ইরান ইসরাইল যুদ্ধ চলছে। এ যুদ্ধ শুধু ইরানে নয় আমাদের কেও আক্রান্ত করেছে। আমরাও একটি যুদ্ধের মাঝে আছি। শুধুমাত্র ইরান আক্রান্ত এ চিন্তাটি ভুল। বরং একটি মুসলিম জনপথ আক্রান্ত হয়েছে। সারা পৃথিবীর মুসলমান একটি দেহের মত। গাজায় যখন মুসলমান আক্রান্ত হয় তখন আমরাও আক্রান্ত হই। ইরান যখন আক্রান্ত হয় তখন আমরাও আক্রান্ত হই।
আমরা মনে করি একটি অন্যায় যুদ্ধ ইরানের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরান ইসরাইল যুদ্ধে ইরান আমার ভাই। আমার ভাইয়ের সাথে আমার দৃষ্টিভঙ্গি মাসলাক মাযহাব বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিরোধ থাকতে পারে। আজকের ইরান দ্বারা মুসলিম বিশ্বের নানা জনপদ আক্রান্ত হয়েছে। ইরান বারবার তার ভাইদের আক্রমণ করে নিজ হাতকে রক্তে রঞ্জিত করেছে। তাদের প্রতি আমাদের অভিযোগ আছে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়। তাদের আকিদা নিয়েও আমাদের অভিযোগ আছে।
সবকিছুর পর ইসরাইল ইরান যখন আক্রান্ত হয় আমরা আমাদের ভাই ইরানের পক্ষে আছি। আমরা পক্ষে আছি এজন্য ইরানের উপর চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধ অন্যায় যুদ্ধ। আমরা জুলুমকে সমর্থন করি না। দ্বিতীয় বিষয় হলো ইসরাইল ইরানকে পরাজিত করে মূলত আমাদের মুসলিম উম্মাহকেই পরাজিত করতে চাইছে। ইসরাইল ও পশ্চিমা বিশ্ব পৃথিবীর কোন মুসলিম দেশ স্বাধীনতা নিয়ে বাঁচুক এটা দেখতে চায় না। তারা মুসলমানদেরকে পরাজিত অবস্থায় দেখতে চায়। মুসলমানদের শক্তি অর্জনকে তারা হুমকি হিসেবে দেখে। অথচ স্বাধীনতা নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য মুসলমানদের শক্তি অর্জন প্রয়োজন।
এ অন্যায় আক্রমণে ইরানের ব্যাপারে ইসরাইল ও পশ্চিমা বিশ্বের অভিযোগ ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির কাছাকাছি চলে গেছে। এটা আমরা হতে দিতে পারি না কারণ এটা আমাদের জন্য হুমকিস্বরূপ। ইজরাইলের প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় প্রধান আয়াতুল্লাহ খোমিনিকে হত্যা করা পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলবে।
এটা ইসরাইলের অসভ্যতা। এটা পশ্চিমা বিশ্বের নোংরা খেলা। একটি স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে প্রকাশ্য হত্যার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে এটা চিন্তা করা যায় না। পরমাণু শক্তিধর ইসরাইল মুসলিম বিশ্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। মধ্য প্রাচ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ। মধ্যপ্রাচ্যে সে একাই তার শক্তি নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। আর পূর্ণও মুসলিম দেশগুলোকে তারা স্বাধীনতা নিয়ে বাঁচতে দিতে চায় না।
আজকে মুসলিম বিশ্বের নেতারা বিনোদন আর গদি রক্ষায় ব্যস্ত। নির্যাতিত মুসলিম উম্মাহ নিয়ে তাদের কোন ভাবনা নেই। পবিত্র ভূমিতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যে সম্পত্তি দিয়েছেন তার অপব্যবহার চলছে। কোটি কোটি টাকা দিয়ে তারা ফুটবল প্লেয়ার ক্রয় করছে।
আজকের আফসোস মুসলিম যুবকরা দেশে দেশে ক্রিকেট ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত। মুসলমানদের ঘামের টাকা ব্যয় হচ্ছে খেলাধুলা আর বিনোদনের পিছনে। মোবাইল আর ভিডিও গেমস নিয়ে কাটছে মুসলিম কিশোরদের জীবন।
দিন যাচ্ছে মুসলমান দুর্বল হচ্ছে অপরদিকে দিন যাচ্ছে পশ্চিমা কুফরি বিশ্ব শক্তিশালী হচ্ছে। এতগুলো মুসলিম রাষ্ট্র একটি অন্যায়কে অন্যায় বলার সামর্থ্য তাদের নেই। তাদের উচিত ছিল শক্তি অর্জন করা। কিন্তু তারা শক্তি অর্জন করছে না।
স্বাধীনতা নিয়ে বাঁচার জন্য প্রয়োজন শক্তি অর্জন। আপনি আমি যখন শক্তিশালী তখন আমি আপনি স্বাধীন। দুর্বলের আবার স্বাধীনতা কিসের। উন্নত প্রযুক্তি সাইন্স টেকনোলজিতে মুসলমানদের উচিত ছিল আজকের পৃথিবীকে নেতৃত্ব দেওয়া। তাহলে পৃথিবীতে থাকতো মুসলমানদের হাতের মুঠোয়। কিন্তু আজকের উন্নত টেকনোলজি সব বিধর্মীদের হাতে। এজন্য আজকের পৃথিবী তাদের হাতের মুঠোয়।
শক্তি অর্জন ইসলামে ফরজ করা হয়েছে। শক্তি ছাড়া স্বাধীনতা বাঁচে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে কারীমে শক্তি অর্জনের আদেশ করেছেন।
সূরা আনফাল আয়াত ১০
{ وَأَعِدُّوا۟ لَهُم مَّا ٱسۡتَطَعۡتُم مِّن قُوَّةࣲ وَمِن رِّبَاطِ ٱلۡخَیۡلِ تُرۡهِبُونَ بِهِۦ عَدُوَّ ٱللَّهِ وَعَدُوَّكُمۡ }
[Surah Al-Anfāl: 60]
(আর তাদের মুকাবিলার জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি ও অশ্ব বাহিনী প্রস্তুত কর, তা দ্বারা তোমরা ভয় দেখাবে আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুদেরকে )
এই আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সামর্থ্য অনুপাতে মুসলমানদের শক্তি অর্জনের আদেশ প্রদান করেছেন। বলেছেন তোমরা সত্যিই অর্জন করো যে শক্তির মাধ্যমে তোমরা আল্লাহর শত্রু তোমাদের শত্রুদের ভয় দেখাবে। অর্থাৎ মুসলমানদের এতটুকু শক্ত থাকা প্রয়োজন যেন কুফরি পৃথিবী তাদেরকে ভয় করে।
মুসলমানরা যখন হবে শক্তিশালী তখন ইসলাম হবে শক্তিশালী। আর মুসলমান যখন হবে দুর্বল ইসলাম হবে দূর্বল। দুর্বল জাতি তার ধর্মকে কিভাবে শক্তিশালী করবে। আল্লাহর কাছে প্রিয় ঐ সমস্ত বান্দা যারা শক্তিশালী। একজন বাবা তার ওই সন্তানকে বেশি ভালোবাসে যে বেশি শক্তি রাখে। একজন মালিক তার ওই কর্মচারীকে ভালবাসে যে শক্তি রাখে। দুর্বল তো দুর্বল। সর্বত্র দুর্বল হল বোঝা।
শক্তি অর্জন শুধুমাত্র শক্তি প্রয়োগের জন্য নয়। বরং স্বাধীনতা ও সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার জন্যই প্রয়োজন শক্তি অর্জন। আত্মরক্ষার জন্য শক্তি অর্জন ইসলামে ফরজ করা হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেছেন।
وَلۡیَأۡخُذُوا۟ حِذۡرَهُمۡ وَأَسۡلِحَتَهُمۡۗ وَدَّ ٱلَّذِینَ كَفَرُوا۟ لَوۡ تَغۡفُلُونَ عَنۡ أَسۡلِحَتِكُمۡ وَأَمۡتِعَتِكُمۡ فَیَمِیلُونَ عَلَیۡكُم مَّیۡلَةࣰ وَ ٰحِدَةࣰۚ
(আর তারা যেন তাদের আত্মরক্ষার সরঞ্জাম ও অস্ত্র ধারণ করে। কাফিররা মনে প্রাণে কামনা করে যদি তোমরা তোমাদের অস্ত্র-শস্ত্র ও আত্মরক্ষার সরঞ্জাম সম্বন্ধে অসতর্ক হও তাহলে তারা তোমাদের উপর একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়বে। )
এটাই কাফেরদের পরিকল্পনা। তারা মুসলমানদের নিরস্ত্র দুর্বল অবস্থায় দেখতে চায়। এতে করে তারা তাদের কর্মসূচি তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যেতে পারবে।
وَخُذُوا۟ حِذۡرَكُمۡۗ إِنَّ ٱللَّهَ أَعَدَّ لِلۡكَـٰفِرِینَ عَذَابࣰا مُّهِینࣰا }
[Surah An-Nisāʾ: 102]
(আর তোমরা তোমাদের আত্মরক্ষার সরঞ্জাম অবলম্বন করবে। নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করেছেন লাঞ্ছনাদায়ক আযাব।)
یَـٰۤأَیُّهَا ٱلَّذِینَ ءَامَنُوا۟ خُذُوا۟ حِذۡرَكُمۡ
[Surah An-Nisāʾ: 71]
(হে মু’মিনগণ! তোমরা স্বীয় আত্মরক্ষার সরঞ্জাম তুলে নাও, )
কুরআনে কারিমে দ্বীন বিজয় ও আত্মরক্ষার জেহাদ থেকে পিছিয়ে যাওয়া মুনাফাকের আলামত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সুরা তওবা আয়াত ৪৪- ৪৫
{ لَا یَسۡتَـٔۡذِنُكَ ٱلَّذِینَ یُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡیَوۡمِ ٱلۡـَٔاخِرِ أَن یُجَـٰهِدُوا۟ بِأَمۡوَ ٰلِهِمۡ وَأَنفُسِهِمۡۗ وَٱللَّهُ عَلِیمُۢ بِٱلۡمُتَّقِینَ (44)
যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, তারা তোমার কাছে তাদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করা থেকে বিরত থাকার অনুমতি চায় না, আর আল্লাহ মুত্তাকীদের সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত।
إِنَّمَا یَسۡتَـٔۡذِنُكَ ٱلَّذِینَ لَا یُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡیَوۡمِ ٱلۡـَٔاخِرِ وَٱرۡتَابَتۡ قُلُوبُهُمۡ فَهُمۡ فِی رَیۡبِهِمۡ یَتَرَدَّدُونَ (45)
তোমার কাছে অব্যাহতি প্রার্থনা তারাই করে যারা আল্লাহ্ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস করে না, যাদের অন্তর সন্দেহপূর্ণ, কাজেই তারা তাদের সন্দেহের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।
মুসলমানদের জন্য নিজের ঈমান ও দ্বীন বাঁচানো ফরজ। জীবন বাঁচানো ফরজ নয় বরং জীবন উৎসর্গ করা কখনো ফরজ হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন চান সত্য দ্বীন প্রতিষ্ঠায় আমরা যেন আমাদের জীবনকে উৎসর্গ করি।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন চান আমরা যেন মৃত্যুর মুখোমুখি হই। এখানেই ঈমানের বিজয়। দ্বীন প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধ মুসলমানদের উপর ফরজ। এই যুদ্ধ জুলুম অবিচারের ময়লা আবর্জনা মুক্ত পৃথিবী গড়ে তোলার যুদ্ধ। শান্তিপূর্ণ উপায়ে আপোষকামিতার মাধ্যমে কখনো জালিমকে ক্ষমতাচ্যুত করা যায় না। মোকাবেলা ছাড়া জুলুম জালিম কখনো খতম হয় না।
আমরা বাংলাদেশে ২৪ এর বিপ্লব দেখেছি। জালিম এর কাছে ছিল নানা বাহিনী। তাদেরকে সাজানো হয়েছিল আধুনিক সরঞ্জাম দ্বারা। ছাত্র-জনতা জীবন বাজি রেখে নিজের বুক পেতে দিয়ে আবু সাঈদ এর চেতনাকে সামনে রেখে যখন জালিমের মোকাবেলায় দাঁড়িয়েছে জালিমকে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে।
একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার জন্যই প্রয়োজন যুদ্ধ। প্রয়োজন বুক পেতে জালিমের মোকাবেলায় দাঁড়িয়ে যাওয়া। অন্যথায় ক্ষমতাসীনদের প্রভুক্তে অন্যদের বেঁচে থাকাই দূরহ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে কারীমের বিষয়ে তুলে ধরেছেন। এরশাদ হয়েছে-
وَلَوۡلَا دَفۡعُ ٱللَّهِ ٱلنَّاسَ بَعۡضَهُم بِبَعۡضࣲ لَّفَسَدَتِ ٱلۡأَرۡضُ
[Surah Al-Baqarah: 251]
(যদি আল্লাহ মানবজাতির একদলকে অন্যদল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে পৃথিবী বিপর্যস্ত হয়ে যেত)
কুরআনে কারীমের আয়াতের এই অংশে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। একমাত্র যুদ্ধ আর প্রতিরোধ দ্বারাই পৃথিবীফ্যাসাদ থেকে মুক্ত হয়। অত্যাচারী জালিম পরাজিত হয়। আর পৃথিবীতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়। পৃথিবীতে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
দুর্বল জনশক্তি যখন আল্লাহর উপর ভরসা করে প্রতিরোধ গড়ে তুলে জালিম তখন পালাতে বাধ্য হয়। আল্লাহ কুরআনে কারিমে অসংখ্যবার আহবান করেছেন সত্য ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় তোমরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়। আল্লাহর সাহায্য নিকটে।
মুসলমান কখনো শক্তির কাছে মাথানত করে না। বরং সত্যকে সম্বল করে বৃহৎ শক্তির সাথে লড়াই করে। মুসলমানদের বিজয় জনবল প্রযুক্তি তার অর্থ বলে হয় না। মুসলমানদের বিজয়ের সম্বল ঈমান আর সবর।
ইসলামী ইতিহাস এখানে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে।
বৃহৎ শক্তির সাথে সম্বলহীন দুর্বল মুসলমানদের বিজয় হয়েছে। কুরআনে কারীমে এমন ঘটনা আল্লাহ তুলে ধরেছেন। মুসলমানদের বিজয় কোন ব্যক্তি কোন জামানার সাথে সম্পৃক্ত নয়। বিজয়ের সম্পর্ক আমলের সাথে। সাহস প্রদর্শনের সাথে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যখন ফেরাউনকে ধ্বংস করে দিলেন। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম বনি ইসরাইলদের নিয়ে আল্লাহর সাহায্যে সাগর পাড়ি দিলেন। হযরত মুসা আলাইহিস সালামের মাধ্যমে বনী ইসরাইলের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে হুকুম হলো তোমরা এ পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ করো। আল্লাহ তোমাদের বিজয় দিবেন।
বনি ইসরাইল হযরত মূসা আলাইহিস সালাম কে জানিয়ে দিল। আমরা এ ভুমিতে প্রবেশ করব না। এখানে এক শক্তিশালী দুর্ধর্ষ জাতি বসবাস করে। আমরা তাদের সাথে মোকাবেলা করতে সক্ষম নই। নবী তাদেরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি শোনালেন আল্লাহ তোমাদের বিজয় দান করবেন তোমরা সাহস নিয়ে ভূমিকা প্রবেশ কর। তারা নবীকে উত্তর দিল আমরা কিছুতেই প্রবেশ করব না তুমি আর আল্লাহ যুদ্ধ কর আমরা এখানে অবস্থান করছি।
তাদের এ আচরণে নবী খুব মনঃক্ষুণ্য হলেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদেরকে শাস্তি দিলেন। বনি ইসরাইল ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্ত হল ঠিক কিন্তু আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাদের বিজয় অর্জিত হলো না। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম এই অবস্থাতেই দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেন। তারপর বনী ইসরাইলের উপর নানা ধরনের মুসিবত নেমে আসলো।
অনেকদিন পর হযরত শামুয়েল তখন নবী। তারা তার কাছে আবেদন করলো আমরা এই অত্যাচার থেকে মুক্তি চাই। আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন বাদশাহ নিযুক্ত করে দিন আমরা লড়াই করে বিজয় ছিনিয়ে আনবো। তাদের ইতিহাসের আলোচনা আল্লাহ কুরআনের মাঝে তুলে ধরেছেন।
তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাদের বাদশাহ তালুতকে নিযুক্ত করলেন। দুর্ধর্ষ বাদশাহ জালুতের মোকাবেলায় তালুত যখন সবাইকে নিয়ে অগ্রসর হলো বনি ইসরাইল আবার যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে এলো। তারা দুটি ভাগে বিভক্ত হলো। তাদের বৃহৎ অংশের কথা ছিল এই অসম যুদ্ধে আমরা রাজি নই।
{ قَالُوا۟ لَا طَاقَةَ لَنَا ٱلۡیَوۡمَ بِجَالُوتَ وَجُنُودِهِۦۚ
বনি ইসরাইলদের মাঝে যারা ঈমানের দাবিতে শক্তিশালী ছিল তারা সংখ্যায় ছিল কম। বর্ণিত আছে তারা ছিল সংখ্যায় মাত্র 313 জন। আর তাদের উক্তি ছিল।
قَالَ ٱلَّذِینَ یَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَـٰقُوا۟ ٱللَّهِ كَم مِّن فِئَةࣲ قَلِیلَةٍ غَلَبَتۡ فِئَةࣰ كَثِیرَةَۢ بِإِذۡنِ ٱللَّهِۗ وَٱللَّهُ مَعَ ٱلصَّـٰبِرِینَ }
[Surah Al-Baqarah: 249]
বাদশা জালুতের মোকাবেলায় বাদশা তালুত সামান্য কিছু সৈনিক আল্লাহর সাহায্যে বিজয়ী হলেন। এটা গল্প না ইতিহাস। সত্য ইতিহাস। আল্লাহ কোরআনে এই ইতিহাস আলোচনা করেছেন আমরা যেন সংখ্যায় স্বল্পতার কারণে কখনো ভেঙে না পড়ি।
বদরে খন্দকে মুসলমানদের বিজয় হয়েছে। বৃহৎ শক্তির পরাজয় হয়েছে। আমরা এই এক বিংশ শতাব্দীতে এসে আফগানে আমেরিকার পরাজয় দেখেছি। আমেরিকা আফগানের লড়াই ছিল অসম লড়াই। আফগানীদের পক্ষে দোয়া করার শক্তিও আমাদের ছিল না। আমরা ভেবেছিলাম গান হেরে যাবে। কিন্তু আল্লাহর সাহায্য আমেরিকায় হেরে গেছে।
ইনশাল্লাহ ইরানেও ইসরাইল ও পশ্চিমা শক্তির পরাজয় হবে। প্রয়োজন লড়ে যাওয়া। আল্লাহর সাহায্য নিকটে।
দুর্ধর্ষ বাদশা জালুতের মোকাবেলায় সামান্য কিছু সৈনিক নিয়ে বাদশা তালুত এবং ঈমানদাররা আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিল। সে দোয়া আল্লাহ কোরআনে আলোচনা করেছেন। আমরা আল্লাহর কাছে সে দোয়াই করছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই দোয়া কোরআনে তুলে ধরেছেন।
{ وَلَمَّا بَرَزُوا۟ لِجَالُوتَ وَجُنُودِهِۦ قَالُوا۟ رَبَّنَاۤ أَفۡرِغۡ عَلَیۡنَا صَبۡرࣰا وَثَبِّتۡ أَقۡدَامَنَا وَٱنصُرۡنَا عَلَى ٱلۡقَوۡمِ ٱلۡكَـٰفِرِینَ }
[Surah Al-Baqarah: 250]
আমরা সংখ্যায় স্বল্প হতে পারি। ভয় নেই আমাদের সাথে আল্লাহর সাহায্য আছে। আল্লাহ সাহায্য ইনশাল্লাহ আমাদেরই বিজয় হবে।