১২ ডিসেম্বর
দুই বছর হলো—আমার মুহতারাম শশুর, হাফেজ মাওলানা মুজিবুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি—এই তারিখে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে তাঁর মাগফিরাতের জন্য অন্তরের গভীর থেকে দু’আ করি।
২০২৩ সাল প্রিয় সন্তান আহমাদের ইন্তেকালের ঠিক সাত দিন পর আমার সম্মানিত শশুর দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করেন। ওই সময়টার মনের অবস্থা বুঝাবার ভাষা নেই। আহমাদের ইন্তেকালের পর তিনি শান্তনা দিয়েছিলেন আল্লাহর ফয়সালাতে সন্তুষ্ট থাকার মাঝেই কল্যাণ। কোনো অস্থিরতা প্রকাশ করা যাবে না। আল্লাহর সিদ্ধান্তই কল্যাণকর। এর ঠিক সাতদিন দিন পর তিনিই চলে গেলেন। আহ!
তিনি ছিলেন একজন উত্তম অভিভাবক—দরদী, গভীর চিন্তাশীল একজন মানুষ। আমাদের নিয়ে ভাবনা ছিল তার নিত্যসাথী। ভুল হলে তিনি কঠোরভাবে নয়—অপরিসীম প্রজ্ঞা ও মমতার সাথে পথ দেখাতেন। আজও ক্ষণে ক্ষণে তাকে মনে পড়ে। কখনো মনে হয়—তিনি বুঝি কাছেই আছেন। আবার কখনো মনে হয়—আহ্! কেবল আরেকবার যদি তাকে কাছে পেতাম!
তার স্মৃতি ভুলবার নয়—ভুলবার মতো নয়। তিনি মৃত্যুর আগের দিন যেন আমাকে কিছু বলতে চাইছিলেন—বারবার খুঁজছিলেন। কিন্তু আমি দূরে ছিলাম, অজানা রয়ে গেলো তার শেষ সেই কথাগুলো। এই বেদনা আমার মনে চিরস্থায়ী দাগ হয়ে আছে।
তিনি সফল মানুষ ছিলেন। দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা অর্জনের পথে চলা এক আলোকিত ব্যক্তিত্ব। ময়মনসিংহ ফুলপুরের অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ—সবকিছুর পেছনে তার নেতৃত্ব, তার শ্রম, তার ভালোবাসা জড়িয়ে আছে। তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের উদ্যোক্তা, সমাজসেবক, দায়িত্বশীল অভিভাবক। তার সাথে সম্পর্ক হওয়া আমাদের জন্য সম্মানের, গৌরবের, নেয়ামতের।
তিনি ছিলেন প্রচার-বিমুখ মানুষ। কিন্তু সৎকর্মের আলো কখনো আড়ালে থাকে না। জীবিত অবস্থায় তাকে দেখেছি—কাকে কি দিলে উপকার হয়, কার প্রয়োজন বেশি—এসব ভাবনায় অস্থির হয়ে যেতেন। মানুষকে কিছু দিতে পারলেই তিনি তৃপ্তি পেতেন, শান্তি পেতেন। তার জীবন কবিতার ভাষায়—
জেনে-বুঝে খাইলো যারা নূর নবীজির নাম,
জান-মালের কুরবানী দিয়ে করল যে সংগ্রাম।
আজ আমরা শুধু তার জন্য এ দোয়াই করি—
আল্লাহ তাকে জান্নাতের বাসিন্দা হিসেবে কবুল করুন।
তার আমলগুলো কবুল হোক, ভুলগুলো মাফ হোক, তার কবর হোক নূর ও প্রশান্তির উদ্যান।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কবুল করুন আমাদেরকে আমরা যেন তার রেখে যাওয়া আমানত—দীন, খেদমত, সততা—এই সম্পদ নিয়ে জীবনের বাকি পথ চলতে পারি। শেষপর্যন্ত যেন জান্নাতে তার সান্নিধ্যে একত্রিত হতে পারি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কবুল করুন।