আলহামদুলিল্লাহ!
আমরা এখন এমন এক সফরে রওনা হয়েছি,
যার লক্ষ্য পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানিত ঘর — আল্লাহর ঘর, কাবা শরীফ।
এটা কোনো সাধারণ যাত্রা নয়,
এটা জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সফর — রূহের সফর, আত্মার সফর, ক্ষমা পাওয়ার সফর।
এই গাড়ি, এই বাস, এই রাস্তা— সবই এখন আমাদের জন্য বরকতময় হয়ে গেছে।
প্রত্যেক কিলোমিটার যেন আমাদের গুনাহ মাফের দূরত্ব কমিয়ে দিচ্ছে।
প্রত্যেক দৃষ্টিতে আছে অনুভূতি,
প্রত্যেক নিশ্বাসে আছে এক তাওহীদের সুবাস —
“লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক…”
আমরা সেই ঘরের দিকে যাচ্ছি যার দিকে মুখ করে সারাজীবন নামাজ পড়েছি।
যে ঘরকে আমরা দূর থেকে কল্পনায় দেখেছি, আজ তা বাস্তবে আমাদের গন্তব্য!
এমন সৌভাগ্য কি সবার নসিবে আসে?
না, এটা শুধুমাত্র আল্লাহর বিশেষ দাওয়াতপ্রাপ্ত বান্দাদের সফর।
আল্লাহকে বলছি
“হে আল্লাহ! তুমি আমাদের ডেকেছো, আমরা হাজির।”
“হে আল্লাহ! এই সফর হোক আমার জীবনের মোড় ঘোরানো সফর।”
“হে আল্লাহ! মক্কায় পৌঁছে যেন আমি নতুন মানুষ হয়ে ফিরে আসতে পারি।”
জেদ্দা থেকে মক্কার পথ
এই পথে হাঁটেছেন চলেছেন আল্লাহর কত প্রিয় বান্দাগণ। কত প্রেম ও ভালোবাসা নিয়ে।
এই পথের প্রত্যেক বালুকণায় তাদের ত্যাগ ও ভালোবাসার স্মৃতি জড়িয়ে আছে।
আমরাও আজ সেই পথ ধরে চলেছি—
কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য কেবল ভ্রমণ নয়,
আমাদের উদ্দেশ্য আল্লাহর দরবারে আত্মসমর্পণ।
সবাই গাড়ির জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছেন—
চোখে পানি, মুখে নীরবতা, হৃদয়ে ধ্বনি “লাব্বাইক…”
এই নীরবতাই তো আসল কথা।
এখানে ভাষার প্রয়োজন নেই;
রূহই কথা বলছে,
হৃদয়ই কান্না করছে,
আর আল্লাহই শুনছেন প্রতিটি ধ্বনি।
এখানে কোনো অহংকার নেই।
সব ভুলে যান— কারণ আপনি এখন আল্লাহর অতিথি।
যে ব্যক্তি ওমরার সফরে ধৈর্য ধারণ করে,
তার প্রতিটি কষ্ট, প্রতিটি ঘাম, প্রতিটি দেরি—
সবকিছুর বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা গুনাহ মাফ করেন।
মালিকের কাছে দোয়া
হে আল্লাহ! আমাদের এই যাত্রা সহজ করে দাও।
হে আল্লাহ! এই সফরকে করো রহমতের সফর, পরিবর্তনের সফর।
আমরা যেন কাবা শরীফের সামনে দাঁড়িয়ে
তোমার মহব্বতে কেঁদে ফেলতে পারি,
আমাদের চোখের অশ্রু যেন হয় তাওবার প্রমাণ।
জেদ্দা থেকে মক্কা অভিমুখে আমরা চলেছি—
কেবল পথের নয়, আত্মার এক নবজন্মের পথে।
এই ঘর আল্লাহর ঘর, এই স্থান দোয়া কবুলের স্থান। আমার চোখের পানি, কাঁপা হৃদয়, লাব্বাইক — সবই এখন আল্লাহর দরবারে পৌঁছাবে। আমি নবজীবনের পথে। আমার ওমরা হবে আমার আত্মার পুনর্জন্ম।”