সূরা নাযিয়াত নিয়ে কিছু কথা

মক্কার কাফেরদের প্রশ্ন ছিল কেয়ামত কবে হবে। এই সূরাটিতে তার জবাব দেওয়া হয়েছে কেয়ামত কবে হবে তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। রাসুলের দায়িত্ব হল কেয়ামত এবং কেয়ামত পরবর্তী জীবন সম্পর্কে সতর্ক করা।

সুরাটির শুরুতে মহাবিশ্ব কিভাবে চলছে তার একটি চমৎকার বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। পরকালের ধারনাটি অবিশ্বাসীদের কাছে ছিল অদ্ভুত। তাদের প্রশ্ন ছিল মৃত্যুর পর সবাইকে আবার জীবিত করা হবে কিভাবে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পৃথিবী পরিচালনার পদ্ধতিকে তুলে ধরে যুক্তির সাথে উপস্থাপন করা হয়েছে আল্লাহ মহা ক্ষমতাধর শাসক। তিনি নিশ্চিতভাবেই কেয়ামত সংগঠিত করবেন এবং তিনি আখেরাতে সবাইকে পুনরুজ্জীবিত করে তুলবেন। সুরাটিতে কিয়ামতের একটি ভয়াবহ বিবরণও তুলে ধরা হয়েছে।

সূরাটির দ্বিতীয় অংশে সংক্ষিপ্তভাবে ফেরাউনের কাছে হযরত মুছা আঃ এর দাওয়াত, তার অবাধ্যতা ও পরিণতি তুলে ধরা হয়েছে। ফেরাউন ছিল জালেম। এর অন্যতম কারণ তার পরকালে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার ভয় ছিল না। অর্থকরী আর ক্ষমতায় মাতোয়ারা ফেরাউন ছিল ভয় শূণ্য। আজকের পৃথিবীতেও ক্ষমতা আর অর্থকরী আছে যাদের তাদের আচরণ ফেরাউনের মতো, তারা ভয়শূন্য, তারা জালেম।

ফেরাউন তার শক্তি দ্বারা সত্যের মোকাবেলা করতে চেয়েছিল। পরিণতিতে ফেরাউন হয়েছে লাঞ্ছিত অপমানিত। পরকালেও তার জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন শাস্তি। ফেরাউনের গল্প ক্ষমতা আর অর্থকরীতে মাতোয়ারা আজকের পৃথিবীর বিত্তবান ক্ষমতাবানদের জন্য শিক্ষণীয়।

সুরাটির তৃতীয় অংশে আল্লাহর ক্ষমতার নিদর্শনগুলোর দিকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আল্লাহর ক্ষমতার হাজারও নিদর্শন সাক্ষী তিনি মহা শক্তিধর। তিনি এই পৃথিবী ধ্বংস করে পুনরায় তা সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখেন।

সুরাটির শেষ অংশে কেয়ামত কবে হবে কাফেরদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে এটা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ভালো জানেন। কেয়ামত পরবর্তী আল্লাহর অবাধ্য আর অনুগত বান্দাদের শেষ পরিণতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সাথে এ কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে অবিশ্বাসীরা যখন কেয়ামতের সম্মুখীন হবে তখন তাদের বোধদয় হবে তাদের উপলব্ধি হবে দুনিয়াতে খুব সামান্য সময় তারা ছিল।

আল্লাহর বিশাল ক্ষমতা, দুনিয়ার পর আখেরাতের গুরুত্ব, কিয়ামতের ভয়াবহতা, কেয়ামত পরবর্তী নেককার অহংকারদের পরিণতির বিষয়ে সচেতন করাই এ সুরার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

Scroll to Top