যদি গণতন্ত্রকে মতবাদ হিসেবে গ্রহণ করেন অর্থাৎ জনগণকে সার্বভৌম হিসেবে গ্রহণ করেন তবে গণতন্ত্র সাপোর্ট করা যাবে না। এতে কোন সন্দেহ নেই।
আর যদি গণতন্ত্র বলতে নেতা নির্বাচন করা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করেন তাহলে এ ব্যাপারে ইসলাম কি বলে? বিষয়টি গবেষণা প্রয়োজন। কারো তাহকিক থাকলে বললে ভাল হয়।
গণতন্ত্র কি কোন মতবাদ বা জীবনবিধান। না এটি একটি নির্বাচন পদ্ধতি বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি। আপনি এটাকে কিভাবে দেখছেন?
পৃথিবীর সব দেশের/এলাকার গণতন্ত্র কিন্তু একরকম নয়। গণতন্ত্রকে সবাই নিজের দেশের জন্য উপযোগী করে ব্যবহার করছেন। গণতন্ত্র শব্দটি আমার কাছে একটা ধোঁকাবাজি মনে হয়। কোথাও আছে বলে মনে হয় না। না দেশে আছে না কোন দলে আছে।
প্রায় বলতে শোনা যায় আব্রাহাম লিংকনের গণতন্ত্র। আসল ব্যাপার হলো আব্রাহাম লিংকন এর একটি সংজ্ঞা দিয়েছিলেন। এ সংজ্ঞা সর্বত্র কার্যকর আছে বলে মনে হয় না।
শাইখুল হাদিস কে বলতে শুনেছিলাম আমরা ক্ষমতায় যাব এজন্য নির্বাচন করছি না। ইসলামের উপর আঘাত আসলে আমরা কথা বলব এজন্য নির্বাচন করছি। আপনারা যদি আমাদেরকে ভোট দেন তাহলে আমরা যখন কথা বলব আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলবো। আমাদের শক্তি থাকবে যে আমাদের জনসমর্থন আছে।
শুধুমাত্র নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি মেনে নিয়ে ইসলামী দলগুলো যদি কুফুর তাকফিরের ফতোয়া পায় তাহলে ইসলামিক দলগুলোর বাইরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যারা গণতান্ত্রিক রাজনীতি করে যাচ্ছে এবং যাদের রাজনৈতিক চিন্তাধারায় ইসলাম নেই বরং ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক এজেন্ডা আছে তাদের ঈমান কুফরের ব্যাপারে ফায়সালা কি? তাদের সাথে ঈমানদার মুসলমানদের বিয়ে পরিবার কাঠামোর ব্যাপারে কি ফয়সালা আসবে সব বিষয়গুলি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
হক বাতিল ঈমান কুফর এর ফতোয়া ইসলামে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কর্মগত শিরকে নিমজ্জিত ব্যক্তিকেও মুশরিক বলার ক্ষেত্রে ইসলামে রয়েছে সীমাহীন সতর্কতা। আমাদের কি উচিত নয় এ বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করা।
এখানে আমার কিছু পর্যবেক্ষণ প্রশ্নগুলো তুলে ধরলাম। যারা বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছে তাদের কাজে লাগবে