সমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে মুসলিম বানিয়েছেন। যিনি আমাদের সামনে জান্নাত–জাহান্নামের বাস্তবতা খুলে দিয়েছেন।যিনি আমাদের জন্য কুরআন অবতরণ করেছেন, নবী ﷺ প্রেরণ করেছেন।
আলোচনার বিষয়—তাকওয়া। আমরা কি বুঝতে পারছি, আমাদের জীবনের সব সংকটের মূল কারণ কি? আমাদের প্রধান সংকট দারিদ্র্যতা নয়, শিক্ষার অভাব নয়, না প্রযুক্তির অভাব। আমাদের সবচেয়ে বড় অভাব—তাকওয়া। এই বিষয়ের উপলব্ধি আজকে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
তাকওয়ার অর্থ ও কুরআনিক ভিত্তি
তাকওয়ার আভিধানিক অর্থ تَقْوَى (তাকওয়া) শব্দের অর্থ হলো আত্মরক্ষা করা, ঢাল বানানো। নিজেকে বিপদ ও শাস্তি থেকে রক্ষা করা অর্থাৎ, তাকওয়া মানে হলো আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য নিজের জীবনকে আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী পরিচালনা করা।
আল্লাহ বলেন— يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ
“হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো, যেভাবে ভয় করা উচিত।” (সূরা আলে ইমরান: ১০২)
এই নির্দেশ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—তাকওয়া শুধু নামাজ, রোজা বা দানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি আমাদের পুরো জীবন ও আচরণকে ঢেকে রাখে।
সমস্ত নবীদের মৌলিক দাওয়াত ছিল তাকওয়ার প্রতি আহ্বান
একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, নবীদের দাওয়াত কী ছিল?
নবীগণ কি প্রথমে রাষ্ট্র গঠন করতে এসেছিলেন?
নাকি অর্থনীতি সংস্কার করতে?
নাকি প্রযুক্তি শেখাতে? না।
সব নবীর মৌলিক ও কেন্দ্রীয় দাওয়াত ছিল তাকওয়া।
কুরআনে কারীম খুললেই আমরা দেখি—প্রায় প্রত্যেক নবী তাঁর কওমকে একই বাক্যে ডাক দিয়েছেন—
হযরত নূহ (আঃ) أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاتَّقُوهُ
“তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো।” (সূরা নূহ: ৩)
হযরত হূদ (আঃ) يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاتَّقُوهُ
(সূরা হূদ: ৫০)
হযরত সালেহ (আঃ) فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
“আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।”
(সূরা আশ-শু‘আরা: ১৫০)
হযরত শু‘আইব (আঃ) وَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
(সূরা আশ-শু‘আরা: ১৭৯)
হযরত ঈসা (আঃ) وَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
(সূরা আলে ইমরান: ৫০)
নবীদের দাওয়াত ভিন্ন ছিল না। নাম বদলেছে, জাতি বদলেছে, সময় বদলেছে—কিন্তু দাওয়াত একটাই: তাকওয়া। অর্থাৎ তাকওয়া ছাড়া কোনো নবুয়তী আন্দোলন সফল হয়নি। তাকওয়া ছাড়া কোনো সমাজ সংশোধিত হয়নি
কুরআনের মৌলিক দাওয়াত তাকওয়ার প্রতি আহ্বান করা। কুরআনে “تَقْوَى / اتَّقُوا / الْمُتَّقُونَ”—এই মূল শব্দগুলোর ব্যবহার প্রায় ২৫০ বার এসেছে।
উদাহরণস্বরূপ:
اتَّقُوا ~৮০ বার
الْمُتَّقُونَ ~৪০ বার
تَقْوَى ~১৫–২০ বার
لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ~২০ বার
আল্লাহ স্পষ্টভাবে বলেছেন—هُدًى لِلْمُتَّقِينَ
“এই কুরআন হিদায়াত কেবল মুত্তাকীদের জন্য।” (সূরা বাকারা: ২)
কুরআন কোনো গল্পগ্রন্থ নয়, ইতিহাসের বই নয়।কুরআনের মৌলিক দাওয়াত হলো তাকওয়া।
আসুন কয়েকটি মৌলিক আয়াত দেখি—
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ… لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
“হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো—যাতে তোমরা তাকওয়াবান হতে পারো।”
(সূরা বাকারা: ২১)
ইবাদতের উদ্দেশ্যই বলা হয়েছে—তাকওয়া।
وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى
“পাথেয় সংগ্রহ করো—আর সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া।” (সূরা বাকারা: ১৯৭)
মানুষের জীবনে প্রয়োজন অর্জন। দুনিয়া এবং আখেরাতের সর্বোত্তম অর্জন হল তাকওয়া।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا
“হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সোজা কথা বলো।” (সূরা আহযাব: ৭০)
তাকওয়া না থাকলে জিহ্বা সোজা থাকে না।
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا
“যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য (সংকট থেকে) উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন।”
(সূরা তালাক: ২)
সংকটের সমাধান—তাকওয়া। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা করে, আল্লাহই তার জন্য সব সংকট থেকে মুক্তির পথ খুলে দেন। মানুষ যখন সব দরজা বন্ধ করে দেয়, তখন আল্লাহ আসমান থেকে দরজা খুলে দেন।
দেখুন, হযরত ইউসুফ নিজের ভাইয়েরাই তাকে কুয়ার গভীরে নিক্ষেপ করেছিল। চারদিকে অন্ধকার, একাকীত্ব, কোনো সাহায্য নেই—মানুষের হিসেবে সেখানেই সব শেষ। কিন্তু আল্লাহ শেষ করেননি।
আল্লাহ তাকে হেফাজত করেছেন, কুয়া থেকে তুলে রাজপ্রাসাদে পৌঁছে দিয়েছেন। দাসত্ব থেকে রাজকীয় সম্মান দান করেছেন।
দেখুন, আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ।
মক্কার কাফেররা সম্মিলিতভাবে হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন পাহাড়ের গুহায়।
শত্রুরা গুহার মুখ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল—চোখের সামনে বিপদ! কিন্তু আল্লাহ ছিলেন সাথে।
একটি মাকড়সার জাল, একটি কবুতরের বাসা—আর আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্ণ হেফাজত। এগুলো গল্প নয়, এগুলো ঈমানের বাস্তব শিক্ষা।
আল্লাহর সাহায্য এমনি এমনি আসে না।
আল্লাহর সাহায্যের শর্ত আছে, আর সেই শর্তের নাম তাকওয়া।তাকওয়া মানে শুধু ভয় নয়,
তাকওয়া মানে আল্লাহকে রাজি রাখতে গুনাহ থেকে বাঁচা। তাকওয়া মানে আল্লাহর ভয়ে আল্লাহর পথেই চলা—গোপনে ও প্রকাশ্যে।
যার জীবনে তাকওয়া আছে, আল্লাহ তার জন্য অসম্ভবকে সম্ভব করে দেন। আর যার হৃদয়ে আল্লাহর ভয় নেই, সে সংখ্যায় বেশি হয়েও দুর্বল থাকে।
إِن تَتَّقُوا اللَّهَ يَجْعَل لَّكُمْ فُرْقَانًا
“যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো, আল্লাহ তোমাদের সত্য–মিথ্যার পার্থক্য করার শক্তি দেবেন।”
(সূরা আনফাল: ২৯)
ফুরকান মানে কী?
ফুরকান অর্থ হক ও বাতিল আলাদা করে চিনতে পারার শক্তি। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অন্তর্দৃষ্টি
জটিল পরিস্থিতিতে আল্লাহপ্রদত্ত দিকনির্দেশনা
এটি শুধু জ্ঞান নয়—তাকওয়ার ফল।
দেখুন বদরের ময়দানে রাসূল ﷺ ও সাহাবাদের ঘটনা। মুসলিম মুজাহিদ সংখ্যায় ৩১৩ জন। অপরদিকেশত্রু এক হাজারের বেশি। অস্ত্র, প্রস্তুতি—সব দিক থেকেই মুসলমানরা দুর্বল। এটা ছিল নিশ্চিত পরাজয়ের পথ।
রাসূল ﷺ সারারাত আল্লাহর কাছে দু’হাত তুলে দোয়া করলেন। সাহাবারা নিজেদের সংখ্যা ও শক্তির ওপর ভরসা করেননি—তাকওয়ার ওপর ভরসা করেছিলেন।
এই যুদ্ধের ফলাফল: আল্লাহ সিদ্ধান্তের মুহূর্তে ফুরকান দিলেন। মুসলমানরা বুঝে গেল—এটা পিছিয়ে যাওয়ার নয়, এগিয়ে যাওয়ার সময়। আল্লাহ ফেরেশতা পাঠালেন, বিজয় দিলেন। এটাই ফুরকান—ভয় ও ভরসার ভেতর থেকে সঠিক পথ চিনে নেওয়া।
হিজরতের সময় আবু বকর (রা.)–এর ঘটনা। গুহায় যখন কাফিররা একদম মাথার ওপর
ঠিক তখন আবু বকর (রা.) বললেন “হে আল্লাহর রাসূল, যদি তারা নিচে তাকায়—আমাদের দেখে ফেলবে!”
প্রিয় রাসূল ﷺ বললেন— “لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا”
“চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।”
এখানে ফুরকান কোথায়?
মানুষের চোখে—মৃত্যু নিশ্চিত, পালানোর পথ নেই।
কিন্তু তাকওয়ার কারণে রাসূল ﷺ বাস্তবতা ও ভয়ের ভেতর থেকেও আল্লাহর সাহায্য দেখছিলেন।
এটাই ফুরকান যেখানে মানুষ অন্ধকার দেখে, সেখানে মুত্তাকী আলোর রাস্তা দেখে।
উমর (রা.)—“ফুরকান” উপাধির পেছনের বাস্তব ঘটনা। উমর (রা.)–কে সাহাবারা ডাকতেন আল ফারুক। কারণ তিনি হক ও বাতিল আলাদা করতে পারতেন।
উদাহরণ অনেক বিষয়ে—বন্দীদের ব্যাপারে, মুনাফিকদের ব্যাপারে, সামাজিক সিদ্ধান্তে উমর (রা.) যা বুঝতেন, পরে কুরআনের আয়াত নাযিল হয়ে তা সমর্থন করত।
এটা কাকতাল নয়। এটা ছিল তাকওয়ার ফল। ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন— “যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তাকে এমন জ্ঞান দেন—যা সে শেখেনি।”
এই আয়াত আমাদের বলে তাকওয়া মানে শুধু গুনাহ ছেড়ে দেওয়া নয়, তাকওয়া মানে জীবনের জটিল মোড়ে আল্লাহর দিকনির্দেশনা পাওয়া।
বদরে তাকওয়া বিজয়ের ফুরকান
হিজরতে তাকওয়া নিরাপত্তার ফুরকান
উমরের জীবনে তাকওয়া হক-বাতিল চেনার ফুরকান
আজ আমরা বিভ্রান্ত—কারণ আমাদের কাছে তথ্য আছে, কিন্তু তাকওয়া নেই। আর তাকওয়া ছাড়া আল্লাহ ফুরকান দেন না।
কুরআনে তাকওয়ার আহ্বানে আল্লাহর সিফাত, নেয়ামত, আজাব ও আখিরাতের আলোচনা
কুরআনে কারীম একটি বিষয়ে আমাদের বারবার নাড়া দেয় তাকওয়া গড়ে তোলার জন্য আল্লাহ আমাদের সামনে তিনটি বাস্তবতা বারবার তুলে ধরেছেন—
আল্লাহর সিফাতে কামালিয়াহ
আল্লাহর অগণিত নেয়ামত
আগের জাতিদের উপর নেমে আসা আজাব
এবং নিশ্চিত মৃত্যু ও আখিরাত
কারণ মানুষ যদি শুধু আদেশ শুনে—না ভয় পায়, না ভালোবাসে—তাহলে তার অন্তরে তাকওয়া জন্মায় না।
আল্লাহর সিফাতে কামালিয়াহ ও তাকওয়া।
কুরআনে আল্লাহ নিজেকে পরিচয় করিয়েছেন বারবার
عَلِيمٌ — সব জানেন خَبِيرٌ — অন্তরের খবর রাখেন سَمِيعٌ بَصِيرٌ — সব শোনেন, সব দেখেন شَدِيدُ الْعِقَابِ — শাস্তিতে কঠোর। আবার একই সঙ্গে غَفُورٌ رَحِيمٌ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আল্লাহ বলেন— وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
“তোমরা যা করো, আল্লাহ তা সম্পর্কে পূর্ণ খবর রাখেন।”(সূরা আল-বাকারা: ২৩৪)
এই আয়াত আমাদের কী শেখায়?
মানুষ দেখুক বা না দেখুক—আল্লাহ দেখছেন।
এখান থেকেই তাকওয়ার জন্ম।
আল্লাহর নেয়ামতের আলোচনা ও তাকওয়ার আহ্বান
কুরআনে আল্লাহ প্রথমে মানুষকে ভয় দেখাননি—
প্রথমে নেয়ামত গুনে গুনে স্মরণ করিয়েছেন।
আল্লাহ বলেন—يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ
“হে মানুষ! তোমাদের রবের ইবাদত করো—যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন।”(সূরা বাকারা: ২১)
তারপর বলেন আমি আসমান বানিয়েছি আমি জমিন বিছিয়ে দিয়েছি, আমি বৃষ্টি নামিয়েছি আমি ফসল ফলিয়েছি এরপর বলেন— لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
“যাতে তোমরা তাকওয়াবান হও।”
নেয়ামতের কৃতজ্ঞতাই তাকওয়ার প্রথম ধাপ।
যে মানুষ আল্লাহর নেয়ামত ভোগ করে, কিন্তুআল্লাহকে ভুলে যায় তার অন্তরে তাকওয়া জন্মায় না।
পূর্ববর্তী জাতিদের আজাব: তাকওয়া হারানোর পরিণাম।
১. ‘আদ জাতি — শক্তি ছিল, তাকওয়া ছিল না। ইতিহাসের প্রথম যে শক্তিশালী জাতির কথা আল্লাহ আমাদের শোনান—তারা হলো ‘আদ জাতি।
কুরআন বলে—“তোমরা কি দেখনি তোমার রব কী করেছিলেন ‘আদ জাতির সাথে?”
(সূরা আল-ফজর: ৬)
তারা এমন শক্তিশালী ছিল যে পাহাড় কেটে প্রাসাদ বানাতো। বলতো—“আমাদের চেয়ে শক্তিশালী আর কে আছে?”
(সূরা ফুসসিলাত: ১৫)
কিন্তু সমস্যা ছিল শক্তি পেয়ে তারা আল্লাহকে ভয় করা ভুলে গিয়েছিল। নবী হূদ (আ.) ডাক দিলেন, তারা ঠাট্টা করলো। ফলাফল কী হলো?
“আমি তাদের ওপর প্রেরণ করলাম প্রচণ্ড ঝড়—সাত রাত ও আট দিন।” (সূরা আল-হাক্কাহ: ৭)
আজ তারা কোথায়? শুধু ধ্বংসস্তূপ আর কুরআনের আয়াত। এটা এক কঠিন বার্তা: শক্তি যখন তাকওয়ার নিয়ন্ত্রণে না থাকে—তা ধ্বংস ডেকে আনে।
২. সামূদ জাতি — প্রযুক্তি ছিল, বিনয় ছিল না।
সামূদ জাতি পাহাড় কেটে ঘর বানাতো। আধুনিক ভাষায়—তারা ছিল সে যুগের “ইঞ্জিনিয়ারিং সুপারপাওয়ার”।
আল্লাহ বলেন—“তোমরা পাহাড় কেটে নিরাপদ ঘর বানাও।” (সূরা আল-হিজর: ৮২)
কিন্তু তারা আল্লাহর নিদর্শন—উটনীকে হত্যা করলো।
কারণ—অহংকার। নবী সালেহ (আ.) সতর্ক করেছিলেন। তারা বলেছিল—“দেখি তো তোমার রব আমাদের কী করতে পারে!” তারপর একটি চিৎকার, একটি বিকট চিৎকার, একটি ভূমিকম্প।
“এক প্রচণ্ড চিৎকার তাদের গ্রাস করলো, আর তারা নিথর হয়ে পড়লো।”(সূরা হূদ: ৬৭)
এখানে রয়েছে কঠিন বার্তা: প্রযুক্তি ও উন্নয়ন আল্লাহর ভয় ছাড়া হলে—তা বাঁচাতে পারে না।
৩. ফিরআউন — ক্ষমতার শীর্ষে, কিন্তু আল্লাহর শত্রু।
ইতিহাসের সবচেয়ে ক্ষমতাধর শাসক—ফিরআউন।
সে বলেছিল—“আমি তোমাদের সর্বোচ্চ প্রভু।”(সূরা আন-নাজিয়াত: ২৪)
ফেরাউনের সেনাবাহিনী, রাজত্ব, গুপ্তচর—সব ছিল। কিন্তু আল্লাহর ভয় ছিল না। তাকওয়া ছিল না।
একজন নবী—মূসা (আ.)—একটি লাঠি নিয়ে দাঁড়ালেন তার সামনে। শেষ দৃশ্য কী?
সমুদ্রের মাঝখানে ডুবে যাওয়া এক “সুপারপাওয়ার”।
“আজ আমি তোমার দেহকে রক্ষা করবো, যেন তুমি পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হও।”(সূরা ইউনুস: ৯২)
আজও তার লাশ মানুষ দেখে—কিন্তু তার রাজত্ব কোথায়? এখানে রয়েছে কঠিন বার্তা: ক্ষমতা আল্লাহর বিরুদ্ধে দাঁড়ালে—তা লাশে পরিণত হয়।
৪. কারূন — সম্পদের অহংকার। কারূন ছিল এত ধনী। তার ধন ভান্ডার গুলোর চাবি বহনে শক্তিশালী একদল লোক নিয়োজিত ছিল। এতই ছিল তার সম্পদ।
সে বলেছিল এই সম্পদ আমি আমার জ্ঞানেই পেয়েছি।” (সূরা আল-কাসাস: ৭৮)
আল্লাহকে ভুলে যাওয়ার পরিণতি?্য“আমি তাকে ও তার ঘরকে ভূগর্ভে ধসিয়ে দিলাম।” (সূরা আল-কাসাস: ৮১)
একদিনে ধনী, একদিনেই ইতিহাস।
কারূণের গল্পে রয়েছে কঠিন বার্তা: সম্পদ তাকওয়া ছাড়া হলে—তা নিরাপত্তা নয়, ফাঁদ।
৫. ,এই গল্পগুলো শুধু ইতিহাস নয়—আমাদের জন্য সতর্কবার্তা।
কুরআনে কি শুধু ইতিহাস বলা হয়েছে? ব্যাপারটি তা নয়। কুরআনে বিভিন্ন জাতির উপর আজাবের ঘটনা আমাদের জন্য সতর্কবার্তা।
আল্লাহ বলেন— فَكُلًّا أَخَذْنَا بِذَنبِهِ
“প্রত্যেক জাতিকে আমি তাদের গুনাহের কারণে পাকড়াও করেছি।” (সূরা আনকাবূত: ৪০)
নূহ (আঃ)-এর জাতি—পানিতে ডুবে গেল
আদ জাতি—প্রচণ্ড ঝড়ে ধ্বংস
সামূদ—ভয়ংকর শব্দে নিশ্চিহ্ন
ফিরআউন—সমুদ্রেই কবর।
কেন? আল্লাহ বলেন—
وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيَظْلِمَهُمْ وَلَكِن كَانُوا أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ
“আল্লাহ তাদের উপর জুলুম করেননি, তারা নিজেরাই নিজেদের উপর জুলুম করেছে।” (সূরা আনকাবূত: ৪০)
অর্থাৎ তাকওয়া হারালে আজাব অবশ্যম্ভাবী।
মৃত্যু ও আখিরাত: তাকওয়ার চূড়ান্ত প্রেরণা
কুরআন আমাদের বারবার একটি বাক্য মনে করিয়ে দেয়— كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ
“প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।”
(সূরা আলে ইমরান: ১৮৫)
মৃত্যুর পর কী?
وَإِنَّ الدَّارَ الْآخِرَةَ لَهِيَ الْحَيَوَانُ
“আখিরাতই প্রকৃত জীবন।”(সূরা আনকাবূত: ৬৪)
তারপর কী হবে?
فَأَمَّا مَن طَغَىٰ… فَإِنَّ الْجَحِيمَ هِيَ الْمَأْوَىٰ
وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ… فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَىٰ
(সূরা নাযি‘আত: ৩৭–৪১)
যে আল্লাহকে ভয় করেছে—তার ঠিকানা জান্নাত
যে তাকওয়া ছেড়ে দিয়েছে—তার ঠিকানা জাহান্নাম
সারকথা আল্লাহ তাঁর গুণাবলি দেখিয়ে তাকওয়ায় ডাকেন। আল্লাহ তাঁর নেয়ামত স্মরণ করিয়ে তাকওয়ায় ডাকেন। আল্লাহ আজাবের ঘটনা দেখিয়ে তাকওয়ায় ডাকেন। আল্লাহ মৃত্যু ও আখিরাত দেখিয়ে তাকওয়ায় ডাকেন।
কোরআনে কারীমের এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে
কুরআনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আহবান তাকওয়া।
আমরা যদি সত্যিই তাকওয়াবান হই, তাহলে কুরআনের সব নীতি আমাদের জন্য কার্যকর হবে।
তাকওয়ার মর্যাদা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন—
إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ (সূরা হুজুরাত: ১৩)
অর্থাৎ—পদ, ধন–সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদা নয়, তাকওয়া একজন মুসলিমকে আল্লাহর কাছে সম্মানিত করে।
প্রিয় রাসূল ﷺ–এর মূল জিম্মাদারী ছিল তাকওয়ার উপর সমাজ গঠন
রাসূল ﷺ–কে কেন পাঠানো হয়েছিল?
আল্লাহ বলেন— لِيُزَكِّيهِمْ
“তিনি তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন।”
(সূরা জুমু‘আহ: ২)
এই “তাযকিয়া” মানেই তাকওয়া।
রাসূল ﷺ–এর মজলিসে কী আলোচনা হতো?
তিনি প্রায়ই বলতেন— اتَّقِ اللَّهَ حَيْثُمَا كُنتَ
“যেখানেই থাকো, আল্লাহকে ভয় করো।”
(তিরমিজি)
বিদায় হজ্জের ভাষণে—
তিনি বারবার বলেছেন— اتَّقُوا اللَّهَ
“আল্লাহকে ভয় করো।”
সাহাবাদের বুকে হাত রেখে বলতেন— التَّقْوَى هَاهُنَا
“তাকওয়া এখানে—অন্তরে।” (সহীহ মুসলিম)
রাসূল ﷺ কোনো সমাজকে আগে ধনী বানাননি,
আগে শক্তিশালী বানাননি, আগে আধুনিক বানাননি—
আগে তাকওয়াবান বানিয়েছেন। আর তাকওয়া থেকেই বের হয়েছে ন্যায়, ইনসাফ, সভ্যতা ও রাষ্ট্র।
নবী ﷺ: তাকওয়ার জীবন্ত রূপ
রাসূল ﷺ বলেন— “আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি।” (সহীহ বুখারী)
তিনি রাতভর নামাজ পড়তেন, পা ফুলে যেত।
আয়েশা (রাঃ) বলেছিলেন— “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার তো সব গুনাহ মাফ।”তিনি বললেন—
“আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না?” এই বক্তব্যে স্পষ্ট—তাকওয়া কেবল ভয় নয়, এটি আনুগত্য এবং কৃতজ্ঞতার প্রকাশ।
নবী ﷺ–এর শিক্ষা: আল্লাহ দেখছেন।
রাসূল ﷺ ইহসান সম্পর্কে বলেছেন—
“তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এমনভাবে, যেন তুমি তাঁকে দেখছ। যদি তুমি তাঁকে না দেখো, তবে তিনি অবশ্যই তোমাকে দেখছেন।” (সহীহ মুসলিম)
আজকের দিনে, যদি আমরা এই সচেতনতা রাখতাম—
দুর্নীতি হতো না, রাষ্ট্রের সম্পদ লুট হতো না, সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হতো।
সাহাবায়ে কেরাম ও তাকওয়া
আবু বকর (রাঃ) একবার সন্দেহজনক হারাম খাদ্য খেয়ে ফেললে তিনি নিজে তা বমি করে বের করেছিলেন। বললেন— “এই দেহে হারাম থাকতে দেব না।”
উমর (রাঃ) তিনি বলতেন— “আমরা তাকওয়া দিয়ে শাসন করেছি, পুলিশ দিয়ে নয়।”আজকের দিনে যদি রাষ্ট্রনায়ক ও রাজনীতিকদের অন্তরে তাকওয়া থাকত, রাষ্ট্রে সমাজে দুর্নীতি এবং জুলুম হতো না। আজ যদি তাকওয়া থাকতো তাহলে পরিবারগুলো জুলুম অবিচারের ময়না আবর্জনা মুক্ত হতো।
হযরত আলী (রাঃ) ও বর্মের মামলা
(তাকওয়া যখন ক্ষমতার ঊর্ধ্বে)
হযরত আলী (রাঃ) একবার দেখলেন তার নিজের বর্ম (ঢাল) এক ইহুদির হাতে। তিনি খলিফা হয়েও আদালতে মামলা করলেন।
কাজী শুরাইহ (রহ.) জিজ্ঞেস করলেন—
“প্রমাণ কোথায়?”আলী (রাঃ) বললেন—
“আমার কাছে প্রমাণ নেই।” কাজী রায় দিলেন—
“তাহলে বর্ম ইহুদির।”
খলিফা চুপচাপ রায় মেনে নিলেন। ইহুদি কেঁদে ফেলল এবং বলল—“এই বিচার কোনো মানুষের হতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি—এই দ্বীন সত্য।”
এটাই তাকওয়া। ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর ভয় বেশি হওয়া।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) ও দুধের ঘটনা
(বাবার তাকওয়ার উত্তরাধিকার)
এক মহিলা তার মেয়েকে বলছিল— “দুধে পানি মিশাও।” মেয়ে বলল— “আমীরুল মু’মিনীন নিষেধ করেছেন।” মা বলল— “উমর তো দেখছে না।”
মেয়ে বলল—“উমর না দেখলেও উমরের রব তো দেখছেন।”
এই কথা উমর (রাঃ) শুনে ফেলেন। তিনি খোঁজ নেন, সেই মেয়েকে নিজের ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেন। সেই বংশ থেকেই জন্ম নেন উমর ইবনে আব্দুল আজীয (রহ.)। একটি তাকওয়াময় বাক্য—একটি ইতিহাস গড়ে দেয়।
উমর ইবনে আব্দুল আজীয (রহ.) ও বাতি নিভানোর ঘটনা
(আমানতের তাকওয়া)
একদিন রাষ্ট্রীয় কাজে বসে ছিলেন। একজন ব্যক্তি ব্যক্তিগত কথা বলতে এল। উমর (রহ.) সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রের বাতি নিভিয়ে নিজের বাতি জ্বালালেন।
লোকটি জিজ্ঞেস করল— “হে আমীরুল মু’মিনীন, কেন?” তিনি বললেন “আগের বাতির তেল ছিল উম্মাহর। ব্যক্তিগত কথায় উম্মাহর সম্পদ ব্যবহার করতে পারি না।”
আজ আমরা কোটি টাকা নিয়ে তর্ক করি না,
আর তারা বাতির তেল নিয়ে কাঁপতেন।
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও ছাদের ছায়া
(সন্দেহ থেকেও বাঁচা)
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এক ব্যক্তির কাছে ঋণ দিয়েছিলেন। একদিন সেই ব্যক্তির বাড়ির সামনে দাঁড়ালেন, কিন্তু ছায়ার নিচে দাঁড়ালেন না।
লোকটি বলল— “ভিতরে আসুন, ছায়ায় দাঁড়ান।”
ইমাম বললেন “ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে কোনো সুবিধা নেওয়া সুদে শামিল হতে পারে।” এটা ফিকহ নয়—
এটা তাকওয়া।
এই সব ঘটনার মিল কোথায়? সবগুলো ঘটনার মূল কথা এক।“মানুষ না দেখলেও আল্লাহ দেখছেন।
মেয়েটি বলেছিল: উমরের রব দেখছেন। উমর বাতি নিভিয়েছিলেন। ইমাম ছায়া এড়িয়ে গিয়েছিলেন। এটাই জীবন্ত তাকওয়া।
আজ আমাদের সমস্যা এই নয় যে আমরা হারামকে হালাল মনে করি,সমস্যা হলো—
হারাম কল্লরার সময় আমরা আর প্রশ্ন করি না:
“ফাআইনাল্লাহ?”
হযরত উমর (রাঃ) ও রাখালের ঘটনা
একদিন হযরত উমর (রাঃ) শহরের বাইরে হাঁটছিলেন।
তিনি এক রাখালকে বললেন—“একটি ছাগল আমাকে দাও।” রাখাল বলল—“এগুলো আমার মালিকের।”
উমর (রাঃ) বললেন—“মালিককে বলবে, নেকড়ে খেয়ে ফেলেছে।”রাখাল কেঁদে কেঁদে বলল—
فَأَيْنَ اللَّهُ؟ “তাহলে আল্লাহ কোথায়?”
উমর (রাঃ) কেঁদে ফেললেন এবং বললেন“এই বাক্যই উমরকে শাসন করে।” তিনি রাখালকে মুক্ত করলেন এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন “হে আল্লাহ! উমরের উম্মাহতে এখনো এমন মানুষ আছে।”
রাখাল বনাম আজকের শিক্ষিত সমাজ-
ওমরের জামানার এক অশিক্ষিত রাখাল জানত—ছাগল কার। তার মাঝে ছিল আল্লাহর ভয় তাকওয়া।
আজকের শিক্ষিত সমাজের সেই ভয় নেই। তারা জানে না—রাষ্ট্র কার। এক রাখালের ভয় ছিল এই পালের প্রতিটি ছাগল আমার কাছে আমানত—আল্লাহ আমাকে দেখছেন। আজ জাতির দায়িত্বশীল একজন এমপি মন্ত্রীর সেই ভয় নেই।
শিক্ষিত সমাজ ভয় পায়—অডিট আল্লাহকে নয়।
এই জন্যই—ফাইল বিক্রি হয়, প্রকল্প লুট হয়, রাষ্ট্রের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ—তাকওয়া নেই।
আজকের বাস্তবতা অত্যন্ত নির্মম ও বেদনাদায়ক জুলুম আজ আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, জুলুম আজ আমাদের ঘর, প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভাষা হয়ে গেছে।
আজ পরিবারের ভেতর জুলুম। বাবা ক্ষমতাকে দায়িত্ব না ভেবে আধিপত্য বানিয়েছে, স্বামী কাওয়াম হওয়ার আমানত ভুলে শক্তির অপব্যবহার করছে।
আজ প্রতিষ্ঠানে জুলুম মালিক শ্রমিককে মানুষ ভাবে না, শ্রমিক সুযোগ পেলে মালিকের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। কারণ উভয় পক্ষই ভুলে গেছে—
হিসাব কেবল মানুষকে দিতে নয়, আল্লাহকে দিতেও হয়।
আজ সমাজে জুলুম শক্তিশালী দুর্বলকে গিলে খায়,
অন্যায় চিৎকার করে, আর ন্যায় লজ্জায় নীরব থাকে।
আজ রাষ্ট্রে জুলুম ক্ষমতার আসনে বসে যারা, তারা ইনসাফকে দুর্বলতা মনে করে, আর জুলুমকেই নেতৃত্বের কৃতিত্ব ও সক্ষমতার প্রমাণ ভাবে।
এই সব কিছুর মূল কারণ কোনো প্রযুক্তিগত পশ্চাৎপদতা নয়। আজ আমাদের প্রযুক্তির অভাব নেই, আমরা সম্পদের দিক থেকেও দরিদ্র নই। আকাশচুম্বী ভবন আছে, অঢেল বাজেট আছে,
হাতের মুঠোয় দুনিয়া আছে কিন্তু নেই শান্তি, নেই সত্য, নেই একটি সুন্দর পরিবার ও নিরাপদ সমাজ।
কারণ একটাই তাকওয়া নেই, আল্লাহর ভয় নেই।
তাকওয়া ছাড়া প্রযুক্তি শক্তি নয়, অস্ত্র।
তাকওয়া ছাড়া সম্পদ বরকত নয়, অভিশাপ।
তাকওয়া ছাড়া ক্ষমতা নেতৃত্ব নয়, জুলুমের লাইসেন্স।
আল্লাহর ভয় যখন হৃদয় থেকে উঠে যায়,
তখন বাবা জালেম হয়, স্বামী জালেম হয়, মালিক জালেম হয়, শাসক জালেম হয়—
আর সমাজ নিঃশব্দভাবে ধ্বংসের দিকে হাঁটে।
আজ আমাদের প্রয়োজন নতুন কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়, নতুন কোনো প্রযুক্তি নয় আজ সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হৃদয়ে তাকওয়ার প্রত্যাবর্তন।
যেদিন মানুষ আল্লাহকে ভয় করবে, সেদিন ঘর শান্ত হবে, প্রতিষ্ঠানে ইনসাফ ফিরবে, সমাজ নিরাপদ হবে,
আর রাষ্ট্র পাবে প্রকৃত নেতৃত্ব।
অন্যথায় উন্নয়নের শিরোনামে আমরা যতই এগোই, আসলে আমরা সবাই একসঙ্গে মানবিক দেউলিয়াত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
এটাই আজকের আলোচনার সারকথা তাকওয়া ছাড়া কোনো সভ্যতা টিকে থাকে না, আর তাকওয়া ফিরলেই ফিরে আসবে ইনসাফ। জুলুম অবিচারের ময়লা আবর্জনা থেকে মুক্ত হবে পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্র।
আমরা অনেক জানি, কিন্তু কম ভয় করি।
আমাদের অন্তরে প্রশ্ন হয় না আল্লাহ দেখছেন অন্যায়ের সময় রাখালের মত আমরা বলি না—“আল্লাহ কোথায়?”
আসুন রাখাল থেকে তাকওয়ার জ্ঞান অর্জন করি। আল্লাহর ভয়ে জীবন গড়ি।