মদিনার অবস্থানের প্রতিটি মুহূর্ত হোক আখিরাতের পুঁজি। মদিনায় পৌঁছা নিঃসন্দেহে আল্লাহর এক মহান নেয়ামত। এটি এমন একটি নেয়ামত, যার জন্য কোটি কোটি মানুষ আকাঙ্ক্ষা করে। কত মানুষ দোয়া করে।কত মানুষ কাঁদে। কত মানুষ জীবনভর অপেক্ষা করে।
কিন্তু সবাই সেই সৌভাগ্য লাভ করে না।
আল্লাহ যখন কাউকে তাঁর হাবীব ﷺ-এর শহরে পৌঁছে দেন, তখন এটি শুধু একটি সফর নয়; এটি একটি সম্মান, একটি নির্বাচন, একটি বিশেষ মেহেরবানী।
কিন্তু একটি বিষয় গভীরভাবে মনে রাখতে হবে মদিনায় পৌঁছা বড় নেয়ামত, কিন্তু তার চেয়েও বড় বিষয় হলো মদিনার সময়গুলো কিভাবে কাটানো হচ্ছে। কারণ আখিরাতে শুধু এই প্রশ্ন হবে না যে, “তুমি মদিনায় গিয়েছিলে কি না?”
বরং প্রশ্ন হবে মদিনায় গিয়ে তুমি কী অর্জন করে এনেছ। কত মানুষ মদিনায় যায়। একই মসজিদে নামাজ পড়ে। একই রওজায় সালাম দেয়। একই আকাশের নিচে হাঁটে। একই বাতাসে শ্বাস নেয়।
কিন্তু সবাই সমান হয়ে ফিরে আসে না।
কেউ কয়েকদিন অবস্থান করে এমন সম্পদ নিয়ে ফিরে আসে, যা তার সারা জীবনের জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়। তার নামাজ বদলে যায়। তার কুরআনের সাথে সম্পর্ক বদলে যায়। তার অন্তর বদলে যায়। তার চিন্তা বদলে যায়। তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়।
মদিনা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সে ফিরে আসে নতুন মানুষ হয়ে। আর কেউ একই মদিনায় থেকে ফিরে আসে প্রায় খালি হাতেই। মসজিদ দেখেছে, কিন্তু মসজিদের শিক্ষা নেয়নি। রওজা দেখেছে, কিন্তু নবীর সুন্নাহ গ্রহণ করেনি। দরূদ পড়েছে, কিন্তু হৃদয়ে ভালোবাসা জাগেনি। সালাম দিয়েছে, কিন্তু জীবনে পরিবর্তন আনেনি। তাই মদিনার প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্যবান মনে করতে হবে।
প্রতিটি ফজরকে শেষ ফজর মনে করতে হবে। প্রতিটি সালামকে শেষ সালাম মনে করতে হবে। প্রতিটি সিজদাকে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সিজদা মনে করতে হবে।
কারণ কে জানে আর কখনো এই সুযোগ হবে কি না?
মদিনা ভ্রমণের জায়গা নয়। মদিনা পরিবর্তনের জায়গা। মদিনা কেনাকাটার জায়গা নয়। মদিনা আত্মশুদ্ধির জায়গা। মদিনা শুধু দেখার জায়গা নয়।মদিনা অনুভব করার জায়গা। মদিনা শুধু স্মৃতি নিয়ে ফেরার জায়গা নয়। মদিনা এমন সম্পদ নিয়ে ফেরার জায়গা, যা মৃত্যুর পরও উপকার করবে।
অনেক মানুষ সফর শেষে স্যুটকেস ভর্তি করে নিয়ে আসে। কাপড় নিয়ে আসে। খেজুর নিয়ে আসে।
আবায়া নিয়ে আসে। উপহার নিয়ে আসে।
কিন্তু প্রকৃত প্রশ্ন হলো হৃদয় কতটুকু ভরে এনেছি?
কতটুকু তাকওয়া নিয়ে ফিরেছি? কতটুকু দরূদ নিয়ে ফিরেছি? কতটুকু কুরআনের ভালোবাসা নিয়ে ফিরেছি? কতটুকু সুন্নাহর অনুসরণ নিয়ে ফিরেছি?
কতটুকু তওবা নিয়ে ফিরেছি? কতটুকু অশ্রু নিয়ে ফিরেছি?
কারণ একজন সফল মদিনা-যাত্রী সেই ব্যক্তি নয়, যে সবচেয়ে বেশি ছবি তুলেছে। সফল সেই ব্যক্তি, যে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তিত হয়েছে। সফল সেই ব্যক্তি, যার অন্তরে মদিনা স্থায়ী হয়ে গেছে। সফল সেই ব্যক্তি, যে ফিরে এসে মানুষকে বলে না আমি মদিনা দেখে এসেছি।
বরং যার জীবন সাক্ষ্য দেয় মদিনা আমাকে বদলে দিয়েছে। তাই মদিনায় অবস্থানের প্রতিটি মুহূর্তে নিজেকে স্মরণ করাতে হবে এটি বেড়ানোর সময় নয়।
এটি আখিরাত গড়ার সময়। এটি গল্প করার সময় নয়।
এটি আল্লাহর কাছে ফিরে আসার সময়। এটি দুনিয়া সংগ্রহের সময় নয়। এটি জান্নাতের পুঁজি সংগ্রহের সময়।
আর যে ব্যক্তি এই উপলব্ধি নিয়ে মদিনায় অবস্থান করে, তার জন্য মদিনার প্রতিটি মিনিট, প্রতিটি দরূদ, প্রতিটি সিজদা, প্রতিটি অশ্রুবিন্দু এবং প্রতিটি দোয়া আখিরাতের জন্য এক অমূল্য সম্পদে পরিণত হয়।
প্রশ্ন হলো মদিনায় অবস্থানের সর্বোত্তম আমল কী?
১. বিশেষ আমল মদিনায় অবস্থানের দিনগুলো যতটা সম্ভব প্রিয় রাসুলের মসজিদে নববীতে অবস্থান করা। রওযা পাকের সামনে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা। দীর্ঘ সময় বসে মহাব্বতের দরুদ এবং সালাম পেশ করা।
২. নামাজ, নামাজ এবং নামাজ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
صَلَاةٌ فِي مَسْجِدِي هَذَا خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ إِلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامِ
আমার এই মসজিদে এক নামাজ অন্য মসজিদের এক হাজার নামাজের চেয়েও উত্তম, মসজিদুল হারাম ব্যতীত। (বুখারী, মুসলিম)
এক হাজার নামাজ! একদিনের নয়। এক মাসের নয়।প্রায় আড়াই-তিন বছরের নামাজের সমান।
তাহলে চিন্তা করুন একজন মানুষ যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত মসজিদে নববীতে আদায় করে, সে কী পরিমাণ সওয়াব অর্জন করছে!
এ কারণেই সালাফে সালেহীন মদিনায় এসে সময়ের হিসাব রাখতেন। নামাজের অপেক্ষায় থাকতেন। এক জামাত শেষ হলে পরের জামাতের অপেক্ষা করতেন।
অনেক বুযুর্গের ব্যাপারে উল্লেখ পাওয়া যায়, তারা মসজিদে নববী থেকে বের হতেন শুধু প্রয়োজনের সময়। কারণ তারা জানতেন এখানে প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান।
আজ আমরা কী করি? নামাজ পড়েই বাজারে দৌড়াই। নামাজ পড়েই হোটেলে ফিরে যাই। নামাজ পড়েই মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাই। কিন্তু প্রকৃত লাভবান সেই ব্যক্তি, যার হৃদয় মসজিদের সঙ্গে আটকে যায়।
মদিনায় থাকা অবস্থায় নামাজকে সবচাইতে গুরুত্ব দিতে হবে। নামাজ হতে হবে মসজিদে নববীতে জামায়াতের সাথে। কোন অবস্থায় এই নামাজ ছাড়া যাবেনা।
৩. কুরআন তিলাওয়াত। মদিনা কুরআনের শহর। এই শহরের বাতাসে কুরআনের ইতিহাস মিশে আছে। এই শহরে জিবরীল আলাইহিস সালাম অবতরণ করেছেন।
এই শহরে অসংখ্য আয়াত নাযিল হয়েছে। এই শহরে রাসূল ﷺ সাহাবীদের কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। তাই মদিনায় বসে কুরআন পড়া শুধু তিলাওয়াত নয়। এটি ইতিহাসের সঙ্গে সংযোগ। এটি ওহীর সঙ্গে সংযোগ।এটি নবুওয়তের স্মৃতির সঙ্গে সংযোগ। অনেক বুযুর্গ মদিনায় গিয়ে কুরআন খতমকে সবচেয়ে বড় কাজ মনে করতেন।
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.)-এর ব্যাপারে বর্ণিত আছে, তিনি হারামাইন শরীফাইনে অবস্থানের সময় অধিকাংশ সময় কুরআন, যিকির ও ইবাদতে ব্যয় করতেন।
অনেক আলেম মদিনায় এসে দিনের পর দিন শুধু কুরআন নিয়ে বসে থাকতেন। কারণ তারা বুঝতেন যে শহরে কুরআনের আলো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে কুরআনের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি সময় কাটানো উচিত।
কাজেই মসজিদে নববীতে বসে অন্তত এক খতম কুরআনের কারীম তেলাওয়াত করুন। কুরআনের সাথে সম্পর্ক তৈরি করুন। কুরআন নিয়ে ব্যস্ত থাকুন।
৪. দরূদ শরীফ। মদিনায় সবচেয়ে সুন্দর আমলগুলোর একটি হলো দরূদ শরীফ। কারণ এটি রাসূল ﷺ-এর শহর। এটি তাঁর স্মৃতির শহর। এটি তাঁর ভালোবাসার শহর। তাই ঠোঁট যেন শুকনো না থাকে। বারবার পড়ুন
اللهم صل على محمد وعلى آل محمد
রাসূল ﷺ বলেছেন—
مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا
“যে আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন।”
মদিনায় হাঁটছেন? দরূদ পড়ুন। মসজিদে বসে আছেন?দরূদ পড়ুন। রওজার দিকে যাচ্ছেন? দরূদ পড়ুন।ঘুমাতে যাচ্ছেন? দরূদ পড়ুন।অনেক বুযুর্গের অভ্যাস ছিল, মদিনায় অবস্থানের পুরো সময়টাকে দরূদের মৌসুম বানিয়ে দেওয়া। রওজা শরীফের কাছে দাঁড়িয়ে মহাব্বতের দুরুদ এবং সালাম পেশ করুন। রাসুলের মদিনার থেকে রসুলের প্রতি মহাব্বত নিয়ে আসুন।
৫. সীরাত অধ্যয়ন। অনেক মানুষ মদিনায় গিয়ে শুধু স্থাপনা দেখে। কিন্তু ইতিহাস দেখে না। এটি বড় ক্ষতি।
মদিনা বুঝতে হলে সীরাত পড়তে হবে। এজন্য উহুদে দাঁড়িয়ে উহুদ পড়ুন। খন্দকের স্থানে দাঁড়িয়ে খন্দক পড়ুন। মসজিদে নববীতে বসে হিজরতের ঘটনা পড়ুন।
রিয়াযুল জান্নাহতে বসে নববী যুগ কল্পনা করুন। তখন মদিনা আপনার কাছে জীবন্ত হয়ে উঠবে।
মদিনায় অবতীর্ণ সূরা গুলো প্রেক্ষাপট সহ পড়ুন। মদিনাকে জানার চেষ্টা করুন। আনসারীদের ত্যাগ ভালোবাসার ইতিহাস পড়ুন। মুহাজিরদের হিজরতের গল্প পড়ুন। আজকের বর্তমান মদিনার স্থাপনার সাথে নয় ১৪শত বছর আগের মদিনার ইতিহাস দেখে মদিনার ভালোবাসায় আপ্লুত হোন।
আপনি রাস্তা দেখবেন না। আপনি ইতিহাস দেখবেন।
আপনি দেয়াল দেখবেন না। আপনি নবুওয়তের স্মৃতি দেখবেন। ইমাম মালেক (রহ.) মদিনার পথে চলার সময়ও নবীর শহরের প্রতি এমন সম্মান প্রদর্শন করতেন যে, অকারণে উচ্চস্বরে কথা বলা পর্যন্ত পছন্দ করতেন না। কারণ তিনি বুঝতেন এটি সাধারণ শহর নয়।
৬. নফল ইবাদত, কান্না ও দোয়া
মদিনা: নতুন জীবন শুরু করার শহর। মদিনা শুধু দেখার জায়গা নয়। মদিনা শুধু যিয়ারতের জায়গা নয়।
মদিনা বদলে যাওয়ার জায়গা। মদিনা নিজের সঙ্গে নিজের হিসাব নেওয়ার জায়গা। মদিনা নতুন জীবন শুরু করার জায়গা।
অনেক মানুষ পৃথিবীর নানা শহরে যায়। সেখানে গিয়ে আনন্দ খোঁজে। বিনোদন খোঁজে। স্মৃতি খোঁজে। কিন্তু মদিনায় আসা মানুষ আসলে নিজেকেই খুঁজতে আসে।
নিজের হারিয়ে যাওয়া হৃদয়কে খুঁজতে আসে। নিজের দুর্বল ঈমানকে খুঁজতে আসে। নিজের রবের সাথে হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ককে পুনরুদ্ধার করতে আসে।
মদিনায় অবস্থানের সবচেয়ে মূল্যবান সময়গুলোর একটি হলো রাতের সময়। যখন মানুষের ভিড় কমে যায়।যখন দুনিয়ার কোলাহল স্তব্ধ হয়ে আসে। যখন মসজিদে নববীর আলোয় এক অন্যরকম প্রশান্তি নেমে আসে।
সেই সময় মসজিদের এক কোণে বসুন। তাড়াহুড়ো করবেন না। মোবাইল দূরে রাখুন। মানুষের গল্প থেকে দূরে থাকুন। নিজের হৃদয়ের দরজা খুলে দিন। তারপর নিজের জীবনের দিকে তাকান।
একটি একটি করে বছর স্মরণ করুন। কত বছর চলে গেল! কত দ্রুত চলে গেল! শৈশব চলে গেল। যৌবন চলে গেল। জীবনের কত সুন্দর সময় চলে গেল।
কিন্তু আল্লাহর জন্য আমি কী নিয়ে দাঁড়াব? কত ফজর ঘুমিয়ে নষ্ট করেছি? কত নামাজ অবহেলায় ছেড়ে দিয়েছি? কত রমজান চলে গেছে প্রকৃত পরিবর্তন ছাড়া? কত কুরআন পড়ার সুযোগ হারিয়েছি? কত দোয়া না করেই দিন পার করেছি?
কত গুনাহকে ছোট মনে করেছি? কত মানুষের হক নষ্ট করেছি? কত অহংকার করেছি? কত গীবত করেছি?
কতবার আল্লাহ ডাক দিয়েছেন, অথচ আমি সাড়া দিইনি? কতবার মৃত্যু আমার সামনে দিয়ে চলে গেছে, অথচ আমি শিক্ষা নিইনি?
এভাবে যখন একজন মানুষ নিজের জীবনের হিসাব নিতে শুরু করে, তখন তার হৃদয় নরম হয়ে আসে।চোখ ভিজে আসে।বুক ভারী হয়ে আসে।তখন সে বুঝতে পারে—
সবচেয়ে বড় সমস্যা দুনিয়ার নয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা আমার নিজের অন্তরের। সবচেয়ে বড় ক্ষতি সম্পদের নয়। সবচেয়ে বড় ক্ষতি সেই সময়গুলোর, যা আল্লাহর অবাধ্যতায় নষ্ট হয়ে গেছে।
তখন সে হাত তুলে বলে হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ফিরে এসেছি। আমি অনেক দেরি করেছি।
অনেক ভুল করেছি। অনেক অবহেলা করেছি।
কিন্তু আজ আমি আপনার হাবীব ﷺ-এর শহরে বসে আপনার কাছেই ফিরে আসতে চাই। আমাকে ফিরিয়ে দেবেন না। আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমার অতীতকে মাফ করে দিন। আমার বাকি জীবনটাকে সুন্দর করে দিন।
সালাফে সালেহীন ও আল্লাহওয়ালা বুযুর্গদের জীবনী পড়লে দেখা যায়, মদিনায় এসে তাদের হৃদয় আরও বেশি নরম হয়ে যেত। তারা মদিনাকে শুধু একটি শহর হিসেবে দেখতেন না। তারা এটিকে দেখতেন নবুওয়তের স্মৃতি হিসেবে।
রাসূল ﷺ-এর পদচিহ্নের স্মৃতি হিসেবে। সাহাবীদের ত্যাগের স্মৃতি হিসেবে। তাই তাদের চোখে অশ্রু আসত।
তাদের হৃদয় কেঁপে উঠত। অনেক বুযুর্গ বলতেন যে ব্যক্তি মদিনায় গিয়ে কাঁদতে পারে না, তার অন্তরকে আরও নরম করার প্রয়োজন আছে। এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক মানুষকে বাহ্যিকভাবে কান্না করতেই হবে।
বরং এর অর্থ হলো মদিনা এমন একটি স্থান, যেখানে হৃদয় জাগ্রত হয়ে ওঠে। অন্তর নরম হয়ে যায়। মানুষ নিজের দুর্বলতা অনুভব করে। মানুষ নিজের গুনাহ অনুভব করে।
মানুষ রাসূল ﷺ-এর প্রতি নিজের ভালোবাসা অনুভব করে। আর যখন এই অনুভূতি জাগে, তখন চোখের পানি আপনাআপনি বের হয়ে আসে। কারণ এই শহরের বাতাসই মানুষকে কাঁদাতে পারে। এই শহরের স্মৃতিই হৃদয়কে গলিয়ে দিতে পারে।
এই শহরের পথঘাট মানুষকে চৌদ্দশত বছর পেছনে নিয়ে যেতে পারে। এই শহরের রাত মানুষকে নিজের হিসাব নিতে বাধ্য করতে পারে।এই শহরের নীরবতা মানুষকে আল্লাহর সামনে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।
আর যদি কোনো হৃদয় সত্যিকার অর্থে মদিনাকে অনুভব করতে পারে, তবে সে হৃদয় আগের মতো থাকে না। সে হৃদয় বদলে যায়।সে হৃদয় নরম হয়ে যায়।্যসে হৃদয় আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।
এবং সে হৃদয় সংকল্প করেঋযে জীবন এতদিন গাফেলতিতে কেটেছে, এখন থেকে তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাটাব।
কারণ মদিনার সবচেয়ে বড় উপহার খেজুর নয়।জমজম নয়। মদিনার সবচেয়ে বড় উপহার হলো একটি পরিবর্তিত হৃদয়। একটি তওবাকারী হৃদয়।একটি নবীর প্রেমে জাগ্রত হৃদয়। একটি হৃদয়, যা নতুন করে আল্লাহর পথে চলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিরে আসে।