দুনিয়ার বাস্তবতা: প্রিয় রাসূল ﷺ এর দৃষ্টিতে

আজ আমরা এমন এক বাস্তবতার কথা বলব—যা আমাদের চোখের সামনে প্রতিদিন, কিন্তু আমরা ভুলে থাকি। সেটি হলো এই দুনিয়ার আসল রূপ।

একবার ভাবুন, গত ৫০ বছরে কত কোটি মানুষ দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে? তারা সবাই এই দুনিয়াকে ছেড়ে চলে গেছে। আমাদেরও একদিন চলে যেতে হবে।

প্রশ্ন হলো: “আমরা কি প্রস্তুত?”

◾কুরআনের আয়াতের আলোকে দুনিয়ার বাস্তবতা

আল্লাহ বলেন:

إِنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ (হাদীদ: ২০)

দুনিয়ার জীবন হলো খেলা, তামাশা, শোভা, অহংকার আর সম্পদ-সন্তান বৃদ্ধি করার প্রতিযোগিতা।

আল্লাহ বলেন:

وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ (আলে ইমরান: ১৮৫)

দুনিয়া হলো প্রতারণার উপকরণ।

আল্লাহর শপথ, এ দুনিয়া যদি চিরস্থায়ী হতো, তবে নবী ও সাহাবারা সবচেয়ে বিলাসী জীবন যাপন করতেন। কিন্তু তারা দুনিয়াকে পিছনে ফেলে আখিরাতের দিকে ছুটেছেন।

◾হাদিস থেকে দুনিয়ার বাস্তবতা

রাসূল ﷺ বলেছেন:

দুনিয়ার তুলনা কী? আমি দুনিয়ায় একজন আরোহীর মতো, যে গাছের নিচে এক মুহূর্ত বিশ্রাম নিল, তারপর চলে গেল।” (মুসনাদে আহমদ)

রাসূল ﷺ বলেছেন:

“আল্লাহর কাছে যদি দুনিয়ার মূল্য থাকতো মশার ডানার সমানও, তবে তিনি কাফিরকে এক ফোঁটা পানি দিতেন না।” (তিরমিযি)

আরেক হাদিসে এসেছে:

“কবরের সাথে তিনটি জিনিস যায়; পরিবার ফিরে আসে, ধন-সম্পদ রেখে যায়, কেবল আমল থাকে।” (বুখারি, মুসলিম)

প্রিয় শ্রোতারা! এই হাদিসগুলো পড়লেই বোঝা যায়—আমাদের যে জিনিসকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, সেই দুনিয়া আসলে কিছুই নয়

◾ নবীজির ﷺ জীবন থেকে শিক্ষা

ক. নবীজির দারিদ্র্যপূর্ণ জীবন

নবীজির ঘরে দিনের পর দিন আগুন জ্বলত না। খেজুর ও পানি দিয়ে জীবন চলতো।

খন্দকের যুদ্ধের দিনে ক্ষুধার কারণে নবীজি ﷺ পেটে পাথর বেঁধে রেখেছিলেন।

খ. উমরের কান্না

উমর (রা.) দেখলেন নবী ﷺ খেজুর পাতার বিছানায় ঘুমাচ্ছেন, শরীরে দাগ পড়েছে। তিনি কাঁদতে লাগলেন।

রাসূল ﷺ বললেন:

“হে উমর! তুমি কি রাজাদের দুনিয়াকে চাও? তারা দুনিয়া পেলো, আমরা আখিরাত পাবো।”

গ. সাহাবাদের বাস্তবতা

আবু ধর (রা.) — রাসূল ﷺ তাকে দুনিয়া থেকে দূরে থাকার উপদেশ দেন।

আলি (রা.) বলতেন: “দুনিয়া পেছন ফিরছে, আখিরাত এগিয়ে আসছে। তোমরা আখিরাতের সন্তান হও।”

◾আমাদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা, গাড়ি—সবই থেকে যাবে।

আমাদের সাথে যাবে কি? কেবল ঈমান আর আমল।

গল্প:

একজন সাহাবা রাসূল ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলেন: “কে সবচেয়ে বুদ্ধিমান?”

রাসূল ﷺ বললেন:

> “যে মৃত্যুকে বেশি স্মরণ করে এবং মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নেয়।”

◾ বর্তমান যুগে দুনিয়ার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি

আজকের মানুষ কী করছে?

দিন-রাত দুনিয়ার দৌড়ে ব্যস্ত।

একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছে—বড় বাড়ি, নতুন গাড়ি, বিশাল ব্যবসা।

অথচ প্রতিদিন কবর খনন হচ্ছে, জানাজা পড়া হচ্ছে।

এই প্রতিযোগিতার শেষ কোথায়? মৃত্যুর পর কিছুই কাজে আসবে না।

রাসূল ﷺ বলেছিলেন: “আমি তোমাদের জন্য দারিদ্র্যকে ভয় করি না। ভয় করি দুনিয়া তোমাদের জন্য খুলে যাবে, আর তোমরা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করবে, তারপর ধ্বংস হবে।”

◾আমাদের লক্ষ্য দুনিয়া নয়, আখিরাত।

দুনিয়াকে ব্যবহার করবো আখিরাতের জন্য।

দোয়া শিখুন:

اللَّهُمَّ اجْعَلِ الدُّنْيَا فِي أَيْدِينَا وَلَا تَجْعَلْهَا فِي قُلُوبِنَا

“হে আল্লাহ! দুনিয়াকে আমাদের হাতে রাখুন, কিন্তু অন্তরে জায়গা দেবেন না।

আমরা সবাই একদিন মাটির নিচে চলে যাবো।কবর আমাদের চূড়ান্ত ঠিকানা নয়, আখিরাত আমাদের আসল ঘর।আসুন, দুনিয়ার চাকচিক্যে না ভেসে গিয়ে আখিরাতের প্রস্তুতি নেই।

Scroll to Top