পবিত্র হজের মহান সফর সম্পন্ন করে সম্মানিত হাজী সাহেবগণ নিজ নিজ ঘরে ফিরে আসছেন। আমরা মহান আল্লাহর দরবারে তাঁদের হজ কবুল হওয়ার জন্য দোয়া করি।
হজের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—হজকে ধরে রাখা। হজ কেবল কয়েক দিনের একটি সফর নয়; এটি জীবনের একটি নতুন সূচনা। যে হৃদয় আরাফার ময়দানে কেঁদেছে, যে চোখ কাবাঘরের দিকে তাকিয়ে অশ্রু বিসর্জন দিয়েছে, যে আত্মা আল্লাহর সামনে নিজেকে সমর্পণ করেছে, সেই হৃদয় ও আত্মাকে হজের পরও জীবন্ত রাখতে হবে। প্রকৃত সফলতা হলো হজ থেকে ফিরে এসে নতুন জীবনকে নতুন করেই শুরু করা; আল্লাহর আনুগত্য, তাকওয়া এবং দ্বীনের উপর অবিচল থাকা।
হজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান। যাঁদের উপর হজ ফরজ হয়েছে, তাঁদের জন্য দেরি না করে এই মহান ইবাদতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত। আজ থেকেই আমরা ২০২৭ সালের হজের প্রস্তুতি শুরু করতে পারি—আর্থিক প্রস্তুতি, শারীরিক প্রস্তুতি, ইলমী প্রস্তুতি এবং সর্বোপরি আত্মিক প্রস্তুতি।
যাঁদের হজ সম্পন্ন হয়েছে কিংবা যাঁরা ভবিষ্যতে হজ পালনের আশা রাখেন, তাঁদের জন্য ওমরার সফরও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওমরা শুধু একটি নফল ইবাদত নয়; এটি পবিত্র ভূমির সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার একটি সুযোগ। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন ফজিলত অর্জিত হয়, অন্যদিকে মক্কা-মদিনার পরিবেশ, ইতিহাস, স্মৃতি ও বরকতের সঙ্গে হৃদয়ের পরিচয় ঘটে। বাইতুল্লাহর প্রতি ভালোবাসা এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নগরীর প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়।
আজ চারদিকে নানা ধরনের ফিতনা, অপসংস্কৃতি, অশ্লীলতা ও ঈমানবিধ্বংসী প্রভাব বিস্তার করছে। একজন সচেতন মুসলিমের জন্য নিজের ঈমান, পরিবার এবং সন্তানদের দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। অনেক সময় মনে হয়, একজন মুমিনের জন্য দুনিয়া সত্যিই একটি কারাগারস্বরূপ।
এ অবস্থায় সুযোগ হলে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে মক্কা-মদিনার সফর করুন। আপনার সন্তানদেরকে কাবাঘর দেখান, তাদেরকে মসজিদে নববীর পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করুন, তাদের হৃদয়ে আল্লাহর ঘর এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শহরের প্রতি ভালোবাসার বীজ বপন করুন। এই ভালোবাসা তাদের জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
আসুন, আমরা নিজেদের এবং আমাদের পরিবারকে বাইতুল্লাহ ও মসজিদে নববীর গভীর মহব্বতে উজ্জীবিত করি। হজ ও ওমরার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করি এবং একটি ঈমানময় জীবনের পথে অগ্রসর হই।
পবিত্র হজ ও ওমরার সফরে আমাদের সহযোগিতা গ্রহণ করুন। আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করি, আপনার সফরকে শুধু একটি ভ্রমণ নয়; বরং ইবাদত, মহব্বত, আত্মিক প্রশান্তি ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ একটি জীবনের সফরে পরিণত করতে।
আগামী জুলাই ও অক্টোবরে আমরা দুটি ওমরা কাফেলা পরিচালনা করব। সাথে ২০২৭ সালের হজের সফর সামনে। আপনার সফরকে অর্থবহ করতে আমাদের সাথে আসুন আপনার কথাগুলো বলুন। আপনাকে সহযোগিতা করতে আমাদের কাছে না প্রস্তুত আছে।
আসুন, আল্লাহর ঘরের পথে যাত্রা করি—ভালোবাসার সঙ্গে, ইখলাসের সঙ্গে, এবং একটি নতুন জীবনের প্রত্যয়ে।