আল্লাহ তাআলা বলেন:
> إِنَّ ٱللَّهَ يَأۡمُرُكُمۡ أَن تُؤَدُّواْ ٱلۡأَمَٰنَٰتِ إِلَىٰٓ أَهۡلِهَا
“নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের আদেশ করেন — তোমরা আমানতগুলো (হক) তাদের হকদারদের কাছে পৌঁছে দাও।”
— সূরা আন নিসা: ৫৮
বোনদের সম্পত্তি, জমি বা উত্তরাধিকার — এটি আমানত, এবং আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী তা আদায় না করলে এটি শুধু দুনিয়ার অন্যায় নয়, আখেরাতে ভয়াবহ জুলুম।
বাস্তবতা: অনেক বাবা হয়তো ভুল করে বা সামাজিক চাপে বোনদের হক দেয়নি
সমাজে দেখা যায়, অনেক ভাই শহরের জমি, ঘর বা ব্যবসা রেখে দেয় নিজের দখলে — আর বোনদের বলে,
“তোমাদের গ্রামে জমি আছে, বা তোমরা তো অন্য ঘরে চলে গেছো।”
কিন্তু মনে রাখতে হবে — শরিয়ত অনুযায়ী বোনের অংশ আল্লাহ নির্ধারিত করেছেন, মানুষ তা পরিবর্তন করতে পারে না।
আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন:
> لِّلرِّجَالِ نَصِيبٞ مِّمَّا تَرَكَ ٱلۡوَٰلِدَانِ وَٱلۡأَقۡرَبُونَ وَلِلنِّسَآءِ نَصِيبٞ مِّمَّا تَرَكَ ٱلۡوَٰلِدَانِ وَٱلۡأَقۡرَبُونَ
“পুরুষের জন্য আছে অংশ তাদের পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজন যা রেখে যান,
আর নারীদের জন্যও আছে অংশ তাদের পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজন যা রেখে যান — অল্প হোক বা বেশি, নির্দিষ্ট অংশ।”
— সূরা আন নিসা: ৭
এখানে “নারীদের জন্য অংশ” — এটি আল্লাহর নির্ধারিত হক,
যে কেউ তা বঞ্চিত করে, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান করে।
যদি বাবা হক নষ্ট করে যায় — সন্তানদের করণীয়
১. বাবা ভুল করলে সন্তানের কর্তব্য তা সংশোধন করা
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
> من كانت عنده مظلمة لأخيه من عرض أو من شيء فليتحلله منه اليوم قبل أن لا يكون دينار ولا درهم
“যার কারো ওপর অন্যের হক আছে — সম্মান বা সম্পদের — সে যেন আজই তা আদায় করে নেয়,
কারণ কিয়ামতের দিন কোনো দিনার বা দিরহাম থাকবে না।”
— (সহিহ বুখারি: ২৪৪৯)
অর্থাৎ, হক যদি আদায় না করা হয়, কিয়ামতের দিন বাবার নেকি নিয়ে দেওয়া হবে, এমনকি যদি তাঁর কোনো ভালো কাজ না থাকে, তাহলে অন্যের গুনাহ তাঁর নামে যোগ হবে।
এখন যদি বাবা দুনিয়ায় না থাকেন, সন্তানদের দায়িত্ব
তার রেখে যাওয়া অন্যায়ের বোঝা হালকা করা।
২. সন্তানরা হক ফিরিয়ে দিলে তা বাবার জন্যও সওয়াব
রাসূল ﷺ বলেন:
إن أحق الشروط أن توفوا به ما استحللتم به الفروج
“সবচেয়ে অধিক হকদার চুক্তি ও দায়িত্ব হলো যা তোমরা নিজেরা নিয়েছো।”
— (সহিহ বুখারি, মুসলিম)
সন্তান যদি ফুফুদের হক ফিরিয়ে দেয় —
তাহলে এটি শুধু দান নয়, বরং বাবার পক্ষ থেকে হক আদায়।
এটি তার কবরের আজাব কমাতে পারে, এবং আল্লাহর রহমত আকর্ষণ করতে পারে।
বোনদের চোখের পানি যেন তোমার আখেরাতের আগুন না হয়
ভাবুন —
যখন কোনো বোন একাকী বসে ভাবে,
“আমার ভাইরা শহরের জমি নিয়ে নিল, আমি গ্রামের টুকরো জমিও পেলাম না।”
তাঁর চোখের পানি, দোয়া না পাওয়া কষ্ট,
এগুলো হয়তো আরশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
তোমার বাবা ফুফুদের বঞ্চিত করেছে। তুমি যদি আজ এগিয়ে এসে ফুপুদের বলো
“ফুফু, বাবা হয়তো ভুল করেছেন, কিন্তু আমি তাঁর সন্তান হয়ে তোমার হক ফিরিয়ে দিতে চাই” —
তাহলে তুমি শুধু জমি ফিরিয়ে দিচ্ছো না,
বরং তুমি তোমার বাবার দায় মাফ করাচ্ছো,
এবং তোমার নিজের আখেরাতকে আলোয় ভরিয়ে দিচ্ছো।
উদাহরণ – এক বুজুর্গের ঘটনা
এক বুজুর্গ বলেছিলেন,
> “আমার পিতা অন্যের জমি বেআইনি ভাবে দখল করেছিলেন। মৃত্যুর পর আমি স্বপ্নে দেখলাম,
বাবা জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হচ্ছেন।
আমি তাঁর পক্ষে সেই জমি মালিককে ফিরিয়ে দিলাম।
এরপর আবার স্বপ্নে দেখি — বাবা হাসছেন, বলছেন, ‘তুমি আমার কাঁধ থেকে আগুন সরিয়ে দিয়েছ।’”
এই গল্পটি আমাদের শেখায়:
হক আদায় করা মানে শুধু টাকা-পয়সা নয় — বরং কবরের শান্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি।
বাবা বোনদের বঞ্চিত করেছে বাবার সন্তান হিসেবে ফুফুদের হক ফিরিয়ে দেওয়া মানে
আল্লাহর আদেশ মানা,
বাবার অন্যায়ের বোঝা দূর করা,
নিজের আখেরাত বাঁচানো।
যে সন্তান তার ফুফুর হক ফিরিয়ে দেয়, সে নিজের বাবার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেয়।