্ষ্যদানের ভিত্তিতেই।
“শাহাদাহ” আরবী শব্দ, অর্থ সাক্ষ্যদান।
ইসলাম কবুলের মূল চাবিটি হল “কালেমায়ে শাহাদত”। কালেমা পাঠে সর্বপ্রথম ‘লা ইলাহা’ বলতে হয়।‘লা ইলাহা’ র অর্থঃ “নাই কোন উপাস্য”,এবং এর পর আসে “ইল্লাল্লাহ” যার অর্থ “একমাত্র আল্লাহ ছাড়া”।
আমাদের কালেমা আমাদের অঙ্গীকার। এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো এবাদত আমরা করি না। মঙ্গল অমঙ্গলের মালিক এক আল্লাহ। আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কোন উপাস্য দেবদেবীর প্রতি সমর্থন কালেমার সুস্পষ্ট বিরুদ্ধাচারণ।
মূর্তি পূজা শিরক থেকে সম্পর্কহীনতা
*******************************
ঈমান বাঁচাতে শুধু হারাম খাদ্য-পানীয় ও হারাম কর্ম থেকে বাঁচলে চলে না, ঈমান বাঁচাতে হারাম উচ্চারণ থেকেও বাঁচতে হয়। মুসলিম হওয়ার দায়বদ্ধতা হল আজীবন সাক্ষ্য দিতে হয় মূর্তি পূজার বিরুদ্ধে।
সমাজের সবচেয়ে বড় অপরাধ খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস বা চুরি-ডাকাতি নয়। মানুষ কাফির হয় এবং জাহান্নামের যোগ্য গণ্য হয় মুখের কথায়, ধ্যান-ধারণার কারণে।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে বা তাঁর হুকুমের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহের ঘোষণা দেয়, জাহান্নামের আগুনে পৌঁছতে তাকে খুন, ধর্ষণ বা চুরি-ডাকাতিতে নামার প্রয়োজন পড়ে না। মূর্তি পূজার প্রতি সমর্থনই সুস্পষ্ট বিদ্রোহের ঘোষণা।
অভিশপ্ত শয়তানে পরিণত হতে ইবলিসকে খুন বা ব্যভিচারে নামতে হয়নি। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে তাকে নাস্তিক হতে হয়নি। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দেয়া একটি মাত্র হুকুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহই তাকে লানতপ্রাপ্ত বিতারিত শয়তানে পরিণত করেছে।
দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের নিজস্ব উৎসব
**********************************
দুর্গাপূজা শুধু উৎসব না এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় উৎসব। দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে তাদের তাদের ধর্ম পালনের অধিকার আছে। তারা তাদের ধর্ম পালন করবে। রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা দিবে। এ ধরনের ধর্মীয় উৎসবে মুসলমানের সম্পৃক্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই।
পূজায় শুভেচ্ছা জানানোর সুযোগ নেই
*********************************
হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা উৎসবে শুভেচ্ছা জানানো জায়িয নয়। এর দ্বারা শিরকের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা হয়। একজন মুসলমান কোন অবস্থাতেই শিরককে সমর্থন করতে পারে না। এটি ঈমানবিধ্বংসী আচরণ।
কোন অমুসলিম দুর্যোগ কবুল হলে এক অনুদান দেয়া তার সাহায্যে এগিয়ে যাওয়ায় ইসলাম উৎসাহিত করে। কিন্তু পুজোয় চাঁদা দেওয়ার সুযোগ নেই। কোন মুসলমানের জন্য পুজোয় উপস্থিত হওয়া উচিত নয়। এটা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ক্রোধের কারন। তবে সামাজিক রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে উপস্থিত হয়ে কর্তব্য পালন করা যেতে পারে।
দেবতার উদ্দেশ্যে দেবীর বেদিতে বলিকৃত পশু মারাত্মক হারাম। দেবীর বেদিতে পরিবেশিত মিষ্টান্ন, প্রসাদ, নাড়ু, সন্দেশ খাওয়া নাজায়েয। এমনকি এ উপলক্ষে তৈরিকৃত নাশতা ইত্যাদি খাওয়াও উচিত নয়।
ফ্যাসাদ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে স্বাভাবিক দূরত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনে পাহারা দেয়ার সুযোগ আছে। স্বাভাবিক অবস্থায় মণ্ডপ পাহারা দেওয়া জায়িয নয়।
যেসব জিনিস কেবলমাত্র অমুসলিমদের পূজা ও উৎসবের কাজে ব্যবহৃত হয়, যেমন পটকা, টায়রা, শাঁখা ইত্যাদি, সেগুলোর ব্যবসা করা বা সরবরাহ করা মুসলিমদের জন্য জায়িয নয়।
অমুসলিমদের দেখাদেখি পটকা ফোঁটানো বা তাদের পোশাক পরিধান করা এবং তাদের মত আচরণ করা না-জায়েয।
অমুসলিমদের কাছ থেকে তাদের ধর্মীয় প্রতীক বা চিহ্ন গ্রহণ করা, যেমন কপালে সিঁদুর, চন্দনতিলক, পৈতা, ক্রুশ গ্রহণ করা সম্পূর্ণ হারাম! প্রসন্নচিত্তে গ্রহণ করলে ঈমান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
অমুসলিমদের পূজামণ্ডপে আক্রমণ করা বা তাতে বাধা সৃষ্টি করা না-জায়েয।
বিধর্মীদের পূজানুষ্ঠানে কুরআন তেলাওয়াত করা ও গজল পরিবেশন করা নাজায়েয।
দেবদেবীর গুণকীর্তণমূলক কিংবা ধর্মের প্রশস্তিমূলক বিবৃতি দেওয়া হারাম ও কুফর।
শিরকের ব্যাপারে আপোষ নেই
*************************
নিজ ধর্ম বিশ্বাসের ক্ষেত্রে কোন আপোষকামীতার সুযোগ ইসলামে নেই। ঈমান এবং কুফুরের দ্বন্দ্বে একজন মুসলিমকে ঈমানের পক্ষে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। এবং ইসলামের পক্ষে নিজ অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।এটাই ইসলামের শিক্ষা। এ ব্যাপারে কুরআনে কারীমে অসংখ্য আয়াত রয়েছে-
{ قُلۡ یَـٰۤأَیُّهَا ٱلنَّاسُ إِن كُنتُمۡ فِی شَكࣲّ مِّن دِینِی فَلَاۤ أَعۡبُدُ ٱلَّذِینَ تَعۡبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَلَـٰكِنۡ أَعۡبُدُ ٱللَّهَ ٱلَّذِی یَتَوَفَّىٰكُمۡۖ وَأُمِرۡتُ أَنۡ أَكُونَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِینَ }
[Surah Yūnus: 104]
{ قُلۡ یَـٰۤأَیُّهَا ٱلۡكَـٰفِرُونَ (1) لَاۤ أَعۡبُدُ مَا تَعۡبُدُونَ (2) وَلَاۤ أَنتُمۡ عَـٰبِدُونَ مَاۤ أَعۡبُدُ (3) وَلَاۤ أَنَا۠ عَابِدࣱ مَّا عَبَدتُّمۡ (4) وَلَاۤ أَنتُمۡ عَـٰبِدُونَ مَاۤ أَعۡبُدُ (5) لَكُمۡ دِینُكُمۡ وَلِیَ دِینِ (6) }
[Surah Al-Kāfirūn: 1-6]