মুমিন কি নিরপেক্ষ হতে পারে? মুমিন নিরপেক্ষ নয়

ঈমান গ্রহণের অর্থই হলো পক্ষ গ্রহণ করা। একজন মুমিন নিরপেক্ষ হতে পারে না। আর নিরপেক্ষ ব্যক্তি মুমিন হতে পারে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে কারীমে আমাদেরকে পক্ষ গ্রহণ করার আহবান করেছেন। ‌

আমাদেরকে ইসলামের পক্ষ নিতে হবে। আমাদের পরিচয় পেশ করতে হবে আমরা মুসলিম। এ ব্যাপারে কুরআনে কারীমে রয়েছে অসংখ্য আয়াত।

وَأُمِرۡتُ أَنۡ أَكُونَ مِنَ ٱلۡمُسۡلِمِینَ }

[Surah Yūnus: 72]

আর আমাকে হুকুম করা হয়েছে, আমি যেন মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত থাকি।

{ وَمَنۡ أَحۡسَنُ قَوۡلࣰا مِّمَّن دَعَاۤ إِلَى ٱللَّهِ وَعَمِلَ صَـٰلِحࣰا وَقَالَ إِنَّنِی مِنَ ٱلۡمُسۡلِمِینَ }

[Surah Fuṣṣilat: 33]

আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত’

সূরা কাফিরুন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই আয়াতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান করেছেন।

Surah Al-Kāfirūn: 1-6

قُلۡ یَـٰۤأَیُّهَا ٱلۡكَـٰفِرُونَ (1) لَاۤ أَعۡبُدُ مَا تَعۡبُدُونَ (2) وَلَاۤ أَنتُمۡ عَـٰبِدُونَ مَاۤ أَعۡبُدُ (3) وَلَاۤ أَنَا۠ عَابِدࣱ مَّا عَبَدتُّمۡ (4) وَلَاۤ أَنتُمۡ عَـٰبِدُونَ مَاۤ أَعۡبُدُ (5) لَكُمۡ دِینُكُمۡ وَلِیَ دِینِ (6)

বলুন, হে কাফিররা! (১) আমি তার ইবাদত করি না, যার ইবাদত তোমরা কর।(২) এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও, যাঁর ইবাদত আমি করি।(৩) এবং আমি ইবাদতকারী নই তার যার ইবাদাত তোমরা করে আসছ। (৪) এবং তোমরা তাঁর ইবাদতকারী নও, যাঁর ইবাদত আমি করি। (৫) তোমাদের দ্বীন তোমাদের, আর আমার দ্বীন আমার। (৬)

কোরআনে কারীমের সূরা সুস্পষ্ট আল্লাহ মুমিনদের কে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান করছেন। কুফরি ধর্মের সাথে সব ধরনের সম্পৃক্ততা থেকে মুক্তির ঘোষণা দেওয়া ঈমানের অপরিহার্য বিষয়। এমন সুস্পষ্ট আহ্বানের পর নিরপেক্ষ থাকার কিছু যুগ আছে। নিরপেক্ষ ব্যক্তি কি মুমিন হতে পারে।

Surah Yūnus: 104

قُلۡ یَـٰۤأَیُّهَا ٱلنَّاسُ إِن كُنتُمۡ فِی شَكࣲّ مِّن دِینِی فَلَاۤ أَعۡبُدُ ٱلَّذِینَ تَعۡبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَلَـٰكِنۡ أَعۡبُدُ ٱللَّهَ ٱلَّذِی یَتَوَفَّىٰكُمۡۖ وَأُمِرۡتُ أَنۡ أَكُونَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِینَ

বলে দাওঃ হে লোকসকল! যদি তোমরা আমার দীন সম্বন্ধে সন্দিহান হও তাহলে আমি সেই মা‘বূদদের ইবাদাত করিনা, আল্লাহকে ছেড়ে তোমরা যাদের ইবাদাত কর; কিন্তু আমি সেই আল্লাহর ইবাদাত করি যিনি তোমাদের তোমাদের মৃত্যু ঘটান, আর আমাকে এই আদেশ করা হয়েছে যে, আমি যেন ঈমান আনয়নকারীদের দলভুক্ত থাকি।

এই আয়াতের আহ্বান একজন মুমিনের ঈমান আকিদা সমাজের কাছে অস্পষ্ট থাকা যাবে না। তাকে তার ঈমান এবং অবস্থান পরিষ্কার করে দিতে হবে। ঈমান ইসলাম গোপন করে রাখার সুযোগ নেই। পরিস্থিতি অনুকূল হোক আর প্রতিকূল হোক মুমিন তার পরিচয় প্রকাশ করবে। এমন সুস্পষ্ট হুকুমের পর নিরপেক্ষ ব্যক্তি কিভাবে মুমিন হতে পারে।

ইসলামের পক্ষ-বিপক্ষ এক নয়

***************************

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনুল কারীম স্পষ্ট করেছেন যারা ঈমানদার আর যারা অবিশ্বাসী তারা এক নয়।

[Surah As-Sajdah: 18-20]

{ أَفَمَن كَانَ مُؤۡمِنࣰا كَمَن كَانَ فَاسِقࣰاۚ لَّا یَسۡتَوُۥنَ (18)

তাহলে কি যে ব্যক্তি মু’মিন হয়েছে সে পাপাচারীর ন্যায়? তারা সমান নয়।

أَمَّا ٱلَّذِینَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ فَلَهُمۡ جَنَّـٰتُ ٱلۡمَأۡوَىٰ نُزُلَۢا بِمَا كَانُوا۟ یَعۡمَلُونَ (19)

যারা ঈমান আনে আর সৎ কাজ করে তাদের বাসস্থান হবে জান্নাত, তারা যে কাজ করত তার আপ্যায়ন স্বরূপ।

وَأَمَّا ٱلَّذِینَ فَسَقُوا۟ فَمَأۡوَىٰهُمُ ٱلنَّارُۖ كُلَّمَاۤ أَرَادُوۤا۟ أَن یَخۡرُجُوا۟ مِنۡهَاۤ أُعِیدُوا۟ فِیهَا وَقِیلَ لَهُمۡ ذُوقُوا۟ عَذَابَ ٱلنَّارِ ٱلَّذِی كُنتُم بِهِۦ تُكَذِّبُونَ (20)

আর যারা পাপাচার করেছে তাদের বাসস্থান হবে জাহান্নাম; যখনই তারা জাহান্নাম হতে বের হতে চাবে তখনই তাদের ফিরিয়ে দেয়া হবে তাতে এবং তাদেরকে বলা হবেঃ যে আগুনের শাস্তিকে তোমরা মিথ্যা বলতে তা আস্বাদন কর।

নিরপেক্ষরা কি জান্নাতে যাবে

**************************

এ ব্যাপারে কুরআনে কারীমের আলোচনা স্পষ্ট কোন নিরপেক্ষ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। শুধুমাত্র এক পক্ষের লোকেরাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। অবশিষ্ট সকলের ঠিকানা হবে জাহান্নাম।

জাহান্নামে সব সম্প্রদায়ের লোকেরা বসবাস করবে একসাথে। জান্নাতে শুধুমাত্র একটি সম্প্রদায়ের লোকেরা যাওয়ার সুযোগ পাবে। এ ব্যাপারে কোন অস্পষ্টতা নেই।

[Surah Al-Baqarah: 38-39]

فَمَن تَبِعَ هُدَایَ فَلَا خَوۡفٌ عَلَیۡهِمۡ وَلَا هُمۡ یَحۡزَنُونَ (38)

অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোন হিদায়াত আসবে, তখন যারা আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না’।

وَٱلَّذِینَ كَفَرُوا۟ وَكَذَّبُوا۟ بِـَٔایَـٰتِنَاۤ أُو۟لَـٰۤىِٕكَ أَصۡحَـٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِیهَا خَـٰلِدُونَ (39) }

আর যারা কুফরী করবে ও আমার নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করবে, তারাই জাহান্নামী; সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।

নিরপেক্ষ থাকার অর্থ হল ইসলামের সত্যতার পক্ষে কথা না বলা। ইসলাম বিরোধীদের কাছে নতি স্বীকার করা। তাদের বিজয়ে সহযোগিতা করা।

নিরপেক্ষ ব্যক্তি মুমিন নয়

**********************

নিরপেক্ষ ব্যক্তি ঈমানের দাবিতে সত্যবাদী নয়। নিরপেক্ষ ব্যক্তি প্রকৃত মুমিন নয়। আর একজন প্রকৃত মুমিন কখনো নিরপেক্ষ নয়। ঈমানের অর্থই হলো পক্ষ গ্রহণ করা। তারপর আর কখনো নিরপেক্ষ না হওয়া। আল্লাহ কুরআনে মুমিনের পরিচয় পেশ করেছেন।

Surah Al-Ḥujurāt: 15

إِنَّمَا ٱلۡمُؤۡمِنُونَ ٱلَّذِینَ ءَامَنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ ثُمَّ لَمۡ یَرۡتَابُوا۟ وَجَـٰهَدُوا۟ بِأَمۡوَ ٰ⁠لِهِمۡ وَأَنفُسِهِمۡ فِی سَبِیلِ ٱللَّهِۚ أُو۟لَـٰۤىِٕكَ هُمُ ٱلصَّـٰدِقُونَ

মু’মিন একমাত্র তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের উপর ঈমান আনে, অতঃপর কোনরূপ সন্দেহ করে না, আর তাদের মাল দিয়ে ও জান দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে; তারাই সত্যবাদী।

এই আয়াতে একমাত্র ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের কে মুমিন বলা হয়েছে যারা আল্লাহ এবং রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে তারপর আর কোন দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগেনি। এই পথে অটল অবিচল থেকেছে। এবং সত্য দিন প্রতিষ্ঠায় যান মাল কোরবানি করে হাত করেছে। এই গুণাবলীর ব্যক্তিদেরকে ঈমানের দাবিতে সত্যবাদী বলা হয়েছে।

এই আয়াত দ্বারা এ বিষয়টি পরিষ্কার ঈমান গ্রহণের পর যারা সংশয় প্রকাশ করে। যারা নিরপেক্ষতার ভান ধরে তারা মিথ্যাবাদী। তারা ঈমানের দাবি করে আল্লাহকে ধোকা দেওয়ার চেষ্টা করে।

{ وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن یَقُولُ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَبِٱلۡیَوۡمِ ٱلۡـَٔاخِرِ وَمَا هُم بِمُؤۡمِنِینَ }

[Surah Al-Baqarah: 8]

আর মানুষের মধ্যে এমন লোক আছে যারা বলে, আমরা আল্লাহর উপর এবং শেষ দিনের উপর ঈমান এনেছি, অথচ তারা মোটেই ঈমানদার নয়।

শুধুমাত্র মুখে কালেমা জপার দ্বারাই আর শুধু মুখের দাবিতেই একজন ব্যক্তি ঈমানদার হয় না। বরং ঈমান আনার পর ঈমান উপযোগী কাজগুলো তাকে সম্পাদন করতে হয়। তাহলেই সে প্রকৃত মুমিন। ঈমানের দাবি পূরণের দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগা সত্যের পথ থেকে সরে যাওয়া।

Surah An-Nisāʾ: 142-145

مُّذَبۡذَبِینَ بَیۡنَ ذَ ٰ⁠لِكَ لَاۤ إِلَىٰ هَـٰۤؤُلَاۤءِ وَلَاۤ إِلَىٰ هَـٰۤؤُلَاۤءِۚ وَمَن یُضۡلِلِ ٱللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُۥ سَبِیلࣰا (143)

এরা সন্দেহের দোলায় দোদুল্যমান রয়েছে। তারা এ দিকেও নয় ওদিকেও নয়; এবং আল্লাহ যাকে পথভ্রান্ত করেছেন, বস্তুতঃ তুমি তার জন্য কোনই পথ পাবেনা।

إِنَّ ٱلۡمُنَـٰفِقِینَ یُخَـٰدِعُونَ ٱللَّهَ وَهُوَ خَـٰدِعُهُمۡ (142)

নিশ্চয় মুনাফিকগণ আল্লাহর সঙ্গে ধোঁকাবাজি করে, তিনি তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে শাস্তি দেন

إِنَّ ٱلۡمُنَـٰفِقِینَ فِی ٱلدَّرۡكِ ٱلۡأَسۡفَلِ مِنَ ٱلنَّارِ وَلَن تَجِدَ لَهُمۡ نَصِیرًا (145)

নিশ্চয় মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে। আর তুমি কখনও তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী পাবে না।

কোরআনে কারীমের এই আয়াতে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের পথভ্রষ্ট এবং ধোকাবাজ মুনাফিক শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছে। সত্য আর মিথ্যার দ্বন্দ্বে যারা চুপ থাকাকে মনে করে চালাকি কোরআন তাদেরকে বলছে নির্বোধ। যারা জীবন বাজি রেখে সত্যের পক্ষ অবলম্বন করে তারাই মূলত চতুর।

নবীরা কেহ নিরপেক্ষ ছিলেন না

***************************

নবী রাসুলগণ সকলেই ছিলেন ধার্মিক। আল্লাহর নাযিলকৃত সত্য ধর্মকে বিজয়ী করার যুদ্ধে তারা ছিলেন আপোষহীন। আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চুপ থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি জবাব দিয়েছিলেন এক হাতে সূর্য আর অপর হাতে চন্দ্রও যদি তোমরা এনে দাও আমি সত্যের কথা বলেই যাব। চুপ থাকার প্রশ্নই আসে না। তিনি যদি কুফরি অপশক্তির প্রভাবের কাছে নম্র হতেন নতি স্বীকার করতেন তাহলে আজ আমাদের পর্যন্ত সত্য পৌছতো না ।

নবী-রাসূলদের সুন্নত হল সত্যের পক্ষ নিয়ে বাঁচা। আমরা যখন সত্য বলবো সত্যকে হেফাজত করবো আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম পর্যন্ত সত্য পৌঁছবে। আর আমরা যদি নিরপেক্ষতা অবলম্বন করি আর মিথ্যা বিজয়ী হয়ে যায় তাহলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম সত্যের সন্ধান পাবে না।

নিরপেক্ষ থাকা- ইসলাম ত্যাগ করা

******************************

ইসলাম সুস্পষ্ট। ‌ ইসলামের বিরোধিতাও সুস্পষ্ট। যেখানে ইসলাম আর অনৈসলামের দ্বন্দ্ব সেখানে নিরপেক্ষ থাকার অর্থ ইসলামের পক্ষ ত্যাগ করা। মিথ্যার প্রভাব এর কাছে নতি স্বীকার করা।

ইসলাম চায় যে ব্যক্তি ঈমান আনবে সে শুধু ইসলামের পক্ষেই নিবে না বরং ইসলামের বিজয়ে সে শত্রু পক্ষ নির্মূলে ভূমিকা রাখবে। যেখানে বিপরীত পক্ষ জীবন বাজি রেখে মিথ্যা প্রচেষ্টায় লড়ছে সেখানে তার মোকাবেলা না করে নিরপেক্ষতা অবলম্বন করা সত্য দ্বীনের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করা। এটা সুস্পষ্ট বেইমানি।

ইসলাম অনৈসলামের দ্বন্দ্বে নিরপেক্ষ থাকার অর্থ কাফেরে পরিণত হওয়া। মুসলিম হতে হলে সর্বপ্রথম যে কাজটি করতে হয় তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষে সাক্ষ্য দান করা। এ সাক্ষ্যদানের অর্থ শুধু মুখে কালেমায়ে শাহাদত পাঠ করা নয় বরং এ সাক্ষ্যদানের অর্থ হল সকল প্রকার মিথ্যা ধর্ম মিথ্যা মতবাদের সাথে সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করা। কাজেই একজন কালেমা বিশ্বাসী ব্যক্তি নিরব নয় নিরপেক্ষ নয়।

নিরপেক্ষ থাকা ইসলামে অপরাধ

*****************************

নিরপেক্ষ থাকার অপরাধটি বিশাল। আর এই অপরাধ হলো ইসলাম যে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের একমাত্র মনোনীত সঠিক দ্বীন এবং অন্য সব ধর্ম মিথ্যা একথা বলা থেকে বিরত থাকা। এটা ঈমানদারী নয় এটা মহান আল্লাহর সাথে সুস্পষ্ট বেইমানি।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন চান তার মনোনীত দ্বীন ইসলাম সত্যদ্বীন হিসেবে স্বীকৃতি পাবে, পৃথিবীর বুকে বিজয়ী থাকবে। এজন্য জরুরী হলো সত্যদ্বীনের অনুসারীরা মিথ্যার মোকাবেলায় এক যোগে সত্য দ্বীনের পক্ষে সাক্ষ্য দান করবে।

এই কাজটি করা না হলে ইসলামের শত্রুপক্ষ বিজয়ী হয়ে যাবে আর ইসলাম পরাজিত হবে। ইসলামকে বিজয়ী করার জন্য সত্য গ্রহণের সাথে সাথে সত্য প্রতিষ্ঠায় লড়তে হবে। ‌ আমাদের প্রিয় রাসূল সত্য দ্বীন প্রতিষ্ঠায় লড়াই করেছেন। সাহাবায়ে কেরাম দ্বীন প্রতিষ্ঠায় লড়াই করেছেন। দ্বীন প্রতিষ্ঠায় লড়াই ইসলামে ফরজ এবাদত। এই এবাদত আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়।

[Surah Aṣ-Ṣaff: 14

{ یَـٰۤأَیُّهَا ٱلَّذِینَ ءَامَنُوا۟ كُونُوۤا۟ أَنصَارَ ٱللَّهِ

এই আয়াত বলা হয়েছে তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হয়ে যাও।

আল্লাহ সাহায্যকারী হওয়ার অর্থ হলো শুধু মৌখিক সাক্ষ্য প্রদান নয় বরং সত্য দিনকে বিজয়ী করার জেহাদে নিবেদিত হওয়া। দ্বীন প্রতিষ্ঠায় যারা জান ও মাল কোরবানি করে জেহাদ করে আল্লাহ তাদেরকে নিজের সাহায্যকারীর মর্যাদা দিচ্ছেন।

এই আয়াতগুলোতে যেখানে আল্লাহ চাচ্ছেন সত্যদিনের বিজয় আর সত্য দ্বীনের বিজয়ে মুমিনদের থেকে আত্মত্যাগ চাচ্ছেন সেখানে একজন মুসলিম কি বলতে পারে আমি নিরপেক্ষ। আমি ইসলামের বিজয় চাই না।

আল্লাহ কুরআনে স্পষ্ট করেছেন তিনি তার দ্বীনের বিজয় দেখতে চান। পৃথিবীতে তিনি অগণিত নবী এবং রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছেন। এবং নবীদের প্রেরণের প্রধানতম উদ্দেশ্য ছিল তাদের মাধ্যমে ভূমিতে আল্লাহর দ্বীন বিজয়ী হবে।

সূরা তাওবা সুরা ফাতাহ সুরা সফ এ সুরা গুলোর মাঝে আল্লাহ রব্বুল আলামীন তার এই পরিকল্পনা ও এজেন্ডা তুলে ধরেছেন।

সুরা তওবা আয়াত ৩৩

সূরা ফাতাহ আয়াত ২৮

সূরা সাফ আয়াত ৯

{ هُوَ ٱلَّذِیۤ أَرۡسَلَ رَسُولَهُۥ بِٱلۡهُدَىٰ وَدِینِ ٱلۡحَقِّ لِیُظۡهِرَهُۥ عَلَى ٱلدِّینِ كُلِّهِۦ وَلَوۡ كَرِهَ ٱلۡمُشۡرِكُونَ }

[Surah At-Tawbah: 33]

তিনি তাঁর রসূলকে হিদায়াত আর সঠিক দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যাবতীয় দ্বীনের উপর একে বিজয়ী করার জন্য যদিও মুশরিকগণ অপছন্দ করে।

মুশরিকরা কখনো যাবে না ইসলাম বিজয়ী হোক। তারা অপছন্দ করবে। কিন্তু আল্লাহর দ্বীন বিজয়ী করার রাসূলের কর্তব্য। এ জিম্মাদারী পালন করা নবীদের অবর্তমানে নবীদের জিম্মাদারী পালন করা। এটা নবীওয়ালা কাজ।

সূরা সফ ৪ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সবচাইতে প্রিয় বান্দাদের গুণাবলী তুলে ধরেছেন।

{ إِنَّ ٱللَّهَ یُحِبُّ ٱلَّذِینَ یُقَـٰتِلُونَ فِی سَبِیلِهِۦ صَفࣰّا كَأَنَّهُم بُنۡیَـٰنࣱ مَّرۡصُوصࣱ }

[Surah Aṣ-Ṣaff: 4]

আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করে- যেন তারা সীসা-গলানো প্রাচীর।

এখানে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের গুণাবলী ইবাদত তাসবিহ তাহলীল কুরআন পাঠ নামাজ রোজা হজ যাকাত তুলে ধরা হয়নি। দ্বীন বিজয়ের সংগ্রামকে তুলে ধরা হয়েছে।

কাজেই যারা আল্লাহর দ্বীনের বিজয় চায় না, সত্য আর মিথ্যার দ্বন্দ্বে যারা নিরপেক্ষ ঈমানের দাবিতে তারা ধোঁকাবাজ। আল্লাহর কাছে তাদের ঈমানের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।

আজকের পৃথিবী ধর্মনিরপেক্ষতার আহ্বান

*************************************

আজকের পৃথিবীতে ধর্মে নিরপেক্ষতার মতবাদ মুসলিম দেশগুলোর প্রভাবশালী মতবাদ। এই মতবাদ মুসলিম বিশ্বে ঈমানদারদের জন্য সবচেয়ে বিপদজনক মতবাদ। এটা ক্যান্সার করোনার চেয়েও ভয়াবহ।

ক্যান্সার করোনা জীবন নাশক কিন্তু ঈমান নাশক নয়। ক্যান্সার কাউকে জাহান্নামে নেয় না। জান্নাতের পথে চলা অসম্ভব করে না। কিন্তু এ মতবাদ একজন ব্যক্তির জান্নাতের পথে চলা অসম্ভব করে। তাকে জাহান্নামের পথের পথিক করে।

ধর্মনিরপেক্ষতার মতবাদ মুমিনের জন্য ঈমান নাশক মতবাদ। এই মতবাদে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজ অজান্তেই ইমান থেকে দূরে সরে যায়। এই মতবাদে আক্রান্ত ব্যক্তি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের এজেন্ডার বিপক্ষে পথে চলে তার জান্নাতে যাওয়াকে অসম্ভব করে তোলে।

সবশেষে একটি হাদিস শুনাবো

ومن دعا بدعوى الجاهلية فهو من جثى جهنم وإن صام وصلى وزعم أنه مسلم

আর যে ব্যক্তি জাহেলী যুগের ডাক ডাকে, সে আসলে জাহান্নামীদের দলভুক্ত। যদিও সে সিয়াম আদায় করে এবং সালাত আদায় করে এবং সে দাবী করে সে মুসলিম।

হাদিসকে সামনে রেখে আমাদের উপলব্ধি করতে হবে দ্বীন সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতার অন্ধকারে রেখে যে সমস্ত জাহিলি মতবাদগুলো দ্বারা আমাদের আহ্বান করা হচ্ছে এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন হতে হবে। এই মতবাদগুলো অসম্ভব করে আমাদের ঈমানের পথে চলা। আর এ মতবাদ গুলোর মাধ্যমে আমাদেরকে জাহান্নামের পথের পথিক করে তোলা হয়।

এক বিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ

************************

একবিংশ শতাব্দীর শয়তানি সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পরিপূর্ণভাবে ইসলাম আঁকড়ে ধরতে হবে। নিজের পরিবার সমাজ রাষ্ট্র নিজের অবস্থানকে পরিষ্কার করতে হবে। ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে আমরা একমাত্র আল্লাহর গোলাম। আমরা মুসলিম। আমাদের জীবনের এজেন্ডা রয়েছে। আর তা হল যে এজেন্ডাকে নিয়ে আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আমরা আল্লাহর এজেন্ডা কে বাদ দিয়ে অন্য কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নে আমাদের জীবন আমাদের মেধা আমাদের অর্থ সঁপে দিতে পারি না।

কোন অবস্থাতেই আমরা নিরপেক্ষ নই। কোন ক্ষেত্রেই আমরা নিরপেক্ষ নই। আমরা একটি সম্প্রদায়। মুসলিম আমাদের পরিচয়। আজকের পৃথিবী আমাদের গালি দেয় সাম্প্রদায়িক বলে। আর আমরা মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গর্ববোধ করি। কারণ একমাত্র এই পরিচয়ের ব্যক্তিরাই আল্লাহর প্রিয়। এবং শুধুমাত্র তারাই জান্নাতের অধিবাসী হবে। যারা এ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হবে না। যারা ভিন্ন পক্ষ নিবে অথবা নিরপেক্ষ থাকবে অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম।

আমরা বুঝেশুনেই পক্ষ নিয়েছি। আমরা জেনে বুঝে জাহান্নামকে আমাদের ঠিকানা বানাতে পারিনা। ‌ আমরা নিরপেক্ষ নই। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইসলামের পক্ষে কবুল করুন। ইসলাম প্রতিষ্ঠায় দুর্বৃত্তির নির্মূলে আমাদের জানমাল মেধা সময় কে কবুল করুন।

Scroll to Top