সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও মুসলিম সমাজ
মানুষের বৈশিষ্ট্য ও প্রকারভেদ
**************************
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে দিয়েছেন স্বাধীন ইচ্ছা শক্তি। এই মানুষের মাঝে যেমন মানবতা রয়েছে ঠিক তেমনি পাশবিকতাও রয়েছে। এই মানুষ কখনো সভ্য কখনো অসভ্য। মানুষ কখনো সৃষ্টির সেরা কখনো নিকৃষ্ট। কখনো তার মর্যাদা ফেরেশতাদের উর্ধ্বে কখনো সে পশুর চেয়েও নিচে।
{ وَنَفۡسࣲ وَمَا سَوَّىٰهَا (7) فَأَلۡهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقۡوَىٰهَا (
}
[Surah Ash-Shams: 7-8
মানুষের মাঝে মানবিকতা জাগ্রত করার জন্য এবং পাশবিকতা থেকে মানবসমাজকে বাঁচানোর জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পৃথিবীতে বহু সংস্কারকারী নবী রাসুলদের পাঠিয়েছেন। তারা সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তারাই পাশবিকতা ও পশুত্বের কালচার থেকে মানুষদের মুক্ত করেছেন।
পৃথিবীতে দুই ধরনের মানুষ আছে। একদল যারা নবীদের আদর্শ গ্রহণ করে স্বাধীন ইচ্ছা শক্তিকে আল্লাহর অনুগত করে দিয়েছে। আর অন্য দল যারা নবীদের আদর্শ গ্রহণ করেনি। তারা আল্লাহর অনুগতও হয়নি। কাজেই যারা নবীদের আদর্শ গ্রহণ করেছে আর যারা করেনি তারা এক নয়। তাদের কালচার তাদের সংস্কৃতি ও এক নয়।
{ أَفَمَن كَانَ مُؤۡمِنࣰا كَمَن كَانَ فَاسِقࣰاۚ لَّا یَسۡتَوُۥنَ }
[Surah As-Sajdah: 18]
উপমহাদেশে হিন্দু মুসলমান
*************************
আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে যেমন মুসলমানদের বসবাস। ঠিক তেমনি বিপুল পরিমাণ ভিন জাতিয় ভিন্ন ধর্মের লোকদের বসবাস রয়েছে। মুসলমানরা এক আল্লাহর একত্ববাদী বিশ্বাসী। তারা এক আল্লাহর উপাসনা করে। এর বিপরীতে এখনো বিপুল পরিমাণ হিন্দু সমাজ বসবাস করে। যারা বহু দেবতার উপাসনা করে।
এখানে মুসলমান হিন্দু জাতি তাদের ভাষা এক পাশাপাশি ভূখণ্ডে তারা বসবাস করে। কিন্তু তাদের কালচার এক না। আমরা আমাদের বাংলাদেশের ভূখণ্ডে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ ৯০ ভাগ। এখানে হিন্দু সমাজের বসবাস আছে। আমাদের ভূখণ্ড এক হলেও কালচার কখনো এক নয়।
সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও মুসলমানদের পরাজয়
****************************************
মুসলমানদের রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি। একজন মুসলমানের ভিন্ন ধর্মীয় সংস্কৃতি গ্রহণ করার সুযোগ নেই। কিন্তু পরিতাপের বিষয় আজকে আমরা এদেশের মুসলমান নিজস্ব সংস্কৃতি ভুলে বিজাতীয় সংস্কৃতিতে নিমজ্জিত। এবং বিজাতীয় সংস্কৃতি আমাদের গিলে ফেলেছে। ভিন্ন সংস্কৃতিতে আমরা মুসলমানরা মুসলিম পরিচয় ভুলতে বসেছি। আর এই সাংস্কৃতিক পরাজয়ই জাতির প্রকৃত পরাজয়।
সংস্কৃতির সাথে স্বাধীনতার সম্পর্ক
*******************************
সংস্কৃতির সাথে স্বাধীনতার একটি সম্পর্ক আছে। কোন জাতির স্বাধীনতা কেড়ে নিতে হলে সেনাবাহিনী পাঠিয়ে দেশ দখল করার পদ্ধতি এখন পুরানো। বরং দেখা গেছে শুধুমাত্র অস্ত্রের বলে কোন দেশ দখল করে বেশি দিন ধরে রাখা যায় না।
আর সাংস্কৃতিক আগ্রাসন দ্বারা একটি জাতিকে যুদ্ধ ছাড়াই মানসিক গোলামে পরিণত করা যায়। সহজেই একটা দেশকে কবজা করে ফেলা যায়। সামরিক অর্থনৈতিক আগ্রাসনের চাইতে এটা ভয়াবহ।
সামরিক আগ্রাসন অর্থনৈতিক আগ্রাসন সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। এই তিনটির উদ্দেশ্যই একটি দেশ জয় করা। তবে সামরিক অর্থনৈতিক আগ্রাসন দ্বারা একটি জনশক্তিকে দমিয়ে রাখা যায় গোলাম বানানো যায় না। কিন্তু সাংস্কৃতিক আগ্রাসন দ্বারা তারা সহজেই গোলামে পরিনত হয়।
সামরিক অর্থনৈতিক আগ্রাসনে পরাজিতদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা থাকে। কিন্তু সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে পরাজিতদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা থাকে না।
জাতি গঠনের সংস্কৃতির ভূমিকা
এদেশে বিজাতীয় সংস্কৃতির নাশকতা
******************************
সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মূল বাহন প্রচার মিডিয়া রেডিও টেলিভিশন চলচ্চিত্র গান নাটক সিনেমা সাহিত্য বিভিন্ন মেলা ম্যাগাজিন এগুলো শুধুমাত্র বিনোদন নয়।বরং একটি জাতি গঠনে এগুলোর ভূমিকা রয়েছে। এর দ্বারা একটি প্রজন্মের মন মানসিকতা গড়ে উঠে। আমাদের এ দেশের সাহিত্য গান নাটক সিনেমা ইসলামের প্রতিপক্ষ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।মুসলমানদের ধর্ম বিশ্বাস দেখানো হয়েছে নিন্দিত মৌলবাদ হিসেবে। সাম্প্রদায়িক চেতনাকে গালিতে রূপান্তর করা হয়েছে। এগুলো আমাদের বংশধরদের ঈমানী চেতনাকে চুরমার করে দিচ্ছে।
বর্তমান যুগে রেডিও টেলিভিশন দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী গণ যোগাযোগ মাধ্যম। আমাদের এই ছোট দেশে স্যাটেলাইটের ৬৭ টি ভারতীয় চ্যানেল দিয়ে ২৪ ঘন্টা প্রচার করা হচ্ছে ভিন্ন ধর্মীয় সংস্কৃতি। দেশের নিজস্ব মিডিয়াতেও ইসলাম প্রতিপক্ষ।
সংস্কৃতি কালচার হল একটি জাতির প্রান রুহ। সাংস্কৃতিক এ আগ্রাসনে বিপর্যস্ত ইসলামের দেহটির মাঝে পানি ঢালা হচ্ছে কিন্তু রুহানিয়াত শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। মুসলমান নাম ধারণ করলেও মুসলমানের সন্তানদের কাছে ইসলাম প্রিয় নয়। বিজাতীয় সংস্কৃতিতেই তাদের আনন্দ। ইসলাম তারা প্রতিপক্ষ মনে করে। ইসলাম তাদের স্বপ্ন পূরণ স্বাধীনতা উদযাপনের প্রতিপক্ষ।
মুসলমানদের গৌরবজ্জ্বল ইতিহাস
*****************************
ইসলাম মুসলমানদের উন্নতি অগ্রগতি সমৃদ্ধির অন্তরায় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ এদেশে মুসলমানদের রয়েছে গৌরবজ্জ্বল ইতিহাস। ইসলামের শিক্ষায়ই এই দেশ সম্মানিত হয়েছিল। ইসলামের মাধ্যমেই আমরা পৃথিবীর বুকে শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হয়েছিলাম।
মুসলমান আগমনের পূর্বে এদেশের মানুষ মুদ্রার ব্যবহার জানতো না। মুসলমানরা স্বর্ণ মুদ্রার প্রচলন করায় দেশে বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি হয় দেশ ধাপে ধাপে সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠে।
মুসলমান আগমনের পূর্বে এদেশের মানুষ সেলাই করা পোশাকের ব্যবহার পর্যন্ত জানতো না। নারী-পুরুষ দুই টুকরা কাপড় দিয়ে লজ্জা নিবারণ করত। হিন্দু শাস্ত্রে সেলাই করা পোশাক নিষিদ্ধ ছিল। সুন্দর সুন্দর পোশাকের ব্যবহার মুসলমান আমল থেকেই চালু হয়।
মুসলমান আগমনের পূর্বে এদেশের মানুষ শুধু মজাদার খাবার রান্না প্রণালী জানতো না। এদেশের কালচার ছিল তার মাছ খায় না পশু হত্যা করে না ভাত দুধ এবং ফলমূল আহার করে জীবন ধারণ করে। আজকের কোরমা পোলাও বিরিয়ানি কাবাব আচার সব মুসলমানদের অবদান।
মুসলমান আগমনের পূর্বে এদেশের সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা চর্চার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল। বাঙালির মুখের ভাষাকে ব্রাহ্মণ্যবাদী শাসকরা ও পবিত্র ও পক্ষির ভাষা বলে অবহিত করতো। বাংলা ভাষায় যারা বেদ পুরাণ মহাভারত রামায়ণ পাঠ করবে তারা বলতো তাদের ঠাঁই হবে নরকে।
এদেশের কালচার ছিল তারা সাপ ব্যাঙ গাছ পাথর ইত্যাদি পূজা করত। দূর্গা পূজা হোলি ইত্যাদি উপলক্ষে মেয়ে পুরুষ উভয়ের মধ্যে যৌনাচার চলত। এখানে লিঙ্গ পূজা কে পবিত্র মনে করা হতো।
ইসলাম আমাদের পবিত্রতা সভ্যতা ভদ্রতা শিখিয়েছে। ইসলাম আমাদের পরিছন্নতা শিখিয়েছে। যাবতীয় অশ্লীলতা নোংরামি থেকে ইসলামের মাধ্যমে আমরা মুক্তি পেয়েছি। আমাদের পূর্বপুরুষেরা ইসলামের মাধ্যমে অন্ধকারের জীবন থেকে কুসংস্কার থেকে আলোর পথে এসেছিলেন।
ইবনে খালদুনের লেখায় এদেশের মানুষ
***********************************
ঐতিহাসিক ইবনে খালদুনের লেখা থেকে জানা যায় যে আর্য সমাজে একজন নারী একই সাথে চার-পাঁচজন পুরুষের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলাই ছিল সামাজিক নীতি বরং এটা করতে অনিচ্ছুক যুবতীকে সামাজিক শাস্তি ভোগ করতে হতো। ভারতের হিন্দু সমাজে একজন পুরুষের বহু স্ত্রী গ্রহণের সাথে সাথে একজন নারীর সমাজের বহু স্বামী গ্রহণ প্রথাও চালু ছিল।
ইবনে খালদুনের লেখা থেকে আরো জানা যায় যদি কোন স্ত্রীর তার স্বামী থেকে সন্তান না জন্মাতো তাহলে অন্য পুরুষের সঙ্গ নিয়ে সন্তান ধারণ করাটা দোষের ছিল না বরং তা ধর্মীয় বিধান রূপে গণ্য হতো। হিন্দুদের ইতিহাসে ও সাহিত্যে ধরনের অনেক দৃষ্টান্ত আছে।
যেমন মহাভারতের শ্রেষ্ঠ চরিত্র পান্ডুর দুই স্ত্রী ছিল কুন্তী দেবী ও মাদ্রি। পান্ডু সন্তান জন্ম জন্মদানে অক্ষম ছিল বিধায় তার স্ত্রী কুন্তী দেবীকে অন্যের সাথে সঙ্গমের অনুমতি দিয়ে তিন সন্তান লাভ করে। এবং অপর স্ত্রী মাদ্রি অন্যের সাথে সঙ্গমে জন্ম দেয় দুই সন্তান। এরাই মহাভারতের পঞ্চপান্ডব নামে বিখ্যাত। দেখা যাচ্ছে ব্যভিচার কে ধর্মীয় স্বীকৃতি এবং অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
ইসলামের সৌন্দর্যতা
*******************
এই উপমহাদেশে ভারতবর্ষে মানুষ এতটাই মূর্খ ছিল এই অপবিত্রতা নোংরামিকে তারা ধর্মীয় পবিত্রতার দৃষ্টিতে দেখতো। পরিবার সমাজ ছিল নোংরামিতে ভরা।
কিন্তু ইসলামের রয়েছে চমৎকার পারিবারিক ব্যবস্থাপনা। ইসলামে বিয়ে এবাদত। জিনা ব্যভিচারকে নিষিদ্ধ । ব্যভিচার ঘটাতে পারে এমন কাজগুলোও ইসলামের নিষিদ্ধ। ইসলামে উত্তম পোশাক পরিধান করা ইবাদত। অশ্লীল সাহিত্য, নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা, যৌন উত্তেজক গান বাজনা ইসলামে হারাম। কত চমৎকার ধর্ম ইসলাম।
আহ আজকের মুসলমান
**********************
আজ আফসোস আমাদের পূর্বপুরুষেরা যে কুসংস্কারকে ছুড়ে মেরে ইসলামের আলো গ্রহণ করেছিল আজ আমরা তাদের বংশধর ইসলামকে ছুড়ে মেরে সেই কুসংস্কার জাহেলিয়াতের পিছনে অন্ধভাবে ছুটে চলছি।
এই মুসলমানরা একদিন এদেশের মানুষকে মার্জিত পোশাক পরিধান শিখিয়েছিল আদব-কায়দা শিখিয়েছিল আজকে মুসলমানের সন্তানরা দুর্গা মা কালী মায়ের গুনগান গাইছে।
যারা কালীপূজায় নরবলি দিত সতিদাহের নামে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারতো আজকে ইতিহাস ভোলা মুসলিম জাতি হিন্দু সমাজের সংস্কৃতির পাঠ গ্রহণ করতে চাইছে। তাদের কালচারে হারিয়ে যাচ্ছে।
মঙ্গল প্রদীপ শিখা অনির্বাণ
************************
হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে আগুন দেবতারুপি ভগবান। তারা বিশ্বাস করে আগুন ব্যতীত কোন দেবতা শুভ কাজে উপস্থিত হতে পারে না। এই বিশ্বাসের কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্ম মৃত্যু বিবাহ পূজা সকল কাজেই আগুনের ব্যবহার দেখা যায়। তার মনে করে আগুনে চড়ে দেবতা শুভ কাজে আগমন করেন এবং তিনি কাজে মঙ্গল দেন। গান্ধীজীর সমাধি মন্দিরে এই বিশ্বাস থেকেই অগ্নি শেখা জালিয়ে রাখা হয়েছে।
মুসলমানরা এক আল্লাহর উপর নির্ভরশীল। মুসলমান মনে করে কল্যাণ অকল্যাণের মালিক আল্লাহ। অন্য কেহনা। মুসলমানের কান্না ছাড়া কারো কাছে প্রার্থনা করে না। মুসলমান যখন কোন কাজ করে আল্লাহর কাছে মোনাজাতের মাধ্যমে শুরু করে। কাজেই মঙ্গল প্রদীপ শিক্ষা অনির্বাণ অগ্নি পূজারীদের কালচার। এর মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমতাকে অস্বীকার করা হয় এটা মুসলমানের কালচার হতে পারে না।
মুসলমানের রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি
*******************************
প্রতিটি জাতির সংস্কৃতির সাথে ধর্ম আকিদা-বিশ্বাসের রয়েছে সম্পর্ক। হিন্দু সমাজের সংস্কৃতির সাথে রয়েছে তাদের বিশ্বাস। মুসলমানদের আকিদা বিশ্বাস ভিন্ন। এজন্যই একজন মুসলমান কোন অবস্থাতেই হিন্দুয়ানি সংস্কৃতি গ্রহণ করতে পারে না। এ ব্যাপারে ইসলামের রয়েছে কঠোরতা।
{ ۞ یَـٰۤأَیُّهَا ٱلَّذِینَ ءَامَنُوا۟ لَا تَتَّخِذُوا۟ ٱلۡیَهُودَ وَٱلنَّصَـٰرَىٰۤ أَوۡلِیَاۤءَۘ بَعۡضُهُمۡ أَوۡلِیَاۤءُ بَعۡضࣲۚ وَمَن یَتَوَلَّهُم مِّنكُمۡ فَإِنَّهُۥ مِنۡهُمۡۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَا یَهۡدِی ٱلۡقَوۡمَ ٱلظَّـٰلِمِینَ }
[Surah Al-Māʾidah: 51]
আল্লাহ সাবধান করেছেন কুরআনে। তোমরা যদি তাদের সংস্কৃতি গ্রহণ করো তারা তোমাদের বন্ধু বানাবে। কিন্তু সেই অবস্থায় আল্লাহর কঠিন আজাবের তোমরা উপযুক্ত হবে। কাজেই সাবধান। আল্লাহর রাসুল হাদিসের মাঝে কঠোরভাবে সাবধান করেছেন। কাজেই আমাদের সাবধান হতে হবে।
من تشبه بقوم فهو منهم
একটি বর্ষের সমাপ্তি নতুন বর্ষের আগমন মুসলমানরা পালন করবে ইসলামের শিক্ষাকে সামনে রেখে। নতুন বছরের শুরুতে মুসলমানরা দোয়া করবে আল্লাহর কাছে নতুন বর্ষের কল্যাণের জন্য। ইসলামের শিক্ষাই হলো প্রতিটি কাজ শুরু দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে করা। আল্লাহ থেকে সাহায্য গ্রহণ করে বিসমিল্লাহ বলে কাজ শুরু করা। নতুন মাসের শুরুতে আল্লাহ রাসুল দোয়া পড়তেন।
اللَّهُمَّ أَهِلَّهُ علَيْنَا بِالأَمْنِ والإِيمَانِ، وَالسَّلامَةِ والإِسْلامِ، رَبِّي ورَبُّكَ اللَّه
ইসলামের রয়েছে নিজস্ব সভ্যতা সংস্কৃতি। নিজস্ব সভ্যতার সংস্কৃতির অনুসরনেই মুসলমানদের সফলতা মুক্তি কল্যাণ।
{ وَلِكُلࣲّ وِجۡهَةٌ هُوَ مُوَلِّیهَاۖ فَٱسۡتَبِقُوا۟ ٱلۡخَیۡرَ ٰتِۚ أَیۡنَ مَا تَكُونُوا۟ یَأۡتِ بِكُمُ ٱللَّهُ جَمِیعًاۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَیۡءࣲ قَدِیرࣱ }
[Surah Al-Baqarah: 148]
একটি বছরের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে নতুন বছরের শুভ লগ্নে আমি পূর্ণ মুসলিম সমাজের প্রতিটি সদস্যদের কাছে ইসলামকে আঁকড়ে ধরার আহ্বান জানাই। বিজাতীয় নোংরা সংস্কৃতি থেকে সম্পর্কহীনতার আহ্বান জানাই। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন।