মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো একজন মানুষ কেন বেঁচে থাকে? শুধু নিজের জীবিকা উপার্জনের জন্য? শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের জন্য? শুধু একটি পদ-পদবি পাওয়ার জন্য? নাকি এর চেয়েও বড় কোনো উদ্দেশ্য আছে? এ বিষয়টি প্রতিটি ব্যক্তিকে ভাবা চাই।
এই পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ এসেছে এবং চলে গেছে। এই পৃথিবীতে তাদের কিছু নেই। এর বিপরীতে কিছু মানুষ আছে যারা পৃথিবীতে তাদের প্রভাব রেখে গেছে। তারা কেবল নিজেদের জীবন গড়েনি; তারা মানুষ গড়েছে, সমাজ গড়েছে, সভ্যতা গড়েছে। এজন্য পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার পরও তাদের নাম পৃথিবীতে আছে।
আমরা আলোচনা করবো সেই মানুষদের নিয়ে, যারা স্বপ্ন দেখে। সেই মানুষদের নিয়ে যারা দায়িত্ব গ্রহণ করে। সেই মানুষদের নিয়ে, যারা নিজেকে নেতৃত্বের যোগ্য করে তোলে। যারা এ পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার পরও তারা এই পৃথিবীতে আছে।
মানুষকে প্রথম জানতে হবে পরিচয়। মানুষের প্রধান পরিচয় হলো সে আল্লাহর প্রতিনিধি। মানুষকে নিয়ে কুরআনের প্রথম দিকের ঘোষণাগুলোর একটি হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এরশাদ করেছেন
إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً
“আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।” (সূরা বাকারা: ৩০)
কাজেই মানুষের পরিচয় শুধু পৃথিবীর ভোগকারী নয়।
মানুষের পরিচয় মানুষ পৃথিবীর নির্মাতা। সে সৃষ্টিকর্তার প্রতিনিধি। মানুষের পরিচয় সে দায়িত্বশীল সত্তা। মানুষের পরিচয় সে পরিবর্তনের বাহক।
আজকের পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় সংকট সম্পদের অভাব নয়। সবচেয়ে বড় সংকট হলো উদ্দেশ্যহীনতা।
কোটি কোটি মানুষ আর লক্ষ্য নির্ধারণে অজ্ঞ। মানুষ জানে কীভাবে জীবিকা অর্জন করতে হয়, কিন্তু জানে না কেন বেঁচে আছে। সে সম্পদ উপার্জন করছে
কিন্তু সে জানে না এর সম্পত্তি সে কোথায় কিভাবে খরচ করবে।
স্বপ্ন ছাড়া মানুষ বড় হতে পারে না
****************************
একটি কথা খুব সহজভাবে বলা যায় যে মানুষ স্বপ্ন দেখে না, সে বড় কিছু করার শক্তিও খুঁজে পায় না।
একজন কৃষক যখন বীজ বপন করেন, তখন তিনি শুধু একটি বীজ দেখেন না; তিনি ভবিষ্যতের ফসল দেখেন।একজন বাবা-মা যখন সন্তানকে স্কুলে পাঠান, তখন তারা শুধু আজকের ক্লাস দেখেন না; তারা সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন। একজন ছাত্র যখন বই খুলে বসে, তখন সে শুধু একটি অধ্যায় পড়ে না সে তার আগামী দিনের জীবন গড়ার প্রস্তুতি নেয়।
অর্থাৎ প্রতিটি বড় কাজের শুরু হয় একটি স্বপ্ন থেকে।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, পৃথিবীর বড় বড় পরিবর্তন হঠাৎ করে ঘটেনি।
প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনে ছিল একজন মানুষের স্বপ্ন, একটি বিশ্বাস, একটি লক্ষ্য। যারা পৃথিবীকে বদলেছেন, তারা অন্যদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী ছিলেন না তারা শুধু অন্যদের চেয়ে একটু বেশি আশা করতে পেরেছিলেন।
মক্কার সেই কঠিন সময়ের কথা ভাবুন। মুসলমানরা ছিল অল্পসংখ্যক। চারদিকে নির্যাতন, অত্যাচার, বয়কট। বাহ্যিকভাবে দেখলে মনে হচ্ছিল, তাদের সামনে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। কিন্তু আল্লাহ তখনও তাদেরকে হতাশ হতে দেননি।
আল্লাহ বলেন—
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا
“তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং হতাশ হয়ো না।” (সূরা আলে ইমরান: ১৩৯)
কারণ হতাশ মানুষ সামনে এগোতে পারে না। হতাশ মানুষ নতুন পথ খুঁজে পায় না। হতাশ মানুষ নিজের ভেতরের শক্তিকেও চিনতে পারে না। অনেক মানুষ জীবনে ব্যর্থ হয় যোগ্যতার অভাবে নয়। ব্যর্থ হয় কারণ তারা স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে দেয়।
তারা মনে করে আমার দ্বারা কিছু হবে না। আমার সময় শেষ। আমার সুযোগ নেই। আমার পেছনে কেউ নেই। কিন্তু ইতিহাসের বড় মানুষদের জীবন পড়লে দেখা যায়, তাদের অনেকেরই শুরুটা ছিল খুব সাধারণ।
কেউ দরিদ্র ছিলেন। কেউ ছিলেন এতিম। কেউ ছিলেন একা। কেউ ছিলেন অবহেলিত। কিন্তু তারা একটি জিনিস হারাননি তারা আশা হারাননি। মনে রাখতে হবে, আজকের অবস্থাই জীবনের শেষ কথা নয়।
আজ কষ্ট আছে বলে আগামীকালও কষ্ট থাকবে এমন নয়। আজ পথ বন্ধ মনে হচ্ছে বলে আল্লাহ নতুন পথ খুলে দেবেন না এমনও নয়।
তাই জীবনের যে অবস্থাতেই থাকা হোক, স্বপ্ন দেখা বন্ধ করা যাবে না। আশা হারানো যাবে না। কারণ যে মানুষ আশা ধরে রাখে, সে একদিন পথ খুঁজে পায়।
আর যে মানুষ আল্লাহর উপর ভরসা রেখে বড় স্বপ্ন দেখতে পারে, আল্লাহ তার জন্য এমন দরজা খুলে দেন, যা সে কখনো কল্পনাও করেনি।
স্বপ্ন ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে, কিন্তু বড় হতে পারে না। স্বপ্ন ছাড়া দিন কাটানো যায়, কিন্তু ইতিহাস গড়া যায় না। স্বপ্ন ছাড়া জীবন চলে, কিন্তু জীবন বদলায় না।
সুতরাং স্বপ্ন দেখুন। আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। আশা ধরে রাখুন। কারণ বড় অর্জনের শুরু সবসময় একটি বড় স্বপ্ন থেকেই হয়।
রাসূল ﷺ : ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নেতৃত্বের আদর্শ
*************************************
পৃথিবীর ইতিহাসে অসংখ্য নেতা এসেছেন। কেউ যুদ্ধ জিতে বিখ্যাত হয়েছেন। কেউ রাজ্য শাসন করে বিখ্যাত হয়েছেন। কেউ জ্ঞান দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। কেউ অর্থ ও ক্ষমতার কারণে ইতিহাসে স্থান পেয়েছেন। কিন্তু এমন একজন মানুষ, যার জীবনের প্রতিটি দিক মানবতার জন্য আদর্শ হয়ে গেছে, তিনি হলেন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ ﷺ।
তাঁকে শুধু একজন ধর্মীয় নেতা বললে তাঁর পরিচয় পূর্ণ হয় না। তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যার জীবন মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে আলোকিত করেছে। তিনি ছিলেন শিক্ষক, কিন্তু শুধু পাঠদানকারী শিক্ষক নন; তিনি মানুষের হৃদয় গড়ার শিক্ষক।
তিনি ছিলেন নেতা, কিন্তু ক্ষমতার জন্য নয়; মানুষের কল্যাণের জন্য। তিনি ছিলেন বিচারক, কিন্তু কঠোরতার মাধ্যমে নয়; ন্যায়বিচারের মাধ্যমে।
তিনি ছিলেন রাষ্ট্রনায়ক, কিন্তু জনগণের উপর প্রভুত্ব করার জন্য নয়; তাদের সেবা করার জন্য।
তিনি ছিলেন সেনাপতি, কিন্তু রক্তপাতের জন্য নয়; শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য।
তিনি ছিলেন স্বামী, পিতা, বন্ধু, প্রতিবেশী—প্রতিটি পরিচয়ে মানবতার সর্বোচ্চ সৌন্দর্য। আসলে রাসূল ﷺ-এর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব মক্কা বিজয় নয়। সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব মদিনা রাষ্ট্র নয়। সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হাজার হাজার মানুষের হৃদয় পরিবর্তন করা। তিনি মানুষকে শুধু আইন শেখাননি। তিনি মানুষকে মানুষ বানিয়েছেন।
যে সমাজে কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো, তিনি সেই সমাজকে মেয়েদের সম্মান করতে শিখিয়েছেন। যে সমাজে শক্তিশালী দুর্বলকে পিষে ফেলত, তিনি সেই সমাজকে দয়া ও ন্যায়ের শিক্ষা দিয়েছেন।
যে সমাজে গোত্রে গোত্রে শত বছরের যুদ্ধ চলত, তিনি তাদেরকে ভাই বানিয়ে দিয়েছেন। মক্কার সেই কঠিন দিনগুলোর কথা স্মরণ করুন। তাঁর উপর পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে। তাঁকে মিথ্যাবাদী বলা হয়েছে।
তাঁকে পাগল বলা হয়েছে। তাঁর পথের উপর কাঁটা বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রিয় সাহাবিদের নির্যাতন করা হয়েছে। তাঁর পরিবারকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনো আশা হারাননি।
কারণ একজন সত্যিকারের নেতা অন্ধকার দেখে ভেঙে পড়েন না; অন্ধকারের মধ্যে আলো খুঁজে নেন।
তাইফের ময়দানে যখন তাঁর শরীর রক্তাক্ত, জুতা রক্তে ভরে গেছে, তখনও তিনি অভিশাপ দেননি। বরং আকাশের দিকে তাকিয়ে বলেছেন হে আল্লাহ! এদেরকে হেদায়েত দিন। এটাই নেতৃত্ব।
যখন প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ থাকে, তখনও ক্ষমা করতে পারা। মদিনায় হিজরতের পর তিনি শুধু একটি মসজিদ নির্মাণ করেননি। তিনি একটি সভ্যতা নির্মাণ করেছেন। একটি ভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলেছেন। একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছেন। একটি জাতিকে আত্মমর্যাদা শিখিয়েছেন।
মক্কা বিজয়ের দিনটি স্মরণ করুন। যারা তাঁকে নির্যাতন করেছিল। যারা তাঁকে দেশ থেকে বের করে দিয়েছিল। যারা তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। তারা সবাই তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। সেদিন চাইলে তিনি প্রতিশোধ নিতে পারতেন।
কিন্তু তিনি বললেন আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। তোমরা সবাই মুক্ত। ক্ষমতার চূড়ায় থেকেও ক্ষমা করা—এটাই মুহাম্মাদ ﷺ।
আজ পৃথিবী দক্ষ মানুষের অভাবে ভুগছে না। পৃথিবী ভুগছে চরিত্রবান নেতৃত্বের অভাবে। আর সেই নেতৃত্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বিদ্যালয় হলো রাসূল ﷺ-এর জীবন।
যে নেতা মানুষকে ভয় দেখিয়ে নয়, ভালোবেসে জয় করেন। যে নেতা মানুষের সম্পদ নয়, মানুষের হৃদয় জয় করেন। যে নেতা নিজের জন্য নয়, মানুষের জন্য বাঁচেন। তাই যদি জীবনে নেতৃত্ব শিখতে হয়, তবে শুধু নেতৃত্বের বই পড়লেই হবে না।
সীরাত পড়তে হবে। যদি মানুষকে ভালোবাসতে শিখতে হয়, সীরাত পড়তে হবে। যদি বিপদের মধ্যেও আশা ধরে রাখতে শিখতে হয়, সীরাত পড়তে হবে।
যদি একটি সুন্দর পরিবার, একটি সুন্দর সমাজ এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে হয়, তবে মুহাম্মাদ ﷺ-এর জীবনকে সামনে আনতে হবে। কারণ ইতিহাসে অনেক নেতা এসেছেন। কিন্তু পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ আজও যাঁর নাম শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অশ্রুভেজা হৃদয়ে উচ্চারণ করে তিনি আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ ﷺ।
বড় পদ নয়, বড় মানুষ হও
**********************
আমাদের সমাজে একটা ভুল ধারণা আছে। অনেকে মনে করেন, নেতা হতে হলে বড় চেয়ার লাগবে, বড় পদ লাগবে, অনেক লোকের উপর কর্তৃত্ব থাকতে হবে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, পৃথিবীর অনেক বড় মানুষ কখনো কোনো বড় পদে ছিলেন না।তবুও মানুষ আজও তাদের স্মরণ করে। কারণ তারা মানুষের জীবনে ভালো প্রভাব রেখে গেছেন।
রাসূল ﷺ বলেছেন তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। (বুখারি, মুসলিম)
অর্থাৎ আল্লাহ শুধু মন্ত্রী-এমপি বা রাষ্ট্রপ্রধানদেরই জিজ্ঞাসা করবেন না।প্রত্যেক মানুষকেই জিজ্ঞাসা করবেন। একজন মা তার সন্তানের উপর দায়িত্বশীল।একজন বাবা তার পরিবারের উপর দায়িত্বশীল একজন শিক্ষক তার ছাত্রদের উপর দায়িত্বশীল। একজন ইমাম তার মুসল্লিদের উপর দায়িত্বশীল। একজন ডাক্তার তার রোগীদের উপর দায়িত্বশীল।
এ দায়িত্ব পালনই হলো নেতৃত্বের গুন। নেতৃত্ব মানে সবার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলা নয়। নেতৃত্ব মানে এমন জীবন যাপন করা, যা দেখে অন্যরা ভালো হতে চায়।
নেতৃত্ব মানে এমন কিছু করা, যার কারণে মানুষ উপকৃত হয়।
মনে রাখতে হবে, মানুষ বড় হয় না তার পদবি দিয়ে।মানুষ বড় হয় তার চরিত্র দিয়ে। মানুষ বড় হয় তার দায়িত্ববোধ দিয়ে। মানুষ বড় হয় মানুষের জন্য করা কাজ দিয়ে। তাই জীবনের লক্ষ্য শুধু বড় পদ পাওয়া হওয়া উচিত নয়।
লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন মানুষ হওয়া, যার উপস্থিতিতে মানুষ উপকৃত হয়, যার চলে যাওয়ার পরও মানুষ তাকে দোয়ার সাথে স্মরণ করে। কারণ,বড় চেয়ার মানুষকে সম্মানিত করে না। বড় চরিত্র মানুষকে সম্মানিত করে।
শিক্ষিত হওয়া আর মানুষ হওয়া এক কথা নয়
********************************”*****
আজ আমাদের সমাজে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেশি। ডিগ্রি আছে। সনদ আছে।
বিশ্ববিদ্যালয় আছে। প্রযুক্তি আছে। তথ্যের অভাব নেই। কিন্তু একটি প্রশ্ন রয়ে যায় মানুষ কি সত্যিই ভালো হচ্ছে?
আজ অনেকের ঘরে উচ্চশিক্ষার সনদ আছে।কিন্তু মানুষের কষ্ট বোঝার মন কতজনের আছে? আজ মোবাইল ফোনে পুরো পৃথিবী হাতের মুঠোয়। কিন্তু পাশের মানুষের খবর নেওয়ার সময় কতজনের আছে?
আজ আয় বেড়েছে। সুযোগ বেড়েছে। কিন্তু সততা, দায়িত্ববোধ আর মানবিকতা কি সেইভাবে বেড়েছে?
আসলে শিক্ষা শুধু চাকরি পাওয়ার জন্য নয়। শিক্ষা মানুষের চোখ খুলে দেয়। শিক্ষা মানুষকে ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখায়। শিক্ষা মানুষকে নিজের জন্য নয়, সমাজের জন্য ভাবতে শেখায়।
যে শিক্ষা মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগায় না, সে শিক্ষা অসম্পূর্ণ। যে শিক্ষা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখায় না, সে শিক্ষা অসম্পূর্ণ। যে শিক্ষা মানুষের উপকারে আসে না, সে শিক্ষা অসম্পূর্ণ। রাসূল ﷺ বলেছেন মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে।
একজন শিক্ষিত মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার ডিগ্রিতে নয়। তার পরিচয় হলো তিনি কত মানুষকে উপকার করেছেন। কত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছেন।কত মানুষের জীবনকে একটু সুন্দর করতে পেরেছেন।
মনে রাখতে হবে, শিক্ষার সবচেয়ে বড় সাফল্য ভালো চাকরি নয়। শিক্ষার সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো একজন ভালো মানুষ তৈরি হওয়া। কারণ সমাজকে আলোকিত করে শুধু শিক্ষিত মানুষ নয়, আলোকিত চরিত্রের মানুষ।
ভয়কে জয় করলেই শুরু হয় নতুন পথ
*********************************
জীবনে অনেক মানুষ হেরে যায়। কিন্তু সবসময় তারা শক্তির অভাবে হারে না। অনেক সময় তারা হারে নিজের ভয়ের কাছে।
আমি পারব তো? যদি ব্যর্থ হই? মানুষ কী বলবে? যদি সবকিছু হারিয়ে ফেলি? এই ভয়গুলোই অনেক বড় স্বপ্নকে জন্ম নেওয়ার আগেই মেরে ফেলে।
মনে রাখতে হবে, পৃথিবীর কোনো বড় কাজই নিশ্চিন্ত পরিবেশে শুরু হয়নি। প্রতিটি বড় কাজের শুরুতে ছিল অনিশ্চয়তা। ছিল বাধা। ছিল সমালোচনা। ছিল ভয়।
নূহ (আ.) যখন নৌকা বানাতে শুরু করলেন, মানুষ তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি করেছিল। ইবরাহিম (আ.) যখন সত্যের কথা বললেন, তখন তাঁর পাশে বড় কোনো দল ছিল না।মূসা (আ.) যখন ফেরাউনের সামনে দাঁড়ালেন, তখন বাহ্যিকভাবে শক্তি ছিল ফেরাউনের হাতে। কিন্তু তাঁরা কেউ মানুষের কথা শুনে থেমে যাননি।
কারণ তাঁরা জানতেন সত্যের পথে হাঁটতে হলে সাহস লাগে। আজও যারা নতুন কিছু করে, যারা মানুষের জন্য কাজ করে, যারা বড় স্বপ্ন দেখে, তাদেরকে নিয়েও কথা হয়। সমালোচনা হয়। হতাশ করার চেষ্টা হয়। কিন্তু ইতিহাস বলে মানুষের কথায় যারা থেমে যায়, তারা ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যায়। আর যারা আল্লাহর উপর ভরসা করে সামনে এগিয়ে যায়, তারাই একদিন পথ দেখায়। আল্লাহ তাআলা বলেন—
فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ
“যখন সিদ্ধান্ত নেবে, তখন আল্লাহর উপর ভরসা করো।” (সূরা আলে ইমরান: ১৫৯)
দেখুন, আগে সিদ্ধান্ত, তারপর তাওয়াক্কুল। অর্থাৎ ভয়কে জীবন চালাতে দেওয়া যাবে না।
মনে রাখতে হবে, ভয় সবারই থাকে। সাহসী মানুষ সে নয়, যার ভয় নেই। সাহসী মানুষ সে, যে ভয় থাকা সত্ত্বেও সঠিক কাজটি করে। অনেক সময় একটি পদক্ষেপই মানুষের জীবন বদলে দেয়। একটি সিদ্ধান্তই নতুন দরজা খুলে দেয়।
একটি সাহসই একটি নতুন ইতিহাসের শুরু করে।
তাই ভয়কে নয়, বিশ্বাসকে শক্তিশালী করতে হবে।
মানুষের কথাকে নয়, দায়িত্বকে বড় করে দেখতে হবে।
কারণ, যারা শুধু নিরাপদে থাকতে চায়, তারা সাধারণ জীবন পায়।আর যারা আল্লাহর উপর ভরসা করে সাহস নিয়ে এগিয়ে যায়, তারাই অসাধারণ কিছু করে দেখায়।
শুধু ভালো মানুষ হলেই হবে না, শক্তিশালীও হতে হবে
********************************************
অনেক মানুষ মনে করেন, টাকা-পয়সার কথা বললেই যেন দুনিয়াদারির কথা বলা হয়।্যকিন্তু ইসলাম এমন শিক্ষা দেয় না। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, অর্থ খারাপ নয়। খারাপ হলো অর্থের অপব্যবহার।
একজন ভালো মানুষ যদি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়, তাহলে তার অনেক ভালো ইচ্ছাও বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে যায়। একটি স্কুল গড়তে অর্থ লাগে। একটি হাসপাতাল গড়তে অর্থ লাগে। গরিবের পাশে দাঁড়াতে অর্থ লাগে। সমাজের কল্যাণমূলক কাজ করতে অর্থ লাগে।
এ কারণে ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায়, অনেক সাহাবি ছিলেন সফল ব্যবসায়ী। তারা ওপার্জিত সম্পদ মানুষের উপকারে ব্যয় করেছেন। দ্বীনের জন্য ব্যয় করেছেন।
মনে রাখতে হবে, শুধু টাকা থাকলেই মানুষ বড় হয় না।
আবার শুধু ভালো মানুষ হলেই সব সমস্যা সমাধান হয় না। একটি সুন্দর সমাজ গড়তে দরকার সৎ মানুষ, শিক্ষিত মানুষ, দায়িত্বশীল মানুষ, এবং কর্মক্ষম মানুষ।
যে জাতির জ্ঞান আছে কিন্তু অর্থ নেই, সে পিছিয়ে পড়ে। যে জাতির অর্থ আছে কিন্তু নীতি নেই, সে ধ্বংস হয়ে যায়। আর যে জাতির জ্ঞান, চরিত্র ও অর্থ সবকিছুর সুন্দর সমন্বয় আছে, সেই জাতিই এগিয়ে যায়।
তাই জীবনের লক্ষ্য শুধু উপার্জন নয়।লক্ষ্য হওয়া উচিত এমনভাবে সফল হওয়া, যাতে নিজের পরিবার, সমাজ এবং দেশেরও উপকার হয়।
সন্তান না সম্পদ কোনটি বড়
***********************
পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ কোনো ভবন নয়।কোনো ব্যাংক ব্যালেন্স নয়। কোনো জমি-জমাও নয়।
একটি জাতির সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো তার নতুন প্রজন্ম।
আজকের শিশুরাই আগামী দিনের শিক্ষক, ডাক্তার, আলেম, নেতা, ব্যবসায়ী এবং সমাজ গড়ার কারিগর।
কিন্তু একটি প্রশ্ন আমাদের নিজেদেরকে করতে হবে আমরা তাদের জন্য কী রেখে যাচ্ছি?
ভালো চরিত্র?নাকি শুধু সম্পদ? সুন্দর মূল্যবোধ?নাকি শুধু প্রতিযোগিতা? আত্মবিশ্বাস?নাকি হতাশা? আজ সন্তানদের জন্য বাড়ি রেখে যাওয়ার চিন্তা অনেকেই করেন। জমি কেনার চিন্তা করেন। ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়ানোর চিন্তা করেন। ভবিষ্যতের নিরাপত্তার চিন্তা করেন।
এসব অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম এগুলোর বিরোধিতা করে না। কিন্তু একটি প্রশ্ন রয়ে যায় যার জন্য এত সম্পদ রেখে যাচ্ছি, সেই সন্তানটাকেই কি গড়ে তুলছি?
আজ আমরা অনেকেই সম্পদ গড়তে ব্যস্ত। কিন্তু সন্তান গড়ার জন্য কত সময় দিচ্ছি? সন্তানের সঙ্গে কতক্ষণ বসি? তার চিন্তা, তার কষ্ট, তার ঈমান, তার চরিত্র, তার বন্ধু, তার ভবিষ্যৎ—এসব নিয়ে কতটা ভাবি? একটি বাড়ি উত্তরাধিকার হতে পারে।একটি জমি উত্তরাধিকার হতে পারে।
কিন্তু একজন সৎ, শিক্ষিত, চরিত্রবান সন্তান এর চেয়ে বড় উত্তরাধিকার আর কিছু হতে পারে না। কারণ সম্পদ হারিয়ে যেতে পারে। কিন্তু একজন ভালো মানুষ পুরো পরিবার, এমনকি পুরো সমাজকেও বদলে দিতে পারে।
রাসূল ﷺ শুধু মানুষের হাতে কুরআন তুলে দেননি।তিনি তাদের হৃদয়ে আত্মবিশ্বাস জাগিয়েছিলেন।
তিনি তাদেরকে শিখিয়েছিলেন তোমরা বড় কাজের জন্য সৃষ্টি হয়েছো। তোমাদের দায়িত্ব বড়। তোমাদের লক্ষ্য বড়। যে মানুষগুলো একসময় মরুভূমিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল, যাদেরকে পৃথিবী গুরুত্ব দিত না, রাসূল ﷺ তাদের এমনভাবে গড়ে তুলেছিলেন যে, অল্প কয়েক দশকের মধ্যেই তারা পৃথিবীর ইতিহাস বদলে দিয়েছিল।
আজও যদি পরিবার, সমাজ এবং জাতি নতুন প্রজন্মকে সঠিক শিক্ষা, সঠিক আদর্শ এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারে, তাহলে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।
আজ আমরা প্রতিষ্ঠান গড়ার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। নতুন ভবন হচ্ছে। নতুন ক্যাম্পাস হচ্ছে।
নতুন অবকাঠামো হচ্ছে। এগুলো প্রয়োজন আছে, গুরুত্বও আছে।
কিন্তু মনে রাখতে হবে ইট, বালু আর পাথর দিয়ে তৈরি ভবন প্রতিষ্ঠান নয়। একটি প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার শিক্ষার্থী। যদি বিশাল ভবন থাকে, কিন্তু মানুষ গড়ে না ওঠে তাহলে সেই ভবনের মূল্য খুব বেশি নয়। যদি বড় ক্যাম্পাস থাকে, কিন্তু চরিত্রবান মানুষ তৈরি না হয় তাহলে প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি।
আজ আমাদের নিজেদেরকে জিজ্ঞাসা করতে হবে আমরা কি শুধু প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছি? নাকি মানুষ নির্মাণ করছি? আমরা কি শুধু ভবন বড় করছি? নাকি ভবিষ্যৎ বড় করছি? আমরা কি শুধু সম্পদ বাড়াচ্ছি?
নাকি চরিত্রবান প্রজন্ম তৈরি করছি?
কারণ ইতিহাস সাক্ষী পৃথিবীকে ভবন বদলায়নি।পৃথিবীকে বদলেছে মানুষ। মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়—এসবের প্রকৃত সফলতা ভবনের উচ্চতায় নয়, সেখান থেকে বের হওয়া মানুষের উচ্চতায়।
তাই আজকের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হওয়া উচিত সন্তানের পেছনে। শিক্ষার্থীর পেছনে। নতুন প্রজন্মের পেছনে। কারণ, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব। আর আজ আমরা যে প্রজন্ম গড়ে তুলছি, আগামীকাল পৃথিবী ঠিক সেই রূপই ধারণ করবে।
শেষ পর্যন্ত মানুষ কী রেখে যায়?
***************************
জীবনের শেষ সময়ে মানুষ একটি সত্য খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করে সে পৃথিবীতে এসেছিল খালি হাতে। আর পৃথিবী থেকেও চলে যাবে খালি হাতেই।কেউ তার বাড়ি সঙ্গে নিতে পারবে না। কেউ তার জমি সঙ্গে নিতে পারবে না। কেউ তার পদ-পদবি সঙ্গে নিতে পারবে না। কেউ তার ব্যাংক ব্যালেন্স সঙ্গে নিতে পারবে না।সবকিছু পৃথিবীতেই থেকে যাবে।
তখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে আমি কী রেখে গেলাম?একটি বাড়ি? নাকি একটি সুন্দর পরিবার? একটি ব্যবসা? নাকি একটি সুন্দর আদর্শ? একটি প্রতিষ্ঠান?
নাকি কিছু মানুষ, যারা আমার কারণে ভালো মানুষ হয়েছে?
রাসূল ﷺ বলেছেন মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি বিষয় ছাড়া— সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে। (সহিহ মুসলিম)
এই হাদিস আমাদের শেখায়, প্রকৃত সফলতা শুধু জীবিত থাকা পর্যন্ত নয়। প্রকৃত সফলতা হলো মৃত্যুর পরও মানুষের উপকারে আসা। কবরের মাটির নিচে মানুষ একা চলে যায়। কিন্তু তার রেখে যাওয়া ভালো কাজগুলো একা যায় না।
একজন শিক্ষক চলে যান, কিন্তু তার গড়ে তোলা ছাত্ররা বেঁচে থাকে। একজন বাবা চলে যান, কিন্তু তার দেওয়া আদর্শ বেঁচে থাকে। একজন আলেম চলে যান, কিন্তু তার ইলম বেঁচে থাকে। একজন সৎ মানুষ চলে যান, কিন্তু তার চরিত্র মানুষের স্মৃতিতে বেঁচে থাকে।
তাই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আমি কী পেলাম এটা নয়। বরং আমি কী রেখে গেলাম?
স্বপ্ন দেখো, নেতৃত্ব দাও
********************
আলোচনা শুরু হয়েছিল একটি প্রশ্ন দিয়ে— স্বপ্ন ছাড়া মানুষ কি বড় হতে পারে?
আমরা দেখেছি যারা স্বপ্ন দেখে, তারাই ইতিহাস গড়ে।
যারা আশা ধরে রাখে, তারাই অন্ধকারের মধ্যেও পথ খুঁজে পায়।
আমরা দেখেছি, ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নেতা রাসূল ﷺ শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় গড়ে তোলেননি। তিনি মানুষ গড়েছেন।চরিত্র গড়েছেন। একটি সভ্যতা গড়েছেন। আমরা দেখেছি, নেতৃত্ব মানে বড় পদ নয়। নেতৃত্ব মানে দায়িত্ব।
যেখানে একজন মা, একজন বাবা, একজন শিক্ষক, একজন ডাক্তার, একজন ব্যবসায়ী—প্রত্যেকেই নিজের জায়গা থেকে নেতা হতে পারেন। আমরা দেখেছি, শিক্ষা শুধু ডিগ্রি অর্জনের জন্য নয়।শিক্ষা মানুষকে মানুষ বানানোর জন্য। সমাজের দায়িত্ব বুঝার জন্য।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য।
আমরা দেখেছি জীবনের সবচেয়ে বড় বাধা অনেক সময় দারিদ্র্য নয়। সবচেয়ে বড় বাধা হলো ভয়।আমি পারব না এই চিন্তা। কিন্তু যারা আল্লাহর উপর ভরসা করে এগিয়ে যায়, তারাই নতুন পথ তৈরি করে।
আমরা দেখেছি, একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে শুধু আবেগ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন জ্ঞান। প্রয়োজন চরিত্র।প্রয়োজন অর্থনৈতিক শক্তি। প্রয়োজন দায়িত্বশীল মানুষ।
আমরা দেখেছি, একটি জাতির সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সন্তান ও শিক্ষার্থীরা।ভবন নয়। জমি নয়। ব্যাংক ব্যালেন্স নয়। মানুষই একটি জাতির সবচেয়ে বড় সম্পদ। আর সবশেষে আমরা বুঝেছি,জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা কত কিছু অর্জন করেছি, সেটি নয়।
সবচেয়ে বড় সফলতা হলো আমাদের কারণে কত মানুষ উপকৃত হয়েছে। আমাদের কারণে কত জীবন আলোকিত হয়েছে। আমাদের কারণে পৃথিবী কতটুকু সুন্দর হয়েছে।
একদিন এই পৃথিবীতে আমাদের কেউ থাকবে না। এই মঞ্চ থাকবে না। এই সভা থাকবে না। এই পরিচয়গুলোও থাকবে না। থেকে যাবে শুধু আমাদের কাজ। থেকে যাবে আমাদের চরিত্র। থেকে যাবে আমাদের রেখে যাওয়া মানুষগুলো। তাই আজ এই কথাগুলো থেকে একটি অঙ্গীকার গ্রহণ করি আমরা শুধু নিজের জন্য বাঁচব না। শুধু নিজের পরিবার নিয়ে ভাবব না। শুধু নিজের সাফল্য নিয়ে ব্যস্ত থাকব না।
আমরা স্বপ্ন দেখব। নিজেদের গড়ে তুলব। সন্তানদের গড়ে তুলব। শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলব। মানুষের উপকারে আসব।সমাজকে আরও সুন্দর করার চেষ্টা করব।
কারণ একজন মানুষ যখন নিজের স্বার্থের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের কল্যাণের জন্য বাঁচতে শুরু করে, তখনই তার জীবনের প্রকৃত মূল্য শুরু হয়। আর তখনই সে শুধু একজন সফল মানুষ নয়, একজন প্রভাবশালী মানুষ, একজন দায়িত্বশীল মানুষ, একজন প্রকৃত নেতা হয়ে ওঠে।
বড় স্বপ্ন দেখুন। ভালো মানুষ হোন। মানুষ গড়ুন। প্রজন্ম গড়ুন। একটি সুন্দর উত্তরাধিকার রেখে যান।
আর এমনভাবে জীবন কাটান, যেন মৃত্যুর পরও আপনার কাজ, আপনার শিক্ষা, আপনার চরিত্র এবং আপনার দোয়ার যোগ্য মানুষগুলো পৃথিবীতে বেঁচে থাকে।
স্বপ্ন দেখো। নিজেকে গড়ো। মানুষকে গড়ো। সমাজকে গড়ো। আর ঈমান, সততা ও দায়িত্ববোধের আলো দিয়ে নেতৃত্ব দাও।