আজ অনেক পরিবার ভেতরে আগুনের মতো জ্বলছে, কিন্তু আমরা কেউ কেউ সেটাকে ‘চতুরতা’ বা ‘চালাকি’ বলে আড়াল করি।
বিষয়টি হলো: বোনদের হক নষ্ট করা, ভাইদের অন্যায়ভাবে সম্পদ আত্মসাৎ করা।
আল্লাহর হুকুম — যাকে কেউ বদলাতে পারে না
আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন:
> “يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنثَيَيْنِ”
“আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে নির্দেশ দেন—ছেলের ভাগ মেয়ের দ্বিগুণ।” (সূরা আন-নিসা: ১১)
এ আয়াত কোনো প্রস্তাব নয়, এটি আল্লাহর আদেশ। এটাকে মানবে না, আর কেউ পরিবর্তন করবে এমন কোনো সুযোগ ইসলামে নেই।
কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে—
কিছু ভাই নিজের বোনকে বলে,
“তুমি তো এখন স্বামীর ঘরে আছো, তোমার দরকার কী?”
“গ্রামের ওই জমিটুকু নিয়ে যাও, শহরের দামী জমিটা আমরা রাখব।”
—হায়! এই কথা মুখে উচ্চারণ করেই সে বুঝে না, সে আসলে আল্লাহর হুকুমকে তুচ্ছ করছে!
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে এক বিঘা জমি নেয়, কিয়ামতের দিন সাত স্তর জমি বুকের নিচে বহন করবে।”
(সহিহ বুখারী ২৪৫৪)
একটু ভাবুন
এই দুনিয়ায় তুমি সামান্য কাগজের দাগে জমি নিজের নামে করেছো, কিন্তু আখিরাতে সেই জমি আগুন হয়ে বুকের নিচে চাপা পড়বে!
আজ কত বোন এমন ভাইরা যাদের হক দেয়নি।
সে মুখে কিছু বলে না, কিন্তু তার চোখের পানি আল্লাহর আরশ কাঁপিয়ে দেয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি কারও হক অস্বীকার করে, কিয়ামতের দিন তার পক্ষে কেউ সাক্ষ্য দেবে না।”
(সহিহ মুসলিম)
বোনের চোখের পানি, তার দোয়া, তার হক—
সবকিছু কিয়ামতের দিন তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষী হবে!
ন্যায়বিচারই ঈমানের সৌন্দর্য
প্রিয় ভাইগণ,
যে ব্যক্তি নিজের বোনকে ন্যায্য হক দেয়,
সে আসলে শুধু জমি দেয় না—
সে দেয় সন্তুষ্টি, শান্তি, দোয়া, জান্নাতের টিকিট।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
“ন্যায়পরায়ণরা থাকবে আল্লাহর আরশের ডান পাশে,
যেখানে নবী, শহীদরাও হিংসা করবে।”
(সহিহ মুসলিম)
তুমি যদি আল্লাহর জন্য নিজের হক থেকে বোনকে দাও,তাহলে আল্লাহ তোমাকে এমন সম্মান দিবেন—যা দুনিয়ার জমি-জমার চেয়েও অনেক বড়।
আজ ভাবো, কাল কাঁদার সুযোগ নাও
এই জমি, এই টাকা, এই বাড়ি—
সব একদিন পেছনে ফেলে চলে যেতে হবে।
তখন কবরের অন্ধকারে কেউ তোমার হয়ে সাক্ষ্য দেবে না।
শুধু সেই ন্যায়বিচারই আলো হয়ে পাশে থাকবে।
আজ যদি তুমি বোনের হক ফিরিয়ে দাও,
আল্লাহ তোমার হৃদয় নরম করবেন,
তোমার রিজিক বাড়াবেন,
আর তোমার কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দেবেন ইনশাআল্লাহ।
ভাই, যদি এখনো তোমার বোন বেঁচে থাকে —
আজই তাকে ফোন দাও, বলো:
“বোন, তোমার হক আমি দিতে চাই। আল্লাহর জন্য।”
এই একটি বাক্যই তোমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে ন্যায়পরায়ণতার তাওফিক দিন,
বোনদের হক আদায় করার সাহস দিন,
আর কিয়ামতের আগুন থেকে রক্ষা করুন।