মসজিদে দিরার: মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র ও ইসলামের সতর্কবার্তা (সূরা তাওবা ১০৭-এর আলোকে)

◾একটি মসজিদ, অথচ আল্লাহ বললেন— সেখানে দাঁড়াবেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مَسْجِدًا ضِرَارًا وَكُفْرًا وَتَفْرِيقًا بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ وَإِرْصَادًا لِّمَنْ حَارَبَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ مِن قَبْلُ ۚ وَلَيَحْلِفُنَّ إِنْ أَرَدْنَا إِلَّا الْحُسْنَىٰ ۖ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ

আর যারা একটি মসজিদ নির্মাণ করেছে ক্ষতি সাধনের জন্য, কুফরকে শক্তিশালী করার জন্য, মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য এবং পূর্বে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী ব্যক্তির জন্য ঘাঁটি হিসেবে—তারা অবশ্যই শপথ করবে যে আমরা কল্যাণ ছাড়া কিছুই চাইনি। কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।” (সূরা তাওবা ১০৭)

◾পৃথিবীতে অসংখ্য মসজিদ আছে। কাবা আছে। যার সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন—

«وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِّلنَّاسِ وَأَمْنًا

আর স্মরণ করো, যখন আমি এই ঘরকে মানুষের জন্য প্রত্যাবর্তনের স্থান ও নিরাপত্তার কেন্দ্র বানিয়েছিলাম। (সূরা আল-বাকারা: ১২৫)

মসজিদে নববী আছে।‌ যেখানে এক সালাত অন্য মসজিদের এক হাজার সালাতের চেয়েও উত্তম।

মসজিদে আকসা আছে—যার চারপাশকে আল্লাহ বরকতময় করেছেন।

মসজিদে কুবা আছে—যে মসজিদকে আল্লাহ নিজে তাকওয়ার ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত বলে প্রশংসা করেছেন।

এসব মসজিদের কথা কুরআনে এসেছে, হাদিসে এসেছে, ইতিহাসে এসেছে প্রশংসা ও মর্যাদার ভাষায়।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইসলামের ইতিহাসে এমন একটি মসজিদও আছে, যার ব্যাপারে আল্লাহর ঘোষণা ছিল প্রশংসা নয়, বরং প্রত্যাখ্যান।

সেই মসজিদের দেয়াল ছিল। সেখানে আযান হতো।

সেখানে নামাজ পড়ার প্রস্তুতি ছিল। বাহ্যিকভাবে সেটিও ছিল একটি মসজিদ। কিন্তু আল্লাহ তার সম্পর্কে ঘোষণা করলেন—

«لَا تَقُمْ فِيهِ أَبَدًا

আপনি সেখানে কখনো দাঁড়াবেন না।” (সূরা তাওবা: ১০৮)

কাবা সম্পর্কে প্রশংসা। মসজিদে নববী সম্পর্কে প্রশংসা। মসজিদে আকসা সম্পর্কে প্রশংসা। মসজিদে কুবা সম্পর্কে প্রশংসা।

কিন্তু একটি মসজিদ সম্পর্কে আল্লাহ বলছেন আপনি সেখানে কখনো দাঁড়াবেন না।

কারণ ইসলামে ইট-পাথরের চেয়ে উদ্দেশ্য বড়। স্থাপত্যের চেয়ে নিয়ত বড়। গম্বুজের চেয়ে তাকওয়া বড়। দেয়ালের চেয়ে হৃদয় বড়।

◾ইসলাম শুধু ভবন দেখে না। ইসলাম ভিত্তি দেখে। শুধু নির্মাণ দেখে না। নির্মাণের উদ্দেশ্য দেখে। শুধু বাহ্যিক রূপ দেখে না। অন্তরের সত্য দেখে। মসজিদে দিরারের ঘটনা তাই কেবল একটি মসজিদের ইতিহাস নয়।

একটি মসজিদ মানুষকে আল্লাহর দিকে নিয়ে যায়।

আরেকটি মসজিদ মানুষকে বিভেদের দিকে নিয়ে যায়। একটি মসজিদ তাকওয়ার উপর দাঁড়ায়।আরেকটি মসজিদ দাঁড়ায় অহংকার, হিংসা ও ষড়যন্ত্রের উপর। একটি মসজিদ উম্মাহকে একত্র করে। আরেকটি মসজিদ উম্মাহকে ভেঙে দেয়।

এই কারণেই সূরা তাওবার এই আয়াতগুলো শুধু অতীতের কোনো ঘটনার বর্ণনা নয়; বরং কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক ইমাম, খতিব, দাতা, কমিটির সদস্য, মসজিদ নির্মাতা এবং মুসল্লির জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা।

আজও আল্লাহ আমাদের সামনে একই প্রশ্ন রাখছেন তোমার কাজের ভিত্তি কী? তাকওয়া নাকি মানুষের প্রশংসা? আল্লাহর সন্তুষ্টি নাকি নিজের প্রভাব? ঐক্য নাকি বিভেদ?

কারণ শেষ পর্যন্ত আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন না—তুমি কী নির্মাণ করেছিলে। তিনি জিজ্ঞেস করবেন—কোন নিয়তের উপর নির্মাণ করেছিলে।

◾অনেকেই মনে করেন ইসলামের শত্রু হলো কাফির।

কুরআন কিন্তু অন্য কথা বলে। আল্লাহ বলেন—

إِنَّ الْمُنَافِقِينَ هُمُ الْفَاسِقُونَ

“নিশ্চয়ই মুনাফিকরাই প্রকৃত অবাধ্য।” (তাওবা ৬৭)

আরেক জায়গায় বলেন—

إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ

“মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে।” (নিসা ১৪৫)

◾ কাফির বাইরে থেকে আক্রমণ করে। মুনাফিক ভিতর থেকে আঘাত করে। কাফিরকে চেনা যায়। মুনাফিককে চেনা কঠিন। কাফির ইসলামের পোশাক পরে না। মুনাফিক ইসলামের ভাষায় কথা বলে। এজন্য মোনাফেক বিপদজনক।

◾মসজিদে দিরারের পেছনের মানুষ: আবু আমির রাহিব। এই ঘটনার মূল চরিত্র একজন ধর্মীয় নেতা।

নাম আবু আমির আর-রাহিব। সে ইবাদত করত। মানুষ তাকে সম্মান করত। ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু তার একটি রোগ ছিল। আর তা হলো অহংকার।

যখন রাসূল ﷺ মদিনায় এলেন, মানুষ নবীর চারপাশে একত্র হলো।তখন তার অন্তরে আগুন জ্বলে উঠল।

কুরআন বহুবার এই রোগের কথা বলেছে।্যইবলিসও এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।

أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ

“আমি তার চেয়ে উত্তম।” (আ’রাফ ১২)

কারূনও এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। ফিরআউনও এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।‌আবু আমিরও সেই রোগে আক্রান্ত হলো।

◾এখানে আমাদের জন্য একটি গভীর শিক্ষা রয়েছে।

আবু আমির ছিল অজ্ঞ মানুষ নয়। সে ধর্ম সম্পর্কে জানত। ইবাদত করত। সমাজে তার সম্মান ছিল। মানুষ তাকে ধার্মিক বলে চিনত। কিন্তু এসব কিছুই তাকে রক্ষা করতে পারেনি।

কারণ ইলম মানুষকে বাঁচায় না, যদি সেই ইলমের সাথে ইখলাস না থাকে। কত মানুষ কুরআন জানে, কিন্তু কুরআনের কাছে আত্মসমর্পণ করে না। কত মানুষ হাদিস জানে, কিন্তু নিজের নফসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে না।কত মানুষ অন্যকে হেদায়েতের কথা বলে, কিন্তু নিজের অন্তরের রোগ চিনতে পারে না।

তাই শুধু ইলম যথেষ্ট নয়। ইলমের সাথে দরকার ইখলাস। আবার পদ-পদবীও মানুষকে বাঁচায় না।

কত মানুষ নেতৃত্বের আসনে বসেছে, কিন্তু আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারেনি। কত মানুষ মিম্বারে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু আখিরাতে নিঃস্ব হয়ে গেছে।

◾আল্লাহ মানুষের দেওয়া উপাধি দেখেন না। তিনি অন্তরের অবস্থা দেখেন। তাই পদ মানুষকে বাঁচায় না।

তাওয়াদু মানুষকে বাঁচায়। নিজেকে বড় মনে করা ইবলিসের বৈশিষ্ট্য। নিজেকে আল্লাহর বান্দা মনে করা নবীদের বৈশিষ্ট্য।

তেমনি মানুষের সম্মানও মানুষকে বাঁচায় না। মানুষ আজ প্রশংসা করবে। আজ করতালি দেবে। কাল সমালোচনা করবে। আজ অনুসরণ করবে। কাল মুখ ফিরিয়ে নেবে। মানুষের সন্তুষ্টি পরিবর্তনশীল। কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টিই স্থায়ী।

এই কারণে কুরআন আমাদের শেখায়—

«وَرِضْوَانٌ مِنَ اللَّهِ أَكْبَرُ

“আল্লাহর সন্তুষ্টিই সবচেয়ে বড়।” (সূরা তাওবা: ৭২)»

শেষ পর্যন্ত মানুষকে বাঁচায় না তার ইলম, বাঁচায় সেই ইলম অনুযায়ী আমল। মানুষকে বাঁচায় না তার পদ,

বাঁচায় তার বিনয়। মানুষকে বাঁচায় না তার খ্যাতি,

বাঁচায় তার ইখলাস। মানুষকে বাঁচায় না মানুষের সম্মান, বাঁচায় আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর মানুষকে বাঁচায় না তার পরিচয় বাঁচায় আল্লাহর কাছে তার আত্মসমর্পণ।

তাই আবু আমিরের কাহিনী আমাদের সামনে একটি ভয়ংকর সত্য তুলে ধরে একজন মানুষ ইবাদতকারী হতে পারে, কিন্তু হিদায়াতপ্রাপ্ত নাও হতে পারে। একজন মানুষ আলেম হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর প্রিয় নাও হতে পারে। একজন মানুষ সম্মানিত হতে পারে,

কিন্তু আখিরাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত হতে পারে। সুতরাং আমাদের সবচেয়ে বড় চিন্তা হওয়া উচিত মানুষ আমাকে কী বলছে, তা নয়। আল্লাহ আমাকে কীভাবে দেখছেন, সেটিই আসল বিষয়।

◾কেন একটি মসজিদ বানানো হলো?

মসজিদে দিরারের ঘটনায় সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো মুনাফিকরা দুর্গ বানায়নি, সামরিক ঘাঁটি বানায়নি, অস্ত্রাগার বানায়নি; তারা একটি মসজিদ বানিয়েছিল।

কারণ শয়তান জানে, প্রকাশ্য শত্রুকে মানুষ সহজে চিনতে পারে; কিন্তু দ্বীনের পোশাক পরা শত্রুকে চেনা কঠিন।

ধর্মের ছায়ায় দাঁড়ালে মানুষ দ্রুত বিশ্বাস করে। মসজিদের নাম শুনলে সন্দেহ কমে যায়। দ্বীনের ভাষা শুনলে সতর্কতা শিথিল হয়ে যায়। তাই ইতিহাসে বহু ফিতনা এসেছে দ্বীনের নাম নিয়ে, কিন্তু দ্বীনের কল্যাণের জন্য নয়।

আজও মানুষ অনেক সময় নাম দেখে মুগ্ধ হয় কিন্তু কুরআন আমাদের শিখিয়েছে—শুধু নাম দেখে সিদ্ধান্ত নিও না। সাইনবোর্ড নয়, ভিত্তি দেখো। স্লোগান নয়, উদ্দেশ্য দেখো। বক্তব্য নয়, বাস্তবতা দেখো। দাবি নয়, আমল দেখো।

কারণ আল্লাহ নাম বিচার করেন না আল্লাহ নিয়ত বিচার করেন। মসজিদে দিরার আমাদের শেখায় সবচেয়ে বিপজ্জনক মিথ্যা হলো সেই মিথ্যা, যা সত্যের পোশাক পরে আসে। আর সবচেয়ে বড় প্রতারণা হলো সেই প্রতারণা, যা দ্বীনের নামে পরিচালিত হয়।

◾একটি মসজিদ, চারটি অপরাধ

মসজিদে দিরার ছিল একটি ভবন। কিন্তু আল্লাহ তার ভেতরের চারটি ভয়ংকর উদ্দেশ্য উন্মোচন করেছেন। কুরআনের ভাষায় এটি ছিল একটি মসজিদ, কিন্তু এর মধ্যে লুকিয়ে ছিল চারটি অপরাধ।

১. ضِرَارًا — ক্ষতি করার জন্য

এটি ভুল নয়, পরিকল্পিত। অনিচ্ছাকৃত নয়, ইচ্ছাকৃত। তারা মসজিদ বানিয়েছিল কল্যাণের জন্য নয়, ক্ষতির জন্য। দ্বীনের ছায়ায় দাঁড়িয়ে দ্বীনের মানুষদের ক্ষতিগ্রস্ত করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। এক কথায় ভয়াবহ।

২. وَكُفْرًا — কুফরকে শক্তিশালী করার জন্য

বাহ্যিকভাবে ইসলামের কথা বলা হচ্ছিল।

কিন্তু বাস্তবে ইসলামের শক্তি দুর্বল করা হচ্ছিল।

সব সময় কুফর ইসলামের বাইরে দাঁড়িয়ে আঘাত করে না; কখনও কখনও ইসলামের নাম ব্যবহার করেও কুফরকে শক্তিশালী করা হয়।

৩. وَتَفْرِيقًا بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ — মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি

এটাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। কারণ শয়তান জানে, ঐক্যবদ্ধ উম্মাহকে পরাজিত করা কঠিন।

কিন্তু বিভক্ত উম্মাহ নিজের শক্তি নিজেই ধ্বংস করে।

তাই আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন—

«وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا

“তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং বিভক্ত হয়ো না।” (আলে ইমরান: ১০৩)»

৪. وَإِرْصَادًا لِمَنْ حَارَبَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ — আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শত্রুর জন্য ঘাঁটি

মসজিদটি ছিল ইসলামের শত্রুদের জন্য একটি গোপন আশ্রয়কেন্দ্র।

এখানেই সবচেয়ে বড় শিক্ষা‌ প্রকাশ্য শত্রু যতটা ভয়ংকর নয়, দ্বীনের পোশাক পরা শত্রু তার চেয়েও বেশি ভয়ংকর।

কারণ সবচেয়ে বিপজ্জনক ষড়যন্ত্র সেই ষড়যন্ত্র, যা ধর্মের ভাষায় কথা বলে, কিন্তু ধর্মের ভিত্তিকে আঘাত করে।

◾মুনাফিকদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র মিথ্যা শপথ। ‌আল্লাহ বলেন—

وَلَيَحْلِفُنَّ إِنْ أَرَدْنَا إِلَّا الْحُسْنَى

“তারা অবশ্যই বলবে—আমরা তো কল্যাণই চেয়েছি।”

এটাই মুনাফিকির ভাষা।‌তারা কখনও বলে না‌ আমি বিভেদ চাই। আমি ক্ষমতা চাই।‌আমি নেতৃত্ব চাই। আমি মানুষ ভাঙতে চাই।

তারা বলে “ভালো চেয়েছি। আজও এই বাক্য জীবিত।

মানুষ অপমান করে বলে— ভালো চেয়েছি।

বিভেদ সৃষ্টি করে বলে— ভালো চেয়েছি।

ক্ষমতার লড়াই করে বলে— ভালো চেয়েছি।

কিন্তু এরপর আল্লাহ বলেন—

وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ

“আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন তারা মিথ্যাবাদী।”

◾বর্তমান মুসলিম সমাজের জন্য সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা। এই আয়াত কেবল অতীতের ঘটনা নয়।এটি কিয়ামত পর্যন্ত সতর্কবার্তা।

আজও প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে—

মসজিদ নির্মাণ কি আল্লাহর জন্য? নাকি প্রভাব বিস্তারের জন্য? কমিটি কি আমানতদার? নাকি ক্ষমতালোভী? ইমাম কি হক বলার জন্য নির্বাচিত?নাকি কারো আনুগত্য করার জন্য?‌ দান কি আল্লাহর জন্য? নাকি নামফলকের জন্য?

বিভেদের রাজনীতি

******************

আজ বহু স্থানে দেখা যায় একটি মসজিদ যথেষ্ট। কিন্তু দ্বন্দ্বের কারণে আরেকটি মসজিদ। তারপর আরেকটি।

তারপর আলাদা জামাত।আলাদা ইমাম। আলাদা অনুসারী।

আল্লাহর ঘর ঐক্যের কেন্দ্র হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনেক সময় তা ব্যক্তিগত বিরোধের প্রতীকে পরিণত হয়। এখানেই মসজিদে দিরারের শিক্ষা আমাদের কাঁপিয়ে দেয়।

◾ইসলামের দৃষ্টিতে মসজিদের প্রকৃত পরিচয়

ইসলামে মসজিদের মূল্য গম্বুজে নয়। তাকওয়ায়।

মিনারে নয়। ইখলাসে। কার্পেটে নয়। ঐক্যে। বড় ভবনে নয়। সৎ মানুষের উপস্থিতিতে।

কারণ আল্লাহ মানুষের অন্তর দেখেন। রাসূল ﷺ বলেছেন—

إِنَّ اللَّهَ لَا يَنْظُرُ إِلَى صُوَرِكُمْ وَلَا إِلَى أَمْوَالِكُمْ وَلَكِنْ يَنْظُرُ إِلَى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ

“আল্লাহ তোমাদের চেহারা ও সম্পদের দিকে তাকান না; বরং তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে তাকান।” (সহিহ মুসলিম)

◾মসজিদে দিরারের ঘটনা শুধু একটি মসজিদের ইতিহাস নয়; এটি দুই ধরনের মানুষ, দুই ধরনের নিয়ত এবং দুই ধরনের পথের ইতিহাস।

একদল মানুষ দ্বীনকে ব্যবহার করে নিজের স্বার্থের জন্য।আরেকদল মানুষ নিজেদেরকে উৎসর্গ করে দ্বীনের জন্য।একদল মানুষ বিভেদ সৃষ্টি করে।আরেকদল মানুষ ঐক্য গড়ে।একদল মানুষ মানুষের প্রশংসা খোঁজে।আরেকদল মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি খোঁজে।তাই আজ আমাদের প্রত্যেকের নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত—

আমি কি মসজিদে কুবার পথে, নাকি মসজিদে দিরারের পথে?

আমি কি ঐক্যের কর্মী, নাকি বিভেদের কারিগর?

আমি কি মানুষের সন্তুষ্টি চাই, নাকি আল্লাহর সন্তুষ্টি?

কারণ কিয়ামতের দিন আল্লাহ আমাদের নির্মাণের আকার দেখবেন না; তিনি দেখবেন আমাদের নিয়তের ভিত্তি।

হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরকে মুনাফিকির সব রূপ থেকে হেফাজত করুন। আমাদের মসজিদগুলোকে ঐক্যের কেন্দ্র বানিয়ে দিন।‌আমাদের ইমাম, খতীব, দাতা, কমিটি ও মুসল্লিদেরকে ইখলাস ও তাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত করুন।‌‌এবং আমাদেরকে মসজিদে দিরারের পথ থেকে বাঁচিয়ে মসজিদে কুবার মানুষের কাতারে শামিল করুন।

Scroll to Top