বিবাহিত জীবন।

কত দ্রুত পকেট খালি হয়ে যায় অথচ মাস সবেমাত্র শুরু। বাজার যে কত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। কিন্তু প্রয়োজন শেষ হয়না। আর পকেট যখন টাকা শূন্য থাকে স্ত্রী-সন্তানের মিষ্টি হাসিও তখন ভালো লাগে না।

বিয়ের আগেই উপার্জনের প্রস্তুতি থাকা চাই। উপার্জনের বৈধ অবৈধতা জানা চাই । বৈধ উপার্জনের পরিকল্পনা করা চাই। পরিশ্রম করা চাই।

বিবাহিত জীবন। দেখতে দেখতে সন্তান আসবে সংসারে। তুমি দেখবে তুমি বাবা হয়ে গেছ। স্ত্রী-সন্তানের জিম্মাদারী, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সেবা, ভাই-বোনদের সহযোগিতায় অবশ্যই তোমাকেই দায়িত্বশীল হতে হবে।

সন্তানের খাবার একসময় বোঝা মনে হবে। দুধের এত দাম কেন? আরও কমদামি দুধ খাওয়ালে কী হয়? দুধ ডিম না খেয়ে কি বাঁচা যায় না। মনে মনে ভাববে। কাউকে বলতে পারবে না।

এই ভাবনা কেন আসবে? কারন পকেট ফাঁকা। উপার্জন করা যাচ্ছে না। উপার্জনের পদ্ধতি জানা নেই। উপার্জন বাড়ছে না। অথচ প্রতিদিন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

মূল কথা, বিয়ের আগে উপার্জনের পরিকল্পনা করা চাই। বৈধ উপার্জনের নানামুখী জ্ঞান অর্জন করা চাই।

বৈধ পদ্ধতিতে উপার্জন করা প্রতিটি মুসলমানের উপর ফরজ জিম্মাদারী। একজন মুসলমানকে হক আদায় করতে হবে স্ত্রী-সন্তান বাবা-মা-ভাই-বোনের। বৈধ উপার্জনের মাধ্যমেই তার পরিবারকে জান্নাতের ঈর্ষণীয় বস্তুতে পরিণত করতে হবে। কাজেই বৈধ উপার্জনের শিক্ষা একটি জরুরি বিষয়।

“‘যদি তোমার উপার্জন না থাকে, প্রয়োজন পূরণের টাকা না থাকে এর মাধ্যমে প্রথমে যা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তা হচ্ছে দ্বীন।”

যখন তোমার টাকা থাকবে না, তখন তোমার টেবিলে খাবারও থাকবে না। তোমার বসে থাকার তো সুযোগ নেই।অবশ্যই তুমি খাবাবের ব্যবস্থা করবে এবং যেকোনো উপায়ে তা জোগাড় করবে, সেটা হারাম পথে হলেও, এমনকি তুমি চুরিও করতে পারো।

তাই তোমার দ্বীন যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে তাই তোমাকে উপার্জন এবং সঞ্চয় করতে হবে।’

শুধুমাত্র উপার্জন না থাকার কারণে বৈধ উপার্জনের যোগ্যতা না থাকার কারণে অসংখ্য মানুষ দ্বীন থেকে দূরে সরে যায়। তখন দ্বীনী বই অসহ্য লাগে। দ্বীনি মজলিস বিরক্তকর মনে হয়।

কাজেই সময়মত বৈধ উপার্জনের যোগ্যতা অর্জন করা একটি জরুরি বিষয়। বাবা-মার উচিত প্রত্যেকের সন্তানকে বৈধ উপার্জন শিক্ষা দেয়া। দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোরও এ বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করা চাই।

আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হোন।

Scroll to Top