ইয়াজিদের অপরাধের জন্য আমিরে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু কে দোষারোপ করা জুলুম।
* তিন বছরের সংক্ষিপ্ত শাসনামলকে সামনে রাখার পর ইয়াজিদের সাফাই গাওয়া ইসলামের প্রতি জুলুম। ক্ষমতা গ্রহণের সাথে সাথে হযরত হুসাইনকে এজিদের কাছের লোকরাই হত্যা করেছে। ক্ষমতার দ্বিতীয় বছর মদিনায় গণহত্যা ক্ষমতার তৃতীয় বছর মক্কায় আক্রমনের দায় কোনভাবেই ইয়াজিদ এড়াতে পারে না।
* খলিফা হওয়ার আগে ইয়াজিদ ভালো না খারাপ ছিল একটি যুক্তিহীন প্রসঙ্গ।
খলিফা হওয়ার পর হঠাৎ বুজুর্গ এজিদ দুষ্টু হয়ে গেল হাস্যকর বচন। তবে বিরোধিতা করতে অতিরিক্ত বলা ঠিক নয়। আবার প্রশংসারও পক্ষপাতী নই।
*মক্কা-মদিনা কুফায় অবস্থানকারী বিপুলসংখ্যক বুজুর্গ সাহাবায়ে কেরাম ইয়াজিদের মনোনয়নকে মেনে নিতে পারেননি ইয়াজিদের ত্রুটিপূর্ণ বিষয়গুলোর কারণেই।
হযরত হুসাইনের বিরোধিতা ব্যক্তি এজিদের প্রতি ছিলনা দুষ্টু ইয়াজিদের প্রতি ছিল।
* একজন রাষ্ট্রনায়ক নামাজি আর তাহাজ্জুদ গুজার হলে তার জুলুম অত্যাচার হালাল হয়ে যায় না। আর একজন রাষ্ট্রনায়ক জালেম অত্যাচারী ক্ষমতা পাগল হয়ে মদ্যপ নাও হতে পারে।
* কিছু ভালো গুন কিছু দোষ ত্রুটির সমন্বয়ে একজন মানুষ। মানুষ হিসেবে অবশ্যই ইয়াজিদের কিছু ভালো গুন ছিল। সাথে ছিল কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি।
বাবা আমিরে মুয়াবিয়া ছিলেন দীর্ঘদিনের খ্যাতিমান সফল শাসক। ক্ষমতার খুব কাছাকাছি ছিল ইয়াজিদের অবস্থান।
রাষ্ট্রীয় কিছু জিম্মাদারী পালনে কিছু অভিযান পরিচালনায় তার সফলতার আলোচনাও ইতিহাসে আছে। কিন্তু তৎকালীন মুসলিম বিশ্বে খলিফা হওয়ার জন্য যে তাকওয়া ও সতর্ক জীবন প্রয়োজন তা এজিদের মাঝে ছিল অনুপস্থিত।
এজন্যই ছিল বিরোধিতা।
* ক্ষমতা গ্রহণের পর ক্ষমতার ব্যাপারে ইয়াজিদ ছিল আপোষহীন। ইয়াজিদের রাষ্ট্রক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করাই ছিল ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। কারবালায় হযরত হুসাইন ও আহলে বায়াতের উপর ইয়াজিদ বাহিনীর আক্রমণ ছিল ক্ষমতার জন্য। ইয়াজিদ বাহিনীর মদিনায় গণহত্যা মক্কায় আক্রমণ ছিল ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য।
* আহ ক্ষমতা! রাষ্ট্র ক্ষমতা! ইয়াজিদের মত ক্ষমতাপাগল নামধারী মুসলিমদের হাতে আজও হুসাইনের অনুসারীরা নির্যাতিত। কারবালায় হুসাইনের যখন রক্ত ঝরছে তখনো এজিদের তোষামোদকারীরা সমাজে ছিল। সেই তোষামোদকারী আজও আছে। যুগের ইয়াজিদের পক্ষেই তারা কথা বলে।
আল্লাহ আমাকে সকলকে সহি বুঝ দান করুন। সমস্ত ইয়াজিদি শক্তির মোকাবেলা করে হোসাইনী চেতনায় সত্যের পক্ষে থাকার তৌফিক দান করুন।
ইয়াজিদ ইতিহাসের পরাজিত ব্যক্তি। শহীদ হোসাইনই বিজয়ী। সব হারিয়ে রক্ত ঝরিয়ে যারা সত্যের পক্ষে থাকে তারাই বিজয়ী হয়।
মিথ্যার নয় হবে সত্যের জয়।
সত্যের পথে নেই পরাজয়।
সত্য ন্যায়ের পথে থেকে অটল
আমরাই করব বিশ্ববিজয়।
সত্যের পথে যারা নির্ভীক হয়
ইতিহাসে তাদেরই নাম লেখা হয়
চলো হাতে হাতে রেখে শপথ করি
সত্যের পথে মোরা থাকবো
সকাল-বিকাল আর সন্ধ্যা বেলা
মানুষেরে এই পথে ডাকবো
এই পথে মরনেও নেই কোন ভয়।।