আজ সমাজে অবৈধ সম্পর্কের ছড়াছড়ি কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কেউ খোলাখুলি কথা বলে না,
কিন্তু নীরবে এই বিষয়টাই আমাদের ঘর, পরিবার, সমাজ ধ্বংস করে দিচ্ছে।
আজ আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি— যেখানে হারামকে বলা হচ্ছে “স্বাভাবিক”
আর হালালকে বলা হচ্ছে “ব্যাকডেটেড”।
আজ তরুণরা ভাবছে— আমরা নিজেরাই নিজের জীবনসঙ্গী বেছে নেবো।আর বাবা–মা বলছে— “যাক, ওরা বড় হয়েছে। কিন্তু এর ফলাফল বিপদজনক যা আমরা দেখতে পাচ্ছি।
যিনার পথে যাত্রা: আমাদের তরুণ তরুণীরা হারামের মাঝে জড়িয়ে পড়ছে। কেউ হঠাৎ যিনাকার হয় না।
শুরু হয়— একটা দৃষ্টি দিয়ে একটা মেসেজ দিয়ে
একটা ভালো লাগা দিয়ে তারপর— রাত জাগাগোপন কল মিথ্যা বলা আস্তে আস্তে পরিবারের সাথে দূরত্ব। অবৈধ এক সম্পর্কের মাঝে জড়িয়ে যায় তরুণ তরুণী।
কুরআনে কারীমের আহ্বান সুস্পষ্ট । আল্লাহ বলেন—
“যিনার কাছে পর্যন্ত যেও না।”
(সূরা বনি ইসরাঈল: ৩২) কারণ— যে পথে পা দিলেই সর্বনাশ নিশ্চিত,
সেই পথেই হাঁটা নিষেধ।
“প্রেম পবিত্র”—এই সমাজকে ধ্বংস করা স্লোগান
আজ সমাজ তরুণদের শেখাচ্ছে— “প্রেম পবিত্র।”
আমি তরুণদের জিজ্ঞেস করি— যে সম্পর্ক লুকাতে হয়, যে সম্পর্কের জন্য মিথ্যা বলতে হয়, যে সম্পর্ক বাবা–মা জানলে লজ্জা লাগে সে সম্পর্ক কিভাবে পবিত্র হয়?
❝ পবিত্রতা আসে আল্লাহর অনুমতিতে
আর আল্লাহর অনুমতির নাম—নিকাহ ❞
বিয়ের আগে ভালোবাসা— ভালোবাসা না, শয়তানের জালের মাঝে আটকা পড়া। এই জালে যে আটকা পড়ে সে আর বের হতে পারে না।
যিনা: ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধ। ইসলামে বহু গুনাহ আছে, কিন্তু যিনার শাস্তি সবচেয়ে কঠোর।
কেন? যিনা একসাথে বহু অপরাধ
যিনা মানে—আল্লাহর সীমা ভাঙা, নারীর সম্মান ধ্বংস, বংশ পরিচয় নষ্ট, পরিবার ধ্বংস,সমাজে বিশৃঙ্খলা।
একটা গুনাহ— কিন্তু প্রভাব প্রজন্মজুড়ে।
দুনিয়াতে যিনার শাস্তি সবচেয়ে কঠোর
ইসলামে—
বিবাহিত যিনাকার → মৃত্যুদণ্ড (রজম)
অবিবাহিত → কঠোর দণ্ড ও অপমান
এটা নিষ্ঠুরতা না— সমাজ রক্ষার শেষ প্রাচীর।
ইসলাম বুঝে নিয়েছে— যিনার ব্যাপারে ছাড় দিলে আর কিছুই বাঁচবে না।
আখিরাতে যিনার শাস্তি
রাসূল ﷺ মেরাজের রাতে দেখেছেন— যিনাকারদের আগুনের চুল্লিতে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে
(বুখারি)।
আরেক জায়গায়— পচা গোশত খাচ্ছে, হালাল থাকা সত্ত্বেও। এর মানে— দুনিয়ায় হালাল থাকতে হারাম বেছে নেওয়ার প্রতিফল।
আধুনিক বিজ্ঞান কী বলছে?
আজ যারা বলে— “ইসলাম কঠোর”
তাদের বলুন— আজকের বিজ্ঞান কী বলছে?
চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে—
অবৈধ সম্পর্কে থাকা মানুষ বেশি ডিপ্রেশনে ভোগে
একাধিক সম্পর্ক মানসিক স্থায়িত্ব ধ্বংস করে
আত্মহত্যার বড় কারণ—রিলেশন ব্রেকডাউন
সমাজবিজ্ঞান বলে—
পরিবার ভাঙলে অপরাধ বাড়ে
অবৈধ সন্তান মানসিক ক্ষত নিয়ে বড় হয়।
ইসলাম নিষেধ করেছে— মানুষকে বাঁচাতে।
এখন আমি একটা কঠিন প্রশ্ন করতে চাই।
আজ আমাদের সন্তানরা এই পথে যাচ্ছে— আর বাবা–মা কী করছে?
অনেকে বলছে—
“ওরা নিজেরা নিজের জীবনসঙ্গী বেছে নিক”
আমি জিজ্ঞেস করি— এই বেছে নেওয়া কি শুরু হচ্ছে নিকাহ দিয়ে? না—শুরু হচ্ছে হারাম দিয়ে।
❝ সন্তানকে হারামের পথে ছেড়ে দেওয়া
ভালোবাসা না—নির্বিকার জুলুম ❞
আল্লাহ বলেন—
“হে মুমিনগণ!
নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারকে আগুন থেকে রক্ষা করো।”
(সূরা তাহরীম: ৬)
এটা বাবা–মার উপর ফরজ দায়িত্ব।
ঈমান কোথায়?
যে অপরাধের শাস্তি। দুনিয়াতে মৃত্যুদণ্ড। কবরে শাস্তি। আখিরাতে আগুন
সেই অপরাধকে যদি আমরা বলি— “স্বাভাবিক”
তাহলে প্রশ্ন— আমাদের ঈমান কোথায়?
আমরা কি সত্যিই বিশ্বাস করি— জাহান্নাম আছে?
কিয়ামতের দিন— সন্তান বাবা–মাকে বলবে—
“হে আল্লাহ!
আমার বাবা–মা আমাকে থামায়নি,
আমাকে সতর্ক করেনি।”
আর তরুণ বলবে—
“হায় আফসোস!
আমি যদি সেই পথে না যেতাম।”
কুরআন বলে—
“সেদিন জালেম ব্যক্তি নিজের হাত কামড়াতে থাকবে।”
(সূরা ফুরকান)
হে তরুণ! তুমি নষ্ট নও— তুমি শুধু অবহেলিত।
হে বাবা–মা! এখনো সময় আছে। আজই—
হারাম সম্পর্ক বন্ধ করুন। দ্রুত হালাল বিয়ের ব্যবস্থা করুন।সন্তানের সাথে বন্ধুর মতো কথা বলুন।আজ থামলে— কাল বাঁচবে।