আল্লাহ রব্বুল আলামীন মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। কোরআনে কারীমে মানব সৃষ্টির লক্ষ্য উদ্দেশ্য গল্প তিনি আলোচনা করেছেন। মানুষ সৃষ্টির লক্ষণ নিয়ে যে আলোচনা কুরআনে উঠে এসেছে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের উদ্দেশ্য হলো মানুষ আল্লাহর খলিফা হবে। এজন্যই তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।
সূরা বাকারা আয়াত ৩০
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন-
{ وَإِذۡ قَالَ رَبُّكَ لِلۡمَلَـٰۤىِٕكَةِ إِنِّی جَاعِلࣱ فِی ٱلۡأَرۡضِ خَلِیفَةࣰۖ }
[Surah Al-Baqarah: 30]
খলিফা শব্দের অর্থ হলো প্রতিনিধি। মানুষ এ জমিনে আল্লাহর প্রতিনিধি। এ পৃথিবীর মালিক আল্লাহ রব্বুল আলামিন। আসমান জমিন এমনকি মানুষেরও মালিক হলেন আল্লাহ রব্বুল আলামীন।
হুকুমত আল্লাহর খেলাফত মানুষের
******************************
মানুষ এ পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। মালিকের ক্ষমতা আছে যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহনের। প্রতিনিধির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। মানুষ যেহেতু প্রতিনিধি এবং সে আল্লাহর প্রতিনিধি। কাজেই মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নেই। প্রতিনিধি হিসেবে তার কর্তব্য তাকে আল্লাহর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে।
মানুষের তার নিজের উপরও মালিকানা নেই। তার মালিক হলো আল্লাহ রব্বুল আলামিন। আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে তার দায়িত্ব আল্লাহর বিধি-বিধানকে সামনে রেখে জীবন পরিচালনা করা। সে নিজের উপর মালিকানা দাবি করবে না। একজন মানুষ তার ব্যক্তি জীবন পরিচালনা তার পরিবার পরিচালনা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করবে আল্লাহর হুকুমতকে সামনে রেখে।
যারা জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বিধি-বিধান মানে তাদেরকেই মুসলিম বলা হয়। মুসলিম শব্দের অর্থ আত্মসমর্পণ কারী। মুসলিম হলো তারা যারা নবীদের মাধ্যমে আসা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের বিধি-বিধানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
আল্লাহর প্রিয় বান্দা কারা
**********************
মালিকের কাছে তার ওই অধিনস্তদের মাঝে সবচেয়ে প্রিয় সেই ব্যক্তি যে মালিকের জন্য সবচাইতে বেশি নিবেদিত প্রাণ। মালিকের পরিকল্পনাকে যে বাস্তবায়ন করে। নিজে থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না। নিজ পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করে না। এই ধরনের অধীনস্থদের মালিক ভালোবাসেন। তার সুযোগ সুবিধার চিন্তা মালিক নিজে থেকেই করেন।
প্রিয় নবী আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বান্দা
*********************************
আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৃষ্টিকুলের মাঝে আল্লাহর সবচাইতে নিবেদিত প্রাণ বান্দা ছিলেন। স্বয়ং আল্লাহ রব্বুল আলামীন স্বীকৃতি দিচ্ছেন নবুওয়াত লাভের পর থেকে তিনি নিজ ইচ্ছায় একটি কথা পর্যন্ত বলেন নি। তিনি নিজেকে পূর্ণ আল্লাহর অধীন করে দিয়ে ছিলেন।
সুরা নাজম আয়াত ৩- ৪
আল্লাহ রব্বুল আলামীন এরশাদ করেন-
{ وَمَا یَنطِقُ عَنِ ٱلۡهَوَىٰۤ (3) إِنۡ هُوَ إِلَّا وَحۡیࣱ یُوحَىٰ (4) }
[Surah An-Najm: 3-4]
তার শিক্ষায় গড়ে উঠেছিল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মানুষ সাহাবায়ে কেরাম। তারা ছিলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জন্য পূর্ণ নিবেদিত প্রাণ। তারা ছিলেন আত্মসমর্পিত।
প্রিয় নবীর গড়ে তোলা সমাজ
*************************
প্রিয় নবীর নেতৃত্বে পৃথিবী থেকে অবসান হয়েছিল মানুষের উপর মানুষের প্রভুক্তের। মানুষের হুকুমতের কবর রচনা হয়েছিল। আর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আল্লাহর হুকুমত।
আমাদের প্রিয় নবী ঘোষণা করেছিলেন করেছিলেন তোমরা সবাই এক আদমের সন্তান। সাদার কালোর উপর অনারবের উপর আরবের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই।
তার এ দাওয়াত ছিল পৃথিবীর সাম্রাজ্যবাদী কায়েমী স্বার্থবাদী মানুষরূপী প্রভুক্তের দাবিদার সমস্ত শক্তির সাথে স্পষ্ট লড়াইয়ের ঘোষনা।
কালেমার অর্থ ছিল মানুষের প্রভুক্ত নেই। মানুষের উপর মানুষের কোন প্রভুক্ত নেই। সবাই আল্লাহর বান্দা। সকল মানুষের প্রভু এক আল্লাহ।
পৃথিবীতে মানুষের মালিকানা নেই
*****************************
আমরা মানুষ আমাদের নিজেদের মালিক নই। আমাদের পরিবারের মালিক নই। আমরা এ সমাজের মালিক নই। আমরা এ রাষ্ট্রের মালিক নই। মালিক হলেন আল্লাহ রব্বুল আলামিন। ঈমান গ্রহণের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর প্রতিনিধি।
আমরা আমাদের নিজেদের পরিচালনা করব নিজের মতো করে নয়। বরং আল্লাহর হুকুম মতো। আমরা আমাদের পরিবার পরিচালনা করব আল্লাহর হুকুম মতো। আমরা সমাজ রাষ্ট্র পরিচালনা করব নিজেদের মতো করে নয় বরং আল্লাহর হুকুম মত। এটা হল আল্লাহর জন্য নিবেদিত প্রাণ হওয়া।
মুমিন আল্লাহর জন্য নিবেদিত প্রাণ।
সূরা তওবা আয়াত 111
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন-
{ ۞ إِنَّ ٱللَّهَ ٱشۡتَرَىٰ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِینَ أَنفُسَهُمۡ وَأَمۡوَ ٰلَهُم بِأَنَّ لَهُمُ ٱلۡجَنَّةَۚ }
[Surah At-Tawbah: 111]
মানুষ যারা আল্লাহরদ্রোহী।
************************
যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা বিধি-বিধানের কাছে আত্মসমর্পণ করেনি তারা মুসলিম নয়। তারা মূলত বিদ্রোহী।
তারা তাদের জীবন পরিচালনায় আল্লাহর হুকুমতকে অস্বীকার করেছে। আর নিজেদের হুকুমতকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মানুষ যখন নিজের হুকুমতকে প্রতিষ্ঠিত করে এটা আল্লাহর সাথে বিদ্রোহ। এটা আল্লাহর ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করা।
আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য আজকের পৃথিবীতে মানুষের হুকুমত চলছে। আজ আমাদের ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে আমরা আল্লাহর বান্দা। আমাদের একজন মালিক আছেন। আমরা মালিককে ভুলে গেছি। আজ আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে মালিক মনে করছি।
আমরা মনে করছি আমাদের মালিক আমরাই। এটা ভুল চিন্তা ধারা। আমরা মনে করছি পরিবারের মালিক আমি। এটা ভুল চিন্তা ধারা। আমরা মনে করছি সমাজ রাষ্ট্রের আমরা মালিক। এটা ভুল চিন্তা ধারা। আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করছি। আমাদের দ্বারা মজলুম হচ্ছে আমাদের পরিবার। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি আমরা জুলুম করছি।
জ্ঞান অর্জন করা মানুষের জন্য ফরজ
******************************
আমাদের এই চিন্তাধারার পরিবর্তন প্রয়োজন। আমরা মালিক নই। এই পৃথিবীতে হুকুমত হলো আল্লাহর
আর খেলাফত হলো মানুষের। আমরা মানুষ যেহেতু আল্লাহর খালিফা আল্লাহর প্রতিনিধি। এজন্য আমাদেরকে আমাদের জীবনের প্রতিটি জ্ঞান অর্জন করতে হবে। জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে প্রতিটি কদম অগ্রসর হতে হবে।
সূরা জুমার আয়াত ৯
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন-
.{ قُلۡ هَلۡ یَسۡتَوِی ٱلَّذِینَ یَعۡلَمُونَ وَٱلَّذِینَ لَا یَعۡلَمُونَۗ إِنَّمَا یَتَذَكَّرُ أُو۟لُوا۟ ٱلۡأَلۡبَـٰبِ }
[Surah Az-Zumar: 9]
জ্ঞানের কারণেই ফেরেশতাদের ওপর আদমের শ্রেষ্ঠত্ব
***********************************************
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যখন হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করলেন। সৃষ্টির পর তার মাঝে জ্ঞান দিলেন। তারপর তাকে ফেরেশতাদের মুখোমুখি করলেন। এবং ফেরেশতাদের ওপর হযরত আদম আলাইহিস সালাম এর শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরলেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার আলোচনা তুলে ধরেছেন কোরআনে কারীমে
সূরা বাকারা আয়াত 31
আল্লাহ রব্বুল আলামীন এরশাদ করেন
{ وَعَلَّمَ ءَادَمَ ٱلۡأَسۡمَاۤءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمۡ عَلَى ٱلۡمَلَـٰۤىِٕكَةِ (31)
হযরত আদম আলাইহিস সালাম তার মূল্যবান জ্ঞানের মাধ্যমে ফেরেশতাদের ওপর যখন নিজে শ্রেষ্ঠত্ব উত্থাপন করলেন তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বললেন।
সূরা বাকারা আয়াত ৩৩
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন-
قَالَ أَلَمۡ أَقُل لَّكُمۡ إِنِّیۤ أَعۡلَمُ غَیۡبَ ٱلسَّمَـٰوَ ٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَأَعۡلَمُ مَا تُبۡدُونَ وَمَا كُنتُمۡ تَكۡتُمُونَ (33) }
জ্ঞান মানুষকে মর্যাদাবান করে
***************************
মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ত অর্জনে জ্ঞান অর্জন করা চাই। যেই জ্ঞানের মাধ্যমে মানুষ জানতে পারবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বিধি-বিধান। আর জ্ঞানের আলোকিত পথে সীরাতে মুস্তাকীমের পথে চলে সে দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা অর্জন করবে।
জান্নাত অর্জনের জন্য জ্ঞান অর্জন করতে হয়। সীরাতে মুস্তাকিম চিনতে হয়। জ্ঞান ছাড়া একজন মানুষ বিপথগামী হয়ে যায়। সীরাতে মুস্তাকিম থেকে সে বিচ্যুত হয়। জ্ঞানহীন একজন মানুষ তার সৃষ্টির লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে গাফেল থাকে। জ্ঞান মানুষকে সচেতন করে। এজন্য ইসলামে জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। প্রিয় নবীর প্রতি সর্বপ্রথম হুকুম হয়েছে জ্ঞান অর্জন করার গুরুত্ব নিয়ে।
আল্লাহর একত্ববাদের জ্ঞান অর্জন প্রথম ফরজ
****************************************
সর্বপ্রথম তৌহিদের জ্ঞান অর্জন করতে হবে। সর্বপ্রথম পরিচিত হতে হবে আল্লাহর সাথে। যিনি আমার প্রভু আমি যার বান্দা।
সূরা আল ইমরান আয়াত ৫১
আল্লাহ রব্বুল আলামীন এরশাদ করেন
{ إِنَّ ٱللَّهَ رَبِّی وَرَبُّكُمۡ فَٱعۡبُدُوهُۚ هَـٰذَا صِرَ ٰطࣱ مُّسۡتَقِیمࣱ }
[Surah Āli-ʿImrān: 51]
আল্লাহ প্রদত্ত বিধি-বিধানের জ্ঞান অর্জন ফরজ
*****************************************
প্রতিটি মুসলমানের জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। জীবনের চলার পথে আল্লাহর বিধি-বিধানগুলো সে জানবে। এই বিধি বিধান গুলো মেনে চলাই সীরাতে মুস্তাকিমে পথচলা।
সূরা আনআম আয়াত ১৫১-১৫৩
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের এরশাদ করেন
{ ۞ قُلۡ تَعَالَوۡا۟ أَتۡلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمۡ عَلَیۡكُمۡۖ أَلَّا تُشۡرِكُوا۟ بِهِۦ شَیۡـࣰٔاۖ وَبِٱلۡوَ ٰلِدَیۡنِ إِحۡسَـٰنࣰاۖ وَلَا تَقۡتُلُوۤا۟ أَوۡلَـٰدَكُم مِّنۡ إِمۡلَـٰقࣲ نَّحۡنُ نَرۡزُقُكُمۡ وَإِیَّاهُمۡۖ وَلَا تَقۡرَبُوا۟ ٱلۡفَوَ ٰحِشَ مَا ظَهَرَ مِنۡهَا وَمَا بَطَنَۖ وَلَا تَقۡتُلُوا۟ ٱلنَّفۡسَ ٱلَّتِی حَرَّمَ ٱللَّهُ إِلَّا بِٱلۡحَقِّۚ ذَ ٰلِكُمۡ وَصَّىٰكُم بِهِۦ لَعَلَّكُمۡ تَعۡقِلُونَ (151)
وَلَا تَقۡرَبُوا۟ مَالَ ٱلۡیَتِیمِ إِلَّا بِٱلَّتِی هِیَ أَحۡسَنُ حَتَّىٰ یَبۡلُغَ أَشُدَّهُۥۚ وَأَوۡفُوا۟ ٱلۡكَیۡلَ وَٱلۡمِیزَانَ بِٱلۡقِسۡطِۖ لَا نُكَلِّفُ نَفۡسًا إِلَّا وُسۡعَهَاۖ وَإِذَا قُلۡتُمۡ فَٱعۡدِلُوا۟ وَلَوۡ كَانَ ذَا قُرۡبَىٰۖ وَبِعَهۡدِ ٱللَّهِ أَوۡفُوا۟ۚ ذَ ٰلِكُمۡ وَصَّىٰكُم بِهِۦ لَعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُونَ (152)
وَأَنَّ هَـٰذَا صِرَ ٰطِی مُسۡتَقِیمࣰا فَٱتَّبِعُوهُۖ وَلَا تَتَّبِعُوا۟ ٱلسُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمۡ عَن سَبِیلِهِۦۚ ذَ ٰلِكُمۡ وَصَّىٰكُم بِهِۦ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ (153) }
[Surah Al-Anʿām: 151-153]
ঈমানের পথ না কুফরির পথ
*************************
কোরআনে কারীমের এই আয়াতগুলোর বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট। মানুষের চলার দুটি পথ।
একটি পথ হল আল্লাহর হুকুমত। আল্লাহর বিধি-বিধানকে সামনে রেখে সে তার জীবনকে পরিচালনা করবে। আর আরেকটা কথা হল সে তার স্বাধীন ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এ দুটি পথের মাঝে সে সীরাতে মুস্তাকিম আল্লার পছন্দনীয় মুক্তির পথ হল স্বাধীন ইচ্ছা শক্তিকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে মুসলিম হয়ে যাওয়া।
মানুষের হুকুমত কুফুরী। আল্লাহর সাথে বিদ্রোহ। এর ফলে একজন মানুষ দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই পথে কখনো কেহ বিজয়ে অর্জন করতে পারেনি। এবং ভবিষ্যতেও এ পথে কখনো কেহ বিজয় অর্জন করতে পারবেনা। কাজেই সেই পথ আমাদের পথ না। আসুন নিজেদেরকে মুক্তির পথের পথিক করি। আসুন নিজেকে সমর্পণ করি। সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রভুক্তকে স্বীকার করে দাসত্বের গুণে গুণান্বিত হই। এই পথে মুক্তি।
আমরা হব আল্লাহর জন্য সবচাইতে নিবেদিত প্রাণ আমাদের প্রিয় নবী ছিলেন সৃষ্টির মাঝে সবচাইতে নিবেদিত প্রাণ। সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন আল্লাহর জন্য নিবেদিত প্রাণ। আমাদের প্রধান পরিচয় আমরা আল্লাহর বান্দা।
মুমিন আর কাফের এক নয়
************************
মুমিনের জীবন নিয়ন্ত্রিত। অনুগত সৈনিকের মত। সে বিদ্রোহের মত যা খুশি তা করতে পারে না বলতে পারেনা। যেমন খুশি সেভাবে সাজতে পারেনা।
হাদিসের মাঝে এসেছে
একজন মুমিনের জন্য দুনিয়া হলো কারাগার। আর একজন কাফেরের জন্য জান্নাত।
কাফের যা খুশি তা করতে পারে। কিন্তু এর ফলাফল ভয়াবহ। তার জন্য মৃত্যু পরবর্তীতে আখেরাতের জীবনে রয়েছে একটি দুঃসংবাদ।
সূরা আহকাফ আয়াত 20
আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের এরশাদ করেন
{ وَیَوۡمَ یُعۡرَضُ ٱلَّذِینَ كَفَرُوا۟ عَلَى ٱلنَّارِ أَذۡهَبۡتُمۡ طَیِّبَـٰتِكُمۡ فِی حَیَاتِكُمُ ٱلدُّنۡیَا وَٱسۡتَمۡتَعۡتُم بِهَا فَٱلۡیَوۡمَ تُجۡزَوۡنَ عَذَابَ ٱلۡهُونِ بِمَا كُنتُمۡ تَسۡتَكۡبِرُونَ فِی ٱلۡأَرۡضِ بِغَیۡرِ ٱلۡحَقِّ وَبِمَا كُنتُمۡ تَفۡسُقُونَ }
[Surah Al-Aḥqāf: 20]
কিন্তু মুমিনের জীবন হবে বিপরীত। তাকে বলা হবে তোমার কষ্টের বিনিময়ে আজ শুধুই তোমার আনন্দ আর আনন্দ। এই আনন্দের শুরু আছে শেষ নেই।
সূরা হাক্কাহ আয়াত ২৪
আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ইরশাদ করেন
{ كُلُوا۟ وَٱشۡرَبُوا۟ هَنِیۤـَٔۢا بِمَاۤ أَسۡلَفۡتُمۡ فِی ٱلۡأَیَّامِ ٱلۡخَالِیَةِ }
[Surah Al-Ḥāqqah: 24]
আসুন অনন্তকালের শান্তির জন্য দুনিয়ার ছোট হায়াতটিকে আল্লাহর অধীন করে দেই। দুনিয়ার বিনিময় জান্নাতকে গ্রহণ করি।