ইতিমধ্যে ২০২৫ হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। হজের নিবন্ধন চলছে। সরকারিভাবে দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা দ্রুত সময়ের মাঝে বেসরকারি প্যাকেজ গুলো জানতে পারবো। বেসরকারি প্যাকেজে আরো কিছু ভিন্নতা থাকবে। আমাদের যাদের উপর হজ ফরজ আমাদের উচিত এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
ইসলামে হজের গুরুত্ব
যাদের উপর হজ ফরজ
*******************
ইসলামের মূল স্তম্ভসমূহের পঞ্চমটি হল হজ্বে বায়তুল্লাহ। ঈমান, নামায, যাকাত ও রোযার পরই হজ্বের অবস্থান। হজ্ব শারীরিক ও আর্থিক উভয়ের সমন্বিত একটি ইবাদত। তাই উভয় দিক থেকে সামর্থ্যবান মুসলিমের উপর হজ্ব পালন করা ফরয। অর্থাৎ হজ্ব আদায়ে সক্ষম এমন শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচাপাতি ও আসবাবপত্রের অতিরিক্ত হজ্বে যাওয়া-আসার ব্যয় এবং হজ্ব আদায়কালীন সাংসারিক ব্যয় নির্বাহে সক্ষম এমন সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর হজ্ব আদায় করা ফরয।
হজ্বের প্রতিদান হল জান্নাত
************************
আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
العمرة إلى العمرة كفارة لما بينهما، والحج المبرور ليس له جزاء إلا الجنة.
এক উমরা আরেক উমরা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহর ক্ষতিপূরণ হয়ে যায়। আর হজ্বে মাবরূরের প্রতিদান তো জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
تابعوا بين الحج والعمرة، فإنهما ينفيان الفقر والذنوب كما ينفي الكير خيث الحديد، والذهب والفضة، وليس للحجة المبرورة ثواب إلا الجنة.
তোমরা হজ্ব ও উমরা পরপর একত্রে পালন কর। কেননা এ দুটি (হজ্ব ও উমরাহ) দারিদ্র ও গুনাহসমূহ এমনভাবে দূর করে দেয় যেমন কামারের হাপর লোহা ও সোনা-রূপার ময়লা দূর করে দেয়। আর হজ্বে মাবরূরের বিনিময় জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।
জাবির রা. হতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
الحج المبرور ليس له جزاء إلا الجنة، قيل : وما بره؟ قال : إطعام الطعام وطيب الكلام.
হজ্বে মাবরূরের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়। জিজ্ঞাসা করা হল, হজ্বের সদাচার কী? তিনি বললেন, খানা খাওয়ানো এবং উত্তম কথা বলা (অর্থাৎ অনর্থক ও অশ্লীল কথাবার্তা পরিত্যাগ করা)।
অন্য বর্ণনায় রয়েছে, খানা খাওয়ানো ও বেশি বেশি সালাম করা (সালামের বিস্তার ঘটানো)।
হজ্ব পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মুছে দেয়
******************************
আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
من حج فلم يرفث ولم يفسق غفر له ما تقدم من ذنبه.
যে ব্যক্তি হজ্ব করে আর তাতে কোনোরূপ অশ্লীল ও অন্যায় আচরণ করে না তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
অন্য বর্ণনায় রয়েছে
من حج لله فلم يرفث ولم يفسق رجع كيوم ولدته أمه.
আবু হুরায়রা রা. বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্ব করল এবং অশ্লীল কথাবার্তা ও গুনাহ থেকে বিরত থাকল সে ঐ দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে হজ্ব থেকে ফিরে আসবে যেদিন মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ট হয়েছিল।
অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে-
من حج البيت فقضى مناسكه وسلم المسلمون من لسانه ويده غفر له ما تقدم من ذنبه.
আতা ইবনে ইয়াসার রাহ. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর হজ্ব করে, হজ্বের বিধানগুলো যথাযথভাবে আদায় করে, মুসলমানরা তার মুখ ও হাত থেকে নিরাপদ থাকে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
আমর ইবনুল আস রা. বর্ণনা করেন, (দীর্ঘ এক হাদীসে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-
أما علمت يا عمرو! أن الإسلام يهدم ما كان قبله، وأن الهجرة تهدم ما كان قبلها، وأن الحج يهدم ما كان قبله.
হে আমর! তুমি কি জান না যে, ইসলাম (গ্রহণ) পূর্বেকার যাবতীয় পাপকে মুছে ফেলে। হিজরত তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহকে মিটিয়ে দেয় এবং হজ্ব অতীতের পাপসমূহ মুছে দেয়।
কোরআন ও হাদিসের আলোচনার দ্বারা এ বিষয়টি স্পষ্ট হজের ইবাদত আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে আমাদের উপর অনেক বড় অনুগ্রহ। আমাদের গুনাহগুলো থেকে মুক্ত হওয়ার অনেক বড় সুযোগ।
আমরা এটা দেখব না যে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে অনেক কষ্ট হচ্ছে। বরং আমরা দেখব আমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা হয়ে যাচ্ছে। এ সামান্য টাকা আর কষ্টে গুনাহ থেকে মুক্ত হওয়া এটা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে অনেক বড় নেয়ামত। আমাদের আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে কৃতজ্ঞতা আদায় করা চাই।
পবিত্র হজ্জ পালনের জন্য আমাদের সুযোগ হয় সেই পবিত্র ভূমিতে অবস্থান করার যে ভূমিকা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বরকত পূর্ণ করেছেন। সর্বকালের সেরা মানুষগুলো এ ভূমিতে আল্লাহর প্রতি তাদের ভালোবাসা বিলিয়েছেন। প্রতি যুগের শ্রেষ্ঠ মানুষদেরকে আল্লাহ সে জমিনে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এবং সে ভূমিতে অবস্থান করার বিনিময়ে আল্লাহ তাদের গুনাহ থেকে মুক্ত করেছেন। এটা জীবনের এক শ্রেষ্ঠতম মুহূর্ত
دولت نہ کوئی جاہ و حشم مانگ رہا ہوں
میں سایہ دیوار حرم مانگ رہا ہوں
আমি তো আল্লাহর কাছে কোন পদ কোন সম্পদ প্রার্থনা করি না। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি আল্লাহর প্রিয় ঘরের ছায়া। আমাকে যেন সেই ছায়ার মাঝে কবুল করা হয়।
ساحل سے لگا دے میرے عشقوں کا سفینہ
انکھوں سے دیکھا دے مجھے مکہ و مدینہ
আমার ভালবাসার নৌকাকে তীর পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া হোক।
আমার এ দৃষ্টিতে মক্কা ও মদিনা দেখার তৌফিক দান করে দাও।
হজ জীবনে একবারই ফরজ হয়
****************************
হজ্ব প্রত্যেক মুসলমানের উপর সারা জীবনে একবারই ফরয হয়। একবার ফরয হজ্ব আদায়ের পর পরবর্তী হজ্বগুলো নফল হিসেবে গণ্য হবে। এ সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন-
يا أيها الناس! إن الله كتب عليكم الحج، فحجوا، فقال رجل : أكل عام يا رسول الله؟ فكست حتى قالها ثلاثا، ثم قال : لو قلت نعم لوجبت ولما استطعتم.
হে মানবসকল! আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর হজ্ব ফরয করেছেন। সুতরাং তোমরা হজ্ব করো। এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! প্রতি বছর কি হজ্ব করতে হবে? তিনি চুপ রইলেন এবং লোকটি এভাবে তিনবার জিজ্ঞেস করল। অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি যদি হ্যাঁ বলতাম, তাহলে তা (প্রতি বছর হজ্ব করা) ফরয হয়ে যেতো, কিন্তু তোমাদের পক্ষে তা করা সম্ভব হতো না।
ফরজ হজ দ্রুত আদায় করুন
**************************
হজ্ব যেহেতু একবারই ফরয তাই যার উপর হজ্ব ফরয হয়েছে সে যদি মৃত্যুর আগে যে কোনো বছর হজ্ব আদায় করে, তবে তার ফরয আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু উচিত হলো হজ্ব ফরয হওয়ার সাথে সাথে আদায় করা। বিনা ওজরে বিলম্ব না করা। কারণ বিনা ওজরে বিলম্ব করাও গুনাহ।
আল্লাহ তাআলা ও তার রাসূল ফরয হজ্ব আদায়ের প্রতি এমনভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন যে, কেউ যদি এই হজ্বকে অস্বীকার করে বা এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা প্রদর্শন করে তবে সে আল্লাহর জিম্মা থেকে মুক্ত ও হতভাগ্যরূপে বিবেচিত হবে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
ولله على الناس حج البيت من استطاع اليه سبيلا، ومن كفر فان الله غنى عن العلمين.
(তরজমা) মানুষের মধ্যে যারা সেখানে (বায়তুল্লাহ) পৌঁছার সামর্থ্য রাখে তাদের উপর আল্লাহর উদ্দেশ্যে এ গৃহের হজ্ব করা ফরয। আর কেউ যদি অস্বীকার করে তাহলে তোমাদের জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতের প্রতি মুখাপেক্ষী নন।-সূরা আলে ইমরান (৩) : ৯৭
তাছাড়া যে কোনো ধরনের বিপদ-আপদ, অসুখ-বিসুখের সম্মুখীন হওয়া বা মৃত্যুর ডাক এসে যাওয়া তো অস্বাভাবিক নয়। তাই হজ্ব ফরয হওয়ার পর বিলম্ব করলে পরে সামর্থ্য হারিয়ে ফেললে বা মৃত্যুবরণ করলে আল্লাহ তাআলার নিকট অপরাধী হিসেবেই তাকে হাজির হতে হবে। এজন্যই হাদীস শরীফে হজ্ব ফরয হওয়ামাত্র আদায় করার তাগিদ ও হুকুম দেওয়া হয়েছে।
ইবনে আববাস রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
من أراد الحج فليتعجل، فإنه قد يمرض المريض وتضل الضالة وتعرض الحاجة.
যে ব্যক্তি হজ্ব করার ইচ্ছে করে, সে যেন তাড়াতাড়ি তা আদায় করে নেয়। কারণ যে কোনো সময় সে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে বা বাহনের ব্যবস্থাও না থাকতে পারে অথবা অন্য কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।
অন্য বর্ণনায় ইরশাদ হয়েছে, ইবনে আববাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
تعجلوا إلى الحج، يعني الفريضة، فإن أحدكم لا يدري ما يعرض له.
ফরয হজ্ব আদায়ে তোমরা বিলম্ব করো না। কারণ তোমাদের কারো জানা নেই তোমাদের পরবর্তী জীবনে কী ঘটবে।
উপরন্তু একটি হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তাআলা যে স্বচ্ছল সামর্থ্যবান ব্যক্তি সত্ত্বর হজ্ব আদায় করে না তাকে হতভাগা ও বঞ্চিত আখ্যায়িত করেছেন।
আবু সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
يقول الله عز وجل : إن عبدا صححت له جسمه، ووسعت عليه في المعيشة تمضي عليه خمسة أعوام لا يفد إلى لمحروم.
আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আমার বান্দার শরীরকে সুস্থ রাখলাম, তার রিযিক ও আয়-উপার্জনে প্রশস্ততা দান করলাম। পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও যদি সে আমার গৃহের হজ্বের উদ্দেশ্যে আগমন না করে তবে সে হতভাগ্য, বঞ্চিত।
এই সমস্ত হাদিসের বর্ণনা দ্রুত সময়ে হজ করার প্রতি উৎসাহিত করে। হজ ফরজ হয়ে যাওয়ার পর বিলম্বিত করা উচিত না।
২০২৫ হজ প্যাকেজ
আমাদের পর্যালোচনা
********************
রাষ্ট্রীয়ভাবে দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। বিগত বছর থেকে হজের খরচ প্রায় লক্ষাধিক টাকা কমানো হয়েছে। এর মাঝে বিমান ভাড়া কমানো হয়েছে ৩০ হাজার টাকা।
২০২৫ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। একটি প্যাকেজে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজে (মসজিদুল হারামের আশপাশের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে বাড়ি ) ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা। অপর প্যাকেজে (মসজিদুল হারামের আশপাশের দেড় কিলোমিটারের মধ্যে বাড়ি) ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০ টাকা। আর বেসরকারিভাবে সাধারণ প্যাকেজে ৪ লাখ ৮৩ হাজার ১৫৬ টাকা।
সাধারণ প্যাকেজে বাসা থাকবে দূরে। তবে বাসার ব্যবস্থাপনা হবে ভালো। আবার খরচ হবে কম। আসা-যাওয়ার জন্য পরিবহনের ব্যবস্থাপনা থাকবে। প্যাকেজ গুলো নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। আমি মনে করি এখানে সমালোচনার তেমন কিছু নেই।
বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের হাজিরা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী প্যাকেজ বেছে নিবে। এজেন্সি গুলো যদি কথা ঠিক রাখে এবং সঠিক কথা বলে হাজীদেরকে নিয়ে যায় সমস্যা হবে না।
হজে স্থায়ী বাড়িতে স্বাভাবিক প্যাকেজে আমাদের দেশ থেকে এজেন্সি গুলো যে সমস্ত বাড়িতে রাখে তা সাধারণত দূরে হয়। দূরের বাসা থেকে মসজিদে হারামে এসে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া এমনিতেই কঠিন ছিল। হাজিরা সর্বোচ্চ তিন ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে হারামে এসে পড়তে পারে। পায়ে হেঁটে আসতে কষ্ট হয়।
এবারের প্যাকেজে বাড়ি দূরে। হোটেল থেকে যদি গাড়ির ব্যবস্থাপনা হয়। তাহলে পায়ে হেটে আসতে হবে না। গাড়ি সরাসরি মসজিদে হারামের নিচে এসে নামিয়ে দিবে। এটা পায়ে হাঁটা থেকে অপেক্ষাকৃত সহজ। আর মুল হজের সময় যখন খুব ভিড় হয় মসজিদে হারামের আশেপাশে প্রচুর জ্যাম হয়। হজে আগের সপ্তাহ এবং হজের পরের সপ্তাহ এ সময়টা দূরের হাজিরা আশেপাশের মসজিদে নামাজ পড়বে। মসজিদে হারামে আসার তাদের দ্বারা সম্ভব হবে না। এই সময়টা অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে এমনিতেই মসজিদে হারামে প্রবেশ করা খুবই কঠিন।
আর আমাদের বাংলাদেশে হাজিরা যারা আর্থিকভাবে সমর্থ্যবান তারা বেশি টাকার প্যাকেজে মসজিদ হারামের কাছাকাছি দিতে পালন করবে। সেই সুযোগটা তো অবশ্যই থাকছে। সামর্থ্য অনুপাতে হজের সফরে আমরা যতটা ব্যয় করব ততই ছওয়াবের অধিকারী হবো।
হজ্ব ও উমরার জন্য খরচ করার ফযীলত
**********************************
আয়েশা রা. হতে বর্ণিত-
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لها في عمرتها : إن لك من الأجر على قدر نصبك ونفقتك.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরা করার সময় তাকে তার উমরা সম্পর্কে বলেছেন, তুমি তোমার পরিশ্রম ও খরচ অনুপাতে নেকি পাবে।
আয়েশা রা. হতে অন্য বর্ণনায় আছে রয়েছে তুমি তোমার উমরার সওয়াব তোমার খরচ অনুপাতে পাবে।
বুরাইদা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
النفقة في الحج كالنفقة في سبيل الله بسبع مائة ضعف.
হজ্বের জন্য খরচ করা, আল্লাহর রাস্তায় খরচ করার মতই, যার সওয়াব সাতশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
অন্য বর্ণনায় রয়েছে, আনাস রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাললাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
الحج سبيل الله، النفقة فيه الدرهم بسبع مائة.
হজ্ব হল আল্লাহর রাস্তা। তাতে (আল্লাহর রাস্তায়) এক দিরহাম খরচের সওয়াব সাতশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
ফরজ হজ দ্রুত আদায় করুন
**************************
স্বাভাবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিবছর খরচ বাড়ার কথা। কিন্তু এবছর খরচ কি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামীতে খরচ বাড়বে। কমবে না। এই মুহূর্তে আমরা যারা সামর্থ্যবান যাদের উপর হজ ফরয তাদের উচিত এখন নিয়ত করে ফেলা।
জানা নেই আগামী বছর আমার অবস্থা কেমন থাকবে। আর পৃথিবীর অবস্থা কেমন থাকবে। হতে পারে আমি দুর্বল হয়ে যাব। অথবা পৃথিবীর প্রেক্ষাপট কঠিন হয়ে যাবে। এ সকল অবস্থা সামনে রেখে হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ খরচ এবাদত বিরম্ভ করা উচিত না।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের দ্রুত হজ্জে মাকবুল নসিব করুন। বাইতুল্লার জিয়ারাহ মসজিদে নববীর যিয়ারাহ নসিব করুন।