যে রাষ্ট্রে ওহীর জ্ঞানের চর্চা নেই সে রাষ্ট্রে মানুষ পশুর চেয়ে নিকৃষ্টতর হওয়ার আয়োজনটাই বেশী হয়।

যে রাষ্ট্রে ওহীর জ্ঞানের চর্চা নেই সে রাষ্ট্রে মানুষ রূপে বেড়ে উঠার চেয়ে পশুর চেয়ে নিকৃষ্টতর হওয়ার আয়োজনটাই বেশী হয়। তখন সে রাষ্ট্র জঙ্গলের চেয়েও নিরাপত্তাহীন এবং সন্ত্রাসপূর্ণ হয়।

বাংলাদেশের মত দেশে এজন্যই যত মানুষ বনজঙ্গলে মারা যায় তারা চেয়ে হাজার গুণ বেশী মারা যায় রাজপথে ও লোকালয়ে। বনজঙ্গলের চেয়েও জনগণ বেশী লুন্ঠনের শিকার হয় নিজ গৃহে ও সরকারি অফিস-আদালতে।

আল্লাহতায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ এভাবে পশুর ন্যায় নিকৃষ্ট জীবে পরিণত হোক -সেটি মহান আল্লাহতায়ালার কাম্য নয়। তিনি তো তাদের দিয়ে জান্নাত পূর্ণ করতে চান। তাই তাদেরকে মানুষ রূপে বেড়ে উঠাটি নিশ্চিত করতে মহান আল্লাহতায়ালা শুধু নানা রূপ খাদ্য ও পানীয়’র ব্যবস্থাই করেননি, বরং জ্ঞানলাভেরও ব্যবস্থা করেছেন।

এজন্যই নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাত ফরজ করার আগে জ্ঞানার্জনকে ফরজ করেছেন। এবং মানুষের কাছে জ্ঞান বিতরণের মাধ্যম রূপে বেছে নিয়েছেন কিতাব। এবং সে কিতাবকে মানুষের কাছে পৌঁছানোর কাজে নিয়োজিত করেছেন তাঁর শ্রেষ্ঠ ফেরেশতা জিবরাইল (আ:) এবং শ্রেষ্ঠ রাসূলকে।

মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত সে সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাবটি হলো পবিত্র কুর’আন। সমগ্র মানব ইতিহাসে এটাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব। তবে পবিত্র কুর’আনই মহান আল্লাহতায়ালার একমাত্র কিতাব নয়, কুর’আন প্রেরণের আগে তিনি তাওরাত, জব্বুর, ইঞ্জিল পাঠিয়েছেন। এই কিতাবগুলির মাধ্যমেই মানব জাতি মহান আল্লাহতায়ালার পথনির্দেশনা পেয়েছে এবং বেড়ে উঠেছে মহামানব রূপে।

খাদ্য তো পশুপাখি, গাছপালা ও কীটপতঙ্গের ন্যায় ইতর জীবেরাও পায়। কিন্তু মহান আল্লাহতায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত হলো এই কুর’আন। এ নেয়ামত ছাড়া সত্যপথ পাওয়া যেমন অসম্ভব, তেমনি অসম্ভব হলো প্রকৃত মানব রূপে বেড়ে উঠা। এ জীবনে তখন বাঁচাটাই পুরাপুরি ব্যর্থ হয়ে যায়। বরং ডেকে আনে জাহান্নামের আযাব।

কাজেই আসুন আমরা কুরআন কে আঁকড়ে ধরি। কুরআনের আলোকিত শিক্ষায় জীবন গড়ি। দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা অর্জন করি।

Scroll to Top