মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি তার নামের মতোই প্রশংসিত

আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সৃষ্টি কুলের সেরা মানুষ তিনি। তিনি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সবচাইতে প্রিয় মানুষ প্রিয় সৃষ্টি। তার জীবনের সবকিছুই ছিল সৌন্দর্য ভরা। অনুসরণীয় অনুকরণীয় মন মাতানো। তার ভিতর বাহির গুপ্ত প্রকাশ্য সব ছিলো সৌন্দর্য ভরা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে নিজের মতো করে সাজিয়ে ছিলেন।

তিনি প্রশংসিত জীবনের সকল অঙ্গনে

*******************************

তার নাম মোহাম্মদ। অর্থ প্রশংসিত। তিনি সত্যিই ছিলেন প্রশংসিত। তিনি প্রশংসিত জীবনের সকল অঙ্গনে সকল বিভাগে। জন্মের পর মা আমিনার কোলে, তারপর ধাত্রী মা হালিমার ঘরে, নিজ দুধ ভাই-বোনদের মাঝে, মক্কায় ফিরে আসার পর নিজ আপনজনদের মাঝে, একান্ত অভিভাবক মক্কার সরদার খাজা আবু তালিব এর কাছে, সর্বত্রই তিনি ছিলেন প্রশংসিত।

জন্ম থেকে নবুয়ত পর্যন্ত তার ৪০ বছর কেটেছে মক্কায়। নিজ আপনজন আত্মীয়-স্বজন মক্কার বাসিন্দাদের কাছে তিনি ছিলেন প্রশংসিত। তিনি ছিলেন ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক জীবনে ব্যবসায়িক সফরে তিনি ছিলেন প্রশংসিত। তার নবুয়ত পূর্ব ৪০ বছরের জীবন প্রশংসিত। এই ৪০ বছর তার নবুয়াতের দলিল। মক্কাবাসীদের কারো কাছে তার অতীত জীবন সম্পর্কে কোন অভিযোগ ছিল না।

তার গোত্র তার পূর্বপুরুষরা ছিল প্রশংসিত

**********************************

তার বংশ গোত্র ছিল প্রশংসিত, তিনি সকলের কাছে ছিলেন শ্রদ্ধার পাত্র। তার দাদা আব্দুল মুত্তালিব ছিলেন সকলের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র, প্রশংসিত। তিনি ছিলেন হাশেমী। হাসেম ছিলেন কোরাইশদের কাছে মক্কার সকলের কাছে প্রশংসিত।

প্রিয় নবীজি গৌরব করে বলতেন আমি আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান। তিনি গৌরব করে বলতেন আনা ইবনুয জাবিহাইন। আমি আল্লাহর জন্য উৎসর্গিত নিবেদিত প্রাণ দুই মহান ব্যক্তির সন্তান।

তার পূর্বপুরুষ হাসেম ছিলেন অত্যন্ত দানশীল। একবার আর্থিক অনটনের কারণে বাইতুল্লার খাদেম মক্কার কুরাইশ গোত্র সিদ্ধান্ত নিল এবার হাজীদের মেহমানদারী করা তাদের দ্বারা সম্ভব না। আর হাসেম সিদ্ধান্ত নিলেন তার সমুদয় সম্পদ বিক্রি করে সে বছর হাজীদের মেহমানদারী তিনি একাই করবেন। প্রিয় নবীজি ছিলেন হাশেমের বংশধর।

ব্যবসায়িক কাজে হাশেমের মদিনা পাড়ি দিয়ে সিরিয়ায় ব্যাপক যাতায়াত ছিল। তিনি ইচ্ছা করবেন মদিনায় আত্মীয়তার সম্পর্ক করবেন। মদিনার সম্ভ্রান্ত গোত্রে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। বিয়ে করলেন সালমাকে। শ্বশুরালয়ের শর্ত ছিল মেয়ে বাবার বাসায় থাকবে। হাশিমের স্ত্রী সালমার বসবাস ছিল মদিনায়। সালমার গর্ভে হাশেমের এক সন্তান হয় তার নাম রাখা হয় শাইবাতুল হামদ।

হাশেমের ইন্তেকালের পর হাসিমের ভাই মুত্তালিব মক্কার সরদারি গ্রহণ করেন। তারপর তিনি পরিকল্পনা করেন ভাতিজাকে মক্কা নিয়ে আসবেন। এদিকে ভাবী সালমা কোন অবস্থাতেই সন্তানকে হাতছাড়া করতে রাজি না। আর মুত্তালিব যে কোন শর্তে ভাতিজাকে মক্কায় আনতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। একপর্যায়ে মুত্তালিব ভাবিকে রাজি করাতে সক্ষম হন। তিনি ভাতিজাকে সহ মক্কায় ফিরে আসেন।

মক্কাবাসীরা মুত্তালিবের সাথে এ যুবককে দেখে তাকে আব্দুল মুত্তালিব ডাকতে থাকে। তাদের ধারণা ছিল সে মুত্তালিবের গোলাম। মুত্তালিব তাদেরকে জানালেন এই ছেলে তার ভাতিজা। সকলের প্রিয় হাশেমের সন্তান, গোলাম বা দাস নয়। কিন্তু সকলের কাছে তিনি আব্দুল মুত্তালিব নামেই পরিচিত হয়ে যান।

মুত্তালিবের ইন্তেকালের পর হাসেমের সন্তান আব্দুল মুত্তালিবের কাছে মক্কার নেতৃত্ব চলে আসে। তিনি সকলের কাছেই ছিলেন ভক্তি ও শ্রদ্ধার মানুষ। তার মাধ্যমেই মক্কাবাসীরা জমজম কূপের সন্ধান পায়।

হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম শিশু পুত্র ইসমাইল এবং হযরত হাজেরাকে মক্কা উপত্যকায় রেখে চলে যান। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর কুদরতে সেখানে জমজম কূপ তৈরি হয়। এই কুপকে কেন্দ্র করে সেখানে জনবসতি গড়ে ওঠে। আরবের প্রসিদ্ধ জুরহোম গোত্র সেখানে এসে বসবাস শুরু করে। হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম এ গোত্রে বিবাহ করেন। একপর্যায়ে নানা অন্যায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় জুরহুম গোত্র মক্কাতে ছারতে বাধ্য হয়।

তারা যখন মক্কা ত্যাগ করতে বাধ্য হয় তখন জুরহুম গোত্রের সরদার কিছু মূল্যবান রত্ন অস্ত্র জমজম কূপে ফেলে কুপকে মাটি চাপা দেয়। জমজম কূপের নিশানা কারো জানা ছিল না। খাজা আব্দুল মুত্তালিব স্বপ্নের মাধ্যমে জমজম কূপের সন্ধান পান। তিনি স্বপ্নের মাঝে দেখতে পান একটি জায়গায় প্রচুর পিপড়া এবং একটি কাক সেখানে মাটি খুঁড়ছে এবং তাকে বলা হয় এখানেই জমজম অবস্থিত।

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে তিনি তার সন্তান হারিছকে সহ সেই জায়গা খুঁজে বের করেন। বাইতুল্লাহর খুবই কাছে তিনি সেই চিহ্নিত জায়গা খুড়তে শুরু করেন। মক্কাবাসীরা বাধা দেয় কারণ ঠিক সেই জায়গায় তারা মূর্তির নামে বিভিন্ন প্রাণীগুলোকে বলি দিত। কিন্তু খাজা আব্দুল মুত্তালিব অটল থাকেন। সামান্য কিছু অংশ খুড়ার পর জমজম কূপের সন্ধান পাওয়া যায়। এবং কিছু অস্ত্র এবং স্বর্ণের দুটি হরিণ উদ্ধার হয়। এভাবে খাজা আব্দুল মুত্তালিব মক্কাবাসীদের কাছে বিশেষ সম্মান এবং শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে ওঠেন।

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাবা আব্দুল্লাহ একজন নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তি ছিলেন। দাদা আব্দুল মুত্তালিব যখন জমজম কূপ খুড়তে যেয়ে বাধার সম্মুখীন হন তখন আল্লাহর সাথে ওয়াদায় আবদ্ধ হন আল্লাহ যদি তাকে দশ সন্তান দান করেন তাহলে একজন সন্তানকে তিনি আল্লাহর জন্য কোরবানি করবেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে দশ পুত্র সন্তান দান করলেন। এবার সে মান্নত পূরণের পালা।

দশ সন্তানকে ডেকে তিনি তার প্রতিজ্ঞার কথা জানালেন। সন্তানরা সম্মত হলে লটারির ব্যবস্থা করলেন। সেখানে কোরবানির জন্য প্রিয় নবীজির বাবা আব্দুল্লাহর নাম উঠে এলো। তিনি কোরবানির জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলেন। আব্দুল মুত্তালিব সকলের বাধার সম্মুখীন হলে মদিনার এক সাধকের দ্বারস্থ হন। এবং সে সাধকের দেয়া ফর্মুলা কে সামনে রেখে ১০০ উট কোরবানি করেন। এবং আব্দুল্লাহর জীবনকে রক্ষা করেন।

আর অপরদিকে প্রিয় নবীজির গোত্র কুরাইশ ছিল আল্লাহর জন্য নিবেদিত প্রাণ হযরত ইসমাইলের বংশধর। এজন্যই প্রিয় নবী গর্ব করে গৌরব করে বলতেন আমি আল্লাহর জন্য নিবেদিত প্রাণ দুইজন মহান ব্যক্তির সন্তান। আমাদের প্রিয় নবী তিনি ছিলেন সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর জন্য সবচাইতে নিবেদিত প্রাণদান বান্দা। তিনি সবসময় নিজের মাঝে দাসত্বের অনুভূতি জাগ্রত রেখে চলতেন।

তিনি আল্লাহর কাছে প্রশংসিত

**************************

তিনি মোহাম্মদ। প্রশংসিত দুনিয়াতে আখেরাতে, মানুষের কাছে আল্লাহর কাছে। স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর প্রশংসা করেছেন। তাকে নিয়ে মক্কার মুশরিক সমাজ যখন কুৎসা রটনা করেছে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে কারীমের আয়াত সূরা নাজিল করে তার জবাব দিয়েছেন।

কাফেররা যখন তার নবুওতি অস্বীকার করে তাকে কবি বলে প্রচার করল আল্লাহ জবাব দিলেন তিনি কবি নন। কাফেররা তাকে যখন পাগল বলে সম্বোধন করল আল্লাহ জবাব দিলেন তিনি পাগল নন। কাছেররা যখন তাকে গণক বলল আল্লাহ জবাব দিলেন তিনি গণক নন। কাফেররা যখন তাকে নির্বংশ বলল আল্লাহ জবাব দিলেন তিনি নির্বংশ নন। কাফেররা যখন তাকে বলল তিনি নবী নন। আল্লাহ কুরআনে কারীমের কসম খেয়ে কাফেরদের উত্তর দিলেন অবশ্যই তিনি আল্লাহর রাসুল।

মুনাফেক ও দুশমনটা যখন তাকে কষ্ট দিলো তার জবাবে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার মর্যাদার আলোচনা তুলে ধরলেন –

তিনি সৃষ্টির সেই মহামানব আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সার্বক্ষণিক যার প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের একদল ফেরেশতা তার মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে থাকে। এই হল তার মর্যাদা। কাফেররা ষড়যন্ত্র করে কুৎসা রটনা করে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে কারীমে মুমিনদেরকে লক্ষ্য করে আহ্বান করেছেন তোমরা তার প্রতি সর্বোচ্চ মহব্বত ও ভালোবাসার দুরূদ ও সালাম পেশ করো।

তিনি ছিলেন প্রশংসিত চরম শত্রুদের কাছেও-

**************************************

তৎকালীন পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী সাম্রাজ্য রোমান সাম্রাজ্য। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বিসমিল্লাহ লিখে রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছে চিঠি লিখলেন।

চিঠি পেয়ে হিরাক্লিয়াস তখন আরবের মানুষের খোঁজ লাগালেন। এদিকে মক্কার কুরাইশ সরদার আবু সুফিয়ান বাণিজ্যিক কাফেলা নিয়ে তখন সিরিয়াতে অবস্থান করছিলেন। সম্রাট তাদেরকে দরবারে আসার জন্য নির্দেশ দেন।

রোম সম্রাট সর্বপ্রথম আবু সুফিয়ানকে জিজ্ঞেস করলেন, যিনি নবী বলে দাবী করছেন তাঁর বংশ কেমন?

আবু সুফিয়ান : তিনি আমাদের মধ্যে সম্ভ্রান্ত বংশগত।

সম্রাট : তাঁর পূর্বে তোমাদের মধ্য হতে কোন ব্যক্তি কখনও এমন কথা বলেছে কি?

আবু সুফিয়ান : না।

সম্রাট : তাঁর পিতৃপুরুষগণের মধ্যে কেউ বাদশাহ ছিলেন কি?

আবু সুফিয়ান : না।

সম্রাট : প্রভাবশালী লোকেরা তাঁর অনুসরণ করছে, না দুর্বল লোকেরা?

আবু সুফিয়ান : দরিদ্র ও দুর্বল শ্রেণীর লোকগুলো।

সম্রাট : তাদের সংখ্যা কি দিন দিন বাড়ছে, না কমছে?

আবু সুফিয়ান : না, বরং বাড়ছে।

সম্রাট : তাদের মধ্যে কেউ কি সেই দ্বীনে প্রবেশ করার পর তাঁর দ্বীনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে তা ত্যাগ করে থাকে?

আবু সুফিয়ান : না।

সম্রাট : সে নবুয়ত লাভের পূর্বে কি তোমরা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলে অপবাদ দিতে?

আবু সুফিয়ান : না।

সম্রাট : তিনি কখনো কোন অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছেন কি?

আবু সুফিয়ান : না।

সম্রাট : তোমরা কি তাঁর সাথে কোন যুদ্ধ করেছ?

আবু সুফিয়ান : হ্যাঁ।

সম্রাট : যুদ্ধের ফলাফল কি?

আবু সুফিয়ান : তাঁর ও আমাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত যুদ্ধের ফলাফল হল, “বালতিতে পালাক্রমে পানি তোলার ন্যায়। অর্থাৎ কোনটায় তিনি জয় লাভ করেন এবং কোনটায় আমরা।”

সম্রাট : তিনি তোমাদেরকে কি নির্দেশ দিয়ে থাকেন?

আবু সুফিয়ান : তিনি বলেন, তোমরা একমাত্র আল্লাহ্‌র ইবাদত কর। তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না। আর তোমরা তোমাদের বাপ-দাদারা যা বলে বেড়াত, তা পরিত্যাগ কর। তিনি আমাদেরকে সালাত প্রতিষ্ঠা করতে, সর্বদা সত্য কথা বলতে, অশ্লীল ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে দূরে থাকতে এবং আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখতে বলেন।

এই ছিল রোম সম্রাট এর দরবারে আবু সুফিয়ানের স্বীকারোক্তি। এই আবু সুফিয়ান ছিল বদর পরবর্তী প্রতিটি যুদ্ধে কাফেরদের লিডার। রোম সম্রাট এর কাছে প্রিয় নবীর ব্যাপারে মিথ্যা তথ্য দেয়া তার দ্বারাও সম্ভব হয়নি। কারণ তিনি সত্যগতভাবেই প্রশংসিত।

জীবনসঙ্গিনী স্ত্রীর কাছে তিনি ছিলেন প্রশংসিত

****************************************

নিজ ঘরে স্ত্রীদের কাছে প্রিয় নবীজি ছিলেন প্রশংসিত। মহান এক মানুষ। তিনি নবুয়ত লাভ করার পর সর্বপ্রথম স্ত্রী খাদিজা তার প্রতি ঈমান গ্রহণ করেন। সর্বপ্রথম ওহি অবতীর্ণ হওয়ার পর হেরার চূড়া থেকে নবীজি (সা.) ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ফেরার পর হযরত খাদিজা (রা.) ঐতিহাসিক পাঁচটি বাক্য দ্বারা রাসুল (সা.)-কে সাহস যুগিয়ে ছিলেন।

১/ আপনি আত্মীয়তার হক রক্ষা করেন।

নবুয়ত-প্রাপ্তির আগেই রাসুল (সা.)-এর মাঝে এই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিল যে তিনি আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতেন। আর খাদিজা (রা.) জানতেন, যাদের মাঝে এই গুণ আছে তাদের আল্লাহ তাআলা কখনো ধ্বংস করতে পারেন না। তাই তিনি রাসুল (সা.)-এর এই গুণ উচ্চারণ করে রাসুলকে শক্তভাবে সাহস যুগিয়েছেন।

২/ আপনি দুর্বলদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন

প্রিয় নবী (সা.) ছোটবেলা থেকেই সমাজে যারা দুর্বল, অসহায়, আর বিপন্ন রয়েছে, তাদের প্রতি ছিলেন ভিন্ন রকম। তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা, তাদের বিভিন্ন দায়িত্ব গ্রহণ করার ব্যাপারে রাসুল (সা.) সোচ্চার ছিলেন। খাদিজা (রা.) রাসুলকে রাসুলের সেই মহান গুণের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন।

৩/ আপনি সত্য কথা বলেন

খাদিজা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে তাঁর সততা-আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন যে আপনি জীবনে কারো সঙ্গে মিথ্যা কথা বলেননি। আপনি সত্যবাদী আল্লাহ আপনাকে কখনো ধ্বংস করতে পারেন না।

৪/ আপনি অতিথিপরায়ণ

মেহমানদারি অতিথি প্রধানত এমন গুণ, যা মানুষকে মনুষ্যত্বের শ্রেষ্ঠ শিখরে নিয়ে যায়। বিশ্বনবীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল, মেহমানকে আদর-সমাদরের সঙ্গে আপ্যায়ন করা। আরবদের মধ্যে অতিথিপরায়ণ হিসেবে তিনি ছিলেন সবার ঊর্ধ্বে। তাঁর দরবারে কোনো মেহমান এলে তিনি সমাদর ও মর্যাদার সঙ্গে আপ্যায়ন করতেন। তার সেবা-যত্নে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করতেন না।

৫/ আপনি দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন

সমাজে যারা বঞ্চিত, নিপীড়িত তাদের প্রতি ছিলেন রাসুল (সা.)-এর সজাগ দৃষ্টি। সত্যের পথে আগত লোকদের বিপদাপদে সাহায্য করে থাকেন। এসব গুণ ভালো মানুষ ব্যতীত অন্য কারো মাঝে থাকে না।

হযরত খাদিজা (রা.) রাসুল (সা.) দেখেছিলেন বিয়ের পূর্বে বিয়ের পরে। বিবাহ পূর্ব তার ব্যবসায়িক লেনদেন তিনি প্রিয় নবীজির সাথে করেছিলেন। তারপর বিবাহ পরবর্তী জীবন। খুব কাছ থেকে তিনি প্রিয় নবীকে দেখেছেন। এবং সর্বপ্রথম তিনি ঈমানও এনেছিলেন। এটা প্রিয় নবীজির জীবনের অন্যতম একটি সাফল্য ছিল। তিনি স্ত্রীদের কাছেও ছিলেন প্রশংসিত।

ইহুদি সমাজের কাছে তিনি ছিলেন প্রশংসিত

**********************************

তিনি ছিলেন সকলের অত্যন্ত প্রিয়জন। রহমাতুল্লিল আলামিন। মদিনায় প্রচুর পরিমাণে ইহুদীদের বসবাস ছিল। ছোট ছোট ইহুদী বাচ্চারাও প্রিয় নবীজির ভালোবাসা নিতে আসতো। ওযুর সময় তার পানি এনে দিত এক ইহুদীর সন্তান।

তাকে ভালোবাসা ঈমানের অংশ

**************************

তিনি মোহাম্মদ। ‌ জীবনের সকল কাজে কর্মে তিনি প্রশংসিত। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। ‌ সকল কাজে অনুস্মরণীয় অনুকরণীয়। আমাদের সৌভাগ্য আমরা তার উম্মত। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। আমাদের তার সাথে ভালোবাসা তৈরি করতে হবে। সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ এ মানুষকে জানতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই পৃথিবীবাসীর জন্য তাকে আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

আমাদের কাজগুলো তার মত হলে এটা আল্লাহর কাছে প্রিয় হবে। আমাদের কাজগুলো তার মত হলে এটা এবাদত হবে। এটা আমাদের জন্য কত আনন্দের বিষয় আমরা তার অনুসরণে পূর্ণ জীবনকে এবাদত নয় করে গড়ে তুলতে পারবো। আমরা যদি তার পরিচয় পাওয়ার পর তার অনুসরণ অনুকরণ না করে ভিন্ন পথে চলি তাহলে এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের মাঝে তার প্রিয় নবীর ভালোবাসা দান করুন। আমরা যেন সবচাইতে বেশি ভালোবাসি তাকে। তাকে যত বেশি ভালোবাসবো আমাদের ঈমান তত মজবুত হবে। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন।

Scroll to Top