ইতিহাস কেবল অতীতের ঘটনা নয়; ইতিহাস হচ্ছে মানুষের আয়না। মানব ইতিহাসে দুটি ধারা সব সময় পাশাপাশি চলেছে একদিকে ক্ষমতাকে সত্যের উপরে বসানোর প্রবণতা, অন্যদিকে সত্যকে ক্ষমতার উপরে প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।
এই সংগ্রাম কখনো মিসরে ফিরআউনের বিরুদ্ধে মূসা (আ.)-এর মাধ্যমে, কখনো নমরুদের বিরুদ্ধে ইবরাহীম (আ.)-এর মাধ্যমে, কখনো মক্কার কুরাইশদের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মাধ্যমে এবং কখনো কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (রা.)-এর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ক্ষমতার মোহ—মানব ইতিহাসের প্রাচীনতম রোগ
*******************************************
মানব ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, যুগে যুগে সভ্যতা ধ্বংস হয়েছে শুধু শত্রুর কারণে নয়; বরং ক্ষমতার অপব্যবহার, অহংকার এবং সীমালঙ্ঘনের কারণে। ক্ষমতা নিজে কোনো সমস্যা নয়। বরং ক্ষমতা আল্লাহর একটি আমানত। সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন মানুষ ক্ষমতাকে সেবার মাধ্যম না ভেবে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার বানায়।
কুরআন আমাদের সামনে এমন এক শাসকের চিত্র তুলে ধরে, যে ক্ষমতার নেশায় এতটাই অন্ধ হয়ে গিয়েছিল যে নিজের পরিচয়ও ভুলে গিয়েছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِنَّ فِرْعَوْنَ عَلَا فِي الْأَرْضِ
নিশ্চয়ই ফিরআউন পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছিল। (সূরা কাসাস: ৪)
ফিরআউনের সমস্যা শুধু এই ছিল না যে সে ক্ষমতাবান ছিল; বরং সে ক্ষমতাকে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করেছিল। সে ভেবেছিল মিসর তার, জনগণ তার, আইন তার, সত্যও যেন তার ইচ্ছার অধীন।
ক্ষমতা যখন আমানত থাকে, তখন তা মানুষের কল্যাণে কাজ করে। তখন শাসক নিজেকে জনগণের খাদেম মনে করে। কিন্তু ক্ষমতা যখন মালিকানায় রূপ নেয়, তখন মানুষ নিজেকে জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে ভাবতে শুরু করে। তখন ক্ষমতা ন্যায় প্রতিষ্ঠার উপায় না হয়ে জুলুম প্রতিষ্ঠার অস্ত্র হয়ে যায়। ফিরআউন একপর্যায়ে ঘোষণা দিল—
أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى
আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ প্রভু। (সূরা নাযিআত: ২৪)
এই একটি বাক্যের মধ্যে অন্যায় ক্ষমতার পুরো দর্শন লুকিয়ে আছে। জালিম শাসক সবসময় চায় মানুষ তাকে প্রশ্নহীনভাবে মেনে নিক। সে চায় তার ইচ্ছাই হোক আইন, তার কথাই হোক সত্য, তার সিদ্ধান্তই হোক চূড়ান্ত।
ইতিহাসে জালিমদের চেহারা ভিন্ন ভিন্ন ছিল, কিন্তু তাদের মানসিকতা ছিল এক। ফিরআউন, নমরুদ, আবু জাহল, ইয়াজিদ কিংবা পরবর্তী যুগের বহু স্বৈরশাসক—সবার মধ্যে কিছু অভিন্ন বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
প্রথম বৈশিষ্ট্য: সমালোচনা সহ্য করতে না পারা
অন্যায় ক্ষমতা সবসময় প্রশংসা ভালোবাসে, কিন্তু সত্যকে অপছন্দ করে। কারণ সত্য তার দুর্বলতা প্রকাশ করে দেয়। মূসা (আ.) যখন ফিরআউনের সামনে সত্যের দাওয়াত নিয়ে দাঁড়ালেন, ফিরআউন যুক্তি দিয়ে উত্তর দেয়নি; বরং শক্তি ও ভয় দেখিয়ে দমন করতে চেয়েছিল।
আজও যে ক্ষমতা সমালোচনাকে অপরাধ মনে করে, বুঝতে হবে সে ফিরআউনী মানসিকতার কিছু না কিছু বহন করছে।
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: সত্যকে ভয় পাওয়া
সত্যের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, এর জন্য অস্ত্রের প্রয়োজন হয় না। একটি সত্য উচ্চারণ কখনো কখনো হাজার সৈন্যের চেয়েও বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
ফিরআউনের কাছে সেনাবাহিনী ছিল, সম্পদ ছিল, প্রশাসন ছিল; কিন্তু তবুও সে মূসা (আ.)-কে ভয় পেত। কারণ সত্যকে পরাজিত করার কোনো শক্তি পৃথিবীতে নেই।
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য: জনগণকে বিভক্ত করা
কুরআন বলে—
وَجَعَلَ أَهْلَهَا شِيَعًا
সে তার জনগণকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করেছিল। (সূরা কাসাস: ৪)
এটি স্বৈরশাসনের একটি পুরোনো কৌশল। মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে জুলুম টিকে থাকতে পারে না। তাই অন্যায় ক্ষমতা মানুষকে বিভক্ত করে, একদলকে আরেক দলের বিরুদ্ধে দাঁড় করায়, যাতে সবাই নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে আর ক্ষমতা অটুট থাকে।
চতুর্থ বৈশিষ্ট্য: ভিন্নমতকে শত্রু মনে করা
ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্ব ভিন্নমতকে সম্পদ মনে করে। কারণ ভিন্নমত ভুল সংশোধনের সুযোগ দেয়। কিন্তু অন্যায় ক্ষমতা মনে করে, যে আমার সঙ্গে নেই, সে আমার বিরুদ্ধে।
এই মানসিকতা শেষ পর্যন্ত সমাজকে সংঘাত, বিদ্বেষ এবং অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেয়।
পঞ্চম বৈশিষ্ট্য: রাষ্ট্রকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করা
ফিরআউন বলেছিল—
أَلَيْسَ لِي مُلْكُ مِصْرَ
মিসরের রাজত্ব কি আমার নয়?(সূরা যুখরুফ: ৫১)
এটাই স্বৈরতন্ত্রের মূল চিন্তা। রাষ্ট্র আর জনগণের আমানত থাকে না; বরং শাসকের ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হয়।
ইসলাম এই ধারণাকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসলামে শাসক মালিক নয়, বরং আমানতদার। ক্ষমতা অধিকার নয়, দায়িত্ব। সম্মান নয় জবাবদিহিতা। কিন্তু ইতিহাস আমাদের একটি বড় শিক্ষা দেয়। যত শক্তিশালী শাসকই হোক, ক্ষমতা কখনো স্থায়ী নয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ
আমি দিনগুলোকে মানুষের মধ্যে পালাক্রমে পরিবর্তন করি। (সূরা আলে ইমরান: ১৪০)
আজ যে ক্ষমতার চূড়ায়, কাল সে ইতিহাসের পাতায়। আজ যার সামনে মানুষ ভয়ে মাথা নত করছে, কাল তার নাম শুধু একটি শিক্ষণীয় অধ্যায় হয়ে যায়।
ফিরআউন তার প্রাসাদ নিয়ে গর্ব করেছিল, আজ তার প্রাসাদ ধ্বংসস্তূপ। সে তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে অহংকার করেছিল, আজ তার দেহ ইতিহাসের জাদুঘরে মানুষের জন্য শিক্ষা হয়ে পড়ে আছে। কিন্তু মূসা (আ.)-এর নাম কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হয়।
এটাই ইতিহাসের সত্য ক্ষমতা স্থায়ী নয়, সত্য স্থায়ী। সিংহাসন টিকে না, ন্যায় টিকে। জুলুমের রাজত্ব দীর্ঘ হতে পারে, কিন্তু চিরস্থায়ী হতে পারে না। এছাড়া আর এই কারণেই কারবালার ঘটনা ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় এত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কারবালাও ছিল ক্ষমতার অহংকার এবং সত্যের মধ্যকার সংঘর্ষের আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায়। সেখানে আবারও প্রমাণিত হয়েছে সত্যের শক্তি তরবারির শক্তির চেয়ে অনেক বড়।
কারবালা—ক্ষমতার বিরুদ্ধে বিবেকের বিদ্রোহ
*****************************************
হিজরী ৬১ সনের কারবালা কেবল একটি যুদ্ধ নয়।
এটি ছিল দুটি দর্শনের সংঘর্ষ। একদিকে ইয়াজিদের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব, অন্যদিকে ইমাম হুসাইন (রা.)-এর নৈতিক কর্তৃত্ব।
ইমাম হুসাইন (রা.) ক্ষমতা চাননি। তিনি চেয়েছিলেন সত্যের মর্যাদা রক্ষা করতে। তাঁর বিখ্যাত ঘোষণা
إني لم أخرج أشراً ولا بطراً ولا مفسداً ولا ظالماً
আমি অহংকার, বিদ্রোহ, ফাসাদ বা জুলুমের জন্য বের হইনি। তিনি আরও বলেন—
إنما خرجت لطلب الإصلاح في أمة جدي
আমি আমার নানার উম্মতের সংস্কারের জন্য বের হয়েছি।
কারবালার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো সত্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর নির্ভর করে না। একজন মানুষও ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে পারে। কারবালায় ৭২ জন মানুষ সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছিলেন। কিন্তু নৈতিকভাবে জয়ী হয়েছিলেন। ইয়াজিদ রাষ্ট্র জয় করেছিল, হুসাইন হৃদয় জয় করেছিলেন। আজও মানুষ সন্তানদের নাম হুসাইন রাখে; কিন্তু কেউ জালিমের নামে সম্মান খোঁজে না
ইতিহাসে প্রতিরোধের ধারাবাহিকতা
*********************************
কারবালার পরেও পৃথিবী থেমে থাকেনি। প্রত্যেক যুগে ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে। প্রত্যেক যুগে প্রতিবাদও হয়েছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় তলোয়ার কখনো স্থায়ী বিজয় এনে দিতে পারেনি। ক্ষমতার প্রাসাদ যত উঁচুই হোক, অন্যায়ের ভিত্তি দুর্বল।
কুরআন বলে—
فَأَمَّا الزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَاءً
ফেনা ভেসে যায়।
وَأَمَّا مَا يَنفَعُ النَّاسَ فَيَمْكُثُ فِي الْأَرْضِ
আর যা মানুষের উপকার করে তা পৃথিবীতে টিকে থাকে। এটাই ইতিহাসের নিয়ম। জালিমরা অনেক সময় সাময়িক বিজয় পায়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকে ন্যায়।
অন্যায় ক্ষমতার পরিণতি
*************************
ইতিহাসে আমরা দেখি ফিরআউন ডুবে গেছে।
নমরুদ ধ্বংস হয়েছে। আদ ও সামূদ বিলুপ্ত হয়েছে। আবু জাহল নিহত হয়েছে। কুরআন বারবার জিজ্ঞেস করে—
فَهَلْ تَرَى لَهُم مِّن بَاقِيَةٍ
তাদের কাউকে কি অবশিষ্ট দেখতে পাও?
কারবালার শিক্ষা শুধু শোক নয়। এটি দায়িত্বের শিক্ষা। কারবালা থেকে আজকের যুবকদের শিখতে হবে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো, জানতে হবে সত্য একা হয়ে গেলেও সত্য। ক্ষমতাকে আমানত মনে করতে হবে। পরিবার, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন কিংবা রাষ্ট্র— যেখানেই নেতৃত্ব থাকুক, তা আল্লাহর আমানত।
জুলুম না করা এবং জুলুমকে সমর্থন না করা
রাসূল ﷺ বলেছেন জালিমকে সাহায্য করো না।তাদেরকে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করতে হবে। যেখানে আইনের শাসন থাকবে, মানবিক মর্যাদা থাকবে, জবাবদিহিতা থাকবে।
কারবালা আমাদের শেখায় তুমি জয়ী হবে কি না, সেটা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো— তুমি সত্যের পক্ষে ছিলে কি না। অন্যায় ক্ষমতা সব সময় নিজের স্থায়িত্বে বিশ্বাস করে।
কিন্তু ইতিহাস বলে ফিরআউন চলে গেছে, নমরুদ চলে গেছে, অগণিত জালিম চলে গেছে। সত্য আজও বেঁচে আছে। কারবালার রক্ত আজও বিবেককে জাগিয়ে দেয়। ইমাম হুসাইন (রা.) আমাদের শিখিয়েছেন ক্ষমতার সামনে মাথা নত করার চেয়ে সত্যের জন্য মাথা কাটা অনেক সম্মানের।
৩৬ জুলাই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
******************************
কারবালার প্রান্তর আর আজকের পৃথিবী এক নয়। সময় বদলেছে, ভূগোল বদলেছে, রাষ্ট্রব্যবস্থা বদলেছে। কিন্তু মানুষের ভেতরের ক্ষমতার লালসা এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বদলায়নি।
ইতিহাসের প্রতিটি যুগে কিছু মানুষ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী মনে করেছে। তারা ভেবেছে শক্তিই সবকিছু, রাষ্ট্রযন্ত্রই শেষ কথা, জনগণের কণ্ঠকে দমন করলেই সত্যকে মুছে ফেলা যাবে। কিন্তু ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে মানুষের বিবেককে হত্যা করা যায় না।
কারবালায় যে প্রশ্ন উচ্চারিত হয়েছিল, ৩৬ জুলাইতেও সেই প্রশ্নই ফিরে আসে ক্ষমতা কি ন্যায়ের অধীন থাকবে, নাকি ন্যায়কে ক্ষমতার অধীন হতে হবে?
কারবালায় ইমাম হুসাইন (রা.) সংখ্যায় কম ছিলেন, কিন্তু সত্যের পক্ষে ছিলেন। ইতিহাসের বিভিন্ন গণআন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম কিংবা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও আমরা একই দৃশ্য দেখি ক্ষমতা একদিকে, আর জনগণের ন্যায়বোধ অন্যদিকে।
কারবালা ও ৩৬ জুলাই: মিল কোথায়?
************************************
কারবালা আমাদের তিনটি শিক্ষা দেয়, যা প্রতিটি যুগের ন্যায়ভিত্তিক আন্দোলনের প্রাণশক্তি।
১. সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো। কারবালার শিক্ষা হল সত্যকে শুধু বিশ্বাস করাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজনে সত্যের পক্ষে দাঁড়াতেও হবে।
২. ক্ষমতার জবাবদিহিতা। যে ক্ষমতা নিজেকে জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে মনে করে, ইতিহাস তার পতন অনিবার্য করে দেয়।
৩. ত্যাগ ছাড়া পরিবর্তন আসে না। কারবালার রক্ত যেমন ইতিহাসকে বদলেছে, তেমনি পৃথিবীর প্রতিটি বড় পরিবর্তনের পেছনে মানুষের ত্যাগ রয়েছে।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো ক্ষমতা সাময়িক, মূল্যবোধ স্থায়ী। অস্ত্র সাময়িক, আদর্শ স্থায়ী। ভয় সাময়িক, সত্য স্থায়ী।
কারবালা থেকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত ইতিহাস যেন একই কথা বলে জুলুম যত শক্তিশালীই হোক, তার স্থায়িত্ব নেই। আর সত্য যত একাকীই হোক, তার পরাজয় নেই।
৩৬ জুলাই: একটি প্রতীকী দিন
****************************
৩৬ জুলাই ক্যালেন্ডারের কোনো দিন নয়। ৩৬ জুলাই হলো সেই মুহূর্ত, যখন মানুষের ধৈর্যের সীমা অতিক্রম হয়। ৩৬ জুলাই হলো সেই প্রতীক, যখন জনগণ ঘোষণা করে রাষ্ট্র জনগণের জন্য, জনগণ রাষ্ট্রের জন্য নয়। ৩৬ জুলাই হলো ভয়ের দেয়াল ভেঙে যাওয়ার নাম।
বিজয় মানেই ক্ষমতা দখল নয়। বদরে বিজয় ছিল। কারবালায়ও নৈতিক বিজয় ছিল। মূলত সত্যের উপর অটল থাকা নিজেই একটি বিজয়।
তাই যদি জুলাই আন্দোলনের কথা বলা হয়, তাহলে বিজয়কে শুধু সরকার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বলতে হবে ভয়ের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে মানুষের দাঁড়ানো একটি বিজয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সাহস একটি বিজয়। তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতা একটি বিজয়। মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসা একটি বিজয়।