কুরআনে কারীমের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হলো তাওহিদ। একক ইলাহ হিসেবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে মেনে নেয়ার দাওয়াত। কুরআনে এই দাওয়াতের যৌক্তিকতাকে তুলে ধরা হয়েছে।
কোরআন সুস্পষ্ট করে দিয়েছে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ ইলাহ হতে পারে না। যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য সত্তাকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করে তারা বিভ্রান্ত তারা ভ্রষ্ট।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর কিতাবের মাঝে মানুষের ইলাহ উপাসনার উপযুক্ত হতে হলে তাকে কি সমস্ত গুণাবলীর অধিকারী হওয়া চাই অত্যন্ত যৌক্তিকতার সাথে এ গুণাবলী গুলো তুলে ধরেছে। এবং এ বিষয়টিও স্পষ্ট করেছে একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ছাড়া ইলাহ হওয়ার গুণাবলী আর কারো মাঝে নেই।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রতি যুগে নবী এবং কিতাবের মাধ্যমে এই দাওয়াত পেশ করেছেন মানুষ যেন একমাত্র আল্লাহকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করে। আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো উপাসনা না করে। অন্য কারো কাছে প্রার্থনা না করে।
বিগত আলোচনায় আমরা দেখেছি যুগে যুগেই মানুষ ইলাহ নির্ণয় করতে যেয়ে বিভ্রান্তির শিকার হয়েছে। কখনো ফেরেশতাদের উপাসনা শুরু করেছে। কখনো নবী অলিদের আল্লাহর গুণাবলীতে শরিক করেছে। কখনো নিজ নষ্ট ভ্রষ্ট শাসক এবং সাধকদের আল্লাহর মোকাবেলায় রব হিসেবে গ্রহণ করেছে।
কোরআন মানুষের চিন্তার দুয়ার খুলে দিয়েছে। বিভ্রান্তি থেকে মানুষকে মুক্তি দিয়েছে।
যেমন সূরা আনআম এর মাঝে এরশাদ হয়েছে
{ قَدۡ جَاۤءَكُم بَصَاۤىِٕرُ مِن رَّبِّكُمۡۖ فَمَنۡ أَبۡصَرَ فَلِنَفۡسِهِۦۖ وَمَنۡ عَمِیَ فَعَلَیۡهَاۚ وَمَاۤ أَنَا۠ عَلَیۡكُم بِحَفِیظࣲ }
[Surah Al-Anʿām: 104]
নিশ্চয় তোমাদের কাছে চাক্ষুষ নিদর্শনাবলী এসেছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে। অতএব যে চক্ষুষ্মান হবে, তবে সে তার নিজের জন্যই হবে। আর যে অন্ধ সাজবে, তবে তা তার উপরই (বর্তাবে)। আর আমি তোমাদের উপর সংরক্ষক নই।
আমরা আজকে কোরআনে কারীম থেকে এ সংক্রান্ত আয়াতগুলো পড়বো আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যে আয়াতগুলোর মাধ্যমে প্রতি যুগের মুশরিকদের ভ্রান্তি গুলোকে দূর করেছেন।
এলাহের পরিচয় ও গুণাবলী
সূরা নামল আয়াত ৬০-৬৩
************************
যেমন কোরআনে কারীমের সূরা মাঝে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনায় এসেছে।
{ أَمَّنۡ خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَ ٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ وَأَنزَلَ لَكُم مِّنَ ٱلسَّمَاۤءِ مَاۤءࣰ فَأَنۢبَتۡنَا بِهِۦ حَدَاۤىِٕقَ ذَاتَ بَهۡجَةࣲ مَّا كَانَ لَكُمۡ أَن تُنۢبِتُوا۟ شَجَرَهَاۤۗ أَءِلَـٰهࣱ مَّعَ ٱللَّهِۚ بَلۡ هُمۡ قَوۡمࣱ یَعۡدِلُونَ }
[Surah An-Naml: 60]
তিনি (শ্রেষ্ঠ), যিনি আসমানসমূহ ও যমীনকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য তিনি আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর তা দ্বারা আমি মনোরম উদ্যান সৃষ্টি করি। তার বৃক্ষাদি উৎপন্ন করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। আল্লাহর সাথে কি অন্য কোন ইলাহ আছে? বরং তারা এমন এক কওম যারা শিরক করে।
এই আয়াতে তিনটি গুণাবলীর আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে। মানুষ যাকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করবে অবশ্যই তার মাঝে এ তিনটি গুণাবলী থাকা চাই। প্রথম আসমান এবং জমিন সৃষ্টি করার শক্তি দ্বিতীয় আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করার শক্তি তৃতীয় বৃষ্টির মাধ্যমে গাছ গাছালি উৎপন্ন করার শক্তি।
একমাত্র আল্লাহ রব্বুল আলামিন ছাড়া এই গুণাবলী আর কারো মাঝে নেই। কাজেই একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই।
{ أَمَّن جَعَلَ ٱلۡأَرۡضَ قَرَارࣰا وَجَعَلَ خِلَـٰلَهَاۤ أَنۡهَـٰرࣰا وَجَعَلَ لَهَا رَوَ ٰسِیَ وَجَعَلَ بَیۡنَ ٱلۡبَحۡرَیۡنِ حَاجِزًاۗ أَءِلَـٰهࣱ مَّعَ ٱللَّهِۚ بَلۡ أَكۡثَرُهُمۡ لَا یَعۡلَمُونَ (61)
বরং তিনি, যিনি যমীনকে আবাসযোগ্য করেছেন এবং তার মধ্যে প্রবাহিত করেছেন নদী-নালা। আর তাতে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বতমালা এবং দুই সমুদ্রের মধ্যখানে অন্তরায় সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সাথে কি অন্য কোন ইলাহ আছে? বরং তাদের অধিকাংশই জানে না।
এই আয়াতে চারটি গুণাবলীর আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম জমিন সৃষ্টি করার পর এ জমিনকে স্থির রাখা দ্বিতীয় এ জমিনের মাঝে পানির ব্যবস্থাপনা করা তৃতীয় এ জমিনে পাহাড়গুলো স্থাপন করে তাকে স্থির রাখার ব্যবস্থাপনা করা চতুর্থ সমুদ্র মহাসমুদ্র নদ-নদী গুলোকে পরিচালনা করা।
মানুষ যার উপাসনা করবে যাকে এলাহী হিসেবে গ্রহণ করবে তার মাঝে এ শক্তিগুলো থাকা চাই। আর এ শক্তি গুলো এক আল্লাহ ছাড়া কারো মাঝে নেই কাজেই আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই।
{ أَمَّن یُجِیبُ ٱلۡمُضۡطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَیَكۡشِفُ ٱلسُّوۤءَ وَیَجۡعَلُكُمۡ خُلَفَاۤءَ ٱلۡأَرۡضِۗ أَءِلَـٰهࣱ مَّعَ ٱللَّهِۚ قَلِیلࣰا مَّا تَذَكَّرُونَ }
[Surah An-Naml: 62]
বরং তিনি, যিনি নিরুপায়ের আহবানে সাড়া দেন এবং বিপদ দূরীভূত করেন এবং তোমাদেরকে যমীনের প্রতিনিধি বানান। আল্লাহর সাথে কি অন্য কোন ইলাহ আছে ? তোমরা কমই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।
এই আয়াতে তিনটি বিষয় কে তুলে ধরা হয়েছে। এক একজন বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির আহাজারি শুনার দক্ষতা দ্বিতীয় অকল্যাণ দূর করার ক্ষমতা তৃতীয় জমিনে খলিফা নির্ধারণ করার ক্ষমতা।
আর এ বিষয়ে সুস্পষ্ট এ তিনটি গুণাবলী আল্লাহ ছাড়া আর কারো মাঝে নেই। এই কোরআন যৌক্তিকভাবে এই দাওয়াত পেশ করছে আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই।
{ أَمَّن یَهۡدِیكُمۡ فِی ظُلُمَـٰتِ ٱلۡبَرِّ وَٱلۡبَحۡرِ وَمَن یُرۡسِلُ ٱلرِّیَـٰحَ بُشۡرَۢا بَیۡنَ یَدَیۡ رَحۡمَتِهِۦۤۗ أَءِلَـٰهࣱ مَّعَ ٱللَّهِۚ تَعَـٰلَى ٱللَّهُ عَمَّا یُشۡرِكُونَ }
[Surah An-Naml: 63]
বরং তিনি, যিনি তোমাদেরকে স্থলে ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথ দেখান এবং যিনি স্বীয় রহমতের প্রাক্কালে সুসংবাদবাহী বাতাস প্রেরণ করেন। আল্লাহর সাথে কি অন্য কোন ইলাহ আছে? তারা যা কিছু শরীক করে আল্লাহ তা থেকে ঊর্ধ্বে।
এই আয়াতে দুটি বিষয়কে তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম জলে এবং স্থলে পথপ্রদর্শন করার ক্ষমতা তৃতীয় আল্লার রহমত বৃষ্টি বর্ষণের পূর্বে ঠান্ডা বাতাস দ্বারা তার সুসংবাদ প্রেরণ করার ক্ষমতা। এ দুটি বিষয়ে আল্লাহ রব্বুল আলামিনের নিয়ন্ত্রণে। এর মাঝে অন্য কারো নিয়ন্ত্রণ নেই। কোরআন বলছে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ এবাদতের উপযুক্ত নেই।
এলাহের পরিচয় ও গুণাবলী
সূরা আনআম আয়াত ৯৫-১০২
***************************
সূরা আনআম এর মাঝে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এসেছে-
{ ۞ إِنَّ ٱللَّهَ فَالِقُ ٱلۡحَبِّ وَٱلنَّوَىٰۖ یُخۡرِجُ ٱلۡحَیَّ مِنَ ٱلۡمَیِّتِ وَمُخۡرِجُ ٱلۡمَیِّتِ مِنَ ٱلۡحَیِّۚ ذَ ٰلِكُمُ ٱللَّهُۖ فَأَنَّىٰ تُؤۡفَكُونَ (95)
নিশ্চয় আল্লাহ বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী। তিনি মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বেরকারী। তিনিই আল্লাহ, সুতরাং (সৎপথ থেকে) কোথায় তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে?
এই আয়াতে দুটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এখনো শস্য বীজ এবং আটি বিধির্ণ কারি আল্লাহর গুণাবলী। নির্জীব বস্তু থেকে সজীব এবং সজীব বস্তু থেকে নির্জীব বস্তু তিনি বের করে আনেন। এই ক্ষমতাটা শুধুমাত্র আল্লাহর। তাকেই ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করো।
فَالِقُ ٱلۡإِصۡبَاحِ وَجَعَلَ ٱلَّیۡلَ سَكَنࣰا وَٱلشَّمۡسَ وَٱلۡقَمَرَ حُسۡبَانࣰاۚ ذَ ٰلِكَ تَقۡدِیرُ ٱلۡعَزِیزِ ٱلۡعَلِیمِ (96)
তিনিই রাতের আবরণ বিদীর্ণ করে রঙ্গিন প্রভাতের উন্মেষকারী, তিনিই রাতকে বিশ্রামকাল এবং সূর্য ও চাঁদকে সময়ের নিরূপক করে দিয়েছেন; এটা হচ্ছে সেই পরম পরাক্রান্ত ও সর্ব পরিজ্ঞাতার (আল্লাহর) নির্ধারণ।
এই আয়াতে তিনটি গুণাবলী তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম অন্ধকার চিরে ভোরের আলো আল্লাহ প্রকাশ করেন। দ্বিতীয় রাতকে তিনি বিশ্রামের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তৃতীয় সূর্য চন্দ্রকে তিনি হিসাব নিরপেক্ষ রূপে সৃষ্টি করেছেন।
وَهُوَ ٱلَّذِی جَعَلَ لَكُمُ ٱلنُّجُومَ لِتَهۡتَدُوا۟ بِهَا فِی ظُلُمَـٰتِ ٱلۡبَرِّ وَٱلۡبَحۡرِۗ قَدۡ فَصَّلۡنَا ٱلۡـَٔایَـٰتِ لِقَوۡمࣲ یَعۡلَمُونَ (97)
আর তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্ররাজিকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা ওগুলির সাহায্যে অন্ধকারে পথের সন্ধান পেতে পার স্থল ভাগে এবং সমুদ্রে। নিশ্চয়ই আমি প্রমাণসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি ঐ সমস্ত লোকের জন্য যারা জ্ঞান রাখে।
এই আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের গুণাবলী তুলে ধরা হয়েছে যে তিনি একমাত্র সত্তা তিনি নক্ষত্ররাজি গুলোকে স্থাপন করেছেন যা মানুষদেরকে জলে এবং স্থলে অন্ধকারের মাঝে পথের সন্ধান দিয়ে থাকে।
وَهُوَ ٱلَّذِیۤ أَنشَأَكُم مِّن نَّفۡسࣲ وَ ٰحِدَةࣲ فَمُسۡتَقَرࣱّ وَمُسۡتَوۡدَعࣱۗ قَدۡ فَصَّلۡنَا ٱلۡـَٔایَـٰتِ لِقَوۡمࣲ یَفۡقَهُونَ (98)
তিনিই তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর (প্রত্যেকের জন্য) একটি স্থান অধিক দিন থাকার জন্য এবং একটি স্থান অল্প দিন থাকার জন্য রয়েছে, এই নিদর্শনসমূহ আমি তাদের জন্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করলাম যাদের বুদ্ধি বিবেচনা আছে।
এই আয়াতের আলোচনা আজকে পৃথিবীতে আমরা এত কোটি মানুষ আল্লাহ রব্বুল আলামীন একজন ব্যক্তি থেকে সকলকে সৃষ্টি করেছেন। দ্বিতীয় কথা হল তারপর আমাদের একটি হল স্থায়ী ঠিকানা আর আরেকটি হল অস্থায়ী ঠিকানা।
وَهُوَ ٱلَّذِیۤ أَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَاۤءِ مَاۤءࣰ فَأَخۡرَجۡنَا بِهِۦ نَبَاتَ كُلِّ شَیۡءࣲ فَأَخۡرَجۡنَا مِنۡهُ خَضِرࣰا نُّخۡرِجُ مِنۡهُ حَبࣰّا مُّتَرَاكِبࣰا وَمِنَ ٱلنَّخۡلِ مِن طَلۡعِهَا قِنۡوَانࣱ دَانِیَةࣱ وَجَنَّـٰتࣲ مِّنۡ أَعۡنَابࣲ وَٱلزَّیۡتُونَ وَٱلرُّمَّانَ مُشۡتَبِهࣰا وَغَیۡرَ مُتَشَـٰبِهٍۗ ٱنظُرُوۤا۟ إِلَىٰ ثَمَرِهِۦۤ إِذَاۤ أَثۡمَرَ وَیَنۡعِهِۦۤۚ إِنَّ فِی ذَ ٰلِكُمۡ لَـَٔایَـٰتࣲ لِّقَوۡمࣲ یُؤۡمِنُونَ (99)
আর তিনিই আসমান থেকে বর্ষণ করেছেন বৃষ্টি। অতঃপর আমি এ দ্বারা উৎপন্ন করেছি সব জাতের উদ্ভিদ। অতঃপর আমি তা থেকে বের করেছি সবুজ ডাল-পালা। আমি তা থেকে বের করি ঘন সন্নিবিষ্ট শস্যদানা। আর খেজুর বৃক্ষের মাথি থেকে (বের করি) ঝুলন্ত থোকা। আর (উৎপন্ন করি) আঙ্গুরের বাগান এবং সাদৃশ্যপূর্ণ ও সাদৃশ্যহীন যয়তুন ও আনার। দেখ তার ফলের দিকে, যখন সে ফলবান হয় এবং তার পাকার প্রতি। নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে এমন কওমের জন্য যারা ঈমান আনে।
এই আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অসাধারণ কুদরতকে তুলে ধরা হয়েছে।
وَجَعَلُوا۟ لِلَّهِ شُرَكَاۤءَ ٱلۡجِنَّ وَخَلَقَهُمۡۖ وَخَرَقُوا۟ لَهُۥ بَنِینَ وَبَنَـٰتِۭ بِغَیۡرِ عِلۡمࣲۚ سُبۡحَـٰنَهُۥ وَتَعَـٰلَىٰ عَمَّا یَصِفُونَ (100)
এই আয়াতে মোশরেকদের সমালোচনা তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের এতসব কুদরতকে দেখার পর শিরক চরম নির্বোধিতা ছাড়া কিছু না।
بَدِیعُ ٱلسَّمَـٰوَ ٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ أَنَّىٰ یَكُونُ لَهُۥ وَلَدࣱ وَلَمۡ تَكُن لَّهُۥ صَـٰحِبَةࣱۖ وَخَلَقَ كُلَّ شَیۡءࣲۖ وَهُوَ بِكُلِّ شَیۡءٍ عَلِیمࣱ (101)
আর তারা জিনকে আল্লাহর জন্য শরীক সাব্যস্ত করেছে, অথচ তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আর তারা অজ্ঞতাবশত মনগড়াভাবে নির্ধারণ করেছে তার জন্য পুত্র ও কন্যা সন্তান। তিনি পবিত্র মহান এবং তারা যা বিবরণ দেয় তা থেকে ঊর্ধ্বে।
আল্লাহর একত্ববাদের যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে এবং অংশীবাদের অসারতাকে তুলে ধরা হয়েছে।
ذَ ٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمۡۖ لَاۤ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَۖ خَـٰلِقُ كُلِّ شَیۡءࣲ فَٱعۡبُدُوهُۚ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَیۡءࣲ وَكِیلࣱ (102) }
তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি প্রতিটি জিনিসের স্রষ্টা। সুতরাং তোমরা তাঁর ইবাদাত কর। আর তিনি প্রতিটি জিনিসের উপর তত্ত্বাবধায়ক।
লম্বা আলোচনার পর এই আয়াতে মূল দাওয়াত তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ তোমাদের রব। তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। সকল কিছুর তিনি সৃষ্টি কর্তা। তোমরা তারই অনুগত হও।
এলাহের পরিচয় ও গুণাবলী
সূরা ইউনুস আয়াত ৩-৪
*********************
সূরা ইউনুসের মাঝে এ বিষয়ে আলোচনায় এসেছে-
ذَ ٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمۡ فَٱعۡبُدُوهُۚ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ (3)
তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব। সুতরাং তোমরা তাঁর ইবাদাত কর। তারপরও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?
إِلَیۡهِ مَرۡجِعُكُمۡ جَمِیعࣰاۖ وَعۡدَ ٱللَّهِ حَقًّاۚ (4) }
[Surah Yūnus: 3-4]
তাঁরই কাছে তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন। আল্লাহর ওয়াদা সত্য।
একটা সূরার মূল দাওয়াত। এসেছে অসংখ্য দলিল।
এলাহের পরিচয় ও গুণাবলী
সূরা নামল আয়াত ৩১-৩৬
************************
{ قُلۡ مَن یَرۡزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَاۤءِ وَٱلۡأَرۡضِ أَمَّن یَمۡلِكُ ٱلسَّمۡعَ وَٱلۡأَبۡصَـٰرَ وَمَن یُخۡرِجُ ٱلۡحَیَّ مِنَ ٱلۡمَیِّتِ وَیُخۡرِجُ ٱلۡمَیِّتَ مِنَ ٱلۡحَیِّ وَمَن یُدَبِّرُ ٱلۡأَمۡرَۚ فَسَیَقُولُونَ ٱللَّهُۚ فَقُلۡ أَفَلَا تَتَّقُونَ (31)
বল, ‘আসমান ও যমীন থেকে কে তোমাদের রিয্ক দেন? অথবা কে (তোমাদের) শ্রবণ ও দৃষ্টিসমূহের মালিক? আর কে মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন আর জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন? কে সব বিষয় পরিচালনা করেন’? তখন তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ’। সুতরাং, তুমি বল, ‘তারপরও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না’?
এই আয়াতে মুশরিক সমাজের উদ্দেশ্যে অনেকগুলো প্রশ্ন উপস্থাপন করা হয়েছে। তারপর তাদের দেয়া উত্তরের মাধ্যমেই তাদের চিন্তার অসারতা তাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
فَذَ ٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمُ ٱلۡحَقّ (32)
দলিলের পর দাওয়াহ্ উপস্থাপন করা হয়েছে।
قُلۡ هَلۡ مِن شُرَكَاۤىِٕكُم مَّن یَبۡدَؤُا۟ ٱلۡخَلۡقَ ثُمَّ یُعِیدُهُۥۚ قُلِ ٱللَّهُ یَبۡدَؤُا۟ ٱلۡخَلۡقَ ثُمَّ یُعِیدُهُۥۖ فَأَنَّىٰ تُؤۡفَكُونَ (34)
বল, ‘তোমাদের শরীকদের কেউ কি আছে, যে প্রথম সৃষ্টি করবে, অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি ঘটাবে’? বল, ‘আল্লাহই প্রথম সৃষ্টি করেন অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি ঘটান’। অতএব তোমাদেরকে কোথায় ফিরানো হচ্ছে?
মুশরিক সমাজের উদ্দেশ্যে আবারো প্রশ্ন।
قُلۡ هَلۡ مِن شُرَكَاۤىِٕكُم مَّن یَهۡدِیۤ إِلَى ٱلۡحَقِّۚ قُلِ ٱللَّهُ یَهۡدِی لِلۡحَقِّۗ أَفَمَن یَهۡدِیۤ إِلَى ٱلۡحَقِّ أَحَقُّ أَن یُتَّبَعَ أَمَّن لَّا یَهِدِّیۤ إِلَّاۤ أَن یُهۡدَىٰۖ فَمَا لَكُمۡ كَیۡفَ تَحۡكُمُونَ (35)
বল, ‘তোমাদের শরীকদের কেউ কি আছে, যে সত্যের পথ দেখাবে’? বল, ‘আল্লাহই সত্যের পথ দেখান। যিনি সত্যের পথ দেখান, তিনিই কি অনুসরণ করার অধিক হকদার, নাকি সে, যে পথ দেখানো ছাড়া পথ পায় না। সুতরাং তোমাদের কী হল? তোমরা কেমন বিচার করছ’।
মুশরিক সমাজের উদ্দেশ্যে আবারো প্রশ্ন।
وَمَا یَتَّبِعُ أَكۡثَرُهُمۡ إِلَّا ظَنًّاۚ إِنَّ ٱلظَّنَّ لَا یُغۡنِی مِنَ ٱلۡحَقِّ شَیۡـًٔاۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِیمُۢ بِمَا یَفۡعَلُونَ (36) }
আর তাদের অধিকাংশ কেবল ধারণার অনুসরণ করে। নিশ্চয় সত্যের বিপরীতে ধারণা কোন কার্যকারিতা রাখে না । নিশ্চয় আল্লাহ তারা যা করে সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।
অনেকগুলো প্রশ্ন উপস্থাপনের পর কোরআন মুশরিক সমাজের চিন্তার অসারতা কে তুলে ধরেছে। তাদের কাছে কোন যুক্তি প্রমাণ দলিল নেই। তাদের ধর্ম অন্ধক্তের উপর প্রতিষ্ঠিত।
[Surah Yūnus: 31-36]
এলাহের পরিচয় ও গুণাবলী
সূরা নামল আয়াত ১১-১৪
************************
সূরা ফাতিরের মাঝে এ বিষয়ে আলোচনায় এসেছে-
{ وَٱللَّهُ خَلَقَكُم مِّن تُرَابࣲ ثُمَّ مِن نُّطۡفَةࣲ ثُمَّ جَعَلَكُمۡ أَزۡوَ ٰجࣰاۚ وَمَا تَحۡمِلُ مِنۡ أُنثَىٰ وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلۡمِهِۦۚ وَمَا یُعَمَّرُ مِن مُّعَمَّرࣲ وَلَا یُنقَصُ مِنۡ عُمُرِهِۦۤ إِلَّا فِی كِتَـٰبٍۚ إِنَّ ذَ ٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ یَسِیرࣱ (11)
আর আল্লাহ তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে তারপর শুক্রবিন্দু থেকে তারপর তোমাদেরকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন এবং নারী তার গর্ভে যা ধারণ করে আর যা প্রসব করে তা আল্লাহর জ্ঞাতসারেই হয়। আর কোন বয়স্ক ব্যক্তির বয়স বাড়ানো হয় না কিংবা কমানো হয় না কিন্তু তা তো রয়েছে কিতাবে*; নিশ্চয় তা আল্লাহর জন্য সহজ।
এই আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কুদরতের পাঁচটি গুণ তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহর এ সমস্ত গুণাবলীতে কোন শরীক নেই।
وَمَا یَسۡتَوِی ٱلۡبَحۡرَانِ هَـٰذَا عَذۡبࣱ فُرَاتࣱ سَاۤىِٕغࣱ شَرَابُهُۥ وَهَـٰذَا مِلۡحٌ أُجَاجࣱۖ وَمِن كُلࣲّ تَأۡكُلُونَ لَحۡمࣰا طَرِیࣰّا وَتَسۡتَخۡرِجُونَ حِلۡیَةࣰ تَلۡبَسُونَهَاۖ وَتَرَى ٱلۡفُلۡكَ فِیهِ مَوَاخِرَ لِتَبۡتَغُوا۟ مِن فَضۡلِهِۦ وَلَعَلَّكُمۡ تَشۡكُرُونَ (12)
আর দু’টি সমুদ্র সমান নয়; একটি খুবই সুমিষ্ট ও সুপেয়, আরেকটি অত্যন্ত লবণাক্ত আর প্রত্যেকটি থেকে তোমরা তাজা গোশত খাও এবং আহরণ কর অলঙ্কার* যা তোমরা পরিধান কর। আর তুমি তাতে দেখ নৌযান পানি চিরে চলাচল করে। যাতে তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর এবং যাতে তোমরা শোকর কর।
আল্লাহর অসাধারণ সৃষ্ট নৈপুণ্যের কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। আছে কি আল্লাহর সাথে কোন শরিক।
یُولِجُ ٱلَّیۡلَ فِی ٱلنَّهَارِ وَیُولِجُ ٱلنَّهَارَ فِی ٱلَّیۡلِ وَسَخَّرَ ٱلشَّمۡسَ وَٱلۡقَمَرَۖ كُلࣱّ یَجۡرِی لِأَجَلࣲ مُّسَمࣰّىۚ
ذَ ٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمۡ لَهُ ٱلۡمُلۡكُۚ وَٱلَّذِینَ تَدۡعُونَ مِن دُونِهِۦ مَا یَمۡلِكُونَ مِن قِطۡمِیرٍ (13)
তিনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান আর তিনিই সূর্য ও চাঁদকে বশীভূত করে দিয়েছেন; প্রত্যেকে পরিভ্রমণ করছে একটি নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত।
তিনি আল্লাহ, তোমাদের রব; সমস্ত কর্তৃত্ব তাঁরই, আর আল্লাহকে ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাকো তারা খেজুরের আঁটির আবরণেরও মালিক নয়।
এই আয়াতে গুনাবলির সাথে সাথে দাওয়াতকে উপস্থাপন করা হয়েছে। আল্লাহর বিশাল শক্তির মোকাবেলায় মুশরিকদের গ্রহণ করা উপাস্যদের দুর্বলতা কে উপস্থাপন করা হয়েছে।
إِن تَدۡعُوهُمۡ لَا یَسۡمَعُوا۟ دُعَاۤءَكُمۡ وَلَوۡ سَمِعُوا۟ مَا ٱسۡتَجَابُوا۟ لَكُمۡۖ وَیَوۡمَ ٱلۡقِیَـٰمَةِ یَكۡفُرُونَ بِشِرۡكِكُمۡۚ وَلَا یُنَبِّئُكَ مِثۡلُ خَبِیرࣲ (14)
যদি তোমরা তাদেরকে ডাক, তারা তোমাদের ডাক শুনবে না; আর শুনতে পেলেও তোমাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং কিয়ামতের দিন তারা তোমাদের শরীক করাকে অস্বীকার করবে। আর সর্বজ্ঞ আল্লাহর ন্যায় কেউ তোমাকে অবহিত করবে না।
এই আয়াতে মুশরিকদের উপাস্যদের দুর্বলতা কে তুলে ধরা হয়েছে।
এলাহের পরিচয় ও গুণাবলী
সূরা গাফির আয়াত ৬১-৬৫
************************
সূরা গাফেরের মাঝে এ বিষয়ে আলোচনায় এসেছে।
{ ٱللَّهُ ٱلَّذِی جَعَلَ لَكُمُ ٱلَّیۡلَ لِتَسۡكُنُوا۟ فِیهِ وَٱلنَّهَارَ مُبۡصِرًاۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَذُو فَضۡلٍ عَلَى ٱلنَّاسِ وَلَـٰكِنَّ أَكۡثَرَ ٱلنَّاسِ لَا یَشۡكُرُونَ (61)
আল্লাহ, যিনি তোমাদের জন্য রাত বানিয়েছেন যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম করতে পার এবং দিনকে করেছেন আলোকোজ্জ্বল। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।
ذَ ٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمۡ خَـٰلِقُ كُلِّ شَیۡءࣲ لَّاۤ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَۖ فَأَنَّىٰ تُؤۡفَكُونَ (62)
তিনি আল্লাহ, তোমাদের রব; সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। সুতরাং তোমাদেরকে কোথায় ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে?
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই। এটাই কুরআনে কারিমের দাওয়াত।
ٱللَّهُ ٱلَّذِی جَعَلَ لَكُمُ ٱلۡأَرۡضَ قَرَارࣰا وَٱلسَّمَاۤءَ بِنَاۤءࣰ وَصَوَّرَكُمۡ فَأَحۡسَنَ صُوَرَكُمۡ وَرَزَقَكُم مِّنَ ٱلطَّیِّبَـٰتِۚ ذَ ٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمۡۖ فَتَبَارَكَ ٱللَّهُ رَبُّ ٱلۡعَـٰلَمِینَ (64)
আল্লাহ, যিনি তোমাদের জন্য যমীনকে স্থিতিশীল করেছেন এবং আসমানকে করেছেন ছাদ। আর তিনি তোমাদেরকে আকৃতি দিয়েছেন, অতঃপর তোমাদের আকৃতিকে সুন্দর করেছেন এবং তিনি পবিত্র বস্তু থেকে তোমাদেরকে রিয্ক দান করেছেন। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব। সুতরাং সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ কত বরকতময়;
নেই কোন ইলাহ আল্লাহ ছাড়া। কোরআনে কারীম দাওয়াতই পেশ করেছে বারবার।
এলাহের পরিচয় ও গুণাবলী
সূরা শুরা আয়াত ৯-১২
************************
সূরা শুরার মাঝে এ বিষয়ে আলোচনা এসেছে
{ أَمِ ٱتَّخَذُوا۟ مِن دُونِهِۦۤ أَوۡلِیَاۤءَۖ فَٱللَّهُ هُوَ ٱلۡوَلِیُّ وَهُوَ یُحۡیِ ٱلۡمَوۡتَىٰ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَیۡءࣲ قَدِیرࣱ (9)
তারা কি আল্লাহর পরিবর্তে অপরকে অভিভাবক রূপে গ্রহণ করেছে? কিন্তু আল্লাহ! অভিভাবকতো তিনিই এবং তিনি মৃতকে জীবিত করেন। তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
কিভাবে তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যকে অভিভাবক গ্রহণ করে। অথচ আল্লাই হলেন প্রকৃত অভিভাবক। তারা কত বোকা। কঠিন নির্বুদ্ধিতার উপর তাদের জীবন প্রতিষ্ঠিত।
وَمَا ٱخۡتَلَفۡتُمۡ فِیهِ مِن شَیۡءࣲ فَحُكۡمُهُۥۤ إِلَى ٱللَّهِۚ ذَ ٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبِّی عَلَیۡهِ تَوَكَّلۡتُ وَإِلَیۡهِ أُنِیبُ (10)
তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ কর না কেন, ওর মীমাংসাতো আল্লাহরই নিকট। বলঃ তিনিই আল্লাহ! আমার রাব্ব। আমি নির্ভর করি তাঁর উপর এবং আমি তাঁরই অভিমুখী!
فَاطِرُ ٱلسَّمَـٰوَ ٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ جَعَلَ لَكُم مِّنۡ أَنفُسِكُمۡ أَزۡوَ ٰجࣰا وَمِنَ ٱلۡأَنۡعَـٰمِ أَزۡوَ ٰجࣰا یَذۡرَؤُكُمۡ فِیهِۚ لَیۡسَ كَمِثۡلِهِۦ شَیۡءࣱۖ وَهُوَ ٱلسَّمِیعُ ٱلۡبَصِیرُ (11)
তিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, তিনি তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং আন‘আমের জোড়া; এভাবে তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন; কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
لَهُۥ مَقَالِیدُ ٱلسَّمَـٰوَ ٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ یَبۡسُطُ ٱلرِّزۡقَ لِمَن یَشَاۤءُ وَیَقۡدِرُۚ إِنَّهُۥ بِكُلِّ شَیۡءٍ عَلِیمࣱ (12) }
[Surah Ash-Shūrā: 9-12]
আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর চাবি তাঁরই নিকট। তিনি যার প্রতি ইচ্ছা তার রিয্ক বর্ধিত করেন অথবা সংকুচিত করেন। তিনি সর্ব বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।
এই সমস্ত আয়াতগুলোতে ইলাহের গুণাবলী তুলে ধরা হয়েছে। মানুষ যার কাছে প্রার্থনা করবে , মানুষ যার কাছে কল্যাণ কামনা করবে, মানুষ যার উপাসনা করবে তাকে কি গুণাবলীর অধিকারী হতে হবে।
কোরআনে কারীমের দাওয়াত সুস্পষ্ট। তোমরা একমাত্র আল্লাহকেই ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করো। একমাত্র আল্লাহর উপাসনা কর। একমাত্র আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করো। কোরআনে কারিম তার প্রত্যেকটি সূরার মাধ্যমে এই দাওয়াতই উপস্থাপন করেছে।
কুরআন অসংখ্য যুক্তি প্রমাণ দ্বারা স্পষ্ট করেছে এই পথই আলোকিত পথ মুক্তির পথ মানুষের কামিয়াবির পথ। আর এর বিপরীত পথ শুধুই অন্ধকার আর অজানার পথ। অসংখ্য মানুষ এর বিপরীত পথে চলেছে এবং তারা ক্ষতিগ্রস্ত করে হয়েছে।
আসুন আল্লার সাথে ভালোবাসা করে তুলি। বিপদে-আপদে আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করি। একমাত্র আল্লাহর হুকুমেই জীবন গড়ি। তার আদেশ নিষেধ হালাল-হারাম মেনে চলি।
ছোট এক সন্তানকে তার মা যখন শাসন করে সে কান্না করে তার মাকেই জড়িয়ে ধরে। অন্যরা তাকে যতই আদর সোহাগ দিক তাকে কোলে নেওয়ার চেষ্টা করুক এ কোথাও যায় না। কারন সে জানে তার মাই তার সবচেয়ে আপন।
একজন মুমিন ব্যক্তি সবচাইতে বেশি ভালোবাসা আল্লাহকে। কারন সে জানে সর্বাবস্থায় আল্লাহই তার প্রকৃত অভিভাবক। সে বিপদে আপদে সুখে স্বাচ্ছন্দে আল্লাহকে আঁকড়ে ধরে থাকে। এবং এই পথে চলে সে সফল হয়।
এই পথে মুক্তি এই পথে কামিয়াবী। আসুন কোরআনে কারীম কে বোঝার চেষ্টা করি। কোরআনের আলোচনায় বসে ঈমানকে বৃদ্ধি করি। আমরা আল্লাহর রজ্জুকে মজবুতভাবে আকড়ে ধরি।