আল্লাহ তায়ালাকে চেনার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো কোরআন। কোরআন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনেরই কালাম। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ কুরআনে নিজের পরিচয় নিজের প্রভাব নিজের শক্তি তুলে ধরেছেন। কোরআন যত পড়া হবে আল্লাহর সাথে পরিচিতি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস তত বেড়ে যাবে।
কোরআনে কারীমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার গুণাবলী আলোচনা করেছেন।
الله عليم/ الله رحيم / ان الله كان عليكم رقيبا / ان الله كان عليكم حسيبا / وهو بكل شيء عليم / ان الله خبير بالعباد / ان الله بصير بالعباد / والله سميع عليم / الله على كل شيء قدير
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সিফাত গুণাবলী জানার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে ভালোবাসা আল্লার কাছে আশা আল্লাহর প্রতি ভয় পেতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কিছু গুণ রয়েছে যা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা তৈরি করে। কিছু গুণ আছে যেগুলো দ্বারা বান্দা আল্লাহর কাছে আশা পোষণ করবে। এমন কিছু গুণ আছে যা দ্বারা বান্দা আল্লাহকে ভয় করে। এই গুণগুলোর সাথে পরিচিতি প্রয়োজন।
আল্লাহর সাথে অপরিচিত ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত
***********************************
যে কোরআন পড়লো না সে আল্লাহর গুনগুলো জানলো না। আল্লাহর সাথে পরিচিত হলো না। আর যে আল্লাহর সাথে পরিচিত হলো না সে ক্ষতিগ্রস্ত হলো।
{ وَذَ ٰلِكُمۡ ظَنُّكُمُ ٱلَّذِی ظَنَنتُم بِرَبِّكُمۡ أَرۡدَىٰكُمۡ فَأَصۡبَحۡتُم مِّنَ ٱلۡخَـٰسِرِینَ }
[Surah Fuṣṣilat: 23]
কোরআন ছাড়া আল্লাহর সাথে পরিচয় হয় না
**************************************
জন্মের পর বাচ্চা সর্বপ্রথম তার মাকে চিনতে পারে। তারপর সে তার বাবাকে চেনে। কারণ তার মা-বাবা তার সবচাইতে কাছে থাকে। মা কে সর্বপ্রথম আম্মা ডেকে বাবা তাকে বাবা ডেকে নিজের পরিচয় পেশ করে। এভাবেই বাবা মার সাথে তার ভালোবাসা গড়ে ওঠে।
জন্মের পর যদি কোন বাচ্চা চুরি হয়ে যায়। বাবা মা থেকে দূরে থাকে। তাহলে সে তার বাবা মাকে চিনতে পারে না। ১০ বছর পরও চিনতে পারে না। তার কোন আকর্ষণও থাকে না।
বান্দা যখন কোরআন পড়ে কোরআনের মাঝে আল্লাহর গুণাবলী গুলো আল্লাহ বারবার বলেন। এগুলো শুনে শুনে তার আল্লাহর সাথে একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে তখন আল্লাহকে ভালবাসে।
যে কোরআন পড়ে না তার আল্লাহর সাথে পরিচিত হয় না। সে আল্লাহকে চিনতে পারেনা। তার নামাজ পড়তে লজ্জা বোধ হয়। আল্লাহর সামনে ছোট হতে পারে না। কারণ সে আল্লাহকে চিনে না।
কোরআন আল্লাহর কালাম
*********************
আমরা যখন কোরআন পড়ি আল্লাহর কথাগুলো পড়ি। কোরআন পড়ার দ্বারা আল্লাহর কথা গুলো শোনা হয়। আল্লাহ তার প্রিয় বান্দা নবীদের পাঠিয়েছেন এই পৃথিবীতে তাদের দায়িত্ব ছিল কোরআন পড়ে শোনান। কোরআনের দ্বারা আল্লাহর প্রভাব আল্লাহর শক্তি আল্লাহর ভালোবাসা সম্পর্কে মানুষদের অবগত করা। নবীরা কোরআন তেলাওয়াত করেছেন কোরআন তেলাওয়াত শিখিয়েছেন। আল্লাহর সাথে মানুষের সম্পর্ক তৈরিতে এটা ছিল নবীদের জিম্মাদারী।
কোরআন আল্লাহর সাথে সম্পর্ক তৈরি করে
************************************
আমাদের কোরআনে কারীম তেলাওয়াতে আল্লাহ সবচাইতে বেশি আনন্দিত হন। বিপুল পরিমাণ নেকি তিনি আমাদেরকে বিনিময়ে প্রদান করেন।
আপনি যদি কোন কিতাব লেখেন আর যদি আপনি তো কাউকে পড়তে দেখেন আপনার কাছে কেমন লাগবে? খুব আনন্দ লাগবে। আর যিনি পড়ছেন তাকে নিজের মানুষ মনে হবে। আপনি সকলকে বলবেন আমি তাকে দেখেছি আমার কিতাব পড়তে। ঠিক তেমনি ভাবে কোন ব্যক্তি যখন আল্লাহর কালাম পড়ে আল্লাহ আনন্দিত হন। তার মর্যাদা আল্লাহর কাছে বেড়ে যায়।
একদিকে কোরআনে কারীমের তেলাওয়াত দ্বারা বান্দার হৃদয়ে আল্লাহর মহব্বত আল্লাহর মারেফাত অর্জিত হয়। অন্যদিকে সেই বান্দা কুরআনে কারীমের তেলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছেও প্রিয় হয়ে যায়।
কোরআন থেকে দূরে থাকার ভয়াবহতা
********************************
যে ব্যক্তি কোরআন থেকে দূরে থাকলো কোরআন পড়ল না। তার আল্লাহর সাথে পরিচিতি হলো না। সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল। হাশরের ময়দানে এসে প্রশ্নের সম্মুখীন হবে তুমি কোরআন শিখনি কেন। তখন কি জবাব হবে।
{ وَسِیقَ ٱلَّذِینَ كَفَرُوۤا۟ إِلَىٰ جَهَنَّمَ زُمَرًاۖ حَتَّىٰۤ إِذَا جَاۤءُوهَا فُتِحَتۡ أَبۡوَ ٰبُهَا وَقَالَ لَهُمۡ خَزَنَتُهَاۤ أَلَمۡ یَأۡتِكُمۡ رُسُلࣱ مِّنكُمۡ یَتۡلُونَ عَلَیۡكُمۡ ءَایَـٰتِ رَبِّكُمۡ وَیُنذِرُونَكُمۡ لِقَاۤءَ یَوۡمِكُمۡ هَـٰذَاۚ قَالُوا۟ بَلَىٰ وَلَـٰكِنۡ حَقَّتۡ كَلِمَةُ ٱلۡعَذَابِ عَلَى ٱلۡكَـٰفِرِینَ }
[Surah Az-Zumar: 71]
তুমি কি জবাব দিবে জীবনের ব্যস্ততা আমাকে কোরআন শিখতে দেয়নি। তোমার এ জবাব কি গ্রহণযোগ্য হবে।
তোমার জীবনের কি ব্যস্ততা ছিল। সেদিন আমলনামা সাথে থাকবে। প্রতিদিন সকালের কাজগুলো কি ছিল। দুপুরের কাজগুলো কি ছিল। বিকালের কাজ গুলো কি ছিল। রাতের কাজগুলো কি ছিল। এ সমস্ত কাজগুলো কি কোরআন শিখার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এমন কোন অজুহাত আছে যা সেদিন গ্রহণযোগ্য হবে। এ জবাবদিহিতার অনুভূতি থাকা চাই।
কোন ওজর গ্রহণযোগ্য হবে না
***************************
যদি কেউ বলে আমার আব্বা আমাকে শেখাননি। তাহলে কি মুক্তি পাওয়া যাবে।
আব্বা তোমায় কোরআন পড়া শিখাননি। এটা ওজর।
বাবা কি মোটরসাইকেল চালানো শিখিয়েছিল। অথবা ইউটিউব ফেসবুক চালানো শিখিয়েছিল। ইন্টারনেট চালানো শিখিয়েছিল। ভিডিও গেম খেলা শিখিয়েছিল। মোবাইল চালানো শিখিয়েছিল। ব্যবসা-বাণিজ্য শিখিয়েছিল। বাবা-মা তোমাকে ডাক্তারি ইঞ্জিনিয়ারিং সার্জারির কাজগুলো শিখিয়েছিল। এই কাজগুলো কিভাবে তুমি শিখেছিলে। এমন ভাবে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় কি উত্তর হবে।
কোরআনে করিম না শিখা তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। কোরআন না পড়ার কারণে তোমার তো আল্লাহর সাথে পরিচয়ই হয়নি। আল্লাহকে চিনতে বুঝতে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখতে তুমি ভুল করেছিলে।
পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনের জন্য তুমি কানাডা গেলে। এম ফিল করার জন্য অস্ট্রেলিয়া যেতে পারলে। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য তুমি জার্মানি যেতে পারলে। সময় পেলে না তুমি কোরআন পড়তে। তুমি তোমার নিজের উপর জুলুম করেছ।
কোরআন জীবনযাপনের ব্যবস্থাপত্র
********************************
কোরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে জীবন যাপনের ব্যবস্থাপত্র। এটা শরীয়াহ। শরিয়া শুধু তেলাওয়াতের জন্য নাযিল হয় না। এটাকে মেনে জীবন গড়ে তুলতে হয়।
আল্লাহর কথামতো জীবন গড়ে তুললে আল্লাহ পুরস্কৃত করবেন। জান্নাতের অধিকারী করবেন। এ জান্নাত তারাই পাবে যারা কোরআনের ব্যবস্থাপত্র মেনে চলবে।
জান্নাত অর্জনের জন্য প্রয়োজন পরিশ্রম
*********************************
জান্নাতের প্রস্থ হবে সাত আসমান জমিনের সমান। এ জান্নাত হবে চিরস্থায়ী পুরস্কার। এটা কখনো ছিনিয়ে নেয়া হবে না।
আপনি আমি ঢাকায় যদি একটি দশতলা বাড়ি করতে চাই কত পরিশ্রম করতে হয়। কত দপ্তরে অনুমোদনের জন্য দৌড়াতে হয়। তাহলে জান্নাত পাওয়ার জন্য কত পরিশ্রম প্রয়োজন। বিশাল জান্নাত কি আমরা এমনিতেই পেয়ে যাব। এটা ভুল ধারণা।
কেউ যদি আপনাকে ওয়াদা দেয় আগামী ১০ বছর পর আমি তোমাকে ঢাকায় একটি বাড়ি করে দিব। তোমাকে আমার কথা মত চলতে হবে। আমরা তার কথামতো কিভাবে চলবো। সবকিছুর উপর তাকে প্রাধান্য দিব। অনেক কষ্ট এবং শ্রমের বিনিময়ে পাওয়াএই বাড়িতে কতদিন থাকা যাবে।
আল্লাহ আপনাকে জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন। সে জান্নাত হবে চিরদিনের জন্য। সে জান্নাত পাওয়ার জন্য আল্লাহ আপনাকে কিছু কর্মনীতি দিয়েছেন। তার জন্য আল্লাহর কথামতো চলতে হবে। আল্লাহর কথাগুলোই হলো কোরআন।
কোরআন আল্লাহর বিধান
*******************
আল্লাহ তার কথাগুলো আলোচনা করেছেন কুরআনে।
এখানে আলোচনা আছে আমার বন্ধুত্ব কার সাথে হবে কার সাথে হবে না। আমি কি খেতে পারবো কি খেতে পারবো না। আমি কাকে বিয়ে করতে পারব কাকে পারব না। আমি কার সাথে দেখা করতে পারব কার সাথে পারবো না। আমি কি শুনতে পারব কি শুনতে পারবো না। সব প্লেন নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
মেনে চললেই জান্নাত। আর এর উল্টা পথে চললে জাহান্নাম।
এই জান্নাত জাহান্নামের বিবরণ ও দেয়া আছে কোরআনে। আল্লাহর কাছ থেকে জান্নাতের নেয়ামত পাওয়ার জন্য আর জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচার জন্য আমরা কি করছি। এটা এখনই ভাবতে হবে।
একদিন বড় আফসোস হবে
************************
আফসোস। আজ এ কোরআন থেকেই আমরা দূরে।
{ وَقَالُوا۟ لَوۡ كُنَّا نَسۡمَعُ أَوۡ نَعۡقِلُ مَا كُنَّا فِیۤ أَصۡحَـٰبِ ٱلسَّعِیرِ }
[Surah Al-Mulk: 10]
{ وَٱتَّبِعُوۤا۟ أَحۡسَنَ مَاۤ أُنزِلَ إِلَیۡكُم مِّن رَّبِّكُم مِّن قَبۡلِ أَن یَأۡتِیَكُمُ ٱلۡعَذَابُ بَغۡتَةࣰ وَأَنتُمۡ لَا تَشۡعُرُونَ (55) أَن تَقُولَ نَفۡسࣱ یَـٰحَسۡرَتَىٰ عَلَىٰ مَا فَرَّطتُ فِی جَنۢبِ ٱللَّهِ وَإِن كُنتُ لَمِنَ ٱلسَّـٰخِرِینَ (56) أَوۡ تَقُولَ لَوۡ أَنَّ ٱللَّهَ هَدَىٰنِی لَكُنتُ مِنَ ٱلۡمُتَّقِینَ (57) أَوۡ تَقُولَ حِینَ تَرَى ٱلۡعَذَابَ لَوۡ أَنَّ لِی كَرَّةࣰ فَأَكُونَ مِنَ ٱلۡمُحۡسِنِینَ (58) }
[Surah Az-Zumar: 55-58]
আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব
********************************
আমাদের কোরআনের সাথে কোরআনের ভাষা আরবি ভাষার সাথে সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। নিজেদের শিখতে হবে সন্তানদের শিখাতে হবে। তাহলে আমরা পরিপূর্ণ মুসলিম হয়ে নিজেদের জীবনকে গড়ছ তুলতে পারব। আমাদেরকে নিয়ে আল্লাহর পরিকল্পনা এবং আমাদের সফলতার পথ চিনতে পারব। সফল হতে পারব দুনিয়াতে ও আখেরাত।
আমাদের জীবনে আমাদের সমাজে পরিবর্তন আনবে। শুধু ব্যক্তির পরিবর্তন তারা সমাজ পরিবর্তন হবে না। আমরা আগের মতই থেকে যাব। একটি শান্তিময় সমাজ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন কোরআনের আলোকিত শিক্ষা। কোরআনের আলো দ্বারা অন্ধকারকে দূর করতে হবে। আসুন কোরআন পড়ি। কোরআনের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে পরিচিত হই।