মসজিদ হতে হবে শিশু-বান্ধব

ধরুন, আজ জুমার নামাজ শেষে একটি সাত বছরের শিশু তার বাবার হাত ধরে মসজিদ থেকে বের হচ্ছে। তার চোখে আনন্দ। সে বলছে, আব্বু, আগামীকালও আমি আপনার সাথে মসজিদে আসব।

আরেকটি শিশু একই বয়সের। সেও একদিন মসজিদে এসেছিল। কিন্তু কিছু মুসল্লির ধমক, অপমান ও তিরস্কারে সে কাঁদতে কাঁদতে বের হয়েছে। সে বলছে,

আমি আর কখনো মসজিদে যাব না। দুই শিশুর ভবিষ্যৎ এক হবে না।

প্রথম শিশুর হৃদয়ে মসজিদের প্রতি ভালোবাসা জন্মাবে। দ্বিতীয় শিশুর হৃদয়ে মসজিদ ভয়ের প্রতীক হয়ে যাবে।

আজকের আলোচনা কেবল শিশুদের নিয়ে নয়। এটি আগামী দিনের ইমাম, খতিব, আলেম, হাফেজ, দাঈ এবং মুসল্লিদের নিয়ে আলোচনা।‌ কারণ আজকের শিশুই আগামী দিনের উম্মাহ।

◾মসজিদ শুধু একটি ভবন নয়। আমরা অনেক সময় মসজিদকে শুধু নামাজের জায়গা হিসেবে দেখি। কিন্তু রাসূল ﷺ-এর যুগে মসজিদ ছিল ঈমান গঠনের কেন্দ্র

শিক্ষা কেন্দ্র, নেতৃত্ব তৈরির কেন্দ্র, সমাজ সংস্কারের কেন্দ্র, দাওয়াতের কেন্দ্র, উম্মাহ গঠনের কেন্দ্র, সাহাবায়ে কেরাম এই কেন্দ্রের সঙ্গে শিশুদের যুক্ত করতেন।

কারণ তারা জানতেন যে শিশুর শৈশব মসজিদে কাটে, তার যৌবন সাধারণত পথভ্রষ্ট হয় না।

◾কেন শিশুদের ছোটবেলা থেকেই মসজিদের সাথে যুক্ত করতে হবে?

মানুষের চরিত্রের ভিত্তি তৈরি হয় শৈশবে। একটি শিশু যখন ছোটবেলায় মসজিদে আসে, তখন সে শুধু নামাজ শিখে না।

সে শেখে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, জামাতের গুরুত্ব, মুসলিম সমাজের সাথে সংযোগ, বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান, শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা, ইসলামী পরিবেশ।

আজ যে শিশু মসজিদে বড় হবে না, সে বড় হয়ে কোথায় যাবে? মাঠে? মোবাইলে? সোশ্যাল মিডিয়ায়? নাকি বখাটে বন্ধুদের আড্ডায়? যে জায়গা শিশুকে গ্রহণ করবে, শিশুও সেই জায়গাকেই নিজের ঠিকানা বানাবে।

◾রাসূল ﷺ-এর মসজিদ ছিল শিশু-বান্ধব

অনেকেই মনে করেন শিশুদের উপস্থিতি মসজিদের শৃঙ্খলার জন্য সমস্যা। কিন্তু রাসূল ﷺ-এর মসজিদে তাকালে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।

প্রিয় রাসূলের মসজিদে শিশুর কান্না ছিল। রাসূল ﷺ বলেছেন আমি নামাজ দীর্ঘ করতে চাই। কিন্তু শিশুর কান্না শুনে নামাজ সংক্ষিপ্ত করি, কারণ আমি তার মায়ের কষ্ট বুঝি।‌(বুখারী, মুসলিম)

তিনি শিশুকে বের করে দেননি। বরং শিশুর কারণে নিজের নামাজ সংক্ষিপ্ত করেছেন।

হাসান ও হুসাইন (রা.) প্রিয় রাসুলের আদরের দুই দুলাল। রাসূল ﷺ সিজদায় আছেন। তাঁর নাতি এসে পিঠে চড়ে বসেছে। তিনি সিজদা দীর্ঘ করলেন।

কারণ তিনি শিশুটির অনুভূতিকে সম্মান করেছেন।

ভাবুন! আজ আমরা সামান্য শব্দ সহ্য করতে পারি না।

আর রাসূল ﷺ সিজদা দীর্ঘ করেছেন।

নবী পরিবারের আরেক রত্ন উমামা‌। রাসূল ﷺ তাঁর নাতনি উমামাকে কোলে নিয়ে নামাজ পড়িয়েছেন।

এ দৃশ্য একটি বড় শিক্ষা দেয়।‌ শিশুর উপস্থিতি ইবাদতের প্রতিবন্ধক নয়। বরং শিশুর প্রতি ভালোবাসাও ইবাদতের অংশ।

◾সাহাবারা কীভাবে শিশুদের মসজিদের সাথে যুক্ত করতেন? সাহাবায়ে কেরাম সন্তানদের ঘরে বন্দী রাখেননি।‌ তারা সন্তানদের নিয়ে মসজিদে আসতেন।

ইবনে আব্বাস (রা.)। অল্প বয়স থেকেই রাসূল ﷺ-এর মজলিসে বসতেন। ইবনে উমর (রা.) শৈশব থেকেই জামাতে নামাজে অংশ নিতেন। হযরত আনাস (রা.)

দশ বছর বয়স থেকেই নবী ﷺ-এর সান্নিধ্যে ছিলেন।তারা মসজিদের পরিবেশে বড় হয়েছেন। তাই তাদের ঈমানও ছিল শক্তিশালী।

◾মসজিদে শিশুদের ধমকানোর ক্ষতি

একটি ধমক অনেক সময় একটি শিশুর হৃদয়ে আজীবনের ক্ষত তৈরি করে। সে হয়তো ভুলে যাবে কে ধমক দিয়েছে। কিন্তু ভুলবে নাৎমসজিদে গেলে আমাকে অপমান করা হয়েছিল। এর ফলে মসজিদের প্রতি ভালোবাসা কমে যায়। ধর্মকে কঠিন মনে হয়।নামাজের আগ্রহ কমে যায়। ইসলামী পরিবেশ থেকে দূরে সরে যায়। শয়তান ঠিক এটাই চায়।

◾শিশুদের কোলাহল নাকি শিশুদের অনুপস্থিতি?

একজন আলেম বলেন শিশুদের শব্দ আমাকে ভয় দেখায় না। আমাকে ভয় দেখায় সেই মসজিদ, যেখানে শিশু নেই।কারণ শিশুর উপস্থিতি মানে ভবিষ্যৎ আছে।

শিশুর অনুপস্থিতি মানে ভবিষ্যৎ বিপদে।

◾শিশু-বান্ধব মানে শৃঙ্খলাহীনতা নয়

যখন আমরা শিশু-বান্ধব মসজিদের কথা বলি, তখন আমরা এমন শিশুদের কথা বলছি না যারা একেবারেই অবুঝ, যাদের উপস্থিতিতে মুসল্লিদের নামাজ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে, কিংবা যাদের নিয়ন্ত্রণ করার মতো কেউ নেই।

আমরা মূলত সেই বয়সের শিশু ও কিশোরদের কথা বলছি, যাদের মধ্যে ভাল-মন্দ বোঝার ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে, যারা নামাজ শেখার পর্যায়ে আছে, যারা আগামী দিনের মুসল্লি, হাফেজ, আলেম ও দ্বীনের খাদেম হওয়ার পথে রয়েছে।

◾রাসূল ﷺ সাত বছর বয়সে সন্তানদের নামাজের নির্দেশ দিতে বলেছেন। এর অর্থ হলো, এই বয়স থেকেই সন্তানদের মসজিদ, জামাত ও ইসলামী পরিবেশের সাথে পরিচিত করার একটি প্রশিক্ষণ শুরু হওয়া উচিত।

তাই একদিকে যেমন মসজিদে শিশুদের জন্য ভালোবাসা ও গ্রহণযোগ্যতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে, অন্যদিকে বাবা-মাকেও সন্তানের আদব, শৃঙ্খলা ও মসজিদের মর্যাদা শেখাতে হবে।

◾যেখানে শিশু যাবে, হৃদয়ও সেদিকেই যাবে

আজ আমরা সন্তানদের নিয়ে বাজারে যাই। সে বাজারকে চেনে।ৎশপিং সেন্টারে নিয়ে যাই। সে শপিং সেন্টারকে ভালোবাসে। খেলার মাঠে নিয়ে যাই। মাঠের প্রতি তার টান তৈরি হয়। মেলায় নিয়ে যাই। মেলার জন্য সে অপেক্ষা করে। কারণ সে বারবার সেখানে যাচ্ছে। সেখানে আনন্দ পাচ্ছে। সেখানে তাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।

◾কিন্তু প্রশ্ন হলো—সন্তান কি মসজিদকে চেনে? মসজিদ কি তার পরিচিত একটি জায়গা? মসজিদে যাওয়ার কথা শুনে কি তার হৃদয়ে আনন্দ জাগে, নাকি ভয় জাগে?

অনেক শিশু বাজারে যেতে পছন্দ করে, পার্কে যেতে পছন্দ করে, খেলতে যেতে পছন্দ করে; কিন্তু মসজিদে যেতে চায় না। কারণ মসজিদকে সে ভালোবাসার জায়গা হিসেবে চিনতে শেখেনি। অনেক সময় তার মনে ধারণা তৈরি হয়েছে—মসজিদে গেলে বকা খেতে হবে, ধমক খেতে হবে, ভুল করলেই অপমানিত হতে হবে। এ ভয় অবশ্যই দূর করতে হবে।

কারণ যে শিশু বাজারকে ভালোবাসে কিন্তু মসজিদকে ভালোবাসে না, তার হৃদয় ধীরে ধীরে দুনিয়ার দিকে ঝুঁকবে। আর যে শিশু মসজিদকে ভালোবাসে, তার হৃদয়ে ঈমানের একটি ভিত্তি তৈরি হবে।

◾মসজিদের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা একটি বিনিয়োগ। আমরা যদি চাই আগামী বিশ বছর পর এই মসজিদ আবাদ থাকুক, তাহলে আজকের শিশুদের হৃদয় আবাদ করতে হবে।

কার্পেট, দেয়াল, ঝাড়বাতি ও স্থাপনা রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে একটি শিশু মনে করবে এটাই আমার মসজিদ। এখানে আমাকে ভালোবাসা হয়। এখানে আমার জন্য জায়গা আছে।

◾যেদিন একটি শিশু মসজিদকে নিজের ঘর মনে করবে, সেদিন তাকে আর ধরে আনতে হবে না। সে নিজেই আজান শুনে ছুটে আসবে। আর সেই শিশুই একদিন প্রথম কাতারের মুসল্লি, কুরআনের শিক্ষক, মসজিদের ইমাম অথবা উম্মাহর একজন নিবেদিত খাদেম হয়ে উঠতে পারে।

তাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—মসজিদে শিশুদের উপস্থিতি শুধু সহ্য করা নয়; বরং তাদের মধ্যে যারা বুঝ তৈরি হওয়ার পর্যায়ে আছে, তাদের হৃদয়ে মসজিদের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও আত্মীয়তার অনুভূতি গড়ে তোলা। এটাই ভবিষ্যৎ উম্মাহ গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

◾আজশিশুদের আকৃষ্ট করার নীরব যুদ্ধ চলছে

আজকের শিশু এমন এক পৃথিবীতে বড় হচ্ছে, যেখানে তার হৃদয়, মন, সময় ও চিন্তা দখল করার জন্য অসংখ্য শক্তি প্রতিযোগিতা করছে। তার হাতে স্মার্টফোন। তার সামনে ইউটিউব। তার অবসরের সঙ্গী গেমস। তার বিনোদনের জগৎ টিকটক। তার চারপাশে অশ্লীলতা, ভোগবাদ, নাস্তিকতা, সংশয়বাদ এবং নানা বিভ্রান্তিকর চিন্তার স্রোত।

বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে শুধু একটি কারণে—শিশু ও কিশোরদের মনোযোগ নিজেদের দিকে ধরে রাখার জন্য। তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে মানুষ যত বেশি সময় সেখানে কাটায়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে অতিরিক্ত ডিজিটাল

◾আজকের শিশু যদি দুই ঘণ্টা মসজিদে না যায়, সে হয়তো পাঁচ ঘণ্টা পর্দার সামনে বসে থাকবে। যদি সে কুরআনের মজলিসে না বসে, তাহলে সে অন্য কারো চিন্তার মজলিসে বসবে। যদি আমরা তার হৃদয়কে আল্লাহর ঘরের সাথে যুক্ত না করি, তাহলে দুনিয়া তার হৃদয়কে নিজের দিকে টেনে নেবে। কারণ মানুষের হৃদয় কখনো শূন্য থাকে না। যদি হক তাকে পূর্ণ না করে, বাতিল এসে সেই স্থান দখল করে নেয়।

◾আজকের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা মানুষের হৃদয় নিয়ে এক সময় শিশুদের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল মাঠ। আজ তার চেয়েও বড় আকর্ষণ একটি মোবাইল স্ক্রিন। এক সময় বন্ধুদের আড্ডা ছিল মহল্লার রাস্তায়। আজ অনেক আড্ডা চলে ভার্চুয়াল জগতে।এক সময় পরিবারের সাথে সময় কাটত। আজ অনেক পরিবার একই ঘরে বসে থেকেও ভিন্ন ভিন্ন স্ক্রিনে ডুবে থাকে।

এ অবস্থায় মসজিদ যদি শিশুদের জন্য নিজের দরজা, ভালোবাসা ও পরিবেশ উন্মুক্ত না করে, তাহলে আগামী প্রজন্মকে আমরা কোথায় পাব?

◾মসজিদ কি এই যুদ্ধে অংশ নেবে না?

আজকের দুনিয়া শিশুদের হৃদয় দখলের জন্য যুদ্ধ করছে।ৎশয়তান তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে যুদ্ধ করছে।অশ্লীলতা যুদ্ধ করছে।ৎভোগবাদ যুদ্ধ করছে। নাস্তিকতা যুদ্ধ করছে। অপসংস্কৃতি যুদ্ধ করছে। তাহলে মসজিদ কি নীরব দর্শক হয়ে থাকবে?

◾মসজিদকেও তার ভূমিকা পালন করতে হবে।ভালোবাসা দিয়ে।ৎতারবিয়াত দিয়ে। কুরআনের শিক্ষা দিয়ে। সুন্দর পরিবেশ দিয়ে। কিশোরদের আপন করে নিয়ে। শিশুদের হৃদয়ে আল্লাহর ঘরের প্রতি মহব্বত সৃষ্টি করে। কারণ আজ যে শিশু মসজিদের সাথে যুক্ত হবে, আগামীকাল সে হয়তো একজন মুয়াজ্জিন হবে, একজন হাফেজ হবে, একজন আলেম হবে, একজন দাঈ হবে, অথবা অন্তত এমন একজন মুমিন হবে, যার হৃদয় সবসময় আল্লাহর ঘরের সাথে সংযুক্ত থাকবে।

আর এটাই আমাদের প্রকৃত বিজয়।ইট-পাথরের মসজিদ নির্মাণের চেয়েও বড় কাজ হলোএকটি শিশুর হৃদয়ে মসজিদ নির্মাণ করা।

◾শিশুদের জন্য মসজিদকে আকর্ষণীয় করতে হবে

শিশুরা ভালোবাসা চায়। তাই তাদের নাম ধরে ডাকুন।মাথায় হাত রাখুন। উৎসাহ দিন। শিশুদের উপহার দেওয়ার জন্য বড়রা মসজিদে চকলেট নিয়ে আসুন। তাদেরকে ডেকে তাদের থেকে কুরআন তেলাওয়াত শুনুন। কুরআন শেখার পুরস্কার দিন। জামাতে আসার পুরস্কার দিন। তাদের খোঁজ নিন। একজন শিশু যদি মনে করে মসজিদে গেলে সবাই আমাকে ভালোবাসে। তাহলে তাকে আর টেনে আনতে হবে না। সে নিজেই আসবে।

◾বাবা-মায়ের দায়িত্ব

শিশুদের মসজিদমুখী করার প্রথম দায়িত্ব পরিবারের।

বাবা যদি নিজে মসজিদে না যায়, সন্তান কেন যাবে?

শিশুরা কথা কম শোনে। কিন্তু কাজ বেশি দেখে।

তাই সন্তানকে বলার আগে নিজে মসজিদের মানুষ হতে হবে।

ইমাম, মুসল্লি ও কমিটির দায়িত্ব

মসজিদের প্রতিটি দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে ভাবতে হবে এই শিশুদের মধ্যেই ভবিষ্যতের মুসল্লি আছে।

তাই শিশুদের প্রতি ধৈর্য ধরতে হবে। তাদের জন্য শিক্ষামূলক কার্যক্রম রাখতে হবে। কুরআন শিক্ষা চালু করতে হবে। কিশোরদের নিয়ে বিশেষ হালাকা করতে হবে।

◾ইতিহাসের প্রতিটি মহান মানুষ একদিন শিশু ছিল

ইমাম বুখারী একদিন শিশু ছিলেন। ইমাম নববী একদিন শিশু ছিলেন। সালাহউদ্দীন আইয়ুবী একদিন শিশু ছিলেন। মুহাম্মদ আল-ফাতিহ একদিন শিশু ছিলেন। আমরা জানি না আজ মসজিদের যে কোণে বসে থাকা শিশুটি আছে, আল্লাহ তাকে ভবিষ্যতে কী বানাবেন।

হয়তো সে-ই হবে এই এলাকার পরবর্তী ইমাম। হয়তো সে-ই হবে ইসলামের একজন বড় খাদেম।

যেদিন একটি শিশু মসজিদে ঢুকে মনে করবে এখানে আমাকে ভালোবাসা হয়। সেদিন সে মসজিদের হয়ে যাবে। আর যেদিন একটি শিশু মসজিদে এসে অপমানিত হবে সেদিন আমরা হয়তো একজন ভবিষ্যৎ মুসল্লিকে হারাব।

তাই আসুন আমরা মসজিদের কার্পেটের যত্ন নিই, কিন্তু শিশুদের হৃদয়ের আরও বেশি যত্ন নিই। আমরা দেয়াল রক্ষা করি, কিন্তু আগামী প্রজন্মকেও রক্ষা করি।

◾আমরা মসজিদকে শুধু ইট-পাথরের সৌন্দর্যে নয়, শিশুদের হাসি, কুরআনের সুর, কিশোরদের উপস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ উম্মাহর পদচারণায় জীবন্ত করে তুলি।

কারণ আজকের শিশু মসজিদের অতিথি নয়; সে মসজিদের ভবিষ্যৎ। আজকের শিশু কেবল একটি শিশু নয়; সে আগামী দিনের ইমাম, খতিব, হাফেজ, আলেম, দাঈ এবং উম্মাহর নেতৃত্ব।

আর তাই শিশুর হৃদয়ে মসজিদের ভালোবাসা গড়ে তোলা একটি জাতি গড়ার কাজ, একটি উম্মাহ গড়ার কাজ, এবং এটি নিঃসন্দেহে সদকায়ে জারিয়ার অন্যতম মহান রূপ।

Scroll to Top