মহরমের ১০ তারিখ ঐতিহাসিক আশুরা। এই দিন ফজিলত পূর্ণ দিন।
জাহিলি যুগে মক্কায় এদিন সিয়াম পালন করা হতো এবং কাবার গেলাফ পরিবর্তন করা হতো। প্রিয় রসূল মদিনায় হিজরত করার পর সেখানেও ইহুদিদের রোজা পালন করতে দেখলেন। তাদের জিজ্ঞাসা করলেন।
তারা জানালো এই দিন বিশেষ দিন এদিন আল্লাহ হযরত মুসা এবং তাঁর গোত্রকে মুক্তি দান করেছিলেন এবং ফেরাউনকে এবং তার সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছিলেন। কৃতজ্ঞতা হিসেবে হযরত মুসা রোজা রাখতেন আমরা তার অনুসরণে রোজা রাখি। প্রিয় রাসুল নিজে রোজা রাখলেন সকলকে রোজা রাখার হুকুম দিলেন।
এই দিন ফেরাউনের পতনের দিন। কুরআনে কারীমের আলোচিত এক নাম ফেরাউন। কুরআন ফেরাউনকে একজন দাম্ভিক স্বৈরশাসক হিসেবে তুলে ধরেছে। ফেরাউনকে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। উদ্দেশ্য ফেরাউনের চরিত্রকে আমরা যেন উপলব্ধি করি।
কুরআন আমাদের আহ্বান করে ফেরাউন যত শক্তিশালী হোক আমরা যেন তার অনুসারী না হই। ফেরাউনের শক্তি সামর্থ্য দাম্ভিকতা ক্ষমতা নিয়ে কোরআন যা আলোচনা করেছে –
ফেরাউনের ছিল অনুগত শক্তিশালী বিশাল এক বাহিনী। যখন যা ইচ্ছা তা বাস্তবায়নের ক্ষমতা তার ছিল।
ফেরাউনের ছিল দক্ষ গোয়েন্দা বিভাগ। ফেরাউন তাদের মাধ্যমে খবর বের করে ফেলেছিল বনি ইসরাইলের কাদের ঘরে নবজাতক আছে। কোন কোন ঘর তার বিরুদ্ধে। তার ক্ষমতার হুমকি হতে পারে এমন শিশুকেও সে রেহাই দেয়নি। দক্ষ গোয়েন্দা বিভাগ ছাড়া বেডরুমের খবর রাখা সহজ কাজ ছিল না।
ফেরাউনের ছিল অত্যন্ত চৌকস অভিজ্ঞ তথ্য মন্ত্রণালয়। যারা মাটির সাথে সাথে আকাশের খবরও রাখত। তারকা দেখে হিসাব বের করে ফেলেছিল একটি বিপদজনক শিশু জন্ম নিচ্ছে। দিন তারিখ গণনা করে তারা তার অপেক্ষা করছিল।
ফেরাউনের রাষ্ট্রের জ্ঞানী গুণী ব্যক্তিরা তার নিয়ন্ত্রণে ছিল এজন্যই দেখা যায় সঠিক সময় রাষ্ট্রকে আসন্ন বিপদ সম্পর্কে অবগত করার কাজটা তারা করেছেন। অন্যথায় তারকা দেখে আসন্ন বিপদ জানা রাষ্ট্রের সম্ভব ছিল না।
ফেরাউনের ছিল বিশ্বস্ত সহকারি মন্ত্রিপরিষদ যেমন হামান ও অন্যরা। বিরোধী পক্ষ বনী ইসরাইলেও ফেরাউন একটি গাদ্দার শ্রেণী তৈরি করতে পেরেছিল। কারুণ ছিল সেই ব্যক্তি। বনি ইসরাইলের হওয়া সত্বেও সে ছিল ফেরাউনের লোক। মন্ত্রীও হয়েছিল।
ফেরাউন রাষ্ট্রের মাঝে বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করেছিল। তার উন্নয়ন ছিল দৃশ্যমান। জনগণ এর দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
ফেরাউনের ছিল শক্তিশালী অনুগত প্রচার মাধ্যম। মূসা আলাইহিস সালামের সামান্য ভুল তার ঘুষিতে একজন ব্যক্তির মৃত্যু ব্যাপকভাবে প্রচার করেছিল কিন্তু তার নিজের অগণিত অপরাধ এ প্রচার মাধ্যম ধামাচাপা দিয়েছিল।
ফেরাউনের আলোচনা করে কুরআন উপস্থাপন করেছে তার হাজার হাজার শিশু হত্যা যার আগমন ঠেকাতে সেই শিশু লালিত পালিত হয়েছে ফেরাউনের এই ঘরে। এখানেই আল্লাহর কুদরত। ফেরাউন ছিল ব্যর্থ।
এই আলোচনা দ্বারা কোরআন উপস্থাপন করেছে একজন মুমিন যখন ঈমানের উপর সততর ওপর অটল থাকে তার ভয় নেই রাষ্ট্র ষড়যন্ত্র তার ক্ষতি করতে পারে না। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ছিলেন বিজয়ী।
আশুরা ফেরাউনের পতনকে কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে উদযাপন করার দিন। এই দিন সত্যের বিজয়ের দিন।
আবার আশুরার এই দিন কারবালার প্রান্তরে নবী দৈহিত্র প্রিয় হুসাইনের শাহাদাতের দিন। আজকের দিনে হুসাইনের শাহাদাত আমাদের এই শিক্ষা দেয় দুনিয়ার সাময়িক জয় পরাজয় চূড়ান্ত ফলাফল না।
কারবালার প্রান্তরে হুসাইনের শাহাদাত পরাজয় ছিল না । বরং ইতিহাস সাক্ষী মিথ্যা পরাজিত হয়েছে। এজিদই পরাজিত হয়েছে। হুসাইনের শাহাদত আমাদের শিক্ষা দেয় প্রয়োজনে জীবন যাবে কিন্তু অন্যায়ের সাথে আপোষ করা যাবে না।