ইসলামে সম্পদ উপার্জনের গুরুত্ব

ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। ইসলাম জীবনমুখী ধর্ম। ইসলাম জীবনকে সুন্দর করার শিক্ষা দেয়। মানুষ্য জীবনের সমস্ত প্রয়োজন পূরণের পদ্ধতি নিয়ে ইসলামের আলোচনা আছে।

ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদ অর্জন

****************************

জীবনের প্রয়োজন পূরণে সম্পদ উপার্জন ইসলাম গুরুত্বের দৃষ্টিতে দেখে। ইসলামে সম্পাদক উপার্জন করা এবাদত। হাদিসে এসেছে –

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «طَلَبُ كَسْبِ الْحَلَالِ فَرِيضَةٌ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ

আব্দুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অন্যান্য ফরয কাজ আদায়ের সাথে হালাল রুযী-রোজগারের ব্যবস্থা গ্রহণ করাও একটি ফরয।

কুরআনে কারীমে সম্পদকে জীবন ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বলা হয়েছে-

{ أَمۡوَ ٰ⁠لَكُمُ ٱلَّتِی جَعَلَ ٱللَّهُ لَكُمۡ قِیَـٰمࣰا}

[Surah An-Nisāʾ: 5]

তোমাদের সম্পদ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তোমাদের জন্য তাকে জীবন ধারণের মাধ্যম করেছেন।

জীবনকে সুন্দর করার জন্য সহজ করার জন্য প্রয়োজন সম্পদ। সম্পদ আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অনুগ্রহ ও দয়ার নিদর্শন। প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দারিদ্রতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় কামনা করতেন। তিনি দুআ করতেন –

اللهم اني أعوذ بك من الفقر والكفر

দারিদ্রতা এবং কুফরী প্রিয় রাসূল উভয়টি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় কামনা করতেন। এর দ্বারা বুঝা যায় দারিদ্রতা মানুষের জন্য কুফুরীর মতই অনেক বড় একটি সংকট।

স্বচ্ছলতা আল্লাহর নেয়ামত

************************

সচ্ছলতা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নেয়ামত। হযরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ধনী ছিলেন। এজন্য তাকে বলা হয় ওসমানী গনি। গনি শব্দের অর্থ হলো ধনী। আল্লাহ যাকে সচ্ছলতা ধনাট্যতা দান করেছেন তাকে এবাদত করার বেশি সুযোগ দান করেছেন। একজন সচ্ছল ব্যক্তি এমন সমস্ত এবাদতের সুযোগ পায় যা একজন দরিদ্র ব্যক্তি করার সুযোগ পায় না।

একবার দরিত্র সাহাবীরা প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আবেদন পেশ করলো ধনী সাহাবীরা অনেক এবাদতের সুযোগ পায় আমরা দরিদ্ররা তা থেকে বঞ্চিত থাকি আমাদের এমন আমল শিখিয়ে দেন যেন আমরা তাদের সমান হতে পারি। আল্লাহর রাসূল তাদের তাসবিহাতের আমল শিখিয়ে দিলেন। কিছুদিন পর দেখা গেল ধনীরাও এ আমল শুরু করে দিল। তারা আবার রাসূলুল্লাহর কাছে আসলে তিনি জবাব দিলেন এটা আল্লাহর অনুগ্রহ তিনি যাকে ইচ্ছা করেন তাকে প্রদান করেন।

এই আলোচনা দ্বারা বোঝা যায় স্বচ্ছলতা আল্লাহর এক নেয়ামত। স্বচ্ছলতায় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা চাই। এবং সচ্ছলতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা চাই।

ইসলামে উপার্জন এবাদত

***********************

ইসলামে রিজিক তালাশকে এবাদত গণ্য করা হয়েছে। বরং রিজিক তালাশকে ইসলাম ফরজ করেছে। কুরআনে কারিমে এরশাদ হয়েছে –

{ فَإِذَا قُضِیَتِ ٱلصَّلَوٰةُ فَٱنتَشِرُوا۟ فِی ٱلۡأَرۡضِ وَٱبۡتَغُوا۟ مِن فَضۡلِ ٱللَّهِ وَٱذۡكُرُوا۟ ٱللَّهَ كَثِیرࣰا لَّعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ }

[Surah Al-Jumuʿah: 10]

অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় আর আল্লাহর অনুগ্রহ হতে অনুসন্ধান কর এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফল হতে পার।

কুরআনে কারীমের এই আয়াতে মসজিদে সালাত আদায়ের পর রিজিকের অন্বেষণে সম্পদ উপার্জনে জমিনে ছড়িয়ে পড়ার আহবান করা হয়েছে। এটা কুরআনে কারীমের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা। এখানে সম্পদকে আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ইসলাম জীবনমুখী ধর্ম। জীবনকে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে তোলা ইসলামে এবাদত। এবাদতের নামে জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আহবান ইসলামে নেই। বরং কুরআনে খ্রিস্ট সমাজের এবাদতের নামে বৈরাগ্যবাদের সমালোচনা করা হয়েছে।

{ وَرَهۡبَانِیَّةً ٱبۡتَدَعُوهَا مَا كَتَبۡنَـٰهَا عَلَیۡهِمۡ إِلَّا ٱبۡتِغَاۤءَ رِضۡوَ ٰ⁠نِ ٱللَّهِ فَمَا رَعَوۡهَا حَقَّ رِعَایَتِهَاۖ }

[Surah Al-Ḥadīd: 27]

কিন্তু দরবেশী জীবনতো তারা নিজেরাই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য প্রবর্তন করেছিল; আমি তাদেরকে এর বিধান দিইনি; অথচ এটাও তারা যথাযথভাবে পালন করেনি।

ইসলাম একটি পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিজীবন পরিবার ও সমাজ জীবনের প্রতি আহ্বান করে। ইসলাম হক আদায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে। জুলুমকে ইসলাম হারাম করেছে।

এজন্যই ইসলামের হুকুম সালাত আদায়ের পর পরিবার ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে ছড়িয়ে পড়া। এবং এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সম্পদ উপার্জন করা। এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যে সম্পদ দান করেন তার মাধ্যমে পরিবার ও সমাজের হক আদায় করা। সম্পদকে কুরআন আল্লাহর অনুগ্রহ এবং দয়া হিসেবে উপস্থাপন করেছে। কাজেই সম্পদ আল্লাহর দয়া এবং অনুগ্রহ।

নামাজ আদায়ের পর একজন ব্যক্তি ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছে আর আরেকজন ব্যক্তি রিজিক তালাশ করছে দুইজন ব্যক্তি এক না। এ দুইজনের মাঝে পার্থক্য হল একজন আল্লাহর দয়া অনুসন্ধান করছে। সে নিজ মুখাপেক্ষীতা আল্লাহর কাছে উপস্থাপন করছে। আর অপর ব্যক্তি আল্লাহর দয়া তালাশ করছে না। সে অহংকার প্রদর্শন করছে।

বান্দা উচিত সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী থাকা। এটা বান্দার সৌন্দর্য। আল্লাহ যত সম্পদের অধিকারী করুন তারপরও আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষি থাকা চাই। সর্বাবস্থায় আমরা আল্লাহর দয়ার ভিখারী। যেখানেই আল্লাহর দয়া বর্ষিত হবে সেখানেই আমরা মুখাপেক্ষীতে নিয়ে দুই হাত তুলে ধরবো।

যেখানেই উপার্জন করার মত একটি হালাল টাকা আছে মুসলমান তা অর্জনের জন্য চেষ্টা করবে। সে ঘরে বসে থাকবে না। উপার্জন বিমুখতা অহংকারীর লক্ষণ। আমার অনেক আছে আর প্রয়োজন নেই এই দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক না। বরং আমি সকল অবস্থায় আল্লাহর ভালোবাসা ও দয়ার মুখাপেক্ষী।

একটি প্রশ্ন ও উত্তর

*******************

এখানে একটি প্রশ্ন আসে ইসলাম তো আমাদের পরকালীন জীবনের ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করে। তাই আমাদের উচিত পরকালীন সম্পদ উপার্জনে গুরুত্ব দেয়া। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পদ উপার্জন এটাতো দুনিয়া অর্জন করা।

এই প্রশ্নের উত্তর হল ইসলাম পরকাল অর্জনের কথা বলে এর অর্থ এই নয় ইসলাম দুনিয়া উপার্জনে বাধা দেয়। বরং ইসলাম হল এমন একটি জীবন ব্যবস্থা যেখানে শুধুমাত্র সহিহ নিয়তের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির জীবনের সকল কর্মই পরকালের সম্পদ হয়।

একটি বিখ্যাত হাদিস

*******************

তিনজন সাহাবী হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহার কাছে উপস্থিত হলেন প্রিয় রাসূলের আমলকে জানার জন্য। হযরত আয়েশার কাছ থেকে আমলের আলোচনা শুনে তাদের কাছে তা অল্প মনে হলো। তারপর তারা সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি তো আল্লাহর রাসূল আল্লাহর পয়গম্বর আল্লাহ তার পূর্ব এবং পরবর্তী সবকিছুকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। রাসুলের জন্য অল্প এবাদতটা চেষ্টা কিন্তু আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে না। আমরা তো সাধারণ মানুষ। আমাদেরকে অনেক বেশি ইবাদত করতে হবে।

তারপর তারা সেখানেই নিয়ত করলেন। একজন নিয়ত করলেন সারারাত নামাজে কাটাবেন। অপরজন নিয়ত করলেন নিয়মিত রোজা পালন করবেন। অপরজন নিয়ত করলেন বিবাহ সাদি থেকে বিরত থাকবেন।

ঘরে আসার পর প্রিয় রাসূল সবকিছু শোনার পর তাদেরকে ডাকলেন। তারপর তাদেরকে করা ভাবে সাবধান করলেন।

فمن رغب عن سنتي فليس مني

যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে অপছন্দ করে সে আমার দলভুক্ত নয়। এটা ছিল অত্যন্ত কড়া এক বার্তা। ইসলাম অনুসরণ আমাদের প্রিয়নবীর জীবন কে অনুকরণ করতে হবে।

প্রিয় রাসূলের জীবন কেমন ছিল

*****************************

প্রিয়া রাসুলের জীবন কেমন ছিল তিনি কি করতেন? তিনি রাতের কিছু অংশ এবাদত করতেন বাকি অংশ ঘুমাতেন। তিনি রোজা রাখতেন আবার রোজা ভাঙতেন। সোমবার বৃহস্পতিবার তিনি রোজা রাখতেন। চাঁদের মাসের ১৩-১৪- ১৫ নফল সিয়াম পালন করতেন। এভাবে প্রতিমাসে এক তৃতীয়াংশ রোযায় কাটাতেন। দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন। তিনি স্ত্রী আপনজন আত্মীয়-স্বজন সাধারণ মানুষদেরকে প্রচুর সময় দিতেন।

প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর মানুষকে সময় দেওয়াই ছিল সবচেয়ে বড় কাজ। তিনি মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন না। তিনি ছিলেন শতভাগ সমাজ কানেক্টেড।

এই হাদিস থেকে প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন এবং ইসলাম সম্পর্কে আমাদেরকে ধারণা গ্রহণ করতে হবে।

সাহাবীদের জীবন

****************

প্রিয় রসুলের কাছে ইসলাম গ্রহণের পর সাহাবায়ে কেরাম পরিবার সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। বরং তারা আরো অনেক বেশি সমাজ মুখী হয়েছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর পরিবার ও সমাজের প্রতি তাদের দায়িত্বশীলতা বেড়ে গিয়েছিল।

আনসারী সাহাবীরা কৃষিকাজ নির্ভর ছিলেন। আর মুহাজির সাহাবীরা ব্যবসায়ী ছিলেন। সকলেই ছিলেন কর্মমুখী। ইসলাম কর্মমুখীতে শিক্ষা দেয়। কর্ম বিমুখতার শিক্ষা ইসলামে নেই।

প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

***************************

মক্কার অধিবাসীরা পূর্ব থেকেই ব্যবসায়ী ছিল। তাদের মাঝে ছিল প্রচুর প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতা ইসলামে নিন্দনীয়। কারণ প্রতিযোগিতা থেকে হিংসা এবং বিদ্বেষ তৈরি হয়। প্রিয় রসূল তাদের চিন্তাভাবনার পরিবর্তন করলেন। তাদেরকে শিক্ষা দিলেন প্রতিযোগিতা নয় সহযোগিতা। প্রিয় রাসুলের শিক্ষায় এতদিন যারা পরস্পরের প্রতিযোগী ছিল এখন তারা পরস্পরের সহযোগী হঢ়ে উঠলো।

ইসলাম ব্যবসাকে হালাল করেছে। ইসলাম ব্যবসা বাণিজ্যে উৎসাহ প্রদান করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যকে ইসলাম অপরাধ সাব্যস্ত করেনি। মানুষের জীবন ধারণের জন্য সম্পদের প্রয়োজন। এজন্য সর্বাবস্থায় সম্পদ উপার্জনের সুযোগ রেখেছে।

জাহিলি যুগের সংস্কৃতি ছিল আমরা হজের সফরে সাথে কোন সম্পদ নিত না। খালি হাতে ভিক্ষুকের বেশে হজের সফরে আসতো। এটাকেই তারা মনে করত তাওয়াক্কুল। কোরআন এক ক্ষেত্রে হুকুম দিল

وَ تَزَوَّدُوۡا

আর তোমরা তোমাদের সাথে পাথেয় নিয়ে নাও।

বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, জাহেলিয়াতের যুগে ওকায, মাজান্নাহ ও যুল মাজায নামে তিনটি বাজার ছিল। ইসলাম গ্রহণের পর হজের সময় সাহাবীরা সেই বাজারগুলোতে ব্যবসা করা গুনাহ বলে মনে করতে থাকলে আল্লাহ তা’আলা দৃষ্টিভঙ্গের সংশোধনে আয়াত নাযিল করেন। হুকুম দেয়া হয় হজের মৌসুমে সেসব স্থানগুলোতে ব্যবসা করা কোনো দোষের কাজ নয়। কুরআনে কারীমের এরশাদ হয়েছে-

{لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَبْتَغُوا فَضْلًا مِنْ رَبِّكُمْ}

তোমাদের প্রতি কোন গুনাহ নেই যদি তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ খোঁজ কর।

সম্পদ উপার্জন কখন এবাদত

****************************

সম্পদ উপার্জনের নানা পদ্ধতি হতে পারে। কৃষিকাজ বা ব্যবসা বাণিজ্য অথবা দিনমজুরী। তবে একজন মুসলমানের লক্ষ্য হবে নিজ কাজ দ্বারা অপর ভাইকে সহযোগিতা করা। সম্পদ তাকদীর অনুযায়ী আমার পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। তবে আমার লক্ষ্য থাকবে সহযোগিতা দ্বারা পরকালকে অর্জন করা।

ইসলাম নিয়তের পরিশুদ্ধতার উপর জোর দেয়। ‌ একজন ব্যবসায়ের নিয়ত এবং কর্মপন্থা যখন পরিশুদ্ধ হয় তখন এ ব্যবসাটাই তার আখেরাতের উপার্জন হয়। হাদিসের মাঝে এসেছে

التاجر الصدوق الأمين مع النبيين والصديقين والشهداء .

এ হাদিস ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক বড় আনন্দের। সত্যবাদী বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী নবী সিদ্দিক শহীদদের সাথে সম্মানিত হবে। এটা অনেক বড় মর্যাদা।

ব্যবসায়ী সাহাবীদের গুণাবলী কুরআনে তুলে ধরা হয়েছে।

{ رِجَالࣱ لَّا تُلۡهِیهِمۡ تِجَـٰرَةࣱ وَلَا بَیۡعٌ عَن ذِكۡرِ ٱللَّهِ وَإِقَامِ ٱلصَّلَوٰةِ وَإِیتَاۤءِ ٱلزَّكَوٰةِ }

[Surah An-Nūr: 37]

তারা সেই সব লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয় বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে এবং সালাত কায়েম ও যাকাত প্রদান হতে বিরত রাখেনা,

উপার্জন বিমুখতা ইসলামের শিক্ষা নয়। বরং ইসলাম সম্পদ উপার্জনে উৎসাহিত করে। শুধুমাত্র দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনে একজন মানুষের সকল কাজ ইসলামে এবাদতে পরিণত হয়।

ইসলামের শিক্ষা বৈরাগ্যবাদ নয়। বরং সুশৃংখল জীবন পরিচালনা করে দুনিয়া ও আখেরাতে লাভবান হওয়া। আমাদেরকে ইসলামের শিক্ষাকে সামনে রেখে পরকালীন আজাব জাহান্নাম থেকে বাঁচতে কোন অবস্থাতেই শিরিক করা যাবে না। কোন অবস্থাতে নামাজ কাজা করা যাবে না। হারাম উপার্জন করা যাবে না। কারো হক নষ্ট করা যাবে না।

আশা করা যায় তাহলে সফলতা আসবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সহজ করুন।

Scroll to Top