ইমামতি শুধু চাকরি নয়, আমানত দায়িত্ব

প্রিয় রাসূল ﷺ ছিলেন মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ইমাম। কিন্তু তাঁর ইমামতি শুধু নামাজের ইমামতি ছিল না। তিনি ছিলেন শিক্ষক, নেতা, মুরব্বি, সমাজ সংস্কারক, দুঃখীদের আশ্রয়, এতিমদের অভিভাবক, যুবকদের বন্ধু, নারীদের পরামর্শদাতা‌, পরিবারের উপদেষ্টা, রাষ্ট্রের পরিচালক, সেনাপতি, বিচারক, দাঈ এবং সর্বোপরি আল্লাহর বান্দাদের জন্য রহমত। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ

আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছি।

রাসূল ﷺ-এর ইমামতি ছিল একটি উম্মাহ গঠনের প্রকল্প। একটি সভ্যতা নির্মাণের প্রকল্প। একটি মানুষ তৈরির প্রকল্প।

◾মসজিদে নববী: শুধু নামাজের স্থান নয়

***********************************

মসজিদে নববী শুধু একটি ভবন ছিল না। সেটি ছিল একটি জীবন্ত প্রতিষ্ঠান। একটি প্রাণকেন্দ্র। একটি উম্মাহ নির্মাণের কারখানা। একটি সভ্যতা গঠনের কেন্দ্র।

মসজিদে নববীতে নামাজ হতো। কুরআন শিক্ষা হতো।

হাদিস শিক্ষা হতো। ফতোয়া দেওয়া হতো। পারিবারিক বিরোধের সমাধান হতো। যুবকদের প্রশিক্ষণ হতো।গরিবদের সহায়তা করা হতো। মুসাফিরদের আশ্রয় দেওয়া হতো। রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। বিদেশি প্রতিনিধিদল আসত। যুদ্ধ ও শান্তির বিষয়ে আলোচনা হতো। সমাজের সমস্যা নিয়ে কথা হতো। মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা হতো। অর্থাৎ মসজিদ ছিল সমাজের হৃদয়। আর সেই হৃদয়ের কেন্দ্র ছিলেন ইমামুল আম্বিয়া মুহাম্মাদ ﷺ।

◾একজন মুসল্লি অনুপস্থিত হলে খবর নেওয়া হতো

আজ একজন মুসল্লি ছয় মাস মসজিদে না এলে অনেক সময় কেউ খোঁজও নেয় না। কিন্তু রাসূল ﷺ-এর যুগে একজন মানুষ কয়েকদিন অনুপস্থিত থাকলেও তার খোঁজ নেওয়া হতো।

কারণ মসজিদ শুধু নামাজের জায়গা ছিল না। মানুষের সাথে সম্পর্কের জায়গা ছিল। মহব্বতের জায়গা ছিল। দায়িত্বের জায়গা ছিল।

আজ ইমামতির ধারণা কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে?

কষ্টের সাথে বলতে হয়, অনেক স্থানে আজ ইমামতিকে একটি চাকরিতে পরিণত করা হয়েছে।

মনে করা হয় আজান হবে। নামাজ পড়াবে। দোয়া করবে। মিলাদ পড়বে। জানাজা পড়াবে। রমজানে খতম তারাবীহ পড়াবে। ব্যস। দায়িত্ব শেষ। এর বাইরে সমাজ নিয়ে ভাবার দরকার নেই। যুবকদের নিয়ে ভাবার দরকার নেই। পরিবার নিয়ে ভাবার দরকার নেই। অসহায় মানুষের খোঁজ নেওয়ার দরকার নেই।সমাজের নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই।

কিন্তু রাসূল ﷺ কি শুধু নামাজ পড়াতেন?

তিনি সমাজ গড়তেন। মানুষ গড়তেন। চরিত্র গড়তেন।নেতৃত্ব গড়তেন। তিনি শুধু মুসল্লি তৈরি করেননি। তিনি আবু বকর (রা.) তৈরি করেছেন। উমর (রা.) তৈরি করেছেন। উসমান (রা.) তৈরি করেছেন। আলী (রা.) তৈরি করেছেন। মুসআব (রা.) তৈরি করেছেন। উসামা (রা.) তৈরি করেছেন। অর্থাৎ তিনি মানুষ গড়েছেন।

আজ আমাদের সমাজে কী হচ্ছে? মাদক বাড়ছে।

অশ্লীলতা বাড়ছে। বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়ছে। হতাশা বাড়ছে। আত্মহত্যা বাড়ছে। যুবকদের মধ্যে পরিচয় সংকট বাড়ছে। সুদ ও দুর্নীতি বাড়ছে। পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হচ্ছে। শিশুরা স্ক্রিনের কাছে বড় হচ্ছে,

কুরআনের কাছে নয়।

প্রশ্ন হলো এই আগুন নেভানোর কথা কে বলবে? যদি মসজিদ নীরব থাকে, তাহলে কে কথা বলবে? যদি মিম্বর নীরব থাকে, তাহলে কে মানুষকে সতর্ক করবে?

মসজিদ কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় নয়।কোনো ক্ষমতার কেন্দ্রও নয়। কিন্তু মসজিদ অবশ্যই সমাজের নৈতিক বিবেক। মসজিদ অন্যায়কে অন্যায় বলবে। সুদ সম্পর্কে সতর্ক করবে। পরিবার রক্ষার কথা বলবে। যুবকদের পথ দেখাবে। নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করবে। এটাই নববী মিম্বরের ভূমিকা।

অসহায় মানুষের পাশে মসজিদ। রাসূল ﷺ-এর মসজিদে একজন ক্ষুধার্ত মানুষ এলে তার জন্য ব্যবস্থা হতো। একজন মুসাফির এলে আশ্রয় পেত। একজন অসহায় মানুষ এলে সাহায্য পেত।

আজ আমাদের এলাকায় কত বিধবা আছে?

কত এতিম আছে? কত বেকার যুবক আছে? কত পরিবার ঋণের বোঝায় ভেঙে পড়ছে? কত মানুষ মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছে? মসজিদ কি তাদের খোঁজ রাখে? এই প্রশ্ন আমাদের নিজেদেরকে করতে হবে।

আজ গ্রামে গঞ্জে শহরে বন্দরে বিদেশি এনজিও গুলোর কাছে অসহায় মানুষের খবর আছে। কিন্তু মসজিদের কাছে নেই।

সবচেয়ে বড় ক্ষতি কোথায়? সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে তখন, যখন আমরা মসজিদকে সমাজের কেন্দ্র থেকে সরিয়ে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক স্থানে পরিণত করেছি।

ফলে মানুষ জীবনের সমস্যার সমাধান খুঁজতে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ইউটিউবে। সেলিব্রিটির কাছে।বাজারের কাছে। কিন্তু মসজিদের কাছে নয়। এটি শুধু সমাজের ব্যর্থতা নয়। এটি মসজিদকেন্দ্রিক নেতৃত্বেরও আত্মসমালোচনার বিষয়।

মসজিদে নববীর মেঝেতে দামি কার্পেট ছিল না। বড় গম্বুজ ছিল না। এসি ছিল না। কিন্তু সেখানে এমন মানুষ তৈরি হয়েছিল, যারা পৃথিবীর ইতিহাস বদলে দিয়েছিল। আজ আমাদের মসজিদগুলো অনেক সুন্দর।

কিন্তু প্রশ্ন হলো আমরা কি মানুষ গড়তে পারছি?আমরা কি নতুন আবু বকর তৈরি করছি? আমরা কি নতুন উমর তৈরি করছি? আমরা কি নতুন মুসআব তৈরি করছি? আমরা কি নতুন উসামা তৈরি করছি?

যদি না পারি,তাহলে আমাদের আবার মসজিদে নববীর দিকে ফিরে তাকাতে হবে। কারণ মসজিদের প্রকৃত সাফল্য ভবনের সৌন্দর্যে নয়,মানুষের চরিত্রে।মসজিদের প্রকৃত সাফল্য মিনারের উচ্চতায় নয়, ঈমানের উচ্চতায়। মসজিদের প্রকৃত সাফল্য জমির পরিমাণে নয়, মানুষ গড়ার ক্ষমতায়।

কেমন ছিল প্রিয় রাসূল ﷺ-এর ইমামতি

**********************************

আজ আমরা যখন “ইমাম” শব্দটি শুনি, তখন অনেক সময় আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে একজন ব্যক্তি, যিনি মেহরাবে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়াচ্ছেন।

কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ইমামতি কি শুধু এতটুকুই ছিল?

তাঁর ইমামতি ছিল মানুষের হৃদয়ের ইমামতি। তাঁর ইমামতি ছিল সমাজের ইমামতি। তাঁর ইমামতি ছিল মানুষের দুঃখ-কষ্ট, কান্না, আশা-নিরাশা, ঈমান ও আখিরাতের ইমামতি।‌ তাঁর কাছে একজন যুবক বিপদে পড়লে তিনি চিন্তিত হতেন। একটি পরিবার ভেঙে গেলে তিনি উদ্বিগ্ন হতেন। কেউ ঈমান হারিয়ে ফেললে তাঁর হৃদয় ব্যথিত হতো। কেউ আল্লাহ থেকে দূরে সরে গেলে তিনি অস্থির হয়ে উঠতেন। একজন মানুষ জাহান্নামের দিকে যাচ্ছে—এই চিন্তা তাঁকে রাতে ঘুমাতে দিত না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর সম্পর্কে বলেছেন

لَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ أَلَّا يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ

তারা ঈমান আনছে না বলে আপনি যেন দুঃখে নিজেকেই ধ্বংস করে ফেলবেন। (সূরা শু’আরা: ৩)

কী আশ্চর্য! মানুষ তাঁকে অপমান করছে। পাথর মারছে। মিথ্যাবাদী বলছে। যাদুকর বলছে। তবুও তাঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা ছিল এরা যদি ঈমান ছাড়া মারা যায়?

তায়েফের ঘটনা স্মরণ করুন। তাঁকে রক্তাক্ত করা হয়েছে। শিশুদের লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। জুতার ভেতর রক্ত জমে গেছে।

এই অবস্থায়ও তিনি বলেননি হে আল্লাহ! এদের ধ্বংস করে দিন। বরং বলেছেন হে আল্লাহ! আমার জাতিকে হিদায়াত দিন। তারা জানে না। এটাই ছিল নববী ইমামতি।

প্রতিশোধের নয়। হিদায়াতের। অভিশাপের নয়।করুণার।

একজন যুবক তাঁর কাছে এসে ব্যভিচারের অনুমতি চাইল। আজ হলে হয়তো আমরা তাকে ধমক দিতাম।

মসজিদ থেকে বের করে দিতাম। কিন্তু রাসূল ﷺ তাকে কাছে বসালেন। তার সাথে কথা বললেন। তার হৃদয়কে বুঝলেন। তার জন্য দোয়া করলেন। ফলাফল কি হলো ?

যে যুবক ব্যভিচারের অনুমতি চাইতে এসেছিল, সে পবিত্রতার দাঈ হয়ে ফিরে গেল। কারণ রাসূল ﷺ শুধু আচরণ দেখেননি। হৃদয় দেখেছিলেন।

একটি শিশু কাঁদছে। রাসূল ﷺ নামাজ সংক্ষিপ্ত করে দিলেন। কারণ তিনি জানতেন পেছনে একজন মা দাঁড়িয়ে আছেন। তার হৃদয় কষ্ট পাচ্ছে।

একজন ইমাম, যিনি পুরো উম্মাহর নেতা, তিনি নামাজের মধ্যেও একজন মায়ের কষ্ট অনুভব করছেন।

এটাই ছিল তাঁর ইমামতি।

মদিনার রাস্তায় কোনো বিধবা আছে কি না তিনি খোঁজ নিতেন। কোনো এতিম ক্ষুধার্ত কি না তিনি চিন্তা করতেন। কোনো সাহাবী অসুস্থ কি না তিনি দেখতে যেতেন।‌ কেউ কয়েকদিন মসজিদে না এলে তার খোঁজ করতেন।

আজ আমরা কতজন মুসল্লি তিনদিন মসজিদে না এলে খোঁজ নিই? আজ আমরা এলাকার কতজন মানুষের সাথে পরিচিত। এ মসজিদে আসলো কে আসলো না এলাকায় কারা নামাজী কারা নামাজী নয় দীর্ঘদিন ইমামতির পর কতটুকু জানি।

রাসূল ﷺ-এর ইমামতি শুধু তাকবির বলা ছিল না।

মানুষকে বাঁচানো ছিল। হৃদয়কে জাগানো ছিল।যুবকদের গড়া ছিল। পরিবারকে রক্ষা করা ছিল।সমাজকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনা ছিল।

আজ আমরা যদি নববী ইমামতির উত্তরাধিকারী হতে চাই, তাহলে শুধু মেহরাবে দাঁড়ালেই হবে না। মানুষের হৃদয়েও দাঁড়াতে হবে। শুধু নামাজ পড়ালেই হবে না।

মানুষের কান্না শুনতে হবে। শুধু খুতবা দিলেই হবে না।

মানুষের ঘরে পৌঁছাতে হবে।

কারণ নববী ইমামতির প্রাণ ছিল মানুষের জন্য জ্বলা, মানুষের জন্য কাঁদা, মানুষের জন্য বেঁচে থাকা।

◾নবীদের ভাষা ছিল দায়িত্বের ভাষা। কুরআনে বারবার এসেছে—

لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا

আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোনো প্রতিদান চাই না।

হযরত নূহ (আ.) বলেছেন। হযরত হূদ (আ.) বলেছেন।

হযরত সালিহ (আ.) বলেছেন। হযরত শুয়াইব (আ.) বলেছেন।

নবীদের এই ভাষার অর্থ কী? তারা মানুষকে শিখিয়েছেন দাওয়াতের ভিত্তি হলো দেওয়া। নেওয়া নয়। খিদমত লেনদেন নয়। উৎসর্গ। ব্যবসা নয়।

ইমামতি: সম্মানের আসন নয়, জবাবদিহির আসন

*****************************************

আমরা অনেক সময় ইমামতিকে মর্যাদার আসন মনে করি। কিন্তু কিয়ামতের দিন এটি হবে জবাবদিহির আসন। রাসূল ﷺ বলেছেন:

كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ

তোমাদের প্রত্যেকেই রক্ষক এবং প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।

একজন ইমামকে শুধু নিজের নামাজের হিসাব দিতে হবে না। তাকে জিজ্ঞাসা করা হতে পারে তোমার এলাকায় কত যুবক পথ হারিয়েছিল? তুমি কী করেছিলে? কত পরিবার ভেঙেছিল? তুমি কী করেছিলে? কত মানুষ কুরআন থেকে দূরে ছিল? তুমি কী করেছিলে?

নবুওয়াতের উত্তরাধিকার

**********************

রাসূল ﷺ বলেছেন:

العلماء ورثة الأنبياء

আলেমরা নবীদের উত্তরাধিকারী।

উত্তরাধিকার মানে শুধু পাগড়ি নয়। শুধু পোশাক নয়।শুধু উপাধি নয়। উত্তরাধিকার মানে দায়িত্ব। উত্তরাধিকার মানে মানুষের জন্য বেঁচে থাকা।

উত্তরাধিকার মানে মানুষের কান্নাকে নিজের কান্না বানিয়ে নেওয়া। উত্তরাধিকার মানে উম্মাহর ব্যথা নিজের বুকে অনুভব করা।

বাংলাদেশের বাস্তবতা

*******************

আজ আমাদের সমাজে মাদক বাড়ছে। অশ্লীলতা বাড়ছে। পরিবার ভাঙছে। আত্মহত্যা বাড়ছে। যুবকরা হতাশায় ডুবে যাচ্ছে। মসজিদের কাতার থেকে তরুণরা হারিয়ে যাচ্ছে।

প্রশ্ন হলো এই অবস্থায় একজন ইমামের ভূমিকা কী?

শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ানো? নাকি সমাজকে বাঁচানোর সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া?

রাসূল ﷺ হলে কী করতেন? তিনি যুবকদের খুঁজতেন।

পরিবারগুলোর কাছে যেতেন। মানুষের হৃদয় জয় করতেন।

ইমামতি কোনো চাকরি নয়। ইমামতি একটি আমানত।

ইমামতি একটি দায়িত্ব। ইমামতি একটি জবাবদিহি।ইমামতি নবুওয়াতের উত্তরাধিকার।

মেহরাবে দাঁড়ানো সহজ। কিন্তু মানুষের হৃদয়ে দাঁড়ানো কঠিন। তাকবির বলা সহজ। কিন্তু একটি বিপথগামী যুবককে ফিরিয়ে আনা কঠিন।

নামাজ পড়ানো সহজ। কিন্তু একটি সমাজকে গড়ে তোলা কঠিন। আর সেই কঠিন কাজের জন্যই আল্লাহ তাঁর নবীদের পাঠিয়েছিলেন। সেই কঠিন কাজের উত্তরাধিকারই আজ ইমাম, আলেম ও দ্বীনি নেতৃত্বের কাঁধে।

◾খেলাফত মসজিদকে জীবিত করবে, নাকি জীবন্ত মসজিদ খেলাফত গড়বে?

আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা আছে খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হলে মসজিদগুলো প্রাণ ফিরে পাবে। খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ বদলে যাবে।

নিঃসন্দেহে ইসলামী শাসন, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও শরিয়াহর বাস্তবায়ন মুসলিম উম্মাহর গুরুত্বপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু একটি প্রশ্ন আমাদের নিজেদেরকে করতে হবে।

ইসলামের ইতিহাসে রাষ্ট্র আকাশ থেকে নেমে আসেনি।

খেলাফত কোনো যাদুকরী ঘটনা ছিল না। খেলাফত ছিল মসজিদে নববীর কাতারে গড়ে ওঠা মানুষের ফসল।

আবু বকর (রা.) মসজিদে নববীর মানুষ। উমর (রা.) মসজিদে নববীর মানুষ। উসমান (রা.) মসজিদে নববীর মানুষ। আলী (রা.) মসজিদে নববীর মানুষ।মুসআব (রা.) মসজিদে নববীর মানুষ। তারা আগে তৈরি হয়েছে, তারপর রাষ্ট্র তৈরি হয়েছে।

আজ আমরা অনেক সময় ফল চাই, কিন্তু বীজ বপন করতে চাই না। ফসল চাই, কিন্তু জমি প্রস্তুত করতে চাই না। খেলাফত চাই, কিন্তু খেলাফতের মানুষ গড়তে চাই না। এটা কখনো সম্ভব নয়।

মনে রাখতে হবে, মসজিদ শুধু একটি স্থাপনা নয়।মসজিদ একটি মানুষ তৈরির কারখানা। যেদিন মসজিদ আবার যুবকদের কেন্দ্র হবে, যেদিন মসজিদ আবার কুরআন শিক্ষার কেন্দ্র হবে, যেদিন মসজিদ আবার নৈতিক নেতৃত্বের কেন্দ্র হবে, যেদিন মসজিদ আবার সমাজসেবার কেন্দ্র হবে, সেদিন সমাজ বদলাতে শুরু করবে। আর সমাজ বদলালে রাষ্ট্রও বদলাবে।

রাসূল ﷺ মক্কায় ১৩ বছর কী করেছেন?সংবিধান লেখেননি। রাষ্ট্র পরিচালনা করেননি। প্রথমে মানুষ তৈরি করেছেন। ঈমান তৈরি করেছেন। চরিত্র তৈরি করেছেন। ত্যাগী মানুষ তৈরি করেছেন। যারা পরে মদিনায় গিয়ে একটি সভ্যতা নির্মাণ করেছে।

একটি বড় সত্য হলো যখন মসজিদ আবার জীবন্ত হবে, মসজিদ থেকে মানুষ গড়া শুরু হবে, তখনই ন্যায়ভিত্তিক সমাজ, ইসলামী নেতৃত্ব ও খেলাফতের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে।

আর এটাই নববী পরিবর্তনের পথ। আর এ পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিবে ইমাম সমাজ। আল্লাহ আমাদের ইমাম সমাজকে চাকরির মানসিকতা থেকে বের করে আমানতের মানসিকতা দান করুন। আমাদেরকে মেহরাবের ইমাম হওয়ার পাশাপাশি উম্মাহর পথপ্রদর্শক হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Scroll to Top