আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষের সৃষ্টি কর্তা। মানুষকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে তিনি সৃষ্টি করেছেন। ফেরেশতাদের চেয়েও উর্ধ্বে মানুষের মর্যাদা। সৃষ্টি করার পর মানুষকে তার স্থায়ী ঠিকানা জান্নাতে থাকার তিনি ব্যবস্থা করেছেন এবং মানুষকে তিনি জান্নাত দেখিয়েছেন। তারপর তাকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। দুনিয়া মানুষের অস্থায়ী ঠিকানা। মানুষ দুনিয়াতে তার কর্মের মাধ্যমে জান্নাতে স্থায়ীভাবে থাকার যোগ্যতা অর্জন করবে। এই হলো মানুষকে দুনিয়াতে পাঠানোর লক্ষ্য।
মানুষের প্রধান শত্রু ইবলিশ
************************
তবে মানুষের জন্য জান্নাতে যাওয়ার পথটি সহজ না। তাকে লড়াই করতে হবে শক্তিশালী শত্রুর সাথে। এই শত্রু হলো ইবলিশ শয়তান। মানুষকে সৃষ্টি করে আল্লাহ যখন তাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিলেন , তাকে সৃষ্টি করেই জান্নাতে তার ব্যবস্থা করলেন মানুষের এ মর্যাদার বিরোধিতা করলো ইবলিস।
ইবলিশ মানুষের সামনে নত হওয়ার আল্লাহর হুকুম অমান্য করলো। এবং এই অপরাধে আল্লাহর দরবার থেকে বিতাড়িত হলো। সেই থেকে ইবলিশের চ্যালেঞ্জ আমি মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ করতে দিব না।
{ وَقُلۡنَا یَـٰۤـَٔادَمُ ٱسۡكُنۡ أَنتَ وَزَوۡجُكَ ٱلۡجَنَّةَ وَكُلَا مِنۡهَا رَغَدًا حَیۡثُ شِئۡتُمَا وَلَا تَقۡرَبَا هَـٰذِهِ ٱلشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ ٱلظَّـٰلِمِینَ }
[Surah Al-Baqarah: 35]
{ فَأَزَلَّهُمَا ٱلشَّیۡطَـٰنُ عَنۡهَا فَأَخۡرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِیهِۖ وَقُلۡنَا ٱهۡبِطُوا۟ بَعۡضُكُمۡ لِبَعۡضٍ عَدُوࣱّۖ وَلَكُمۡ فِی ٱلۡأَرۡضِ مُسۡتَقَرࣱّ وَمَتَـٰعٌ إِلَىٰ حِینࣲ }
[Surah Al-Baqarah: 36]
এই পৃথিবীতে মানুষের মোকাবেলা ইবলিশের সাথে। আপনি কুরআনে কারীমের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন। কুরআন আমাদের প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইবলিশকে। ইবলিশকে বন্ধু বানাতে নিষেধ করেছে কুরআন। ইবলিশ এর ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান করেছে কুরআন।
মানুষ এ পৃথিবীতে প্রতি মুহূর্ত ইবলিশের সাথে একটি যুদ্ধের মাঝে লিপ্ত।
এই যুদ্ধে প্রতি মুহুর্ত সে জিতছে অথবা হারছে। হেরে গেলে জাহান্নাম জিতে গেলে জান্নাত। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে হাশরের ময়দানে সর্বোচ্চ ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত করা হবে। পরাজিত শক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। শুধুমাত্র বিজয়ীরাই পুরস্কৃত হবে।
ইবলিশের ভয়াবহতা কুরআনে
***************************
ইবলিস আমাদের জন্য এতটাই বিপদজনক শত্রু আমরা যখন কুরআন পড়বো আল্লাহ হুকুম দিয়েছেন আমরা যেন তার আগে আল্লাহর কাছে ইবলিস থেকে আশ্রয় গ্রহণ করি। প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জীবনের পদে পদে দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। এ সমস্ত অধিকাংশ দোয়াই ইবলিশের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার রক্ষাকবজ।
{ فَإِذَا قَرَأۡتَ ٱلۡقُرۡءَانَ فَٱسۡتَعِذۡ بِٱللَّهِ مِنَ ٱلشَّیۡطَـٰنِ ٱلرَّجِیمِ }
[Surah An-Naḥl: 98]
প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন কিভাবে সকাল থেকে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা থেকে সকাল ইবলিসের সাথে মোকাবেলা করতে হবে এবং কিভাবে আমাদের জিততে হবে। প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমস্ত আদেশ সমস্ত নিষেধ সমস্ত হুকুম আমাদের ইবলিশের মোকাবেলা করা শিক্ষা দেয়।
ঘরে প্রবেশের পূর্বে হুকুম দেওয়া হয়েছে সালাম দেয়ার। এই সালামের কারণও আলোচনা করা হয়েছে।
إذا دخلَ الرَّجُلُ بيتَه فذكرَ اللهَ عزَّ و جلَّ عندَ دُخولِه و عِندَ طعامِه ؛ قالَ الشَّيطانُ : لا مَبيتَ لكُم و لا عَشاءَ ، إذا دخلَ فلَم يذكرِ اللهَ عِندَ دخولِه ، قالَ الشَّيطانُ : أدرَكتُم المبيتَ ،
খাবারের শুরুতে বলা হয়েছে বিসমিল্লাহ বলার। এর কারণও আলোচনা করা হয়েছে।
و إنْ لَم يذكرِ اللهَ عندَ طعامِه ، قالَ الشَّيطانُ : أدرَكْتُم المبيتَ و العَشاءَ
মানুষের এজেন্ডা আর শয়তানের এজেন্ডা
************************************
মুমিনের জীবনের এজেন্ডা হল সে আল্লাহর খলিফা। খালিফা অর্থ প্রতিনিধি। মানুষ নিজেকে এই পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি মনে করে। সে নিজেকে মালিক মনে করে না। সে নিজেকে আল্লাহর গোলাম মনে করে। আল্লাহর প্রতিনিধি গোলাম হিসেবে সে জিম্মাদারী পালন করে। তার কোন চাওয়া পাওয়া নেই। তার চাওয়া পাওয়া হলো মালিককে সন্তুষ্ট করা। এ দুনিয়াতে মালিক কে সন্তুষ্ট করবে মালিক আখেরাতে তাকে সন্তুষ্ট করবে। এটাই তার জীবনের লক্ষ্য এবং এজেন্ডা।
বিপরীতে মানুষদের সিরাতে মুস্তাকিম থেকে বিচ্যুত করা শয়তানের এজেন্ডা। মানুষকে সিরাতে মুস্তাকিম থেকে বিচ্যুত করার জন্য শয়তানের তাৎপরতা বিরতিহীন।
{ قَالَ فَبِمَاۤ أَغۡوَیۡتَنِی لَأَقۡعُدَنَّ لَهُمۡ صِرَ ٰطَكَ ٱلۡمُسۡتَقِیمَ (16)
সে বলল, যেহেতু তার কারণেই (পথ থেকে) আমাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছ, কাজেই আমি অবশ্যই তোমার সরল পথে মানুষদের জন্য ওঁৎ পেতে থাকব।
ثُمَّ لَـَٔاتِیَنَّهُم مِّنۢ بَیۡنِ أَیۡدِیهِمۡ وَمِنۡ خَلۡفِهِمۡ وَعَنۡ أَیۡمَـٰنِهِمۡ وَعَن شَمَاۤىِٕلِهِمۡۖ (17) }
তারপর অবশ্যই তাদের নিকট উপস্থিত হব, তাদের সামনে থেকে ও তাদের পেছন থেকে এবং তাদের ডান দিক থেকে ও তাদের বাম দিক থেকে।
[Surah Al-Aʿrāf: 16-17]
কুরআনে শয়তানকে বলা হয়েছে আত্মগোপনকারী, আত্মগোপন থেকে মানুষদের কুমন্ত্রণা দেয়। আর সে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের মনের মাঝে। যেখান থেকে মানুষের ইচ্ছাশক্তি তৈরি হয়।
{ مِن شَرِّ ٱلۡوَسۡوَاسِ ٱلۡخَنَّاسِ }
[Surah An-Nās: 4]
(আমি আশ্রয় প্রার্থনা করি ) যে নিজেকে লুকিয়ে রেখে বার বার এসে কুমন্ত্রণা দেয় তার অনিষ্ট হতে,
শয়তান মানুষের জন্য এজন্য সবচাইতে ভয়াবহ সে যেখান থেকে মানুষের ইচ্ছাশক্তি তৈরি হয় মানুষের মন সেই মনের মাঝে প্রভাব বিস্তার করে।
কর্মের জন্য মানুষ নিজেই দায়ী
***************************
মানুষ তার মন্দ কর্মের জন্য নিজেই দায়ী। কারণ সে ইচ্ছা করেই মন্দ কর্মগুলো করে থাকে। আমরা অনেক সময় ডিস এন্টিনাকে, টেলিভিশনকে, ইন্টারনেটকে, খবরের কাগজকে দায়ী করি। এগুলোকে সকল মন্দের উৎস মনে করি। এই কথাটা ঠিক না। সমস্ত মন্দ কাজের উৎস হল মানুষের মন।
শয়তানকে বলা হয়েছে খান্নাস
**************************
শয়তানকে কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে খান্নাস। خنس শব্দের অর্থ হলো এমন জিনিস যা প্রথমে সামনে থাকে তারপর পিছনে যে লুকিয়ে যায়। এর দ্বারা বুঝা যায় শয়তান হচ্ছে শক্তিশালী শত্রু। শয়তান থেকে রক্ষা পাওয়া বড় কঠিন। সে ছলনাময়ী।
{ كَمَثَلِ ٱلشَّیۡطَـٰنِ إِذۡ قَالَ لِلۡإِنسَـٰنِ ٱكۡفُرۡ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّی بَرِیۤءࣱ مِّنكَ إِنِّیۤ أَخَافُ ٱللَّهَ رَبَّ ٱلۡعَـٰلَمِینَ }
[Surah Al-Ḥashr: 16]
আবার কুরআনে কারীমে শয়তানকে অত্যন্ত দুর্বল বলা হয়েছে এই দৃষ্টিকোণ থেকে শয়তানের কাছে এমন শক্তি নেই মানুষ যার মোকাবেলা করতে পারে না। সে খুবই দুর্বল। মানুষ যখনই তার মোকাবেলা করতে যায় তখন সে পালিয়ে যায়। শয়তান ভীরু সাহসী না।
{ إِنَّ كَیۡدَ ٱلشَّیۡطَـٰنِ كَانَ ضَعِیفًا }
[Surah An-Nisāʾ: 76]
মানুষের কাছে আল্লাহর চাওয়া
***************************
মানুষের কাছে আল্লাহর চাওয়া হলো মানুষ নিজ ইচ্ছায় আল্লাহর পথে চলবে এবং নিজ ইচ্ছায় মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকবে। মানুষের ইচ্ছা থাকে তার মনে। এই ইচ্ছা মনের মাঝে তৈরি হয়। তার মন তাকে বলে দেয় এখন কি কাজ করতে হবে। ভালো কাজ করা বা মন্দ কাজ করা সম্পূর্ণ মানুষের মনের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।
{ ٱلَّذِی یُوَسۡوِسُ فِی صُدُورِ ٱلنَّاسِ }
[Surah An-Nās: 5]
যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে
মানুষকে পরাজিত করার জন্য শয়তান আল্লাহর কাছ থেকে দুটি উপকরণ পেয়েছে।
ইবলিশের দুই হাতিয়ার
**********************
প্রথম বিষয় শয়তান প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী এবং উন্নত। শয়তান তার পরিকল্পনা সরাসরি মানুষের অন্তরে ট্রান্সফার করার ক্ষমতা রাখে। প্রযুক্তিগতভাবে শয়তান অনেক উন্নত।
দ্বিতীয় উপকরণ ইবলিসের হায়াত কেয়ামত পর্যন্ত। আল্লাহ তাকে কেয়ামত পর্যন্ত হায়াত দিয়েছেন।
আল্লাহ কুরআনে কারীমে ইবলিশের গল্প আলোচনা করেছেন। এই আলোচনা তাওরাত ইঞ্জিলও আছে। সমস্ত নবীরেই তার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন মানুষকে। মানুষকে দুনিয়া থেকে সরাসরি জান্নাতে যেতে হলে ইবলিশের মোকাবেলায় অবশ্যই যেতে হবে। ইবলিশের সাথে খেলায় যারা পরাজিত হবে তারা জান্নাতের পুরস্কার কিছুতেই পাবে না। তাদের জন্য জাহান্নামের শাস্তি।
ইচ্ছাশক্তি আছে শুধু মানুষের
*************************
ইচ্ছাশক্তি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন শুধু মানুষদেরকেই দান করেছেন। মানুষ ছাড়া যত সৃষ্টি আছে কারো ইচ্ছা শক্তি নেই। আল্লাহ ফেরেশতাদের ইচ্ছা শক্তি দেননি আকাশ জমিন চাঁদ সূর্য মেঘ নদী সমুদ্র তারই ইচ্ছা শক্তি নেই। আল্লাহর সৃষ্টির মাঝে শুধু মানুষেরই রয়েছে ইচ্ছা করার শক্তি। আল্লাহ মানুষকে তার এই ইচ্ছা শব্দের কারণেই জবাবদিহিতার সম্মুখীন করবেন। কারণ মানুষ ভালো-মন্দ যা করে ইচ্ছা করে করে। মানুষ ইচ্ছা ছাড়া কিছু করে না। মানুষ যেহেতু ইচ্ছা করে সব কাজ করে এজন্য তার জবাবদিহিতা আছে।
শয়তান- যার কোন ক্ষমতা নেই
***************************
শয়তান মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু। কিন্তু শয়তান মন্দ কাজ করার জন্য মানুষকে বাধ্য করতে পারে না জোর করে মানুষকে মন্দ কাজে এসে ঠেলে দিতে পারে না। শয়তান মন্দ কাজ করার জন্য মানুষকে কুমন্ত্রণা দেয়। কুমন্ত্রণা দেয়া শয়তানের বৈশিষ্ট্য।
{ وَقَالَ ٱلشَّیۡطَـٰنُ لَمَّا قُضِیَ ٱلۡأَمۡرُ إِنَّ ٱللَّهَ وَعَدَكُمۡ وَعۡدَ ٱلۡحَقِّ وَوَعَدتُّكُمۡ فَأَخۡلَفۡتُكُمۡۖ وَمَا كَانَ لِیَ عَلَیۡكُم مِّن سُلۡطَـٰنٍ إِلَّاۤ أَن دَعَوۡتُكُمۡ فَٱسۡتَجَبۡتُمۡ لِیۖ فَلَا تَلُومُونِی وَلُومُوۤا۟ أَنفُسَكُمۖ }
[Surah Ibrāhīm: 22]
আর যখন যাবতীয় বিষয়ের ফয়সালা হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে ওয়াদা দিয়েছিলেন সত্য ওয়াদা, তোমাদের উপর আমার কোন আধিপত্য ছিল না, তবে আমিও তোমাদেরকে ওয়াদা দিয়েছিলাম, এখন আমি তা ভঙ্গ করলাম। তোমাদেরকে দাওয়াত দিয়েছি, আর তোমরা আমার দাওয়াতে সাড়া দিয়েছ। সুতরাং তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করো না, বরং নিজদেরকেই ভৎর্সনা কর।
শয়তানের কুমন্ত্রণায় হযরত আদম
******************************
কুরআনে শয়তানের কুমন্ত্রণা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। শয়তান হযরত আদম আলাইহিস সালামকে কুমন্ত্রণা দিয়েছিল। শয়তান তাদেরকে বলেছিল তোমার আমার কথা মেনে নিলে তোমাদের ভালো হবে। একটি মন্দ বিষয়কে শোভনীয় ভাবে শয়তান তাদের সামনে তুলে ধরল এবং বলল যদি তোমরা নিষিদ্ধ এই গাছের ফল খাও তাহলে তোমরা সব সময় জীবিত থাকবে আর তোমরা এমন রাজত্বের অধিকারী হবে যে রাজত্ব কখনো শেষ হবে না। হযরত আদম শয়তানের কুমন্ত্রণালয় পড়ে আল্লাহর আদেশ ভুলে গেলেন।
{ فَوَسۡوَسَ لَهُمَا ٱلشَّیۡطَـٰنُ ————————– وَقَالَ مَا نَهَىٰكُمَا رَبُّكُمَا عَنۡ هَـٰذِهِ ٱلشَّجَرَةِ إِلَّاۤ أَن تَكُونَا مَلَكَیۡنِ أَوۡ تَكُونَا مِنَ ٱلۡخَـٰلِدِینَ (20)
অতঃপর শয়ত্বান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দিল ————— আর বলল, ‘তোমাদেরকে তোমাদের রব এ গাছের নিকটবর্তী হতে যে নিষেধ করেছেন তার কারণ এছাড়া আর কিছুই নয় যে (নিকটবর্তী হলে) তোমরা দু’জন ফেরেশতা হয়ে যাবে কিংবা (জান্নাতে) স্থায়ী হয়ে যাবে।’
وَقَاسَمَهُمَاۤ إِنِّی لَكُمَا لَمِنَ ٱلنَّـٰصِحِینَ (21) }
আর সে তাদের নিকট শপথ করল যে, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের উভয়ের জন্য কল্যাণকামীদের একজন’।
[Surah Al-Aʿrāf: 20-21]
কুমন্ত্রণার উৎস কোথায়
**********************
মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হল শয়তানের কুমন্ত্রণার মোকাবেলা করে আল্লাহর পথে চলা। এ কুমন্ত্রণার মোকাবেলা তখনই করা যাবে যখন উৎস সম্পর্কে জানা যাবে। আসামি কোথায় জানতে হবে। তাহলে তার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া যাবে। সকল মন্দের উৎস হল মানুষের মনের ভিতর। মানুষ যদি তার মনের উপর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তাহলেই ভালো কাজের পথে চলার জন্য সহজ। আর যদি মনের উপর নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে তাহলে সে মন্দ কাজে জড়িয়ে যাবে।
শয়তানের মোকাবেলায় মানুষের হাতিয়ার
*************************************
ইবলিশের মোকাবেলা করার জন্য আল্লাহ মানুষের কাছে দুটি জিনিস দিয়েছেন। প্রথম হাতিয়ার হল আল্লাহর পক্ষ থেকে হিদায়েত দিক নির্দেশনা। মানুষকে এই জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং তার অনুসরণ করতে হবে।
{ فَإِمَّا یَأۡتِیَنَّكُم مِّنِّی هُدࣰى فَمَن تَبِعَ هُدَایَ فَلَا خَوۡفٌ عَلَیۡهِمۡ وَلَا هُمۡ یَحۡزَنُونَ }
[Surah Al-Baqarah: 38]
মানুষ তার ইচ্ছা দ্বারা পরিচালিত হবে না। মানুষ পরিচালিত হবে জ্ঞান দ্বারা। আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা হেদায়েতের আলোকে মানুষ পরিচালিত হবে।
মানুষের ইচ্ছা শক্তির উপর যেহেতু শয়তানের ব্যাপক প্রভাব শয়তান তার ইচ্ছার প্রভাত মানুষের উপর তৈরি করে। এজন্য ইচ্ছা দ্বারা মানুষ নিয়ন্ত্রিত হবে না। মানুষ নিয়ন্ত্রিত হবে হেদায়েত দ্বারা।
দ্বিতীয় বিষয় হল। আল্লাহর স্মরন
আল্লাহর স্মরণ জিকির এক শক্তিশালী হাতিয়ার। এই অস্ত্র ব্যবহার করা হলে শয়তান পালিয়ে যায়।
{ إِنَّ ٱلَّذِینَ ٱتَّقَوۡا۟ إِذَا مَسَّهُمۡ طَـٰۤىِٕفࣱ مِّنَ ٱلشَّیۡطَـٰنِ تَذَكَّرُوا۟ فَإِذَا هُم مُّبۡصِرُونَ }
[Surah Al-Aʿrāf: 201]
নিশ্চয় যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে যখন তাদেরকে শয়তানের পক্ষ থেকে কোন কুমন্ত্রণা স্পর্শ করে তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে। তখনই তাদের দৃষ্টি খুলে যায়।
শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে কোরআনে বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। শয়তান সকাল সন্ধ্যা তোমাদের কুমন্ত্রণা দিতে থাকে। তোমরাও সকাল সন্ধ্যা আল্লাহকে স্মরণ করো। দাঁড়িয়ে বসে শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করো।
{ ٱلَّذِینَ یَذۡكُرُونَ ٱللَّهَ قِیَـٰمࣰا وَقُعُودࣰا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمۡ وَیَتَفَكَّرُونَ فِی خَلۡقِ ٱلسَّمَـٰوَ ٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ رَبَّنَا مَا خَلَقۡتَ هَـٰذَا بَـٰطِلࣰا سُبۡحَـٰنَكَ فَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ }
[Surah Āli-ʿImrān: 191]
যারা আল্লাহকে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে, বসে ও কাত হয়ে এবং আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে।
আল্লাহর স্মরণ হলো এমন এক হাতিয়ার যা দিয়ে মানুষ শয়তানের মোকাবেলা করতে পারে। শয়তান যদি মানুষকে উঠতে বসতে শয়নের সময় কুমন্ত্রণা দিতে থাকে তাহলে মানুষকেও উঠতে বসতে এবং শয়নের সময় আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে ।
শয়তানের মত ভয়াবহ গোপন অদৃশ্য শত্রুর মোকাবেলার জন্য মানুষের প্রয়োজন আল্লাহর সাহায্য। যিনি রাব্বুল আলামিন। যার রয়েছে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা। যিনি মানুষের একমাত্র ইলাহ। তিনি বাঁচাবার ক্ষমতা রাখেন। আমাদের প্রয়োজন তার সাহায্য।
শয়তানের পরাজয় কিভাবে
*************************
শয়তানকে পরাজিত করার জন্য লড়তে হবে। এ লড়াই প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তির লড়াই। সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমি শয়তানের সাথে লড়বো। এবং আমি তাকে পরাজিত করব।
{ إِنَّ ٱلشَّیۡطَـٰنَ لَكُمۡ عَدُوࣱّ فَٱتَّخِذُوهُ عَدُوًّاۚ إِنَّمَا یَدۡعُوا۟ حِزۡبَهُۥ لِیَكُونُوا۟ مِنۡ أَصۡحَـٰبِ ٱلسَّعِیرِ }
[Surah Fāṭir: 6]
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পরীক্ষার জন্য এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আর মানুষকে পরীক্ষা করার জন্যেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জন্মগতভাবে দুইজন সার্বক্ষণিক সঙ্গী দিয়েছেন। একজন সঙ্গী তার সাথে থাকা ফেরেস্তা অপরজন সঙ্গি তার সাথে থাকা শয়তান। ফেরেশতা কল্যাণের দিকে আহ্বান করে আর শয়তান তাকে দাওয়াত দেয় অন্যায়ের পথে।
{ وَمَن یَتَّخِذِ ٱلشَّیۡطَـٰنَ وَلِیࣰّا مِّن دُونِ ٱللَّهِ فَقَدۡ خَسِرَ خُسۡرَانࣰا مُّبِینࣰا }
[Surah An-Nisāʾ: 119]
{ وَمَن یَكُنِ ٱلشَّیۡطَـٰنُ لَهُۥ قَرِینࣰا فَسَاۤءَ قَرِینࣰا }
[Surah An-Nisāʾ: 38]
ফেরেশতার দেখানো পথ মনের বিপক্ষে হবে আর শয়তানের দেখানো পথ মনমতো। মনের বিরোধিতা করে তাকে জ্ঞানের পথে চলতে হবে। তাহলেই বিজয়।
একদিকে নবীর হুকুম -শিরিক করো না তৌহিদকে আঁকড়ে ধরো। নামাজ পড়ো জাকাত দাও পর্দা করো সব সময় পবিত্র পরিচ্ছন্ন থাকো শরীয়ত মত চলো।
অন্যদিকে মন চাচ্ছে নামাজ পড়ো না যাকাত দিও না পর্দা করো না নোংরামিতে মজাটাও দেখো শরীয়ত মত চলো না।
আজ পরিতাপের বিষয় মুসলমানের দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের তাদের দুনিয়া ও আখেরাতের প্রধান শত্রু শয়তান সম্পর্কে ধারনা দেওয়া হয় না। এর কারণ হলো মুসলমানের সন্তান যদি শয়তান সম্পর্কে ধারণা পায় শয়তানের প্রকৃতি শয়তানের ভয়াবহতার ওপর সে যদি সতর্ক হয় তাহলে পৃথিবীব্যাপী অনৈতিকতার বিজনেস লস প্রজেক্টে পরিণত হবে।
কথা পরিষ্কার আল্লাহর আনুগত্যের পথ জান্নাতের পথ। আর আল্লাহর অবাধ্যতার পথ জাহান্নামের পথ। আল্লাহর পথের বিরোধিতা করে যারা শয়তানের পথে চলছে এরা ক্ষতিগ্রস্ত লাঞ্ছিত পরাজিত। আল্লাহর পথে যারা চলছে তারাই বিজয়ী। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।