কষ্টের পর নয়—কষ্টের সাথেই স্বস্তি”

আজ আমি আপনাদের সামনে কোনো গল্প শোনাতে আসিনি। আমি আজ আপনাদের সামনে নিজেদের জীবনটাই খুলে ধরতে এসেছি।

আজ এখানে‌ আমরা যারা আছি কেউ সন্তান হারিয়েছে‌‌ কেউ চাকরি হারিয়েছে কেউ সম্মান হারিয়েছে কেউ ঈমান টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে আজ এখানে এমন কেউ নেই— যে কষ্টে নেই

আর ঠিক এখানেই আল্লাহ আমাদের ডেকে বলছেন— “নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে।”

তিনি বলেননি—কষ্ট শেষ হলে

তিনি বলেননি—আরও কিছুদিন অপেক্ষা করো

তিনি বলেছেন—এই মুহূর্তেই, এই কষ্টের সাথেই।

◾ এখানে আয়াতে আল্লাহ চাইলে বলতে পারতেন—

“কষ্টের পর স্বস্তি”কিন্তু তিনি ইচ্ছা করেই বললেন—

“মা‘আ” = সাথে

এটা আল্লাহর ভাষা‌এটা আল্লাহর দর্শন এটা আল্লাহর জীবনব্যবস্থা। এই আয়াতের মানে হলো-

কষ্ট একা আসে না বিপদ একা নামে না

চোখের পানির সাথেই আল্লাহ কিছু লুকিয়ে রাখেন যা আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আমরা যখন বিপদ দেখছি আল্লাহ তখন স্বস্থির গল্প শুনাচ্ছেন। আমরা যখন দেখছি পরাজয় আল্লাহ তখন বলছেন বিজয়।

◾ বিপদে আমরা অনেক সময় প্রশ্ন করি

“আল্লাহ, আমার সাথেই কেন?”

আমরা অনেক সময় মনে করি

“আমি তো নামাজ পড়ি, তবুও কেন?”

এই প্রশ্নগুলো ঈমানহীনদের প্রশ্ন না

এই প্রশ্নগুলো ভাঙা মুমিনের প্রশ্ন। আল্লাহ এ প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছেন। আর সে উত্তর হল

“কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে।” কষ্টটাকে না দেখে স্বস্তিটাকে দেখো। এটা জীবনের পরাজয় না এটা নতুন জীবন।

◾ কষ্ট কীভাবে স্বস্তি বয়ে আনে

ঘটনা–১: যেমন চাকরি হারানো মানুষ

একজন মানুষ চাকরি হারাল

সে ভাবল—সব শেষ

কিন্তু সেই সময়েই—

সে আল্লাহর কাছে ফিরল। নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করল।‌‌নিজের দক্ষতা নিয়ে অগ্রসর হল। ফলাফল আজ সে অন্যের চাকরিদাতা।

একটিবার ভাবার চেষ্টা করুন ‌যদি চাকরিটা না যেত—এই মানুষটা কি তৈরি হতো?

ঘটনা–২: অসুস্থতার ভিতরের রহমত

একজন মানুষ দীর্ঘদিন রোগে ভুগল বিছানায় শুয়ে শুয়ে—

তাসবিহ শিখল দোয়া শিখল আল্লাহকে চিনল। বেনামাজি থেকে সে নামাজ ধরলো। অসুস্থতা তার জীবনকে পরিবর্তন করুন।

বলুন: এই রোগ কি শুধু কষ্ট ছিল? নাকি হেদায়াতের দরজা?

◾নবীদের জীবনে ছিল ‘কষ্টের সাথে স্বস্তি’

হযরত ইউসুফ (আ.) জীবনের কষ্ট দেখুন। ভাইদের হিংসা। গভীর কুয়ার মাঝে ফেলে দেয়া। স্বাধীন জীবন থেকে দাসত্বের জীবন। বাবার আদর থেকে বঞ্চিত। অন্যদিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে রাজার ঘরে লালন-পালনের ব্যবস্থা।

তারপর যৌবন। নারীদের চক্রান্তের জালে। তারপর বিনা বিচারে কারাগারে লম্বা জীবন। কারাগার থেকে সিংহাসনে।

জীবনের কষ্টের প্রতিটি ধাপেই তার মাঝে যোগ হয়েছিল, জ্ঞান, ধৈর্য, নেতৃত্ব। একটা কষ্টও অকারণে ছিল না। এই কষ্টগুলো তাকে পরিণত করেছিল।

প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন। মক্কায় তাকে কষ্ট দেওয়া হয়েছিল। তায়েফে তাকে কষ্ট দেওয়া হয়েছিল।

কাফেরদের অত্যাচারে রক্তে তার পা ভিজে গিয়েছিল।

আল্লাহ বললেন: “চাও তো পাহাড় ভেঙে দেই”

কিন্তু রাসূল ﷺ বললেন—

“না, এখান থেকেই একদিন ঈমান আসবে”

আজ তায়েফ মুসলিম কষ্টের সাথে স্বস্তি ছিল

◾আজ আমাদের দেশে ন্যায়বিচার নেই, সত্য কথা বলার মূল্য দিতে হয়েছে, দ্বীনের পথে থাকলে অপমান, হালাল পথে চললে পিছিয়ে পড়া, অনেকে বলেন— “এই দেশে ভালো মানুষ হয়ে বাঁচা যায় না”

কিন্তু শুনুন— এই কষ্টটাই আল্লাহ আমাদের তৈরি করছেন।‌ এই প্রজন্মই—অন্যায়ের সামনে মাথা নত করবে না। ইনসাফের জন্য দাঁড়াবে ঈমানের মূল্য বুঝবে

এ কষ্ট যদি না আসত— এই প্রজন্ম কি তৈরি হতো?

◾ আজ অনেকে প্রশ্ন করে❓ প্রশ্ন: আমি কবে স্বস্তি পাব?

উত্তর: আপনি যদি আল্লাহর সাথে থাকেন— আপনি ইতিমধ্যেই স্বস্তির ভিতরেই আছেন

অনেকে প্রশ্ন করে❓ প্রশ্ন:এই কষ্ট কি কখনো শেষ হবে?

উত্তর: কষ্ট শেষ হবে। এই কষ্ট থাকবে না সাময়িক। ঝড় আসে থাকে না। কিন্তু কষ্টে শেখা শিক্ষা থাকবে চিরকাল।

◾আপনার চোখের পানি বৃথা না

আপনার দীর্ঘশ্বাস হিসাবের বাইরে না

আপনার কষ্টের সাথেই—

আল্লাহর পরিকল্পনা আছে

আল্লাহর দয়া আছে

আল্লাহর স্বস্তি আছে

আপনি ভেঙে যাচ্ছেন না

আপনি পরিণত হচ্ছেন। আপনি শক্তিশালী হচ্ছেন। আপনি আরো দক্ষ ও যোগ্য হচ্ছেন।

◾ দোয়া নামাজ ধৈর্য দ্বারা শক্তি অর্জন করুন। নিশ্চিত থাকুন আল্লাহ আপনাকে ফেলে দিবেন না। ‌ হতাশ হবেন না আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন আগামীর দিনগুলো আরো সুন্দর হবে ইনশাল্লাহ।

Scroll to Top