আজ প্রিয় আহমাদের বিদায়ের দুই বছর

আজ আমাদের প্রিয় আহমাদের বিদায়ের দুই বছর পূর্ণ হলো।২০২৩ সালের ২২ অক্টোবর সে পৃথিবীতে এসেছিল।এবং সেই বছরেরই ৬ ডিসেম্বর সে আমাদের থেকে বিদায় নিল।স্বল্প হায়াত, কিন্তু অগণিত স্মৃতি, অসীম ভালোবাসা,আর গভীর এক শূন্যতা রেখে গেল।

আমার সন্তানদের মাঝে সর্বশেষে পৃথিবীতে এসে

সে-ই সর্বপ্রথম রওনা হলো আখিরাতের পথে।

প্রিয় সন্তানের বিদায় কোনো বাবা-মায়ের জন্য কতটা কঠিন শুধু আল্লাহই তা ভালো জানেন।

একটি সন্তানের প্রতি ভালোবাসা—আলাদা, গভীর, বর্ণনাতীত।সন্তান জন্ম নেবার আগেই বাবা-মায়ের হৃদয়ে জন্ম নেয় ভালোবাসা,স্বপ্ন, প্রস্তুতি, স্পর্শহীন আদর। তারপর পৃথিবীতে আসার পর—কত উল্লাস, কত পরিকল্পনা,কত আদর-যত্ন, কত হাসি-কান্না তার সাথে জড়িয়ে যায়।

আহমাদকে পাশে নিয়ে ঘুমানো, বাহির থেকে ফিরে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরা,তার ক্ষুদ্র নিঃশ্বাস—তার ছোট্ট দুনিয়া—সবই ছিল আমাদের প্রতিটি মুহূর্তের অংশ।

হঠাৎ আহমাদের অসুস্থতা, তাকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যাওয়া,চোখের সামনে তার চলে যাওয়া—

দৃশ্যগুলো বারবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

মৃত্যুর পর আহমদ কে নিয়ে হসপিটাল থেকে বের হওয়া তারপর তাকে গোসল‌ দেয়া সুগন্ধি আতর দিয়ে শরীর মেখে দেওয়া,কাফন, জানাজা, এবং তারপর তাকে কবরস্থ করা এগুলো ভুলবার নয়। আজও তার কবরের পাশে দাঁড়ালে কান্না বের হয়ে আসে।

আহমাদের আম্মা ক্ষণে ক্ষণেই আহমদকে স্মরণ করে,

আহমাদ এখন থাকলে হাঁটতো, হাসতো, খেলতো।”

সত্যি—এই অনুপস্থিতি অনুভব হয় প্রতিদিন।

কোনো বাবা-মা তার সন্তানকে ভুলতে পারে না আমরা-ও পারি না, পারবও না।

আহমাদ আজ নেই, কিন্তু সে নিষ্পাপ; সে আল্লাহর বাগিচার সবুজ পাখি হয়ে জান্নাতের ভেতর বিচরণ করছে—এটাই আমাদের সান্ত্বনা।

তার ভাইবোনেরা আছে—

তাদের সামনে জীবন একটি বড় চ্যালেঞ্জ গোপন-প্রকাশ্য শত্রুদের মোকাবেলা করে

তাদেরকে আখিরাত পর্যন্ত টিকে থাকতে হবে।

এই কঠিন পথ তারা সফলভাবে পার হোক—এটাই আমাদের চাওয়া।

সেজদায় পড়ে আল্লাহকে বলি—

“হে আল্লাহ, আমার প্রিয় সন্তানদের কেউ যেন জাহান্নামী না হয়। যে সন্তান এত প্রিয়, এত আদরের—

সে জাহান্নামের আগুন কিভাবে সহ্য করবে?

হে আল্লাহ! তুমি তাদের সবাইকে হেফাজত করো।”

দোয়া—আহমাদের বিদায়ের এই দিনে

হে আল্লাহ,

আমাদের প্রিয় আহমাদকে জান্নাতের উচ্চতম মাকাম দান করো। আমার সকল সন্তান, পরিবার, বাবা-মা, ভাই-বোন,আমার প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীসহ যাদের জন্য আমি দোয়া করি—সবাইকে তুমি জান্নাত দান করো।

কোনো প্রিয়জনকে জাহান্নামের আগুনে দিও না।

হে আল্লাহ, আমাদের দোয়া কবুল করো।

Scroll to Top