আমাদের সমাজে নফল এবাদত, মসজিদ মাদ্রাসার দায়িত্ব পালন, গরিব মিসকিনদের সহযোগিতা, অপরকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া ইত্যাদি কাজকেই আমরা ধার্মিকতা মনে করে থাকি। নিজ ধার্মিকতার উপর তৃপ্তি ও সন্তুষ্টি অনুভব করি।
অথচ বোনদের হক আদায়ের অপরিহার্য আল্লাহর বিধানকে আমরা গুরুত্বহীন মনে করি।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় আমাদের দেশের মেয়েরা বা বোনেরা বাবার বাড়ির সম্পত্তি আনে না তার প্রথম কারন হলো; বাবার সম্পদ ভাইয়েরা তাদের অধিকার মনে করে বোনদের ন্যায্য পাওনা তারা দেয় না।
দ্বিতীয় ধারণা হলো, বোনেরা মনে করে বাবার বাড়ির সম্পত্তি আনলে ভাইদের কাছে দাঁড়ানো অধিকার তাদের থাকবে না। বাবার বাড়ির সম্পত্তি নিলে তারা পর হয়ে যাবে।
ইসলাম বাবা মার সম্পদে ছেলে ও মেয়েকে তাদের ন্যায্য হক প্রদান করেছে। এই বন্টন আল্লাহর বন্টন। এর ব্যতিক্রম করা ভয়াবহ অন্যায়। দুনিয়া ও আখেরাতে এর পরিণতি ভয়াবহ।
অনেক ভাইরা ধারণা করে থাকেন আমরা বোনদের সম্পদ দেইনি কিন্তু তাদের সুখে দুঃখে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। সাধ্য অনুযায়ী তাদেরকে সহযোগিতা করেছি। এর মাধ্যমেই তাদের হক আদায় হয়ে গেছে।
অথচ বাস্তবতা হলো বাবার সম্পত্তি যদি বোন নিয়ে যায় এটা বাবা থেকে তার ন্যায্য পাওনা।
তার পরেও ভাইয়ের কর্তব্য হলো; বোনের দেখাশুনা করা, খোঁজ-খবর নেয়া। সাধ্য অনুযায়ী বিপদে মুসিবতে সহযোগিতা করা। হাদিয়া ও উপঢৌকন দ্বারা মহব্বত বৃদ্ধি করা।
বোন যদি তার হক না নেয় এক্ষেত্রে ভাইয়ের কর্তব্য হলো, তার বোন কি কারণে সম্পত্তি নিচ্ছে না, এটা জানা।
বোন কে বুঝাতে হবে তার পাওনা হক যেন সে বুঝে নেয়।
বোনকে তার হক দেয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করতে হবে।
যদি বোন বাবার বাড়ির সম্পত্তি না নিয়ে ভাইদের দুরবস্থা কে সামনে রেখে লিখে দেয় তাহলে এটা ভাইয়ের জন্য ভোগ করা জায়েজ। অন্যথায় নয়।