দীর্ঘদিনের শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন হওয়ার পর আজ প্রথম জুমা। আজ নতুন এক বাংলাদেশের বসে আমাদের উপলব্ধি করতে হবে আমাদের মাঝে যারা ক্ষমতার মসনদে বসেন তারা আমাদের মতই মানুষ। প্রতিটি মানুষ তার যেমন ভুল ত্রুটি মন্দ দিক আছে ঠিক তেমনি ভালো দিকও আছে। জাতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আবার ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে তাদেরকে নিয়ে নানা ধরনের পর্যালোচনা হতে পারে। যারা এতদিন ক্ষমতায় ছিল তাদেরকে নিয়ে আলোচনা সমালোচনা সবকিছুই আছে। তাদের এ দীর্ঘ শাসনামলের যেমন ত্রুটি বিচ্যুতি ছিল তেমন কিছু ভালো দিকও ছিল।
আমাদের উচিত তাদের ব্যাপারে যে কোন মন্তব্য করার ক্ষেত্রে ইনসাফের সাথে কথা বলা। ইসলাম সর্বাবস্থায় আমাদেরকে ইনসাফের আদেশ করে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা যেন কারো প্রতি জুলুম না করি। প্রতিশোধ গ্রহণ না করি।
তবে কেহ অন্যায় অপরাধ করে থাকলে তারা বিচারের সম্মুখীন হবে। আমরা তাদের ব্যাপারে আইন হাতে তুলে নিব না। এটাই ইসলামের শিক্ষা।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষকে ক্ষমতা প্রভাব বিত্ত দান করেন। আবার দারিদ্র্যতা অসচ্ছলতা অসহায়ত্ব আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। দুনিয়ার জীবনে উভয় অবস্থাই মানুষের জীবনের জন্য এক পরীক্ষা।
হক এবং সত্যের উপর থেকেও একজন মানুষ মজলুম হতে পারে। আবার একজন ব্যক্তি অসহায়ত্বের মাঝেও হক হতে পারে। এভাবেই আল্লাহ পরীক্ষা গ্রহণ করেন।
নবীরা সত্যের উপর থেকেও মজলুম হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরাজিত হয়েছেন।
আমাদেরকে দুনিয়ায় কারো জয় পরাজয় প্রভাব-বিত্ত দেখে প্রভাবিত হওয়া যাবে না। আমাদের দেখা চাই কারা সত্যের ওপর আছে সর্বাবস্থায় সবসময় তাদের অনুসরণ করা।
যারা বিপদ দেখে সরে যায় আর প্রভাব দেখে পাশে আসে তারা স্বার্থপর। ইসলামের দৃষ্টিতে তারা মুমিন নয়। ইসলাম এ ধরনের মানুষদেরকে পছন্দ করে না। আমাদের মাঝে অনেকে অবস্থার পরিবর্তনের রং পরিবর্তন করে জামা পরিবর্তন করে সমাজে এমন অনেক মানুষ এখন দেখা যাবে এই মানুষগুলো ভালো মানুষ নয়। এদের ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে।
দেশের এ পরিবর্তন আমাদের অনেকে আনন্দের সাথে উপলব্ধি করছে। এটাকে তারা একটি তামাশা মনে করছে। অথচ এটা আমাদের জন্য একটি বড় ধরনের শিক্ষা।
আজকের রাজত্ব প্রভাব যত শক্তিশালী হোক এটা অস্থায়ী। আমাদেরকে সে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। মজলম অবস্থায় সত্যের ওপর থাকা যতটা সহজ প্রভাব প্রতিপত্তি আর রাজত্ব নিয়ে সত্যের ওপর থাকা ততটাই কঠিন।
আমরা রাজত্ব প্রভাব প্রতিপত্তিকে খুব আনন্দের সাথে উপভোগ করি। অথচ এই অবস্থাটা আমাদের জন্য কঠিন এক পরীক্ষা। ফেরাউন নমরুদ কারণ ইতিহাসের পরাজিত শক্তি। অথচ তারা ছিল শক্তিশালী।
মানুষের জীবনের স্থায়ী সম্পদ হলো তার মানবতা তার সৎকর্ম। যা দুনিয়া এবং আখেরাতে তাকে লাভবান করে। আমাদেরকে অর্থবিত্ত আর ক্ষমতায় হারিয়ে না যেয়ে সর্বাবস্থায় সততার উপর টিকে থাকতে হবে। তাহলেই আমরা হব লাভবান।
একটি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে আজকের এ পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। পরিবর্তন মানেই বিজয় নয়। আমাদের আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ দেশ পুনর্গঠন। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ডাকাতি হচ্ছে। প্রতিশোধ গ্রহণ করা হচ্ছে। দুর্বৃত্তদের দৌরাত্ব বেড়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে আমাদের সমাজ ও পরিবেশ সুন্দর রাখার স্বার্থে সকলকে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমরা নিজেরা নিরাপদ থাকবো অন্যকে নিরাপদে রাখবো। এটাই ইসলামের শিক্ষা।
একজন মুসলমান আইন দ্বারা পরিচালিত হয় না বরং ঈমান দ্বারা পরিচালিত হয়। আমাদের ঈমান আমাদেরকে শিক্ষা দেয় সর্বাবস্থায় মানুষের কল্যাণে কাজ করা। সেই উপলব্ধি থেকে আমাদেরকে কাজ করে যেতে হবে।
২০২৪ আমাদের অসংখ্য ভাই-বোনদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে আজকের এই পরিবর্তন। এই সংগ্রাম অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ে ১৯৭১ সালেও রক্ত দিয়েছিলাম।
আমাদের রক্ত দেওয়ার ইতিহাস আছে অনেক। কিন্তু আমাদের উপলব্ধি করতে হবে আমরা ছাত্র জনতা রক্ত দিয়েছি। এর দ্বারা গদির পরিবর্তন হয়েছে। রাষ্ট্রের কাঠামোর পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু আমরা আমাদের অধিকার পাইনি।
আমরা যদি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই তাহলে ইসলাম প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। মানুষের তৈরি করা তন্ত্র মন্ত্র শাসনতন্ত্র দ্বারা আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন সোনার বাংলাদেশ গড়ে উঠবে না।
জুলুম ও বিচারের ময়লা আবর্জনা মুক্ত একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন ইসলামকে চর্চা করা। ইসলামকে নিয়ে অগ্রসর হওয়া। ইসলামের দিকে ফিরে আসা। অন্যথায় রক্ত আমরা দিয়েছি আরও রক্ত দিতে হবে কিন্তু পরিবর্তন আসবে না। শাসক পরিবর্তন হবে, প্রভু পরিবর্তন হবে কিন্তু আমরা তার সুফল পাবো না।
আমরা দোয়া করি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে তিনি আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। আমাদের আগামী সুন্দর হোক। আমরা আমাদের দেশকে পৃথিবীর বুকে এক সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলি।