জুলাই বিপ্লব- ঈমানের পরীক্ষা- বিজয় কোন পথে

চলমান ছাত্র-জনতার সফল আন্দোলনে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের পতন আমাদের জন্য কি চূড়ান্ত বিজয়। আমাদের ইসলামী অঙ্গনের অনেকের আচরণে এমনটাই মনে হচ্ছে। আমরা নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি এবং বাস্তবায়ন করছি। আমরা ভাবছি না এর পরবর্তী ফলাফল কি?

আজকের আলোচনায় আমরা কুরআনের আলোকে বর্তমান সময়ে নিয়ে একটি পর্যালোচনা পেশ করব। এবং এই সময়ের করণীয় এবং আমাদের সম্ভাবনাকে তুলে ধরবো।

আমরা দেখতে পাই কুরআনের আলোকে বর্তমান সময় মুমিনদের জন্য বিজয় নয় বরং অনেক বড় এক পরীক্ষা সামনে নিয়ে এসেছে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে কারিমে স্পষ্ট করেছেন তিনি তার প্রিয় বান্দাদের নানাভাবে পরীক্ষা নেন। এ পৃথিবীটা হলো এক পরীক্ষাস্থল।

{ أَحَسِبَ ٱلنَّاسُ أَن یُتۡرَكُوۤا۟ أَن یَقُولُوۤا۟ ءَامَنَّا وَهُمۡ لَا یُفۡتَنُونَ (2) وَلَقَدۡ فَتَنَّا ٱلَّذِینَ مِن قَبۡلِهِمۡۖ فَلَیَعۡلَمَنَّ ٱللَّهُ ٱلَّذِینَ صَدَقُوا۟ وَلَیَعۡلَمَنَّ ٱلۡكَـٰذِبِینَ (3) }

[Surah Al-ʿAnkabūt: 2-3]

আল্লাহ মানুষের জীবনে সফলতা রেখেছেন ব্যর্থতা রেখেছেন। মানুষের জন্য রয়েছে জান্নাতে জাহান্নাম। কর্মের মাধ্যমেই এ বিষয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে কে জান্নাতি আর কে জাহান্নামী। কাজেই আমাদের কর্ম আমাদের সম্বল। ভালো কর্ম আমাদের জান্নাতে নিয়ে যাবে। আর মন্দ কর্ম আমাদেরকে জাহান্নামের অধিকারী করবে।

সুরা মুলক আয়াত ২

আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের এরশাদ করেন

ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلْمَوْتَ وَٱلْحَيَوٰةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًۭا ۚ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْغَفُورُ

অর্থ: “তিনিই সেই (আল্লাহ) যিনি মউত ও হায়াতকে সৃষ্টি করেছেন এ জন্য যে, তিনি পরীক্ষা করবেন তোমাদের মধ্যে কর্মে কে উত্তম? তিনি পরাক্রমশালী ও ক্ষমাশীল।”

মানুষের জীবনে আল্লাহর পরীক্ষা

**************************

মানুষের জীবনে এ কর্মের পরীক্ষাটি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নানাভাবে নিয়ে থাকেন। কখনো বিপদ-আপদ, ক্ষয়-ক্ষতি, জেল-জুলুম ও পরাধীনতা দিয়ে তিনি পরীক্ষা নেন। আবার কখনো তিনি পরীক্ষা নেন বিপদমুক্ত এক স্বচ্ছল, নিরাপদ ও স্বাধীন জীবন দিয়ে। কখনো পরীক্ষাটি তিনি নেন জালিম শাসককে মাথার উপর চাপিয়ে দিয়ে।‌‌ কখনো তিনি পরীক্ষা নেন জালিম শাসকের পতনের মাধ্যমে।

ফেরাউন ছিল বনি ইসরাইলের জন্য পরীক্ষা

*********************************

কুরআনের আলোচিত গোত্র বনি ইসরাইলীদের উপর একসময় চাপানো হয়েছিল ফেরাউনের মতো অত্যাচারী শাসককে। এটা ছিল এক কঠিন পরীক্ষা।

জালেম শাসকের কাছে আত্মসমর্পণ করা রাব্বুল আলামিনের পরীক্ষায় ফেল করা। আর জালিমের মোকাবেলায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। ইসলাম কোন জালিমের কাছে নতজানুনীতি অবলম্বনের সুযোগ রাখেনি।

বনি ইসরাইলের উপর চাপিয়ে দেওয়া হল ফেরাউনকে। ফিরাউনের আমলে মিশরে হাজার হাজার বনি ইসরাইলীদের বসবাস ছিল। বনি ইসরাইলীগণ ফিরাউনী রাষ্ট্রে ফেরাউনের প্রভাবের সামনে আত্মসমর্পণ করেছিল। ফলে রাব্বুল আলামিনের নেয়া পরীক্ষায় তারা ফেল করেছিল।

এর ফলাফল দুনিয়াতেই তারা পেয়েছিল। তাদের জীবন ছিল লাঞ্ছনার। ফেরাউন তাদের পুত্র সন্তানদের নির্বিচারে হ্ত্যা করছিল এবং মেয়েদের জীবিত রাখছিল।

বনি ইসরাইলের আল্লাহর সাথে আচরণ

********************************

এক সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের হুকুমে ফেরাউনের পতন হলো। ফেরাউন পতনের পর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বনী ইসরাইলীদের পরীক্ষা নিলেন ভিন্ন ভাবে। কিন্তু সে পরীক্ষাতেও তারা চরম ভাবে ফেল করল। ফেরাউন বনি ইসরাইল নির্মূলে নেমেছিল। তাদের বাঁচাতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সমুদ্রকে দুই ভাগ করে মাঝখান দিয়ে রাস্তা করে দিয়েছেন। তারা পায়ে হেঁটে সমুদ্র অতিক্রম করেছে।

অপরদিকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ফিরাউন ও তার বাহিনীকে সে সাগরে ডুবিয়ে হত্যা করেছেন। ফেরাউনের পতনের মাধ্যমে বনী ইসরাইল দীর্ঘদিনের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়েছিল। এটা ছিল রাব্বুল আলামিনের অনেক বড় নেয়ামত।

মিসর থেকে হিজরত করে বনি ইসরাইল জনমানবশূণ্য সিনাই মরুভূমিতে পৌঁছল। মরুভূমিতে কোন খাদ্য-পানীয় ছিল না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বনী ইসরাইলীদের বাঁচিয়ে রাখতে আসমান থেকে মান্না ও সালওয়া পাঠিয়েছেন। তাদের পানির প্রয়োজন মেটাতে পাথরের বুক চিরে ঠান্ডা পানির ঝরণা প্রবাহিত করেছেন।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের এতসব নেয়ামত মূলত ছিল এক কঠিন পরীক্ষা। বনি ইসরাইল অকৃতজ্ঞতা দ্বারা আল্লাহকে ক্ষতিগ্রস্ত করেনি। বরং তারা নিজেদেরকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আল্লাহর নেয়া পরীক্ষায় ফেল করেছে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে কারিমে বনি ইসরাইলের অকৃতজ্ঞতার ইতিহাস আলোচনা করেছেন। তাদের অকৃতজ্ঞতার নমুনা হলো, হযরত মুসা (আ:) অনুপস্থিতিতে গরুর মুর্তি বানিয়ে সেটির পূজা শুরু করেছিল।

ফেরাউনের পতনের পর বনী ইসরাইলের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে ধর্মগ্রন্থ তাওরাত দেয়া হয়েছিল।‌ তাওরাতে ছিল আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের শরীয়তী আইন। যা বাস্তবায়ন করা তাদের উপর ফরজ ছিল।

শরিয়তী আইন কখনোই শুধু তেলাওয়াতের জন্য দেয়া হয়না বরং এ ব্যাপারে নীতিমালা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তার রাসূল শরীয়তের যে নীতিমালা নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করেছে মুমিনের উচিত মানব রচিত সমস্ত তন্ত্র মন্ত্রের মোকাবেলায় শরয়ী নেজামকে গ্রহণ করা।

ফেরাউন পতনের পর আল্লাহর পক্ষ থেকে বনী ইসরাইলীদেরকে হুকুম দেয়া হয়েছিল কেনানে তথা আজকের ফিলিস্তিনকে জিহাদের মাধ্যমে বিজয় করে ইসলামী রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠার কিন্তু সে হুকুম তারা মানেনি। তারা বিদ্রোহ করেছিল। তারা সে যুদ্ধে রাজী হয়নি।

আল্লাহর নবীর সাথে তাদের আচরণ ছিল ভয়াবহ। তারা হযরত মুসা (আ:)কে বলেছিল, “তুমি এবং তোমার আল্লাহ গিয়ে যুদ্ধ করো, আমরা এখানে বসে থাকলাম।

বনি ইসরাইলের অবাধ্যতার কারণে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ফিলিস্তিনকে মুক্ত করতে পারেননি। তার জীবদ্দশায় শরয়ী নেজাম প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে সুনিশ্চিত বিজয়ের ওয়াদা সত্ত্বেও বনি ইসরাইল অগ্রসর হয়নি। এর পরিণতিতে তাদের উপর আল্লাহর আযাব নেমে এসেছিল।

ফেরাউন পতনের পর আল্লাহ তাদের বনি ইসরাইল থেকে যে পরীক্ষা নিলেন সে পরীক্ষায় শোচনীয় ভাবে তারা ফেল করেছিল। এর ফলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ৪০ বছরের জন্য তাদের ফিলিস্তিনে প্রবেশ হারাম করে দিয়েছিলেন। ইজ্জত হীন নিরাপত্তাহীন স্বাধীনতাহীন জীবনে আবার তাদেরকে ফিরে যেতে হয়েছিল। সেই ইতিহাসের আলোচনা এসেছে কুরআনে।

বনি ইসরাইলের ইতিহাস আমাদের জন্য শিক্ষা

*************************************

বনী ইসরাইলীরা হলো ইসলামী ইতিহাসের নিন্দিত বিকৃত ব্যর্থ সম্প্রদায়। আল্লাহ কোরআনে তাদের আলোচনা করেছেন বিস্তারিতভাবে। তাদের ব্যর্থতা থেকে আমরা যেন শিক্ষা গ্রহণ করি। আমরা যেন তাদের পথের পথিক না হই।

দীর্ঘ 16 বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন আমাদের এদেশের অধিবাসী মুসলমানদের জন্য এক বড় ধরনের পরীক্ষা ছিল। আমাদের ইতিহাস আমাদের সামনে। এ পরীক্ষায় আমরা উত্তীর্ণ না ব্যর্থ এটা অবশ্য আমাদের কাছে পরিষ্কার।

ইসলাম বিধ্বংসী ফ্যাসিবাদের বিভিন্ন পদক্ষেপের মোকাবেলায় আলেম সমাজের একটি অংশ জীবন বাজি রেখে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। জেল জুলুম অত্যাচার তাদের ওপর নেমে এসেছিল। ‌ আলিম সমাজ ও মুসলিম জনসাধারণের এই অংশ কূরআনের দৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত নয় বরং তারাই বিজয়ী, সফল, পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ।

ফ্যাসিবাদী এ শাসন ব্যবস্থার মোকাবেলায় মুসলিম জনসাধারণের একটি অংশ নীরবতা পালন করেছে এবং নিষ্ক্রিয় থেকেছে। তারা সত্যের পক্ষে শক্তির মোকাবেলাকে বোকামি মনে করেছে। নিজেদেরকে তারা চতুর চালাক মনে করলেও কুরআনের দৃষ্টিতে এরা ক্ষতিগ্রস্ত।

চরম ইসলাম বিদ্বেষী আওয়ামী জালিম শাসকের পতন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের এক শ্রেষ্ঠতম উপহার। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে জালিমের এই বিস্ময়কর পতন আমাদের ধারণার বাইরে ছিল। লড়াই ছাড়া বিজয় আসেনা। বিজয়ের জন্য লড়তে হয়। ছাত্র জনতার লড়াইয়ের পর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বিজয় দান করেছেন।

সুরা আনফালের ১০ নম্বর আয়াত

আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের এরশাদ করেন-

وَمَا ٱلنَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِندِ ٱللَّهِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

অর্থ: “এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত বিজয় ছাড়া আর কোন বিজয় নাই; নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।”

ঈমানদারের কাজ হলো, মহান আল্লাহতায়ালার এ বিশাল নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা। শুকরিয়া আদায় এর মাধ্যমে আমরা আরো অনেক বেশি নেয়ামতের উপযুক্ত হব।

সুরা ইব্রাহীম আয়াত ৭

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের এরশাদ করেন

وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِن شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ ۖ وَلَئِن كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِى لَشَدِيدٌۭ

অর্থ: “এবং এটিই তোমাদের রবের ঘোষণা, যদি তোমরা তোমাদের রবের (দেয়া বিজয় বা রহমতের) শুকরিয়া আদায় করো, তবে তিনি অবশ্যই তা বাড়িয়ে দিবেন। এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে আমার আযাব বড়ই কঠিন।”

আজ বাংলাদেশের মানুষ ফ্যাসিবাদের ভয়াবহ পতনে স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করছে। দীর্ঘ ১৬ বছর এদেশে কথা বলা, লেখালেখি ও মিটিং-মিছিলের স্বাধীনতা ছিল না। এই স্বাধীনতা আমাদের দায়িত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই পরীক্ষায় হেরে গেলে হতে হবে লাঞ্ছিত

*******************************

আমাদের সামনে সুযোগ এসেছে শরীয়ত প্রতিষ্ঠার আওয়াজ তোলার। ইসলামকে এদেশের মানুষের কাছে উপস্থাপন করার। পরীক্ষার প্রথম পর্বের পর পরীক্ষার এ দ্বিতীয় পর্বে আমাদের উত্তীর্ণ হতে হবে। আমরা যদি ফেল করি তাহলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের উপরে হয়তো আবার আরেক জালিম শাসক চাপিয়ে দিবেন। অপদস্ততা লাঞ্ছনা আবারও আমাদের উপর চেপে বসবে।

২০০ বছর ব্রিটিশ দ্বারা আমরা জুলুম নির্যাতন ও শোষণের শিকার হয়েছি। তারা আমাদের গোলাম করে ২০০ বছর শাসন করেছে। আমাদের আইন আদালত সভ্যতা কালচার সব পরিবর্তন করেছে। তারপর ১৯৪৭ শরীয়ত প্রতিষ্ঠার নামে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে একটি পক্ষ দ্বীনের সাথে মুনাফেকি করেছে। এক পর্যায়ে ভেঙ্গে গেল পাকিস্তান।

১৯৭১ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিবেশী হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসী শক্তির সাথে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত মোকাবেলা করতে হচ্ছে। ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসকদের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির সুযোগে পার্শ্ববর্তী দেশ এদেশের উপর হিন্দুত্ববাদ চাপিয়ে দিয়েছিল।

একাত্তর পরবর্তী ৫৪ বছরের এদেশের সেক্যুলার শাসন ব্যবস্থা ও রাজনীতি দ্বীন প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বড় বাঁধা।

২০২৪ পতন হয়েছে হাসিনার। এটা ইসলামপন্থীদের বড় সুযোগ। শরীয়ত প্রতিষ্ঠার আওয়াজ তুলতে হবে। জনগণকে সাথে নিয়ে শরীয়ত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবেশী আগ্রাসী শক্তির ধর্মীয় আগ্রাসন মোকাবেলার। ‌

আমাদেরকে আমাদের অবস্থান থেকে কথা বলতে হবে। এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের কাছে ধর্মীয় অনুশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে। আমরা যদি সঠিকভাবে আমাদের দাওয়া তুলে ধরতে পারি আল্লাহ অবশ্যই বিজয় দিবেন। ইনশাআল্লাহ

Scroll to Top